০৭:৫৬ পি.এম
স্বাস্থ্য বিভাগ শরীয়তপুরের ভেদরগঞ্জে দু’টি ক্লিনিক বন্ধ করে দিয়েছে নানা অনিয়মের অভিযোগে, যার মধ্যে লাইসেন্স হালনাগাদ না থাকা অন্যতম।
যুক্ত ক্লিনিকগুলো হলো ভেদরগঞ্জ মডার্ণ ডায়াগনস্টিক সেন্টার অ্যান্ড ক্লিনিক এবং ভেদরগঞ্জ পপুলার ডায়াগনস্টিক সেন্টার অ্যান্ড ক্লিনিক।
শরীয়তপুরের সিভিল সার্জন ডা. মো. রেহান উদ্দিন স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে আজ রোববার স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালককে এই তথ্য জানানো হয়েছে।
আরও পড়ুন: নওগাঁয়ে ঘরে মাটির নিচে ২৪৫ কেজির কষ্টিপাথরের শিবলিঙ্গ উদ্ধার, আটক ১
এতে বলা হয়েছে, শরীয়তপুরের ভেদরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা পত্রে জানিয়েছেন, এপ্রিল ২০২৬ তারিখ থেকে ভেদরগঞ্জ উপজেলায় একটি নির্দিষ্ট সোর্স (মডার্ণ ডায়াগনষ্টিক সেন্টার এন্ড ক্লিনিক) থেকে এক্সট্রাপালমোনারি টিবি কেইস অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে।
মৌলিক বিষয়গুলোর অনুসন্ধানপূর্বক যাচাই ও তদনুসারে প্রয়োজনীয় নির্দেশনা প্রদান এবং যথোপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য অনুরোধ জানিয়ে সিভিল সার্জন এক্সট্রাপালমোনারি টিবি রোগের উৎপত্তির কারণ উদঘাটনের উদ্দেশ্যে চার সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত বা অনুসন্ধান কমিটি গঠন করেন।
ওই তদন্ত বা অনুসন্ধান কমিটি ২০ জুন ২০২৬ তারিখে মডার্ণ ডায়াগনষ্টিক সেন্টার এন্ড ক্লিনিক উপস্থিত হয়ে তদন্ত করে। তারা তাদের মতামতে উল্লেখ করেন, ওই ক্লিনিকে ৫৩ জন রোগী ইতোমধ্যে এক্সট্রাপালমোনারি টিবিতে আক্রান্ত হয়েছেন এবং এর উৎস এখনো নিশ্চিত নয়।
উৎস নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত আগত অন্যান্য রোগীদের মধ্যে সংক্রমণ প্রতিরোধের স্বার্থে উক্ত ক্লিনিকটি সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার সুপারিশ করা হয়।
আরও পড়ুন: দিনাজপুর বোর্ডের ১ কোটি ২৬ লাখ টাকার দুর্নীতির তদন্তের নির্দেশ
এই সুপারিশের প্রেক্ষিতে এক্সট্রাপালমোনারি টিবি রোগের উৎপত্তির কারণ উদঘাটন ও সংক্রমণ বিস্তার রোধের জন্য মডার্ণ ডায়াগনষ্টিক সেন্টার এন্ড ক্লিনিকের সম্পূর্ণ কার্যক্রম পরবর্তী নির্দেশ আসা না পর্যন্ত সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার নির্দেশ প্রদান করা হয়।
এছাড়া, ৫ কর্মকর্তার সমন্বয়ে এক্সট্রাপালমোনারি টিবি রোগের উৎপত্তির কারণ অনুসন্ধানে একটি টিম গঠন করা হয়েছে। মডার্ণ ডায়াগনস্টিক সেন্টার এন্ড ক্লিনিকের লাইসেন্স ২০২২-২০২৩ পর্যন্ত ছিল। একইসাথে অনলাইনে ২০২৩-২০২৪ সালের আবেদন ইনেসপেকশন এ রয়েছে।
চিঠিতে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, ক্লিনিকটি পূর্বেই বন্ধ ছিল। ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিকের লাইসেন্স হালনাগাদ না থাকায় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর মৌখিক নির্দেশে ১ আগস্টে ডায়াগনষ্টিকটি সীলগালা করে বন্ধ করা হয়।
এছাড়া, ভেদরগঞ্জ পপুলার ডায়াগনষ্টিক এন্ড ক্লিনিকের ২০২২-২০২৩ সালের আবেদন নতুন হিসাবে করা কখনো লাইসেন্স পায়নি। তাদের ট্রেড লাইসেন্স, আয়কর এবং বর্জ্য ব্যবস্থাপনা চুক্তি আছে, তবে অন্যান্য কাগজপত্র (পরিবেশ/নারকোটিক) ছাড়পত্র নেই এবং শুধু আবেদন করা হয়েছে।
আরও পড়ুন: দুমকীতে যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর আনন্দ র্যালিতে মোঃ কামরুল ইসলাম মুন্না
সুতরাং, ক্লিনিক ও ডায়াগনস্টিকের লাইসেন্স না থাকায় স্বাস্থ্যমন্ত্রীর মৌখিক নির্দেশে ১ আগস্ট ২০২৬ তারিখে তাৎক্ষণিকভাবে সীলগালা করে বন্ধ করা হয়। ক্লিনিকে রোগী ভর্তি থাকায় নতুন রোগী ভর্তি না করার জন্য নির্দেশনা প্রদান করা হয় এবং ভর্তিকৃত রোগীর চিকিৎসা শেষে আগামী ৮ তারিখে ক্লিনিকটি বন্ধ করে সীলগালা করারও নির্দেশনা দেওয়া হয়, চিঠিতে বলা হয়েছে।
এর আগে, ১ আগস্ট দুপুরে শরীয়তপুরের ভেদরগঞ্জ পরিদর্শন করেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। পরিদর্শনকালে চিকিৎসা সেবা দেওয়ার জন্য মান না থাকায় এই দু’টি প্রতিষ্ঠান বন্ধ করার নির্দেশ দেওয়া হয়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন