ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৫ই নভেম্বর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ২০ই কার্তিক, ১৪৩২বঙ্গাব্দ ২৪শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বৃহস্পতিবার, ০৫ই নভেম্বর, ২০২৬ইং ২০ই কার্তিক, ১৪৩২বাং

বদির জামিন স্থগিত থাকছে


বদির জামিন স্থগিত থাকছে

বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সময় বগুড়ায় সংঘটিত সহিংসতার অভিযোগে করা এক মামলায় কক্সবাজারের সাবেক সংসদ সদস্য আবদুর রহমান বদিকে হাইকোর্টের দেওয়া জামিন আপিল বিভাগ স্থগিত রেখেছেন।

সোমবার, আপিল বিভাগের জ্যেষ্ঠ বিচারপতি মো. আশফাকুল ইসলামের নেতৃত্বাধীন আপিল বেঞ্চ এ আদেশটি দেন।

এর আগে, বিচারপতি মো. আতোয়ার রহমান ও বিচারপতি বিশ্বজিৎ দেবনাথের হাইকোর্ট বেঞ্চ গত ২৬ ফেব্রুয়ারি আওয়ামী লীগের সাবেক এই এমপিকে জামিন দেন। এরপর ওই জামিনটি স্থগিত চেয়ে রাষ্ট্রপক্ষ আবেদন করে আপিল বিভাগে।

আরও পড়ুন: অভ্যর্থনার অপেক্ষা না করেই জনতার ভিড়ে মিশে গেলেন প্রধানমন্ত্রী

৫ মার্চ, আপিল বিভাগের চেম্বার বিচারপতি মো. রেজাউল হক জামিনের ওপর স্থগিতাদেশ দিয়ে বিষয়টি নিয়মিত বেঞ্চে শুনানির জন্য পাঠান।

বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সময় ২০২৪ সালের ৪ আগস্ট বগুড়ায় সংঘটিত সহিংসতার ঘটনায় আবদুর রহমান বদিসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে মামলাটি করা হয়। এই মামলায় বদিকে অর্থের জোগানদাতা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

২০২৪ সালের জুলাই অভ্যুত্থানের ফলে আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর, ২০ আগস্ট চট্টগ্রামের পাঁচলাইশ এলাকা থেকে আবদুর রহমান বদিকে গ্রেফতার করা হয়।

র‌্যাব জানিয়েছিল, কক্সবাজারের টেকনাফে দায়ের করা একটি হত্যাচেষ্টা মামলায় তাকে গ্রেফতার করা হয়েছে।

আরও পড়ুন: বিশ্ববাসী একদিন বাংলাদেশের উদাহরণ দেবে : তারেক রহমান

আবদুর রহমান বদি আওয়ামী লীগের প্রার্থী হিসেবে নবম ও দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কক্সবাজার-৪ (উখিয়া-টেকনাফ) আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন।

টেকনাফে ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানে ভাঙচুর, লুটপাট ও হামলার অভিযোগে ২০২৪ সালের আগস্টে আবদুর রহমান বদিকে প্রধান আসামি করে ৩৩ জনের বিরুদ্ধে একটি মামলা দায়ের করা হয়।

এই মামলায় টেকনাফ উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান জাফর আহমেদকেও আসামি করা হয়েছে। কক্সবাজার জেলা বিএনপির অর্থ সম্পাদক মোহাম্মদ আবদুল্লাহ বাদী হয়ে টেকনাফ থানায় কমপ্লেইন করেছেন। অভিযোগে অজ্ঞাতনামা প্রায় ৭০ জনকে আরও আসামি করা হয়েছে।

আরও পড়ুন: শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের উদ্ভাবনী ধারণায় অর্থায়ন করবে সরকার: মাহদী আমিন

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

স্ত্রীর সামনে প্রসাবের প্রতিবাদ করায় স্বামীকে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

সোমবার, ৮ই জুন, ২০২৬ ইং

০৩:৫৯ পি.এম


স্ত্রীর সামনে প্রসাবের প্রতিবাদ করায় স্বামীকে নৃশংসভাবে হত্যা করা হয়েছে

খুলনার পাইকগাছায় স্ত্রীর সামনে প্রসব করতে বসার প্রতিবাদ করায় হাসান সরদার (৩৫) নামে এক যুবককে আবারও দফায় দফায় নৃশংসভাবে নির্যাতন করে হত্যা করা হয়েছে।

রোববার (৭ জুন) বিকেলে ঘটে যাওয়া এ ঘটনার পর নিহতের চাচা সিরাজুল বাদী হয়ে থানায় ১০ জনের নাম উল্লেখ করে মামলা করেছেন। নিহত হাসান উপজেলার চাঁদখালী ইউনিয়নের কালিদাসপুর গ্রামের মালেক সরদারের ছেলে।

নিহতের পরিবার এবং প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, রোববার বিকেল আনুমানিক ৫ টার দিকে হাসানের স্ত্রীর সামনে স্থানীয় খালেক গাজার ছেলে কুদ্দুস গাজী প্রসব করতে বসে। এমন অবস্থায় প্রতিবাদ করেন হাসান সরদার। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে কুদ্দুস গাজীর লোকজন প্রকাশ্যে হাসানকে মারপিট শুরু করেন, যা চালানোর নেতৃত্ব দেন পাইকগাছা উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক আহ্বায়ক নামজুল হুদা মিন্টু।

মারপিটের এক-দেড় ঘন্টা পরে, হাসান কিছুটা সুস্থ হলে হামলাকারীরা আবারও তার ওপর নির্যাতন চালায়। এক সময় হাসান বেহুঁশ হয়ে পড়েন। সন্ধ্যার পর যখন তার জ্ঞান ফিরে আসে, তখন পুনরায় হামলার শিকার হন। হাতুড়ি, ইট ও দরজার হাক দিয়ে আবারও তাকে আঘাত করেন মিন্টু, কুদ্দুস এবং তাদের অন্যান্য লোকজন। এ কারণে তিনি আবারও জ্ঞান হারান। পরে এশার নামাজের পরে হামলাকারীরা তাকে নসিমনের সঙ্গে দড়ি দিয়ে বেঁধে হাসপাতালে টেনে-হিঁচড়ে নিয়ে যায়।

হাসপতালে পৌঁছানোর পর কর্তব্যরত চিকিৎসক ডাঃ নয়ন কুমার সরকার জানান, হাসপাতালে আসার আগেই হাসানের প্রাণ চলে গেছে।

নিহতের ভাতিজি, যে অষ্টম শ্রেণী পড়ছে, তার নাম মীম আক্তার। তিনি জানান, নিহতের মাথার পিছনে মগজ বের হয়ে গেছে, কপাল ও চোয়ালে পেরেক ফুটানোর ছিদ্র রয়েছে, বাম চোখ রক্তাক্ত এবং চারটি হাত-পা ভেঙ্গে দেয়া হয়েছে। এছাড়া কোনো ছবি তুলতে গেলে বা ঠেকাতে গেলে তাদেরকেও মারপিট করা হয়েছে, বলে জানান তারা।

নিহতের চাচা এসময় জানান, পাইকগাছা উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক আহ্বায়ক স্থানীয় নাজমুল হুদা মিন্টু, ইবাদাত গাজী, মনিরুল ইসলাম, কুদ্দুস গাজী, কবির সরদার, জহুরুল ইসলাম, আজহারুল গাজী, ইয়াসিন সরদার, পলাশ সরদার এবং শুকুর আলীরা মিলে তার ভাতিজা হাসানকে অমানবিকভাবে নির্যাতন করে হত্যা করেছে।

এদিকে সোমবার (৭ জুন) সকালে নিহত হাসান সরদারের পরিবারের লোকজন ও এলাকাবাসী একত্রিত হয়ে অভিযুক্ত কুদ্দুস গাজী এবং তার ভাইয়ের বাড়িঘরে ভাংচুর ও অগ্নিসংযোগ করে।

আরেক অভিযুক্ত নাজমুল হুদা মিন্টু বলেন, নিহত হাসান সরদার একজন খারাপ প্রকৃতির লোক ছিলেন। তিনি সারাক্ষণ গাঁজা বিক্রি ও সেবন করতেন এবং এলাকার যুব সমাজকে নেশায় আসক্ত করছিলেন। এজন্য জনগণ গণধোলাই দিয়ে তাকে হত্যা করেছে। আমি প্রথমে ঘটনাস্থলে ছিলাম না। পরে পুলিশকে সহায়তা করে তাকে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নিয়ে গিয়েছিলাম।

পাইকগাছা থানা উপ-পুলিশ পরিদর্শক আঃ আজিজ বলেন, আমি লাশের সুরতহাল রিপোর্ট প্রস্তুত করেছি। নিহতের মাথা, মুখমণ্ডল এবং শরীরের বিভিন্ন অংশে আঘাতের চিহ্ন রয়েছে। এ ঘটনায় নিহতের চাচা সিরাজুল ইসলাম বাদী হয়ে ১০ জনের নাম উল্লেখ করে এজহার দাখিল করেছেন।

পাইকগাছা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গোলাম কিবরিয়া বলেন, আমি শুনেছি এজহার দাখিল হয়েছে। বর্তমানে আমি খুলনাতে আছি। থানায় পৌঁছানোর পর যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করবো।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

২০২৭ সালের হজ নিবন্ধনের সময়সীমা ২৬ সেপ্টেম্বর

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

সোমবার, ৮ই জুন, ২০২৬ ইং

০৪:০১ পি.এম


২০২৭ সালের হজ নিবন্ধনের সময়সীমা ২৬ সেপ্টেম্বর

২০২৭ সালের (হিজরি ১৪৪৮) হজের রোডম্যাপ ধর্মবিষয়ক মন্ত্রণালয় প্রকাশ করেছে। রবিবার (৭ জুন) মন্ত্রণালয়ের হজ-১ শাখা থেকে এই রোডম্যাপ প্রকাশ করা হয়।

এর আগেই, গত ২৯ মে সৌদি হজ ও উমরাহ মন্ত্রণালয় সৌদি আরবের জেদ্দায় এক অনাড়ম্বর অনুষ্ঠানের মাধ্যমে ২০২৭ সালের হজ কার্যক্রমের সময়সূচি ঘোষণা করা হয় এবং এটি বিভিন্ন দেশের ধর্মবিষয়ক মন্ত্রীদের সম্মুখে হস্তান্তর করা হয়।

ধর্মমন্ত্রী কাজী শাহ মোফাজ্জাল হোসাইন (কায়কোবাদ) আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন এবং সৌদি হজ ও উমরাহ মন্ত্রণালয়ের সহকারী মন্ত্রী ড. আল হাসান বিন ইয়াহইয়া আল মানাখরাহ আনুষ্ঠানিকভাবে হজের রোডম্যাপ তার কাছে হস্তান্তর করেন।

রোডম্যাপ অনুযায়ী, চলতি বছরের ২৬ সেপ্টেম্বরের মধ্যে হজযাত্রী নিবন্ধন কার্যক্রম সম্পন্ন করতে হবে এবং ৮ নভেম্বর স্বাক্ষরিত হবে দ্বিপাক্ষিক হজচুক্তি। ২০২৭ সালের ২৮ জানুয়ারি থেকে হজ ভিসা ইস্যু শুরু হবে এবং ৮ এপ্রিল থেকে হজ ফ্লাইট শুরু করা হবে।

চাঁদ দেখা সাপেক্ষে, ২০২৭ সালের হজ ১৫ মে (৯ জিলহজ্ব) অনুষ্ঠিত হতে পারে। এছাড়া, সৌদি প্রান্তের খরচের অর্থ নুসুক মাসার প্লাটফর্মের ই-ওয়ালেটে সরাসরি স্থানান্তর কার্যক্রম চলবে ১৫ জুলাই থেকে ২৪ ডিসেম্বর পর্যন্ত।

নুসুক মাসারের মাধ্যমে সামগ্রিক সেবা প্যাকেজ (তাঁবু, সার্ভিস প্যাকেজ, মক্কা ও মদিনায় হোটেল, ক্যাটারিং ও পরিবহন সেবা) গ্রহণের জন্য চুক্তি স্বাক্ষর শুরু হবে ২০২৬ সালের ২৯ জুলাই এবং তা শেষ হবে ২০২৭ সালের ২৩ জানুয়ারি।

হজযাত্রীদের ডাটা নুসুক মাসার সিস্টেমে আপলোড করতে হবে ১৪ আগস্ট ২০২৬ থেকে ২৮ জানুয়ারি ২০২৭ পর্যন্ত। হজযাত্রী পরিবহনকারী এয়ারলাইন্সের সঙ্গে চুক্তি স্বাক্ষর ও নুসুক মাসারে ডকুমেন্টেশন সম্পন্ন করতে হবে চলতি বছরের ২৯ জুলাই থেকে ৮ নভেম্বরে।

ঘোষিত এই রোডম্যাপ অনুযায়ী, হজের কার্যক্রম সম্পন্ন করার জন্য মন্ত্রণালয় কর্তৃক অনুরোধ জানানো হয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

এএমডব্লিউসি নেতারা অসুস্থ ও প্রয়াত কমিউনিটি সদস্যদের পরিবারের খোঁজ নেন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

সোমবার, ৮ই জুন, ২০২৬ ইং

০৪:০২ পি.এম


এএমডব্লিউসি নেতারা অসুস্থ ও প্রয়াত কমিউনিটি সদস্যদের পরিবারের খোঁজ নেন

অস্ট্রেলিয়ান মুসলিম ওয়েলফেয়ার সেন্টার(এএমডব্লিউসি) এর নেতারা সম্প্রতি প্রয়াত কমিউনিটি সদস্য বদরোজ্জা পাঠানের(বুলু) পরিবারের সদস্যদের খোঁজ-খবর নিয়েছেন। একই সঙ্গে অসুস্থ কমিউনিটি সদস্যদের পাশে দাঁড়ানোর লক্ষ্যে তাদের বাসা ও হাসপাতাল পরিদর্শন করেছেন।

সংগঠনের সভাপতি ড. আনিছুল আফছার এবং সাধারণ সম্পাদক সাদিকুর রহমান মুনের নেতৃত্বে কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্যরা প্রথমে কমিউনিটির পরিচিত সদস্য নার্গিস ইয়াসমিন লতার বাসায় গিয়ে তার খোঁজ-খবর নেন। পরে তারা ক্যাম্পবেলটাউন হাসপাতালে দীর্ঘদিন ধরে অসুস্থ বিশিষ্ট সমাজসেবক ড. রফিকুল ইসলাম, সিনিয়র সিটিজেন জাহিদুর রহমান এবং মোজাম্মেল ভূঁইয়ার শারীরিক অবস্থার খোঁজ নেন ও তাদের সঙ্গে সময় কাটান।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য আব্দুস সোবহান, শামসুল হক বাচ্চু, মাহমুদ হক ও ক্রীড়া সম্পাদক আব্দুল মতিন পপলু, প্রচার সম্পাদক আতিকুর রহমান, কোষাধ্যক্ষ জাহেরুল ইসলাম এবং সহ-সাধারণ সম্পাদক মুরশিদুল ইসলাম আপেল।

নেতারা জানান, অস্ট্রেলিয়ান মুসলিম ওয়েলফেয়ার সেন্টার দীর্ঘদিন ধরে ধর্মীয়, সামাজিক ও মানবিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা করে আসছে। কমিউনিটির অসুস্থ সদস্যদের মানসিক সমর্থন ও সহমর্মিতা প্রদানের এ উদ্যোগ ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে। শিগগিরই অন্যান্য অসুস্থ কমিউনিটি সদস্যদের বাসা ও হাসপাতালে গিয়ে খোঁজ-খবর নেওয়ার পরিকল্পনা রয়েছে বলেও জানান তারা।

মানবিক ও কল্যাণমূলক কার্যক্রম সফলভাবে পরিচালনায় কমিউনিটির সর্বস্তরের মানুষের সহযোগিতা কামনা করেছেন সংগঠনের নেতারা।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সিঙ্গাপুরে মাটির গভীরে পরমাণু বর্জ্য সংরক্ষণ সম্ভব: গবেষণা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

সোমবার, ৮ই জুন, ২০২৬ ইং

০৪:০৪ পি.এম


সিঙ্গাপুরে মাটির গভীরে পরমাণু বর্জ্য সংরক্ষণ সম্ভব: গবেষণা

ভবিষ্যতে যদি সিঙ্গাপুরে পারমাণবিক শক্তির ব্যবহার করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়, তবে সেখানে উৎপাদিত তেজস্ক্রিয় বর্জ্য ভূগর্ভের গভীরে নিরাপদে সংরক্ষণ করা সম্ভব হতে পারে। এ কথা একটি গবেষণায় উঠে এসেছে। দেশটির কর্তৃপক্ষ এবং সুইডেনের একটি বিশেষায়িত প্রতিষ্ঠানের যৌথ গবেষণায় উল্লেখ করা হয়েছে যে, এ ক্ষেত্রে বড় ধরনের কোনও প্রযুক্তিগত বাধা এখনও শনাক্ত হয়নি।

গবেষণাটি মূলত বিদ্যমান তথ্য-উপাত্তের ওপর ভিত্তি করে পরিচালিত একটি ডেস্কটপ সমীক্ষা। তবে সিঙ্গাপুরের ভূতাত্ত্বিক পরিবেশের পূর্ণাঙ্গ মূল্যায়নের জন্য ভবিষ্যতে মাঠপর্যায়ের জরিপ ও অনুসন্ধান প্রয়োজন পড়বে বলে জানিয়েছে দেশটির জ্বালানি বাজার কর্তৃপক্ষ (ইএমএ)।

২০২৩ সালে ইএমএ ও জাতীয় পরিবেশ সংস্থা (এনইএ) সুইডেনভিত্তিক পারমাণবিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিশেষজ্ঞ প্রতিষ্ঠান এসকেবি ইন্টারন্যাশনালকে দায়িত্ব প্রদান করে, যাতে সিঙ্গাপুরে ঘনবসতিপূর্ণ ও ক্ষুদ্র আয়তনের দেশের প্রেক্ষাপটে তেজস্ক্রিয় বর্জ্য ব্যবস্থাপনার সম্ভাবনা ও চ্যালেঞ্জগুলো মূল্যায়ন করা যায়।

গবেষণাটি ২০২৩ সালে সম্পন্ন হলেও জনসমক্ষে প্রকাশ করা হয়েছিল ২০২৬ সালের মে মাসে। একই সঙ্গে সিঙ্গাপুর সরকার জানায় যে, ২০২৭ সালে দেশটি জাতিসংঘের পারমাণবিক পর্যবেক্ষণ সংস্থা আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থা (আইএইএ)-এর মূল্যায়নের মুখোমুখি হবে। এই মূল্যায়নের মাধ্যমে তা নির্ধারণ করা হবে যে, পারমাণবিক শক্তি ব্যবহারের বিষয়ে সিঙ্গাপুর কতটা প্রস্তুত।

পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের অন্যতম প্রধান উপজাত হলো তেজস্ক্রিয় বর্জ্য। এতে এমন তেজস্ক্রিয় কণা থাকে, যা হাজার হাজার বছর পর্যন্ত বিপজ্জনক অবস্থায় থাকতে পারে। সঠিক ব্যবস্থাপনা না করা হলে এগুলো মানবস্বাস্থ্য ও পরিবেশের জন্য মারাত্মক ঝুঁকি সৃষ্টি করতে পারে।

তেজস্ক্রিয়তার মাত্রা ও ক্ষয়প্রক্রিয়ার সময়কাল অনুযায়ী পারমাণবিক বর্জ্য সাধারণত বিভিন্ন শ্রেণিতে ভাগ করা হয়। নিম্নমাত্রার বর্জ্যের মধ্যে দূষিত গ্লাভস, পোশাক ও অন্যান্য সরঞ্জাম অন্তর্ভুক্ত থাকে। অপরদিকে, উচ্চমাত্রার বর্জ্যের প্রধান উৎস হলো ব্যবহৃত ইউরেনিয়াম জ্বালানি রড।

এই ব্যবহৃত জ্বালানি রডে থাকা প্লুটোনিয়াম-২৩৯-এর মতো উপাদান তেজস্ক্রিয়তা কমাতে প্রায় দুই লাখ ৪০ হাজার বছর সময় নেয়। ফলে এগুলোকে দীর্ঘমেয়াদে নিরাপদে সংরক্ষণ করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

এক সময় মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা পারমাণবিক বর্জ্য মহাকাশে পাঠিয়ে দেওয়ার ধারণা বিবেচনা করেছিল। কিন্তু বিপুল ব্যয় এবং উৎক্ষেপণ ব্যর্থতার ঝুঁকির কারণে সে পরিকল্পনা বাতিল করা হয়।

বর্তমানে পারমাণবিক শক্তি ব্যবহারকারী দেশগুলোতে ব্যবহৃত জ্বালানি রড প্রথমে বিদ্যুৎকেন্দ্রের বিশেষ পানির পুলে ঠান্ডা করা হয় অথবা সুরক্ষিত কনটেইনারে সংরক্ষণ করা হয়। পরে এগুলোকে গভীর ভূগর্ভস্থ সংরক্ষণাগারে স্থানান্তরের পরিকল্পনা করা হয়।

এসব স্থাপনার নাম ডিপ জিওলজিক্যাল রিপোজিটরি বা গভীর ভূতাত্ত্বিক সংরক্ষণাগার। সাধারণত ভূপৃষ্ঠের ৪০০ থেকে ৮০০ মিটার নিচে নির্মিত টানেল নেটওয়ার্কের মাধ্যমে এসব স্থাপনা গড়ে তোলা হয়, যার উদ্দেশ্য হলো তেজস্ক্রিয় পদার্থ হাজার হাজার বছর ধরে জীবজগত থেকে বিচ্ছিন্ন রাখা।

বর্তমানে ফিনল্যান্ড, সুইডেন ও ফ্রান্সসহ বেশ কয়েকটি দেশ এ ধরনের স্থাপনা নির্মাণ বা অনুমোদনের বিভিন্ন পর্যায়ে রয়েছে। এর মধ্যে ফিনল্যান্ডই একমাত্র দেশ যারা সম্পূর্ণরূপে একটি স্থাপনা নির্মাণ করেছে। দেশটির ‘অনকালো’ নামের ভূগর্ভস্থ সংরক্ষণাগারের কার্যক্রম ২০২৬ সালের শেষের দিকে শুরু হওয়ার কথা রয়েছে।

অনকালো প্রকল্পের প্রযুক্তির উন্নয়নে নেতৃত্ব দিয়েছে এসকেবি ইন্টারন্যাশনাল।

ইএমএ’র ভাষ্য অনুযায়ী, গবেষণায় সিঙ্গাপুরের জন্য সম্ভাব্য বিভিন্ন ধরনের গভীর ভূগর্ভস্থ সংরক্ষণ পদ্ধতি বিশ্লেষণ করা হয়েছে। ফলাফলে দেখা যায়, কোনও বিকল্পই প্রযুক্তিগতভাবে অসম্ভব নয়।

সংস্থাটি বলেছে, “সিঙ্গাপুরে তেজস্ক্রিয় বর্জ্য ব্যবস্থাপনার সম্ভাব্য পদ্ধতিগুলোর ক্ষেত্রে কোনও মৌলিক প্রযুক্তিগত বাধা পাওয়া যায়নি। এমনকি উৎপাদিত বর্জ্যের পরিমাণও ছোট একটি দেশের জন্য অপ্রতিরোধ্য হবে না।”

একটি ১ গিগাওয়াট ক্ষমতাসম্পন্ন প্রচলিত পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র বছরে প্রায় সাত লাখ পরিবারের বিদ্যুৎ চাহিদা পূরণ করতে পারে। এমন একটি কেন্দ্র বছরে প্রায় ৩ লাখ ৭০ হাজার লিটার পারমাণবিক বর্জ্য উৎপাদন করতে সক্ষম, যা একটি অলিম্পিক মানের সুইমিংপুলের প্রায় সাত ভাগের এক ভাগ জায়গা পূরণ করতে পারে।

এর মধ্যে প্রায় ৫ শতাংশ উচ্চমাত্রার বর্জ্য, যা মূলত ব্যবহৃত জ্বালানি। তুলনামূলকভাবে, সিঙ্গাপুরের সেমাকাউ ল্যান্ডফিলের ধারণক্ষমতা ১১ হাজারেরও বেশি অলিম্পিক মানের সুইমিংপুলের সমান।

গবেষণায় আরও বলা হয়েছে, প্রচলিত পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের জন্য ব্যবহৃত বর্জ্য ব্যবস্থাপনা পদ্ধতিগুলো ক্ষুদ্র মডুলার রিঅ্যাক্টর (এসএমআর)-এর ক্ষেত্রেও কার্যকর হতে পারে।

সিঙ্গাপুর বর্তমানে এ ধরনের উন্নত ও তুলনামূলক নিরাপদ প্রযুক্তির ওপর বিশেষ নজর রাখছে। সাধারণত একটি ক্ষুদ্র মডুলার রিঅ্যাক্টরের উৎপাদনক্ষমতা ৩০০ মেগাওয়াট পর্যন্ত হতে পারে, যা প্রচলিত ১ গিগাওয়াট কেন্দ্রের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ।

ইএমএ জানিয়েছে, সঠিক বিকিরণ প্রতিরোধ ও সুরক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে তেজস্ক্রিয় বর্জ্য ব্যবস্থাপনার ঝুঁকি অত্যন্ত কম পর্যায়ে রাখা সম্ভব।

বিশেষজ্ঞদের মতে, সিঙ্গাপুরের উত্তর ও মধ্যাঞ্চলে বিস্তৃত গ্রানাইট শিলাস্তর ব্যবহৃত জ্বালানি ও তেজস্ক্রিয় বর্জ্য সংরক্ষণের জন্য উপযুক্ত হতে পারে।

সিঙ্গাপুরে বুকিত তিমাহ গ্রানাইট নামে পরিচিত শিলাস্তর উডল্যান্ডস, সেমবাওয়াং, বুকিত বাতক ও মধ্যাঞ্চলে বিস্তৃত। এছাড়া পুলাউ উবিন দ্বীপেও গ্রানাইট রয়েছে।

তবে শিলাগুলোতে বড় ধরনের ফাটল বা ভূতাত্ত্বিক ফল্ট থাকা যাবে না। কারণ এসব ফাটলের মাধ্যমে ভূগর্ভস্থ পানি প্রবাহিত হলে তেজস্ক্রিয় পদার্থ পরিবেশে ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি তৈরি হতে পারে।

অন্য একটি বিকল্প হিসেবে পাঁচ কিলোমিটার গভীর বোরহোল প্রযুক্তি বিবেচনা করা যেতে পারে। সিঙ্গাপুরের সীমিত ভূমির কারণে ঐতিহ্যগত টানেলভিত্তিক সংরক্ষণাগারের পরিবর্তে এই পদ্ধতি ব্যবহার সম্ভব।

এই পদ্ধতিতে প্রায় পাঁচ কিলোমিটার গভীর সরু গর্ত খনন করা হয় এবং নিচের অংশে তেজস্ক্রিয় বর্জ্য রাখা হয়। এরপর বেন্টোনাইট মাটি, সিমেন্ট ও অ্যাসফল্ট দিয়ে গর্ত সিল করে দেওয়া হয়, ফলে বর্জ্য পুনরুদ্ধার করা প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়ে।

প্রযুক্তিগত সক্ষমতার চেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হতে পারে জনসাধারণের আস্থা অর্জন। বিশেষজ্ঞদের মতে, সিঙ্গাপুরের বিশেষ ভৌগোলিক বাস্তবতা ও সীমাবদ্ধতার কারণে জনগণকে দীর্ঘ সময় ধরে সম্পৃক্ত রাখতে হবে।

প্রকৌশল পরামর্শক প্রতিষ্ঠান এইচওয়াই-এর পারমাণবিক কৌশল বিশেষজ্ঞ ম্যাথিউ চিউ বলেন, ফিনল্যান্ডের অনকালো প্রকল্প বাস্তবায়নে প্রায় চার দশক সময় লেগেছে। উপযুক্ত স্থান নির্বাচনেই প্রায় ২০ বছর সময় ব্যয় হয়েছে। পুরো প্রক্রিয়াজুড়ে স্থানীয় জনগণের সঙ্গে ধারাবাহিক যোগাযোগ বজায় রাখা হয়েছে।

তিনি বলেন, “সিঙ্গাপুরের বিশেষ ভৌগোলিক বাস্তবতা ও সীমাবদ্ধতার কারণে জনগণকে দীর্ঘ সময় ধরে সম্পৃক্ত রাখতে হবে। ভূগর্ভস্থ বর্জ্য সংরক্ষণের বিষয় আলোচনা শুরু করার আগে পারমাণবিক শক্তি সম্পর্কে জনসচেতনতা বৃদ্ধি করা জরুরি।”

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, ভবিষ্যতে যদি এমন কোনও স্থাপনা নির্মাণ করা হয়, তাহলে তা আবাসিক এলাকা থেকে দূরে, কম জনবসতিপূর্ণ অঞ্চল বা উপযুক্ত উপকূলীয় দ্বীপে স্থাপন করা হতে পারে। সিঙ্গাপুর সরকার জানিয়েছে, পারমাণবিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা বিষয়ে সক্ষমতা বৃদ্ধির পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে যেন দেশের জন্য সবচেয়ে নিরাপদ ও উপযোগী সমাধান নির্ধারণ করা যায়। সূত্র: স্ট্রেইটস টাইমস

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ২৪শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৯
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪১
মাগরিব ০৫:১৭
ইশা ০৬:৩০
সূর্যোদয় : ০৬:০৬ সূর্যাস্ত : ০৫:১৭
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%