প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
দীর্ঘদিন ধরে চলা ছাত্র বিক্ষোভ ও ক্রমবর্ধমান জনরোষের প্রেক্ষাপটে পদত্যাগের পর, সার্বিয়ার সদ্য সাবেক প্রেসিডেন্ট আলেকজান্ডার ভূসিক আগামী ২৫ অক্টোবর আগাম সংসদীয় নির্বাচনের ঘোষণা দিয়েছেন। তবে বিশ্লেষকদের মতে, এই আগাম নির্বাচন সার্বিয়ার চলমান গভীর রাজনৈতিক সংকট সমাধান করতে সক্ষম হবে না; বরং ক্ষমতা ধরে রাখার উদ্দেশ্যে ভূসিক এবং তার ক্ষমতাসীন পপুলিস্ট দল ‘সার্বিয়ান প্রগ্রেসিভ পার্টি’ (এসএনএস) এই পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।
২০২৪ সালে সার্বিয়ার একটি রেলওয়ে স্টেশনের ছাদ ধসে ১৬ জনের নির্মম মৃত্যুর ঘটনা ঘটার পর, সার্বিয়া জুড়ে তীব্র সরকারবিরোধী আন্দোলন শুরু হয়। শিক্ষার্থী ও সাধারণ জনগণ এই ভয়াবহ দুর্ঘটনার জন্য সরকারের দুর্নীতি, চরম অবহেলা ও অব্যবস্থাপনাকে দায়ী করে বিচার দাবি করেন। এক পর্যায়ে শিক্ষার্থীদের এই বিক্ষোভ একটি শক্তিশালী সামাজিক ও রাজনৈতিক আন্দোলনে রূপ নেয়, যেখানে রাজধানীর রাজপথে ১ লাখেরও বেশি মানুষ অংশগ্রহণ করে।
সংবিধান অনুযায়ী ২০২৭ সালের ডিসেম্বরের আগে নির্বাচন হওয়ার কথা ছিল না। তাছাড়া, সার্বিয়ার সংবিধান অনুসারে ভূসিক টানা তৃতীয়বার প্রেসিডেন্ট পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারেন না। তাই রাজনৈতিক জীবনের ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করতে এবং ক্ষমতার কেন্দ্রবিন্দুতে থাকতে তিনি প্রধানমন্ত্রীর পদে নির্বাচনের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। ভূসিক তার ব্যক্তিকেন্দ্রিক রাজনৈতিক প্রভাবকে প্রেসিডেন্সি থেকে পার্লামেন্টে স্থানান্তরিত করার চেষ্টা করছেন।
তবে বিশ্লেষকরা সতর্ক করেছেন যে, গত দুই বছরে ঘটে যাওয়া রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং দুর্নীতির অভিযোগের কারণে ক্ষমতাসীন এসএনএস দল তাদের রাজনৈতিক বৈধতা হারিয়েছে। রাজপথ থেকে এখন ছাত্র নেতারা নির্বাচনী প্রচারণায় মনোযোগ দিয়েছেন এবং ‘স্টুডেন্ট লিড’ নামে আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচনে অংশ নিচ্ছেন। জনমত জরিপ বলছে, এই নির্বাচনের মাধ্যমে ছাত্র আন্দোলনের প্রতিনিধিরা পার্লামেন্টে প্রবেশ করতে পারেন, যা সার্বিয়ার রাজনৈতিক সমীকরণে বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে পারে।
আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকদের মতে, নির্বাচন প্রক্রিয়ায় ভূসিক তার ক্ষমতা ধরে রাখলেও সার্বিয়ায় বিরাজমান অস্থিরতা ও রাজনৈতিক বিভাজন কমার কোনো লক্ষণ নেই। সার্বিয়ার জনগণ এখন পরিবর্তন ও দুর্নীতিমুক্ত শাসনের অপেক্ষায় দিন গুনছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন