১০:১০ এম
মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত মার্কিন সামরিক বাহিনীর ওপর হঠাৎ করে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিয়ে অতর্কিত হামলা চালিয়ে দিয়েছে ইরান। একই সময়ে ইরাকে যুক্তরাষ্ট্র ও সৌদি আরব যৌথভাবে ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর ঘাঁটিতে বিমান হামলা চালিয়েছে।
জর্ডানে অবস্থানরত মার্কিন লক্ষ্যবস্তুতে হামলার অভিযোগ করে ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি)। বুধবার ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম প্রেস টিভি প্রকাশিত একটি বিবৃতিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
আইআরজিসির এই বিবৃতির পর, হামলার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম)। তারা জানিয়েছে, মধ্যপ্রাচ্যে তাদের বাহিনীর ওপর একটি হঠাৎ হামলা মার্কিন সেনারা সফলভাবে প্রতিহত করেছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি পোস্টে সেন্টকম জানিয়েছে, ‘ইস্টার্ন টাইম বিকাল ৫টা ৪৫ মিনিটে ইরান থেকে আইআরজিসি বাহিনী একাধিক ব্যালিস্টিক মিসাইল নিক্ষেপ করে। এটি মূলত মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থিত মার্কিন বাহিনীর ওপর একটি অতর্কিত হামলা করার চেষ্টা ছিল।’
আরও পড়ুন: ইশরাকের পিস্তল উঁচানো দৃশ্য ত্রাসের রাজত্বের প্রতীক: জামায়াত
সেন্টকম তাদের বিবৃতিতে হামলার জন্য নির্দিষ্ট কোনো স্থানের নাম বা লক্ষ্যবস্তু নিয়ে বিস্তারিত কিছু জানায়নি। তবে তারা নিশ্চিত করেছে, হামলার জন্য ব্যবহার করা ইরানের সব মিসাইল মাঝপথে সফলভাবে আটক করা হয়েছে। এই ঘটনার পর মার্কিন বাহিনী বর্তমানে যেকোনো অপ্রত্যাশিত পরিস্থিতি মোকাবিলায় সর্বোচ্চ সতর্ক ও প্রস্তুত অবস্থায় রয়েছে।
অন্যদিকে, নিজেদের বাহিনীর ওপর অতর্কিত হামলার কড়া জবাব দিতে ওয়াশিংটন বিন্দুমাত্র দেরি করেনি। বুধবার ভোরে মার্কিন ও সৌদি বাহিনী সম্প্রতি ইরাকের মধ্যে ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর একাধিক ঘাঁটিতে ভয়াবহ বিমান হামলা চালিয়েছে।
ইরান-সমর্থিত ইরাকি সশস্ত্র জোট পপুলার মোবিলাইজেশন ফোর্সেস (পিএমএফ) জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও সৌদির আকস্মিক হামলায় তাদের কয়েকজন সদস্য নিহত এবং আহত হয়েছে, পাশাপাশি একাধিক ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। পিএমএফ এই হামলাকে এক ‘অত্যন্ত বিপজ্জনক উসকানি’, ইরাকের সার্বভৌমত্বের চরম লঙ্ঘন এবং সরকারি নিরাপত্তা বাহিনীর ওপর সরাসরি আঘাত বলে তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র ও সৌদি আরব জানিয়েছে, পূর্বে তাদের উপর হওয়া হামলার প্রতিশোধ হিসেবেই এই যৌথ অভিযান চালানো হয়েছে।
উল্লেখ্য, ২০১৪ সালে জঙ্গিগোষ্ঠী আইএসআইএস-এর বিরুদ্ধে লড়াইয়ের জন্য পিএমএফ গঠিত হয়। আইএসআইএস-কে পরাজিত করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখায় ২০১৬ সালে পিএমএফ-কে ইরাকের সরকারি নিরাপত্তা কাঠামোর মধ্যে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। যদিও এই জোটের বেশ কিছু শক্তিশালী গোষ্ঠীর সঙ্গে ইরানের আইআরজিসি-এর অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। লেবাননের হিজবুল্লাহ, গাজার হামাস ও ইয়েমেনের হুতিদের মতো পিএমএফ-ও এই অঞ্চলে তেহরানের ‘অ্যাক্সিস অব রেজিসট্যান্স’-এর একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। এই কারণেই তারা দীর্ঘ সময় ধরে মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের ওপর হামলা চালিয়ে আসছে।
আরও পড়ুন: রাজনীতিকে সঠিক পথে পরিচালনায় সাংবাদিকদের ভূমিকা গুরুত্বপূর্ণ: সড়ক পরিবহণমন্ত্রীর মন্তব্য
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন