সোমবার, ২৮শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৩:৫১ পি.এম
সিলেটকে দেশের প্রথম প্লাস্টিক দূষণমুক্ত শহর হিসেবে গড়ে তোলার উদ্দেশ্যে আধুনিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কার্যক্রমের সম্প্রসারণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর আওতায় সিলেট সিটি কর্পোরেশনে (সিসিক) প্রথমবারের মতো ‘বায়োড্রায়িং প্ল্যান্ট’ স্থাপনের পরিকল্পনা করা হয়েছে। এই উদ্যোগ বাস্তবায়নে সিসিককে সহযোগিতা করবে লাফার্জহোলসিম বাংলাদেশ।
সোমবার, নগরীর একটি হোটেলে ‘জিওসাইকেল সপ্তাহ ২০২৬’ উপলক্ষে লাফার্জহোলসিম বাংলাদেশ ও সিলেট সিটি কর্পোরেশনের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত ‘এ রোডম্যাপ টু বিকাম এ প্লাস্টিক পল্যুশন ফ্রি সিটি’ শীর্ষক সেমিনারে এ তথ্য জানানো হয়।
সেমিনারের প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন সিলেট সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী। তিনি বলেন, “আমরা প্লাস্টিক দূষণমুক্ত একটি আধুনিক নগর গড়ে তুলতে চাই। সিলেটকে পরিচ্ছন্ন ও সবুজ নগরীতে পরিণত করতে স্থানীয় সরকারের উদ্যোগের পাশাপাশি সামাজিক অংশগ্রহণ এবং বিদ্যমান আইন ও বিধিবিধানের কার্যকর বাস্তবায়ন প্রয়োজন।”
তিনি আরও বলেন, নগরীর বর্জ্য ব্যবস্থাপনা একটি বড় চ্যালেঞ্জ। তবে সিসিক এই ক্ষেত্রে ধারাবাহিকভাবে কাজ করে যাচ্ছে। পরিচ্ছন্ন ও আধুনিক নগর গড়ে তোলার জন্য সিটি কর্পোরেশনের উদ্যোগ যথেষ্ট নয়; নগরবাসীকেও সচেতন হতে হবে। তিনি যত্রতত্র প্লাস্টিক ও বর্জ্য না ফেলে নির্দিষ্ট স্থানে বর্জ্য ফেলার আহ্বান জানান।
অতিরিক্ত, সিসিক প্রশাসক বলেন, কৌশলগত অংশীদারত্ব, আধুনিক অবকাঠামো এবং জনসচেতনতার সমন্বয়ের মাধ্যমে সিলেটকে একটি পরিচ্ছন্ন, সবুজ ও পরিবেশবান্ধব নগর হিসেবে গড়ে তুলতে চায় সিটি কর্পোরেশন।
সেমিনারের শুরুতে লাফার্জহোলসিম বাংলাদেশের বর্জ্য ব্যবস্থাপনা শাখা ‘জিওসাইকেল’-এর কার্যক্রম নিয়ে একটি অডিও-ভিজ্যুয়াল প্রদর্শনী অনুষ্ঠিত হয়। পরে সিসিকের প্রধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা লেফটেন্যান্ট কর্নেল (অব.) মোহাম্মদ একলিম আবদীন সিলেট নগরীর বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কার্যক্রম নিয়ে উপস্থাপনা করেন। জিওসাইকেলের পৌর বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কার্যক্রম তুলে ধরেন হেড অব জিওসাইকেল লতিফুর রহমান।
সেমিনারে নগরীর লালমাটিয়া ডাম্পিং গ্রাউন্ডে অবস্থিত মেটেরিয়াল রিকভারি ফ্যাসিলিটি (এমআরএফ)-এর অগ্রগতি ও কার্যক্রম নিয়েও আলোচনা করা হয়। ২০২৪ সালে সিসিক ও লাফার্জহোলসিম বাংলাদেশের যৌথ উদ্যোগে স্থাপিত এ প্ল্যান্টে নগরীর বর্জ্য থেকে প্লাস্টিক ও অন্যান্য অপচনশীল উপাদান পৃথক করা হচ্ছে। পৃথক করা প্লাস্টিক নিরাপদ কো-প্রসেসিংয়ের জন্য লাফার্জহোলসিমের ছাতকস্থ জিওসাইকেল প্ল্যান্টে পাঠানো হয়।
এমআরএফের কার্যক্রমের ধারাবাহিকতায় সিসিক ও লাফার্জহোলসিম বাংলাদেশ বায়োড্রায়িং প্রকল্প বাস্তবায়নের পরিকল্পনা করছে। সেমিনারে জানানো হয়, বায়োড্রায়িং প্রযুক্তিতে অণুজীবের প্রাকৃতিক বিপাকীয় তাপ ও নিয়ন্ত্রিত বায়ুপ্রবাহ ব্যবহার করে বর্জ্যের অতিরিক্ত আর্দ্রতা কমানো হয়। এর ফলে বর্জ্যকে জ্বালানি হিসেবে ব্যবহারের উপযোগী করে তোলার সুযোগ সৃষ্টি হয়।
সিসিকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ রেজাই রাফিন সরকার বলেন, নগরায়নের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে কঠিন বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় দীর্ঘমেয়াদি ও টেকসই সমাধান প্রয়োজন। সিসিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় সিলেটকে দেশের একটি মডেল হিসেবে গড়ে তুলতে কাজ করছে। এমআরএফ আধুনিকায়নের মাধ্যমে নগরীকে প্লাস্টিক দূষণমুক্ত করার লক্ষ্য রয়েছে।
লাফার্জহোলসিম বাংলাদেশের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ ইকবাল চৌধুরী বলেন, জিওসাইকেলের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটি টেকসই উন্নয়ন ও কার্বন নিঃসরণ কমাতে কাজ করছে। সিলেট সিটি কর্পোরেশনের সঙ্গে অংশীদারত্বের মাধ্যমে প্লাস্টিক বর্জ্য ল্যান্ডফিল ও নদীতে পড়া থেকে রক্ষা করার পাশাপাশি নিরাপদ কো-প্রসেসিংয়ের সুযোগ তৈরি হচ্ছে।
সেমিনারে মূল আলোচক হিসেবে আরও বক্তব্য দেন উইমেন চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির পরিচালক সামা হক চৌধুরী, পরিবেশ অধিদপ্তর সিলেটের পরিচালক মো. আবুল কালাম আজাদ, কলকারখানা ও প্রতিষ্ঠান পরিদর্শন অধিদপ্তর সিলেটের উপমহাপরিদর্শক শিপন চৌধুরী এবং শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং অ্যান্ড পলিমার সায়েন্স বিভাগের প্রধান ড. মো. সালাতুল ইসলাম মজুমদার।
সেমিনারে উপস্থিত ছিলেন সিসিক, পরিবেশ অধিদপ্তরসহ বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের কর্মকর্তা, পরিবেশবিদ, শিক্ষাবিদ, গণমাধ্যমকর্মী ও তরুণ সমাজের প্রতিনিধিরা।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
দীর্ঘদিন ধরে চলা ছাত্র বিক্ষোভ ও ক্রমবর্ধমান জনরোষের প্রেক্ষাপটে পদত্যাগের পর, সার্বিয়ার সদ্য সাবেক প্রেসিডেন্ট আলেকজান্ডার ভূসিক আগামী ২৫ অক্টোবর আগাম সংসদীয় নির্বাচনের ঘোষণা দিয়েছেন। তবে বিশ্লেষকদের মতে, এই আগাম নির্বাচন সার্বিয়ার চলমান গভীর রাজনৈতিক সংকট সমাধান করতে সক্ষম হবে না; বরং ক্ষমতা ধরে রাখার উদ্দেশ্যে ভূসিক এবং তার ক্ষমতাসীন পপুলিস্ট দল ‘সার্বিয়ান প্রগ্রেসিভ পার্টি’ (এসএনএস) এই পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।
২০২৪ সালে সার্বিয়ার একটি রেলওয়ে স্টেশনের ছাদ ধসে ১৬ জনের নির্মম মৃত্যুর ঘটনা ঘটার পর, সার্বিয়া জুড়ে তীব্র সরকারবিরোধী আন্দোলন শুরু হয়। শিক্ষার্থী ও সাধারণ জনগণ এই ভয়াবহ দুর্ঘটনার জন্য সরকারের দুর্নীতি, চরম অবহেলা ও অব্যবস্থাপনাকে দায়ী করে বিচার দাবি করেন। এক পর্যায়ে শিক্ষার্থীদের এই বিক্ষোভ একটি শক্তিশালী সামাজিক ও রাজনৈতিক আন্দোলনে রূপ নেয়, যেখানে রাজধানীর রাজপথে ১ লাখেরও বেশি মানুষ অংশগ্রহণ করে।
সংবিধান অনুযায়ী ২০২৭ সালের ডিসেম্বরের আগে নির্বাচন হওয়ার কথা ছিল না। তাছাড়া, সার্বিয়ার সংবিধান অনুসারে ভূসিক টানা তৃতীয়বার প্রেসিডেন্ট পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারেন না। তাই রাজনৈতিক জীবনের ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে এবং ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকতে তিনি প্রধানমন্ত্রীর পদে নির্বাচনের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। ভূসিক তার ব্যক্তিকেন্দ্রিক রাজনৈতিক প্রভাবকে প্রেসিডেন্সি থেকে পার্লামেন্টে স্থানান্তরিত করার চেষ্টা করছেন।
তবে বিশ্লেষকরা সতর্ক করেছেন যে, গত দুই বছরে ঘটে যাওয়া রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং দুর্নীতির অভিযোগের কারণে ক্ষমতাসীন এসএনএস দল তাদের রাজনৈতিক বৈধতা হারিয়েছে। রাজপথ থেকে এখন ছাত্র নেতারা নির্বাচনী প্রচারণায় মনোযোগ দিয়েছেন এবং ‘স্টুডেন্ট লিড’ নামে আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন। জনমত জরিপ বলছে, এই নির্বাচনের মাধ্যমে ছাত্র আন্দোলনের প্রতিনিধিরা পার্লামেন্টে প্রবেশ করতে পারেন, যা সার্বিয়ার রাজনৈতিক সমীকরণে বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে পারে।
আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচন প্রক্রিয়ায় ভূসিক তার ক্ষমতা ধরে রাখলেও সার্বিয়ায় বিরাজমান অস্থিরতা ও রাজনৈতিক বিভাজন কমার কোনো লক্ষণ নেই। সার্বিয়ার জনগণ এখন পরিবর্তন ও দুর্নীতিমুক্ত শাসনের অপেক্ষায় দিন গুনছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
পঞ্চগড় জেলার প্রশাসকের কাছে তথ্য অধিকার আইন ২০০৯ অনুযায়ী আবেদন করার পরও জেলার উন্নয়ন ও রাজস্ব আয়ের তথ্য পাওয়া যাচ্ছে না। এই পরিস্থিতিতে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় সংবাদকর্মীরা। তারা বিভাগীয় কমিশনারের হস্তক্ষেপের আবেদন জানিয়েছেন।
তথ্য অনুযায়ী, জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে বিভিন্ন জলমহাল, নদীর পাথর ও বালু ইজারা দিয়ে রাজস্ব আয়ের তথ্য এবং রাজস্ব আয় থেকে কী কী উন্নয়নমূলক কাজ করা হয়েছে, সেই তথ্য জানতে চেয়ে আবেদন করেন স্থানীয় সংবাদকর্মী মো. সম্রাট হোসাইন ও নাজমুস সাকিব মুন। এছাড়া, জাতীয় সংসদ নির্বাচন ২০২৬ এর জন্য নির্বাচন পরিচালনায় কোন খাতে কী বরাদ্দ ছিল, তার ব্যয় বিবরণও জানতে চাওয়া হয়।
মো. সম্রাট হোসাইনের আবেদনের পর জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সহকারী কমিশনার ও তথ্য প্রদানকারী কর্মকর্তা মোহাম্মদ আসিফ আলী, গত ১০ সেপ্টেম্বর একটি চিঠি প্রদান করেন, যেখানে তথ্য দিতে অপারগতার কথা উল্লেখ করা হয়। চিঠিতে বলা হয়, তথ্য অধিকার আইন ২০০৯ এর ২ (চ) ধারায় তথ্য প্রদান করা যাবে না। একইভাবে, নাজমুস সাকিব মুনকেও একই ধারায় তথ্য দিতে অপারগতার চিঠি প্রদান করা হয়।
জানা যায়, বাংলাদেশের সংবিধানের ৩৯ অনুচ্ছেদে মতপ্রকাশের স্বাধীনতা ও সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা হয়েছে। এই সাংবিধানিক অধিকার বাস্তবায়নে প্রণীত “তথ্য অধিকার আইন, ২০০৯” এ স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, প্রত্যেক নাগরিকের তথ্য জানার অধিকার রয়েছে। সরকারি, আধা-সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও সংবিধিবদ্ধ সংস্থাগুলোকে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে তথ্য সরবরাহ করতে হবে।
প্রতিটি দপ্তরে একজন “নির্ধারিত কর্মকর্তা” থাকতে হবে, যিনি তথ্য সরবরাহে বাধ্য। অযৌক্তিকভাবে তথ্য না দিলে, দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তার বিরুদ্ধে জরিমানার বিধান রয়েছে। এছাড়া, সরকারি ওয়েবসাইটে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য স্বপ্রণোদিতভাবে প্রকাশের বাধ্যবাধকতাও আইনে উল্লেখ করা হয়েছে।
সময়ের কন্ঠস্বর পঞ্চগড় প্রতিনিধি নাজমুস সাকিব মুন বলেন, "তথ্য অধিকার আইনের আবেদন ফরমে আবেদন করি কিন্তু আমাকে কোন তথ্য দেয়নি জেলা প্রশাসন।"
এ বিষয়ে আইনজীবী মো. রাহিদুল ইসলাম বলেন, "তথ্য না দিয়ে দায় এড়ানো সংস্কৃতি, শুধু প্রশাসনিক দুর্বলতা নয় এটি আইনের প্রকাশ্য লঙ্ঘন। সুশাসন ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে, অবিলম্বে সব দপ্তরের তথ্য, হালনাগাদ প্রকাশ এবং তথ্য গোপনে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ জরুরি। তথ্য জনগণের অধিকার, এটি কোনো অনুগ্রহ নয়।"
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
জার্মানি এবার শীত মৌসুমে প্রবেশ করছে স্বাভাবিকের তুলনায় অনেক কম প্রাকৃতিক গ্যাস মজুদ নিয়ে। বর্তমানে দেশটির গ্যাস সংরক্ষণাগারগুলো মাত্র ৫৭ শতাংশ পূর্ণ রয়েছে। ইউরোপের গড় মজুদের তুলনায় এই হার উল্লেখযোগ্যভাবে কম। তবে, জার্মানির অন্যতম বড় গ্যাস আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান ভিএনজি বর্তমানে গ্যাস সরবরাহ নিয়ে বড় কোনো ঝুঁকি দেখছে না। প্রতিষ্ঠানটির প্রধান নির্বাহী উলফ হাইটমুলারের মতে, ২০২২ সালের জ্বালানি সংকটের সময়ের তুলনায় এখন জার্মানির গ্যাস সরবরাহব্যবস্থা অনেক বেশি শক্তিশালী হয়ে উঠেছে।
হাইটমুলার রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, "২০২২ সালের তুলনায় এখন জার্মানির গ্যাস আমদানির উৎস অনেক বেশি বিস্তৃত।" তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) আমদানির সুযোগও বেড়েছে। গ্যাসের সরবরাহের উৎস বৃদ্ধি পাওয়ার ফলে জার্মানির নির্ভরতা একটি নির্দিষ্ট দেশের ওপর কমেছে। বর্তমানে জার্মানির গ্যাস সংরক্ষণাগার ৫৭ শতাংশ পূর্ণ রয়েছে, যা সেপ্টেম্বরের শেষের দিকে বিরল ঘটনা। ইউরোপের গড় মজুতের তুলনায় জার্মানির অবস্থান নিচে থাকায় শীত মৌসুমে জ্বালানি নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
তবে, ভিএনজির প্রধান নির্বাহী মনে করেন যে, গ্যাসের মজুতের শতাংশ দিয়ে সরবরাহ পরিস্থিতি বিচার করা যথাযথ নয়। হাইটমুলার বলেন, "গ্যাসের মজুদ সরবরাহ নিরাপত্তার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। কিন্তু এটিই একমাত্র বিষয় নয়।" গ্যাস আমদানির পথ, পাইপলাইন, এলএনজি আমদানির সক্ষমতা এবং অন্যান্য সরবরাহব্যবস্থাও সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ। রাশিয়া ইউক্রেনে হামলা শুরু করার পর ইউরোপে রুশ পাইপলাইনের গ্যাস সরবরাহ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায়। এরপর জার্মানি ও ইউরোপের অন্যান্য দেশ বিকল্প উৎস খুঁজতে শুরু করে। ভিএনজি নরওয়ে থেকে পাইপলাইনের মাধ্যমে গ্যাস আমদানি করে।
এছাড়া, আলজেরিয়া ও আজারবাইজান থেকেও গ্যাস সরবরাহের চুক্তি করেছে প্রতিষ্ঠানটি। এর ফলে জার্মানির গ্যাস আমদানির উৎস আগের তুলনায় অনেক বেশি বৈচিত্র্যময় হয়েছে। লাইপজিগভিত্তিক ভিএনজি জার্মানির বিদ্যুৎ ও জ্বালানি কম্পানি এনবিডব্লিউর বেশিরভাগ মালিকানাধীন। ২০২৫ সালে প্রতিষ্ঠানটি ৪০৯ টেরাওয়াট ঘণ্টা গ্যাস সংগ্রহ করেছে। এই কারণে ভিএনজি জার্মানির অন্যতম বড় গ্যাস আমদানিকারক হিসেবে পরিচিত। প্রতিষ্ঠানটি গ্যাসের পাইপলাইন ও সংরক্ষণাগারও পরিচালনা করে। হাইটমুলার বলেন, "ভিএনজি তাদের গ্যাস সরবরাহব্যবস্থা এমনভাবে তৈরি করেছে, যাতে শীত বেশি ঠান্ডা হলেও গ্রাহকদের চাহিদা অনুযায়ী গ্যাস সরবরাহ করা যায়।"
তিনি আরও বলেন, "আমরা আমাদের গ্যাস সরবরাহের ব্যবস্থা এমনভাবে তৈরি করেছি, যাতে শীত যতই ঠান্ডা হোক না কেন, গ্রাহকদের কাছে আমাদের সরবরাহের দায়িত্ব পূরণ করতে পারি।" তবে, তিনি কিছু ঝুঁকির কথাও উল্লেখ করেছেন। তার মতে, গ্যাস আমদানির কোনো বড় উৎস বন্ধ হয়ে গেলে, বিশ্ববাজারে গ্যাসের ঘাটতি দেখা দিলে অথবা গ্যাস সরবরাহের অবকাঠামোতে সমস্যা হলে দাম বেড়ে যেতে পারে। যদি শীতের তীব্রতাও বেড়ে যায়, তাহলে পরিস্থিতি আরো কঠিন হয়ে উঠতে পারে।
ইরানকে ঘিরে সংঘাতের কারণে হরমুজ প্রণালির জাহাজ চলাচল ব্যাহত হওয়ায় বিশ্ববাজারে এলএনজির সরবরাহ কমেছে। এর প্রভাব ইউরোপের গ্যাস বাজারেও পড়েছে। চলতি বছর ইউরোপে গ্যাসের দাম দ্বিগুণের বেশি বেড়েছে। বর্তমানে প্রতি মেগাওয়াট ঘণ্টা গ্যাসের দাম প্রায় ৭৫ ইউরো। হরমুজ প্রণালির পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগের পাশাপাশি শীত মৌসুমে ইউরোপে গ্যাসের চাহিদা বাড়ার বিষয়টিও বাজারে চাপ তৈরি করছে। গত সপ্তাহে ইউরোপীয় ইউনিয়নের জ্বালানি কমিশনার ড্যান ইয়র্গেনসেন সতর্ক করে বলেন, চলতি শীতে জ্বালানির দাম নিয়ে ইউরোপীয় ইউনিয়নকে কঠিন পরিস্থিতির মুখে পড়তে হতে পারে। তিনি সদস্য দেশগুলোকে গ্যাসের মজুদ আরো বাড়ানোর চেষ্টা চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে গ্যাসের ব্যবহার কমানোর ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।
জার্মান সরকার গ্যাসের মজুত দ্রুত বাড়ানোর জন্য সরাসরি বাজারে হস্তক্ষেপের আহ্বান প্রত্যাখ্যান করেছে। তবে ২০২৭ সালের প্রথম তিন মাসের জন্য অতিরিক্ত গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করতে দরপত্র আয়োজনের উদ্যোগকে সমর্থন করেছে সরকার। ভিএনজির প্রধান নির্বাহী হাইটমুলার এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন। তার মতে, এই পদ্ধতিতে বাজারে বড় ধরনের হস্তক্ষেপ না করেই গ্যাস মজুত বাড়ানোর জন্য প্রয়োজনীয় উৎসাহ তৈরি হবে। জার্মানির রাজধানী বার্লিনে একটি কৌশলগত গ্যাস মজুত তৈরির পরিকল্পনা নিয়েও আলোচনা চলছে। হাইটমুলার এই উদ্যোগেরও সমর্থন করেছেন। তার মতে, হঠাৎ বড় ধরনের গ্যাস সরবরাহ সংকট দেখা দিলে এই কৌশলগত মজুত জার্মানির জন্য অতিরিক্ত নিরাপত্তা দিতে পারে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ