০৪:৫৬ পি.এম
আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টি দাবি করেছে, পুশইন বন্ধ করতে সরকারের দৃশ্যমান কোনো উদ্যোগ নেই। বুধবার রাজধানীর বিজয়নগরে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত ‘সীমান্ত হত্যা, পুশইন ও কাঁটাতারের রাজনীতি’ শীর্ষক সংবাদ সম্মেলনে তাদের এই দাবি উঠে আসে। সংবাদ সম্মেলনে এবি পার্টির চেয়ারম্যান মজিবুর রহমান মঞ্জু অভিযোগ জানান, পুশইনের মাধ্যমে ভারত সরকার কূটনৈতিক সৌজন্য, আন্তর্জাতিক আইন ও মানবাধিকারের চরম লঙ্ঘন করে যাচ্ছে। বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে এ সম্পর্কে কার্যকর কোনো পদক্ষেপ বা উদ্যোগ না নেওয়ায় তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন। মঞ্জু বলেন, ভারত সরকার বলেছিল নির্বাচিত সরকার এলে তারা সহযোগিতা করবে, কিন্তু তাদের সহযোগিতার এই নৃশংস নমুনা অতীতের মতোই আমাদের দেখতে হচ্ছে। বিশ্ব সম্প্রদায়ের কাছে ভারতের কাঁটাতারের রাজনীতি, সীমান্ত হত্যা এবং পুশইনের মতো শত্রুসুলভ কার্যক্রম তুলে ধরার জন্য তিনি সকলের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। এবি পার্টির সাধারণ সম্পাদক ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ বলেন, কোনো রাষ্ট্রীয় বাহিনী তার অভিবাসী নাগরিককে অন্য দেশের মানুষ বলে জোরপূর্বক সীমান্তের শূন্যরেখায় দিনের পর দিন খোলা আকাশের নিচে বসিয়ে রাখা এবং নির্যাতন করে ঠেলে পাশের দেশে ঢোকানো অমানবিক নিষ্ঠুর আচরণ। বলেন, আমাদের জানা নাই পৃথিবীর কোথাও এমন কাণ্ড ঘটেছে কি না। এর আগে মিয়ানমারের জান্তা সরকার তাদের নাগরিকদের ওপর নৃশংস গণহত্যা চালিয়ে তাদের বাংলাদেশে ঠেলে দেয়। কয়েক যুগ ধরে বিশ লক্ষাধিক শরণার্থীর হৃদয়বিদারক জীবন বিশ্ববাসী দেখছে। তাদের পুনর্বাসনের জন্য কোনো উদ্যোগ নেই। তিনি আরো উল্লেখ করেন, বাংলাদেশের সঙ্গে সুস্থ ও টেকসই দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক গড়ে তুলতে হলে ভারতকে অবিলম্বে সীমান্ত হত্যা ও পুশইনের নীতি বন্ধ করতে হবে। তিনি উল্লেখ করেন, বাংলাদেশ প্রতিবেশীসুলভ সম্পর্ক চায়, তবে তা হতে হবে সম্মান, মর্যাদা এবং পারস্পরিক শ্রদ্ধার ভিত্তিতে। ফুয়াদ বলেন, বাংলাদেশ বদলে গেছে। আওয়ামী আমলের নতজানু পররাষ্ট্রনীতি এখন আর চলতে পারে না। জাতীয় স্বার্থ এবং সার্বভৌমত্বের সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে নতুন বাস্তবতায় স্বাধীন এবং কার্যকর পররাষ্ট্রনীতি প্রণয়ন করতে হবে। সংবাদ সম্মেলনে তিনি গত পাঁচ দশকে সীমান্তে নিহত হাজার হাজার বাংলাদেশি নাগরিকের হত্যার বিচার এবং ক্ষতিপূরণ দাবি করেন। পাশাপাশি, সীমান্ত সুরক্ষায় বিজিবিকে আধুনিকায়ন, সীমান্তবর্তী জনগণের জন্য প্রয়োজনীয় সামরিক এবং নাগরিক প্রতিরক্ষা প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা এবং জুলাই গণঅভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষা ধারণ করে সর্বদলীয় জাতীয় ঐকমত্যের ভিত্তিতে স্বাধীন পররাষ্ট্রনীতি প্রণয়নের আহ্বান জানান। সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন, দলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. আলতাফ হোসাইন, শ্রম বিষয়ক সম্পাদক শাহ আব্দুর রহমান, ঢাকা মহানগর দক্ষিণের আহ্বায়ক আব্দুল হালিম খোকন, মহানগর উত্তরের আহ্বায়ক সেলিম খান এবং ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সদস্য সচিব বারকাজ নাসির আহমদ।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন