শনিবার, ৫ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৫:৫০ পি.এম
কাস্টমস কর্তৃপক্ষ হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে বাংলাদেশ বিমানের এক কর্মীর কাছ থেকে ১২০টি সোনার বার উদ্ধার করেছে। এই সোনার বারগুলো কালো আঠালো ফিতায় মোড়ানো অবস্থায় তার পরনের বেল্টের মধ্যে বিশেষ কৌশলে লুকানো ছিল।
উদ্ধার করা সোনার মোট ওজন ১৩ কেজি ৯২০ গ্রাম। কাস্টমসের হিসাব অনুযায়ী, এসব সোনার আনুমানিক বাজারমূল্য ২৫ কোটি টাকা।
শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) সকাল সাড়ে ১১টার দিকে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এই অভিযান পরিচালনা করা হয়। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে।
কাস্টমস কর্তৃপক্ষ জানায়, দুবাই থেকে চট্টগ্রাম হয়ে ঢাকায় আসা বাংলাদেশ বিমানের একটি উড়োজাহাজে সোনা চোরাচালান হচ্ছে—এমন তথ্যের ভিত্তিতে বিমানবন্দরে কর্মরত কাস্টমস কর্মকর্তা ও প্রতিরোধ দলের সদস্যরা উড়োজাহাজে বিশেষ তল্লাশি চালাতে যান।
উড়োজাহাজ পরিষ্কারের কাজ শেষে যান্ত্রিক ও পরিচ্ছন্নতাকর্মীরা নিচে নামার সময় তাদের তল্লাশি করা হয়। এ সময় বাংলাদেশ বিমানের কারিগরি সহকারী মো. সোয়েব গাজীর বেল্টের মধ্যে কালো আঠালো ফিতায় মোড়ানো কয়েকটি বস্তু পাওয়া যায়। পরে সেগুলো কাস্টমস হাউসে নিয়ে বিভিন্ন সংস্থার কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে পরীক্ষা ও তালিকা করা হয়।
এতে ১২০টি সোনার বার উদ্ধার হয়।
প্রাথমিকভাবে কাস্টমসের ধারণা, সরকারি নির্ধারিত শুল্ক-কর ফাঁকি দিয়ে সোনার বারগুলো দেশে আনা হয়েছিল। পরে এগুলো বিমানবন্দরের বাইরে পাচারের পরিকল্পনা ছিল। কাস্টমস ও বিভিন্ন গোয়েন্দা সংস্থার যৌথ তৎপরতায় পাচারের আগেই সোনাগুলো আটক করা সম্ভব হয়েছে।
আটক সোনার বারগুলো বিমানবন্দরের মূল্যবান পণ্য সংরক্ষণাগারে রাখা হয়েছে।
চোরাচালানে আটক ও বাজেয়াপ্ত পণ্য নিষ্পত্তির নিয়ম অনুযায়ী এসব সোনা বাংলাদেশ ব্যাংকে জমা দেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে। ঘটনার সঙ্গে আর কেউ জড়িত কি না, তা খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঢাকা, ৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ : ভূমি প্রশাসনে বড় ধরনের রদবদল করেছে সরকার। বিসিএস প্রশাসন ক্যাডারের ৩৬ জন সহকারী কমিশনারকে (ভূমি) বদলিপূর্বক পদায়নের জন্য বিভিন্ন বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ে ন্যস্ত করা হয়েছে। জনস্বার্থে জারি করা এ সংক্রান্ত আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে।
ভূমি মন্ত্রণালয়ের মাঠ প্রশাসন-২ শাখা থেকে গত ২ সেপ্টেম্বর এ সংক্রান্ত পৃথক প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।
প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, বদলি হওয়া কর্মকর্তাদের মধ্যে জসিম উদ্দিনকে গাইবান্ধার সাদুল্লাপুর থেকে ঢাকা বিভাগে, তৌহিদ রেজাকে ঝিনাইদহের মহেশপুর থেকে ঢাকা বিভাগে এবং মো. মাসুদ রানাকে সিরাজগঞ্জের রায়গঞ্জ থেকে ঢাকা বিভাগে ন্যস্ত করা হয়েছে।
এছাড়া মো. আশরাফুল ইসলামকে বরগুনার আমতলী থেকে ঢাকা বিভাগে, সোহাগ মিলুকে পটুয়াখালীর বাউফল থেকে খুলনা বিভাগে, মো. সাইফুল ইসলামকে পটুয়াখালীর গলাচিপা থেকে রাজশাহী বিভাগে এবং প্রত্যয় হাশেমকে হবিগঞ্জের নবীগঞ্জ থেকে চট্টগ্রাম বিভাগে ন্যস্ত করা হয়েছে।
মহেশ্বর মন্ডলকে বরিশালের উজিরপুর থেকে খুলনা বিভাগে, রওশান কবিরকে নীলফামারীর ডিমলা থেকে রাজশাহী বিভাগে, রাফিউর রহমানকে কুড়িগ্রামের রৌমারী থেকে ঢাকা বিভাগে এবং মো. শাহরুখ আলম শান্তুতে সুনামগঞ্জের তাহিরপুর থেকে ঢাকা বিভাগে ন্যস্ত করা হয়েছে।
দ্বিতীয় দফায় বদলি হওয়া কর্মকর্তাদের মধ্যে রয়েছেন— মাহামুদ হুসাইন রাজু। তাকে দিনাজপুরের পার্বতীপুর থেকে খুলনা বিভাগে ন্যস্ত করা হয়েছে। নুসরাত জাহান অনন্যাকে ময়মনসিংহের ধোবাউড়া থেকে রাজশাহী বিভাগে এবং এস এম আকাশকে পঞ্চগড়ের তেঁতুলিয়া থেকে খুলনা বিভাগে ন্যস্ত করা হয়েছে।
এস এম নাজমুস সালেহীনকে ময়মনসিংহের তারাকান্দা থেকে রংপুর বিভাগে, আব্দুল আহাদকে কিশোরগঞ্জের অষ্টগ্রাম থেকে খুলনা বিভাগে এবং তানভীর আহম্মেদকে রংপুরের পীরগঞ্জ থেকে রাজশাহী বিভাগে ন্যস্ত করা হয়েছে।
এছাড়া ওমর শরীফ খানকে বরগুনার পাথরঘাটা থেকে খুলনা বিভাগে, আসিফ রায়হানকে পাবনার সাঁথিয়া থেকে ঢাকা বিভাগে, চৌধুরী আল মামুনকে সাতক্ষীরার দেবহাটা থেকে রাজশাহী বিভাগে এবং সামিউর রহমানকে কুড়িগ্রামের রাজারহাট থেকে ঢাকা বিভাগে ন্যস্ত করা হয়েছে।
মীর আল মনসুর শোয়াইবকে লালমনিরহাট সদর থেকে রাজশাহী বিভাগে, মো. শামীম রেজা সজীবকে ঝালকাঠির রাজাপুর থেকে ঢাকা বিভাগে, মজিবুর রহমানকে ঠাকুরগাঁওয়ের রাণীশংকৈল থেকে রাজশাহী বিভাগে এবং জাকারিয়া হোসেনকে সিলেটের গোয়াইনঘাট থেকে ময়মনসিংহ বিভাগে ন্যস্ত করা হয়েছে।
সৈকত মন্ডলকে বরগুনার তালতলী থেকে খুলনা বিভাগে এবং রিজভী আহমেদ সবুজকে ঝালকাঠির নলছিটি থেকে ঢাকা বিভাগে ন্যস্ত করা হয়েছে।
প্রজ্ঞাপনের আরেক অংশে আরো ৯ জন সহকারী কমিশনারকে বদলি করা হয়েছে। তাদের মধ্যে মো. ইফতেখার আহমেদকে নীলফামারীর জলঢাকা থেকে খুলনা বিভাগে, আব্দুল্লাহ বিন জিয়াকে পঞ্চগড়ের দেবীগঞ্জ থেকে ঢাকা বিভাগে এবং মাহমুদুর রহমানকে সুনামগঞ্জের বিশ্বম্ভরপুর থেকে ময়মনসিংহ বিভাগে ন্যস্ত করা হয়েছে।
পলাশ উদ্দিনকে নওগাঁর বদলগাছী থেকে ঢাকা বিভাগে, শপথ বৈরাগীকে পিরোজপুরের নাজিরপুর থেকে খুলনা বিভাগে এবং মো. বদরুজ্জামান রিশাদকে কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরী থেকে রাজশাহী বিভাগে ন্যস্ত করা হয়েছে।
এছাড়া আসমাউল হুসনা পিংকিকে মাগুরার শ্রীপুর থেকে ঢাকা বিভাগে, আমিনুল হক তারেককে কুড়িগ্রামের ভুরুঙ্গামারী থেকে ময়মনসিংহ বিভাগে এবং আব্দুল্লাহ আল মামুনকে পটুয়াখালীর দশমিনা থেকে ঢাকা বিভাগে ন্যস্ত করা হয়েছে।
ভূমি মন্ত্রণালয়ের প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, জনস্বার্থে জারি করা এই আদেশ অবিলম্বে কার্যকর হবে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য প্রজ্ঞাপনের অনুলিপি জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব, ভূমি সংস্কার বোর্ডের চেয়ারম্যান, ভূমি মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (মাঠ প্রশাসন), সংশ্লিষ্ট বিভাগীয় কমিশনার ও জেলা প্রশাসকদের কাছে পাঠানো হয়েছে।
মাঠ প্রশাসনে সহকারী কমিশনার (ভূমি) পদটি ভূমি ব্যবস্থাপনার জন্য গুরুত্বপূর্ণ। নামজারি, ভূমি উন্নয়ন কর, সরকারি জমি ব্যবস্থাপনা, ভূমি-সংক্রান্ত প্রশাসনিক কার্যক্রমসহ বিভিন্ন দায়িত্ব মাঠপর্যায়ে পালন করেন এসব কর্মকর্তা।
ফলে, একসঙ্গে ৩৬ জন সহকারী কমিশনারের বদলির মাধ্যমে দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের ভূমি প্রশাসনে দায়িত্বের পুনর্বিন্যাস হলো।
সরকারি আদেশ অনুযায়ী, বদলিকৃত কর্মকর্তাদের সংশ্লিষ্ট বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ে ন্যস্ত করা হয়েছে। বিভাগীয় পর্যায়ে প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা শেষে তাদের নতুন কর্মস্থলে দায়িত্ব পালনের ব্যবস্থা করা হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
পুলিশের ওপর হামলার ঘটনায় চট্টগ্রাম নগরের খুলশী থানার তালিকাভুক্ত শীর্ষ সন্ত্রাসী ও কিশোর গ্যাং লিডার ওয়াকিল হোসেন বগাকে (৪২) প্রধান আসামি করে মামলা দায়ের করেছে পুলিশ। মামলায় ২১ জনের নাম উল্লেখ করা হয়েছে এবং দুই থেকে আড়াই শ কিশোর গ্যাং সদস্যকে অজ্ঞাত আসামি হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
সিএমপির খুলশী থানার ওসি আব্দুর রহিম কালের কণ্ঠকে বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, পুলিশ আহত হওয়ার ঘটনায় মামলাটি দায়ের করা হয়েছে। মামলায় প্রধান আসামি বগাসহ ২১ জন জ্ঞাত এবং দুই থেকে আড়াই শ অজ্ঞাত ব্যক্তিকে আসামি করা হয়েছে।
এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে যে, অস্ত্র মামলার কারণে এবং পাহাড়তলী কলেজের এক শিক্ষককে নির্যাতনের ঘটনায় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা থাকায় পুলিশ বগাকে গ্রেপ্তার করতে যায়। গ্রেপ্তার করার চেষ্টা করার সময় কিশোর গ্যাংয়ের হামলায় ওসিসহ অন্তত ছয় পুলিশ সদস্য আহত হন।
এ সময় পুলিশকে লক্ষ্য করে ইটপাটকেল ও ককটেলসদৃশ বিস্ফোরক নিক্ষেপ করা হয় এবং ওসির ব্যবহৃত সরকারি গাড়িটি ভাঙচুর করে সন্ত্রাসীরা। এই পরিস্থিতিতে বাসার ভেতরের একটি গোপন সুড়ঙ্গপথ ব্যবহার করে সন্ত্রাসী বগা পালিয়ে যায়।
সিএমপির খুলশী থানার ওসি আব্দুর রহিম জানান, অভিযানের সময় বগা দূর থেকে মোবাইল ও ভিডিও কলের মাধ্যমে অভিযানে থাকা পুলিশ কর্মকর্তাদের নানা হুমকি প্রদান করেন এবং ঔদ্ধত্যপূর্ণ আচরণ করেন। একটি ভাইরাল ভিডিওতে পুলিশ কর্মকর্তা আব্দুর রহিমকে অকথ্য ভাষায় গালাগাল করতে শোনা যায়।
সম্প্রতি পহাড়তলী কলেজের এক শিক্ষককে নির্যাতনের তদন্তে বগার সম্পৃক্ততা উঠে আসে। শিক্ষককে পেটানোর ঘটনায় খুলশী থানায় মামলা হয়েছে। নতুন মামলার সঙ্গে বগার বিরুদ্ধে আগের ১৭টি মামলার মধ্যে অস্ত্র আইনে একাধিক মামলার গ্রেপ্তারি পরোয়ানা ছিল। ফলে বগার বিরুদ্ধে মামলা সংখ্যা ১৯-এ পৌঁছেছে।
এর আগে গত ৯ জুলাই বগার সন্ত্রাসী কার্যক্রম নিয়ে কালের কণ্ঠে প্রতিবেদন প্রকাশের পরদিন বগাকে জাতীয়তাবাদী স্বেচ্ছাসেবক দলের চট্টগ্রাম মহানগর যুগ্ম আহ্বায়কের পদ থেকে বহিষ্কার করে কেন্দ্রীয় সংগঠন।
বগার বিষয়ে নগর স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব জমির উদ্দিন নাহিদ জানান, বগা বর্তমানে দলের কোনো পদে নেই। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় দল তাকে বহিষ্কার করেছে। তার কোনো অপকর্মের দায় দল নেবে না।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
কুমিল্লার জনগণকে কেন শেখ হাসিনা দেখতে পারতেন না, তা জানালেন আসিফ মাহমুদ।
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া মন্তব্য করেছেন যে, কুমিল্লার জনগণ কখনোই ফ্যাসিবাদকে গ্রহণ করেনি। তারা সবসময়ই ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়ে এসেছে। এই কারণেই ২৪ জুলাই ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কুমিল্লার জনগণকে দেখতে পারেননি এবং তাদের প্রতি অবিচার করেছেন।
শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) দুপুরে কুমিল্লা নগরীর পদুয়ার বাজার এলাকায় জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের ঢাকা-চট্টগ্রাম লংমার্চের পথসভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
আসিফ মাহমুদ আরও বলেন, যাকে আমরা ২০২৪ সালে বিতাড়িত করবো, তিনিও কুমিল্লার জনগণকে দেখতে পারতেন না। কারণ কুমিল্লার জনগণ কখনোই ফ্যাসিবাদকে মেনে নেয়নি। স্বাধীনতার পর থেকে বাকশাল ও ফ্যাসিবাদের জন্য কুমিল্লা একটি ভীতির প্রতীক হিসেবে রয়ে গেছে।
তিনি উল্লেখ করেন, কুমিল্লার জনগণ প্রতিবাদ করতে কখনো ভয় পায়নি। জুলাই মাসে প্রথম প্রতিরোধ কুমিল্লায় গড়ে ওঠে। কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা বিশ্ববিদ্যালয় অবরোধ করে রেখেছিল।
শেখ হাসিনার সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলনে কুমিল্লার জনগণের ভূমিকার কথা তুলে ধরে আসিফ মাহমুদ বলেন, এই কারণেই তিনি কুমিল্লার জনগণকে দেখতে পারতেন না। কুমিল্লার জনগণকে অবহেলা করতেন। তবে কুমিল্লার জনগণের প্রতিবাদই তাকে দেশ থেকে বের হয়ে ভারতে চলে যেতে বাধ্য করেছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
জামায়াতে ইসলামীর আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, ‘আমরা গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন করার জন্য রাস্তায় নেমেছি। জুলাই মাসের গণঅভ্যুত্থানের চেতনা বাস্তবায়নের উদ্দেশ্যে আমরা রাস্তায় নেমেছি। আপনাদের ঘরে গ্যাস ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য আমরা রাস্তায় নেমেছি। বিদ্যুৎ ও বাতি জ্বালানোর ব্যবস্থা করার জন্যও আমরা রাস্তায় নেমেছি।’
ডা. শফিকুর রহমান বিএনপি সরকারের বিষয়ে মন্তব্য করে বলেন, সরকার জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করছে এবং ওয়াদা ভঙ্গ করছে। তিনি বলেন, জনগণ তাদের ক্ষমা করবে না এবং দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত তারা রাজপথে থাকবেন।
শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে কুমিল্লা নগরীর পদুয়ার বাজার বিশ্বরোড এলাকায় জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্যজোটের ঢাকা-চট্টগ্রাম লংমার্চের পথসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
শফিকুর রহমান আরও বলেন, ‘আপনারা কি ২৪ ঘণ্টা বিদ্যুৎ পান, গ্যাস পান? চাঁদাবাজি হয় কি না?’ তিনি দেশের মাদক পরিস্থিতির দিকে ইঙ্গিত করে সরকারকে মাদক নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান।
লংমার্চের পথসভায় জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় উপনেতা ও জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির ডা. আবদুল্লাহ মুহাম্মদ তাহেরও বক্তব্য রাখেন। তিনি লংমার্চের ছয় দফা দাবি বাস্তবায়ন এবং গণভোটের রায় কার্যকর করার আহ্বান জানান।
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম বলেন, তেল, গ্যাস ও বিদ্যুতের সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে। তিনি বলেন, জনগণের মৌলিক দাবি পূরণ না হলে সরকার গদিতে থাকতে পারবে না। গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবি তিনি পুনর্ব্যক্ত করেন।
এ সময় লিবারেল ডেমোক্র্যাটিক পার্টির (এলডিপি) চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বলেন, দেশের ৭০ শতাংশ মানুষের দেওয়া রায় কার্যকর করতে হবে। তিনি বলেন, এই রায় স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাস্তবায়িত না হলে সরকারকে ব্যর্থ করে দেওয়ার কথা বলেন।
খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক বলেন, বাংলাদেশের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন এবং দেশকে সঠিক গন্তব্যে এগিয়ে নিতে সামনে আরও কঠিন পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে। তিনি মন্তব্য করেন, লংমার্চের মধ্য দিয়ে চলমান আন্দোলনের দ্বিতীয় পর্ব শুরু হচ্ছে।
জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্যজোটের ছয় দফা দাবিতে শনিবার সকালে রাজধানী থেকে ঢাকা–চট্টগ্রাম লংমার্চ শুরু হয়। নারায়ণগঞ্জের শিমরাইলসহ বিভিন্ন স্থানে পথসভা শেষে লংমার্চটি কুমিল্লায় পৌঁছে পদুয়ার বাজার বিশ্বরোডে পথসভা করে। পরে চট্টগ্রামের উদ্দেশে লংমার্চটি যাত্রা করে।
পথসভায় সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও কুমিল্লা মহানগরী আমির কাজী দ্বীন মোহাম্মদ। সভাটি পরিচালনা করেন কুমিল্লা মহানগরী জামায়াতের সেক্রেটারি মো. মাহবুবর রহমান। এতে সহকারী সেক্রেটারি কামারুজ্জামান সোহেল ও কাউন্সিলর মোশাররফ হোসাইনও দায়িত্ব পালন করেন।
এছাড়া পথসভায় বাংলাদেশ লেবার পার্টির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব খন্দকার মিরাজুল ইসলাম, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের যুগ্ম মহাসচিব আলী হোসেন আকন্দ, আমার বাংলাদেশ পার্টির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট যোবায়ের আহমেদ ভূঁইয়া, বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সভাপতি অ্যাডভোকেট আতিকুর রহমান, কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরা সদস্য মো. আবদুস সাত্তার, কুমিল্লা জেলা দক্ষিণ জামায়াতের আমির মোহাম্মদ শাহজাহান অ্যাডভোকেট, কুমিল্লা উত্তর জেলা জামায়াতের আমির অধ্যাপক আবদুল মতিন, বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি মজিবুর রহমান ভূঁইয়া এবং চাঁদপুর জেলা জামায়াতের আমির মো. বিল্লাল হোসাইন উপস্থিত ছিলেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ