০৪:৫৫ পি.এম
ভারতীয় রুপির বিপরীতে বাংলাদেশি টাকার মান উল্লেখযোগ্যভাবে শক্তিশালী হয়েছে। দীর্ঘ প্রায় এক দশক পর বর্তমানে বাংলাদেশি ১০০ টাকায় পাওয়া যাচ্ছে ৭৯ ভারতীয় রুপি, যা আগে ছিল মাত্র ৭৩ রুপি।
ঠিক একইভাবে আগে ১০০ রুপি কিনতে যেখানে প্রায় ১৪০ টাকা খরচ করতে হতো, এখন কেবল ১২৩ টাকা লাগছে।
মুদ্রা বিনিময় হারের এই পরিবর্তনের ফলস্বরূপ সীমান্ত বাণিজ্য, আমদানি কার্যক্রম এবং ভারতগামী পাসপোর্টধারী যাত্রীদের মধ্যে স্বস্তির অনুভূতি ফিরেছে, এমনটাই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
আরও পড়ুন: যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের লড়াই বদলে দিচ্ছে সুপ্রিম কোর্ট
ভারত ভ্রমণের ক্ষেত্রে এক বাংলাদেশি পাসপোর্টধারীর জন্য যাত্রার পূর্বেই বিভিন্ন খাতে উল্লেখযোগ্য অর্থ ব্যয় করতে হয়। ভারতের দূতাবাসের ভিসা ফি ১ হাজার ৫৫০ টাকা, বন্দর চার্জ ৪০০ রুপি, বাংলাদেশ সরকারের ভ্রমণ কর ১ হাজার টাকা এবং বন্দর ফি ৬৫ টাকা পরিশোধ করতে হয়। এ ছাড়া ভিসার সিরিয়াল সংগ্রহ ও যাতায়াত খরচও রয়েছে। রূপির উচ্চমূল্যের জন্য ভারত ভ্রমণ অতীতে অনেকের জন্য ব্যয়বহুল হয়ে উঠেছিল। এছাড়া, রুপির দাম বাড়ানোর কারণে ভারত থেকে পণ্য আমদানিতে অতিরিক্ত খরচ বহন করতে হচ্ছিল ব্যবসায়ীদের। ফলে অনেক আমদানিকারক ক্ষতির আশঙ্কায় ব্যবসার সীমাবদ্ধতা সৃষ্টি করেছিলেন।
তবে সম্প্রতি ভারতের নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে হঠাৎ করেই বাংলাদেশি টাকার মান বৃদ্ধি পেতে শুরু করে। গত তিন দিনের ব্যবধানে রুপির বিপরীতে টাকার মান আরও শক্তিশালী হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে ভ্রমণকারী ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে নতুন আশার সঞ্চার হয়েছে।
বেনাপোল স্থলবন্দর ব্যবহারকারী পাসপোর্টধারী রাশেদুজ্জামান বলেন, টাকার মান বৃদ্ধির ফলে ভারত ভ্রমণের খরচ কিছুটা কমবে, যা সাধারণ মানুষের জন্য একটি স্বস্তির বিষয়।
বেনাপোল আমদানিকারক রফতানিকারক সমিতির সহসভাপতি আমিনুল হক জানান, বাংলাদেশি টাকার মান শক্তিশালী হওয়ায় ভারত থেকে পণ্য আমদানিতে ব্যয় কমতে যাচ্ছে এবং ব্যবসায়িক কার্যক্রমে ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।
আরও পড়ুন: নিরাপদ সড়ক নিশ্চিত করতে আইন প্রয়োগের দাবি জানালো নিসচার
বেনাপোল বন্দরের পরিচালক শামিম হোসেন বলেন, দীর্ঘ ১০ বছরের মধ্যে বাংলাদেশি টাকার মান সবচেয়ে বেশি বেড়েছে। নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য ও যাত্রী চলাচল আরও বৃদ্ধি পাবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।
সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার (১৬ জুন) বন্দর দিয়ে বাংলাদেশ ও ভারতের মধ্যে ১ হাজার ৮৩৬ জন দেশি-বিদেশি পাসপোর্টধারী যাতায়াত করেছেন। একই দিনে ৩৪৫টি ট্রাকে আমদানি-রফতানি পণ্য পরিবহণ করা হয়েছে।
বেনাপোল সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের দপ্তর সম্পাদক মোস্তাফিজ্জোহা সেলিম জানান, ব্যবসায়ী ও ভ্রমণকারীদের প্রত্যাশা, বাংলাদেশি টাকার এই ইতিবাচক ধারা অব্যাহত থাকলে দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরও গতিশীল হবে এবং সীমান্ত অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
আরও পড়ুন: রামপালে ফয়লাহাট আছিয়া মাদ্রাসার সুবর্ণজয়ন্তী ও মিলনমেলা অনুষ্ঠিত
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন