ঢাকা বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

পুলিশকে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপমুক্ত রাখা হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী


পুলিশকে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপমুক্ত রাখা হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, এমপি জানিয়েছেন, দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন বর্তমান সরকারের অন্যতম প্রধান অগ্রাধিকার। তিনি উল্লেখ করেন, টেকসই উন্নয়ন ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার জন্য পুলিশ বাহিনীকে সম্পূর্ণ রাজনৈতিক হস্তক্ষেপমুক্ত রাখা হবে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন, বর্তমান স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় কিংবা কোনো রাজনৈতিক পর্যায় থেকে পুলিশের নিয়োগ, বদলি বা অন্য কোনো প্রশাসনিক কার্যক্রমে কোনো ধরনের হস্তক্ষেপ করা হচ্ছে না।

রোববার (২ আগস্ট) বিকেলে রাজশাহী পুলিশ লাইন্সের ড্রিল শেডে রাজশাহীর বিভিন্ন পুলিশ ইউনিটের কর্মকর্তা ও সদস্যদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। রাজশাহী রেঞ্জ ও রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশ যৌথভাবে অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, অতীতে রাজনৈতিক স্বার্থে পুলিশকে ব্যবহার করার ফলে বাহিনীর ভাবমূর্তি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বর্তমান সরকার পুলিশকে একটি পেশাদার, নিরপেক্ষ ও জনগণের আস্থাভাজন প্রতিষ্ঠানে পরিণত করতে কাজ করছে।

আরও পড়ুন: (ছবি আছে) জিয়ানগরে ব্যবসায়ীকে কুপিয়ে গুরুতর আহত করে টাকা ছিনতাইয়ের ঘটনায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও বিচার দাবিতে মানববন্ধন

তিনি জানান, পুলিশ বাহিনীতে পেশাদারিত্ব ও সততার মূল্যায়নে ‘পুরস্কার ও শাস্তি’ ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে। যারা সাহসিকতা ও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করবেন, তাদের পদক, সনদ ও আর্থিক পুরস্কার দেওয়া হবে। পাশাপাশি পদোন্নতির ক্ষেত্রেও এসব বিষয় গুরুত্ব পাবে।

পুলিশের আধুনিকায়ন ও সক্ষমতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে বিভিন্ন উদ্যোগের কথা তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, প্রতিটি মেট্রোপলিটন এলাকায় উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন এবং প্রতিটি জেলায় প্রয়োজন অনুযায়ী সাইবার ল্যাব স্থাপন করা হবে। ডার্ক ওয়েব ও আন্তঃদেশীয় অপরাধ মোকাবিলায় পুলিশকে আরও দক্ষ করে তোলা হচ্ছে। তদন্তসংশ্লিষ্ট কেস ডকেট পুলিশের কাছেই সংরক্ষণের ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে, যাতে সরকার পরিবর্তনের পরও গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র সুরক্ষিত থাকে এবং বিচার কার্যক্রম ব্যাহত না হয়।

তিনি আরও বলেন, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরকে আধুনিক অস্ত্র, প্রশিক্ষণ, ড্রোন ও ডগ স্কোয়াডের মাধ্যমে আরও শক্তিশালী করা হচ্ছে। কিশোর অপরাধ দমনে আইনের সংজ্ঞা ও বয়সসীমা পুনর্মূল্যায়নের বিষয়টি সরকার বিবেচনা করছে। একই সঙ্গে ‘মব কালচার’ বা গণপিটুনির মতো অপরাধগুলো কঠোরভাবে দমন করে এ ধরনের ঘটনার সংখ্যা শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

নারী পুলিশ সদস্যদের কল্যাণে বিভাগীয় হাসপাতালগুলোতে গাইনোকোলজি ইউনিট স্থাপনের পরিকল্পনার কথাও জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। আবাসন সংকট নিরসনে ১০০টির বেশি মডেল থানা নির্মাণের প্রকল্প প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। এছাড়া জনবল সংকট কাটিয়ে উঠতে ১০ হাজার কনস্টেবল এবং ৪ হাজার সাব-ইন্সপেক্টর (সরাসরি ও পদোন্নতির মাধ্যমে) নিয়োগের কার্যক্রম চলমান রয়েছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, এসব নিয়োগ সম্পন্ন হলে পর্যায়ক্রমে ৮ ঘণ্টার শিফটভিত্তিক ডিউটি ব্যবস্থা চালু করা সম্ভব হবে।

আরও পড়ুন: ‎রাঙামাটিতে স্কুলছাত্র নিখোঁজ, থানায় জিডি করলেন বাবা

পুলিশ সদস্যদের উদ্দেশে তিনি বলেন, হারানো গৌরব পুনরুদ্ধার এবং দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায় সততা, নিষ্ঠা ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে হবে। এ লক্ষ্যে সরকারের পক্ষ থেকে সব ধরনের সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে।

ইন্সপেক্টর জেনারেল অব পুলিশ (আইজিপি) মো. আলী হোসেন ফকিরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত আইজিপি এ কে এম আওলাদ হোসেন ও খন্দকার রফিকুল ইসলাম। এছাড়া রাজশাহী রেঞ্জের ডিআইজি মো. আশিক সাঈদ, রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ ফয়েজুল কবীর, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ নাঈমুল হাছানসহ বিভিন্ন ইউনিটের কর্মকর্তা ও সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানের শেষে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নেরও উত্তর দেন।

আরও পড়ুন: তিন প্রতিবন্ধীকে নিয়ে অসহায় ফয়সালের পরিবার, এক আয়ে চলে আটজনের সংসার

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

খুলনায় অস্ত্র-গুলিসহ সন্ত্রাসী গ্রুপ ‘বি কোম্পানি’র ৩ সদস্য আটক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ২ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৮:০০ পি.এম


খুলনায় অস্ত্র-গুলিসহ সন্ত্রাসী গ্রুপ ‘বি কোম্পানি’র ৩ সদস্য আটক

খুলনা মহানগরীর লবণচরা থানার রায়পাড়া এলাকায় অভিযান চালিয়ে কথিত শীর্ষ সন্ত্রাসী গ্রুপ ‘বি কম্পানি’র তিন সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব)-৬।

র‌্যাবের এই অভিযান চলাকালীন তাদের কাছ থেকে দুটি বিদেশি পিস্তল, সাত রাউন্ড গুলি, একটি ম্যাগাজিন ও ১ লাখ ৫৩ হাজার ৩০০ টাকা উদ্ধার করা হয়েছে। রবিবার (২ আগস্ট) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে র‌্যাব-৬-এর সিপিসি স্পেশাল কম্পানির একটি আভিযানিক দল গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এই অভিযান পরিচালনা করেছে।

গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে পিরোজপুরের ইন্দুরকানী উপজেলার বালিপাড়া গ্রামের মো. ইলিয়াস সরদার (৪২), গোপালগঞ্জ সদর উপজেলার বকুলতলা এলাকার মো. সুজন (৩৮) এবং বরগুনার বেতাগী উপজেলার আমুয়া বেপারিপাড়া এলাকার মো. নান্না বেপারি (৫৭) রয়েছেন।

র‌্যাবের মিডিয়া সেল জানায়, অভিযানের সময় নান্না বেপারির বসতঘরে একটি তল্লাশি পরিচালনা করা হয়।

এ সময় ইলিয়াস সরদার ও সুজনের হেফাজত থেকে উদ্ধার করা হয় দুটি বিদেশি পিস্তল, একটি ম্যাগাজিন, সাত রাউন্ড গুলি এবং ১ লাখ ৫৩ হাজার ৩০০ টাকা। পরে এসব আলামত উপস্থিত সাক্ষীদের সামনে বিধি অনুযায়ী জব্দ করা হয়।

র‌্যাব জানায়, গ্রেপ্তার ব্যক্তিদের অপরাধসংক্রান্ত তথ্য পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, খুলনা মহানগর পুলিশ (কেএমপি) ছাড়াও পিরোজপুর ও বরগুনা জেলার বিভিন্ন থানায় তাঁদের বিরুদ্ধে হত্যাচেষ্টা, মাদক ও চুরিসহ একাধিক মামলা রয়েছে।

এছাড়াও র‌্যাব-৬ আরো জানায়, গ্রেপ্তার তিনজনের বিরুদ্ধে অস্ত্র আইনে মামলা দায়েরের প্রক্রিয়া চলছে।

মামলা শেষে উদ্ধার হওয়া অস্ত্র, গুলি ও অন্যান্য আলামতসহ তাদের লবণচরা থানায় হস্তান্তর করা হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

গার্মেন্টসকর্মী শাহিনা হত্যায় প্রেমিক শরিফুলের মৃত্যুদণ্ড

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ২ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৮:০২ পি.এম


গার্মেন্টসকর্মী শাহিনা হত্যায় প্রেমিক শরিফুলের মৃত্যুদণ্ড

ঢাকার আশুলিয়ার জিরাবো এলাকায় প্রায় ছয় বছর আগে পোশাক কারখানার কর্মী শাহিনা খাতুনকে শ্বাসরোধে হত্যার দায়ে তার প্রেমিক শরিফুল ইসলামকে আদালত মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন। আদালত সঙ্গে শাহিফুলকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা এবং অনাদায়ে ছয় মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ডও দেওয়া হয়েছে।

রবিবার (২ আগস্ট) বিচারক মুনির হোসেন ঢাকার অষ্টম অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালতে এই রায় ঘোষণা করেন। সংশ্লিষ্ট আদালতের বেঞ্চ সহকারী রিয়াজুল ইসলাম সজীব রায় ও দণ্ডের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, রায় ঘোষণার আগে আসামী শরিফুলকে কারাগার থেকে আদালতে হাজির করা হয়েছিল। রায় ঘোষণার পর সাজা পরোয়ানা জারি করে তাঁকে পুনরায় কারাগারে পাঠানো হয়েছে।

মামলার বিবরণ থেকে জানা যায়, শাহিনা খাতুন ও শরিফুল ইসলামের পরিচয় এবং প্রেমের সম্পর্ক আশুলিয়ার জিরাবো এলাকার একটি পোশাক কারখানায় চাকরি করার সুবাদে গড়ে ওঠে। বিবাহবহির্ভূত এই সম্পর্কের কারণে তারা একটি ভাড়া বাসায় একসঙ্গে বসবাস করতে শুরু করেন। তবে শরিফুল ইতিমধ্যে বিবাহিত এবং তার দুই সন্তানও ছিল।

এক পর্যায়ে শাহিনা বিয়ের জন্য শরিফুলকে চাপ দিতে শুরু করেন, কিন্তু শরিফুল তার প্রথম স্ত্রীর কাছে ফিরে যেতে আগ্রহী ছিলেন। এ নিয়ে তাদের মধ্যে গম্ভীর বিরোধ তৈরি হয়। ২০২০ সালের ১৯ মার্চ দুপুরে দুজনের মধ্যে বাগ্‌বিতণ্ডা হয়। কথাকাটাকাটির এক পর্যায়ে শরিফুল শাহিনাকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করেন, ওড়না দিয়ে। পরে মরদেহটি প্লাস্টিকের বস্তায় ভরে ঘরে রেখে বাইরে থেকে তালা দিয়ে পালিয়ে যান তিনি।

ঘটনার তিন দিন পর ঘর থেকে দুর্গন্ধ বের হলে স্থানীয় বাসিন্দারা পুলিশকে খবর দেন। পুলিশ এসে ঘরের দরজা ভেঙে শাহিনার মরদেহ উদ্ধার করে, যা বস্তাবন্দী ছিল।

২০২০ সালের ২২ মার্চ আশুলিয়া থানায় নিহত শাহিনার ভাই মো. রাহিন হত্যা মামলা করেন। মামলা করার পাঁচ মাস পর পুলিশ শরিফুলকে গ্রেপ্তার করে এবং গ্রেপ্তারের পর সুস্পষ্টভাবে আদালতে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেয়।

মামলাটি তদন্ত শেষ হওয়ার পর ৩০ অক্টোবর শরিফুলকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেয় আশুলিয়া থানার উপপরিদর্শক মো. ফজল আলী। ২০২২ সালের ৭ মার্চ আসামির বিরুদ্ধে বিচারকাজ শুরু হয়। মামলা পরিচালনা করার সময় মোট ১২ জন সাক্ষীর মধ্যে ৮ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করেন আদালত। পরবর্তীতে আসামির আত্মপক্ষ সমর্থন এবং যুক্তিতর্ক শুনানি শেষে আজ বিচারক এই রায় ঘোষণা করেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

খালে বাঁধ দিয়ে মাছ শিকারে ক্ষতিগ্রস্ত ম্যানগ্রোভ, বাড়ছে ঝুঁকি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ২ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৮:০৩ পি.এম


খালে বাঁধ দিয়ে মাছ শিকারে ক্ষতিগ্রস্ত ম্যানগ্রোভ, বাড়ছে ঝুঁকি

পটুয়াখালীর গলাচিপায় একটি চক্র ম্যানগ্রোভ বনের খালে বাঁধ দিয়ে মাছ শিকার করছে। শুক্রবার তোলা ছবি। কালের কণ্ঠ

গলাচিপা উপজেলার সংরক্ষিত ম্যানগ্রোভ বনের খালে বাঁধ দিয়ে মাছ শিকার চলমান রয়েছে। এটি ম্যানগ্রোভ বন এবং সেখানে উপস্থিত জীববৈচিত্র্যের জন্য হুমকির সৃষ্টি করেছে।

স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, অবৈধভাবে মাছ শিকার করার জন্য বন বিভাগ এবং স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাদের ম্যানেজ করা হচ্ছে। তারা বলেছেন, সংরক্ষিত বনের ভেতরে চলমান খালগুলোতে যত্রতত্র বাঁধ দিয়ে মাছ শিকার করা হচ্ছে। উপজেলা রেঞ্জ কর্মকর্তা নয়ন মিস্ত্রি জানিয়েছেন, যদিও মাছ শিকারের কথা স্বীকার করা হয়েছে, কিন্তু এখন পর্যন্ত কোনো খালে মাছ শিকারের বৈধ অনুমতি দেওয়া হয়নি।

গলাচিপা উপজেলায় বন বিভাগের উদ্যোগে ১৫ হাজার ২৯০ একর ম্যানগ্রোভ বনকে সংরক্ষিত হিসেবে ঘোষণা করা হয়েছে। তবে সেখানে মাছ শিকার করার জন্য একটি চক্র গড়ে উঠেছে। এই চক্রে বন বিভাগের কিছু অসাধু কর্মকর্তা-কর্মচারী এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতা জড়িত। তারা বনের ভেতর দিয়ে বয়ে যাওয়া খালে বাঁধ দিয়ে মুক্তভাবে মাছ শিকার করছে।

গলাচিপা উপজেলার চরকার ফারমা এলাকার মাছ শিকারি বাকপ্রতিবন্ধী জসিমের স্ত্রী রেশমা বেগম মন্তব্য করেন, দুই সপ্তাহ আগে ওই এলাকার জাফর ও মাহবুব জসিমের ওপর হামলা করেছে, जब সে সংরক্ষিত বনের খালে মাছ ধরার চেষ্টা করছিল। জাফর দাবি করেন যে তারা ওই খাল চার লাখ টাকায় বিট রেখেছেন এবং সেখানে অন্য কেউ মাছ ধরার সুযোগ পাবেন না।

রেশমা আরও বলেন, 'যদি এসব খাল খোলা (উন্মুক্ত) থাকে, তাহলে আমাদের মতো গরিবরা জাল দিয়ে মাছ ধরে জীবনযাপন করতে পারে।'

অভিযুক্ত মাহবুব বলেন, জসিমের সঙ্গে তাদের একটু ঝামেলা হয়েছিল। তারা ফরেস্ট অফিস এবং রাজনৈতিক নেতাদের কাছ থেকে চরকার ফারমার বনের ভেতরের আটটি খাল বিট নিয়েছেন। আরো বলেছে, অন্যান্য খালও যার কাছে বিট রয়েছে, সে মাছ ধরতে পারে।

মাহবুব আরও জানান, 'আমরা যে খাল বিট নিয়েছি, সেখানে জসিম মাছ ধরার চেষ্টা করলে বাধা দিলে ঝামেলা তৈরি হয়, যা পরে মীমাংসা হয়ে গেছে।'

চরকার ফারমার মধ্যস্বত্বভোগী মোশারেফ প্যাদা বলেছেন, 'প্রতিবছরই এ বন বিট দেওয়া হয়। এ বছরও ফরেস্ট অফিস এবং রাজনৈতিক নেতাদের ম্যানেজ করে খালের বিট নেওয়া হয়েছে। যারা খালের বিট নেয়, তারাই মাছ ধরে। কেউ কেউ বিট বিক্রি করে দেয়। তবে, কাদের কত টাকা দিতে হয়েছে, তা পরে বলবেন।'

বন বিভাগের গলাচিপা রেঞ্জ কর্মকর্তা নয়ন মিস্ত্রী জানিয়েছেন, 'আমরা এখন পর্যন্ত কোনো বনের খাল বিট দিইনি। যারা খালে বাঁধ দিয়ে অবৈধভাবে মাছ শিকার করছেন, তাদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।'

শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের ফিশারিজ অ্যান্ড মেরিন সায়েন্স অনুষদের শিক্ষক ও গবেষক মীর মোহাম্মদ আলী বলেন, 'সংরক্ষিত বনের ভেতর প্রবেশ করা মানে হলো বন এবং বনের প্রকৃতিকে ধ্বংস করা। বিভিন্ন সময় সরেজমিনে কথা বলে আমরা দেখেছি, তারা এই খালগুলোতে শুধু মাছ ধরে না, বিষও প্রয়োগ করে। এতে শুধু মাছ নয়, খালের ছোট-বড় সব জলজ প্রাণী ও প্রকৃতির ভারসাম্য মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এসব বন্ধে প্রশাসনকে অবশ্যই কঠোর অবস্থান নিতে হবে।'

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

নিখোঁজের ৫ ঘণ্টা পর ফরিদপুরে শিশুর মরদেহ উদ্ধার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ২ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৮:০৫ পি.এম


নিখোঁজের ৫ ঘণ্টা পর ফরিদপুরে শিশুর মরদেহ উদ্ধার

ফরিদপুরের নগরকান্দায় নিখোঁজ হওয়ার ৫ ঘণ্টা পর ৯ বছর বয়সী এক শিশুকন্যার মরদেহ পুলিশ উদ্ধার করেছে।

রোববার (০২ আগস্ট) দুপুরে, মরদেহটি ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে ময়না তদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। নিহত শিশুর পরিবারের অভিযোগ, শিশুটিকে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে। তবে পুলিশ জানিয়েছে, ময়না তদন্ত রিপোর্ট পাওয়ার পরই মৃত্যুর রহস্য উদঘাটন করা সম্ভব হবে।

জানা যায়, নগরকান্দা উপজেলার চরযশোরদী ইউনিয়নের তারাকান্দি গ্রামের ইদ্রিস মোল্লার মেয়ে মাহমুদা (৯), শনিবার বিকালে প্রতিবেশীর বাড়িতে যাওয়ার জন্য নিজের বাড়ি থেকে বের হয়। সন্ধ্যা হয়ে গেলেও মাহমুদা বাড়িতে ফিরে না আসায় তার পরিবারের সদস্যরা তাকে বিভিন্ন স্থান থেকে খোঁজার চেষ্টা করতে শুরু করে।

কিছুক্ষণ পরে, রাত ৯টার সময় গ্রামের রেললাইনের পাশে একটি ঝোপের মধ্যে স্থানীয়রা শিশু মাহমুদার মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে। পরে, পরিবারের সদস্যরা এবং পুলিশকে খবর দেওয়া হলে থানার পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে মরদেহ উদ্ধার করে। রোববার (০২ আগস্ট) দুপুরে মরদেহটি ময়না তদন্তের জন্য ফরিদপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। মাহমুদা চার ভাই-বোনের মধ্যে সবার ছোট ছিল।

নিহতের পরিবারের সদস্যদের অভিযোগ, শিশু মাহমুদাকে অপহরণ করে ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে এবং পরে মরদেহটি ফেলে দেওয়া হয়েছে।

সহকারী পুলিশ সুপার (নগরকান্দা সার্কেল) মুহম্মদ আল ফাহাদ জানিয়েছেন, প্রাথমিকভাবে বিষয়টি হত্যাকাণ্ড বলে মনে হচ্ছে। ধর্ষণের পর হত্যা করা হয়েছে কি না, তা ময়না তদন্ত রিপোর্ট হাতে পাওয়ার পর বোঝা যাবে। মামলার কার্যক্রম চলছে এবং মৃত্যুর রহস্য উদঘাটনে তদন্ত অব্যহত রয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৬
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%