প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
জার্মানি এবার শীত মৌসুমে প্রবেশ করছে স্বাভাবিকের তুলনায় অনেক কম প্রাকৃতিক গ্যাস মজুদ নিয়ে। বর্তমানে দেশটির গ্যাস সংরক্ষণাগারগুলো মাত্র ৫৭ শতাংশ পূর্ণ রয়েছে। ইউরোপের গড় মজুদের তুলনায় এই হার উল্লেখযোগ্যভাবে কম। তবে, জার্মানির অন্যতম বড় গ্যাস আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান ভিএনজি বর্তমানে গ্যাস সরবরাহ নিয়ে বড় কোনো ঝুঁকি দেখছে না। প্রতিষ্ঠানটির প্রধান নির্বাহী উলফ হাইটমুলারের মতে, ২০২২ সালের জ্বালানি সংকটের সময়ের তুলনায় এখন জার্মানির গ্যাস সরবরাহব্যবস্থা অনেক বেশি শক্তিশালী হয়ে উঠেছে।
হাইটমুলার রয়টার্সকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, "২০২২ সালের তুলনায় এখন জার্মানির গ্যাস আমদানির উৎস অনেক বেশি বিস্তৃত।" তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) আমদানির সুযোগও বেড়েছে। গ্যাসের সরবরাহের উৎস বৃদ্ধি পাওয়ার ফলে জার্মানির নির্ভরতা একটি নির্দিষ্ট দেশের ওপর কমেছে। বর্তমানে জার্মানির গ্যাস সংরক্ষণাগার ৫৭ শতাংশ পূর্ণ রয়েছে, যা সেপ্টেম্বরের শেষের দিকে বিরল ঘটনা। ইউরোপের গড় মজুতের তুলনায় জার্মানির অবস্থান নিচে থাকায় শীত মৌসুমে জ্বালানি নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
তবে, ভিএনজির প্রধান নির্বাহী মনে করেন যে, গ্যাসের মজুতের শতাংশ দিয়ে সরবরাহ পরিস্থিতি বিচার করা যথাযথ নয়। হাইটমুলার বলেন, "গ্যাসের মজুদ সরবরাহ নিরাপত্তার একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। কিন্তু এটিই একমাত্র বিষয় নয়।" গ্যাস আমদানির পথ, পাইপলাইন, এলএনজি আমদানির সক্ষমতা এবং অন্যান্য সরবরাহব্যবস্থাও সমানভাবে গুরুত্বপূর্ণ। রাশিয়া ইউক্রেনে হামলা শুরু করার পর ইউরোপে রুশ পাইপলাইনের গ্যাস সরবরাহ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায়। এরপর জার্মানি ও ইউরোপের অন্যান্য দেশ বিকল্প উৎস খুঁজতে শুরু করে। ভিএনজি নরওয়ে থেকে পাইপলাইনের মাধ্যমে গ্যাস আমদানি করে।
এছাড়া, আলজেরিয়া ও আজারবাইজান থেকেও গ্যাস সরবরাহের চুক্তি করেছে প্রতিষ্ঠানটি। এর ফলে জার্মানির গ্যাস আমদানির উৎস আগের তুলনায় অনেক বেশি বৈচিত্র্যময় হয়েছে। লাইপজিগভিত্তিক ভিএনজি জার্মানির বিদ্যুৎ ও জ্বালানি কম্পানি এনবিডব্লিউর বেশিরভাগ মালিকানাধীন। ২০২৫ সালে প্রতিষ্ঠানটি ৪০৯ টেরাওয়াট ঘণ্টা গ্যাস সংগ্রহ করেছে। এই কারণে ভিএনজি জার্মানির অন্যতম বড় গ্যাস আমদানিকারক হিসেবে পরিচিত। প্রতিষ্ঠানটি গ্যাসের পাইপলাইন ও সংরক্ষণাগারও পরিচালনা করে। হাইটমুলার বলেন, "ভিএনজি তাদের গ্যাস সরবরাহব্যবস্থা এমনভাবে তৈরি করেছে, যাতে শীত বেশি ঠান্ডা হলেও গ্রাহকদের চাহিদা অনুযায়ী গ্যাস সরবরাহ করা যায়।"
তিনি আরও বলেন, "আমরা আমাদের গ্যাস সরবরাহের ব্যবস্থা এমনভাবে তৈরি করেছি, যাতে শীত যতই ঠান্ডা হোক না কেন, গ্রাহকদের কাছে আমাদের সরবরাহের দায়িত্ব পূরণ করতে পারি।" তবে, তিনি কিছু ঝুঁকির কথাও উল্লেখ করেছেন। তার মতে, গ্যাস আমদানির কোনো বড় উৎস বন্ধ হয়ে গেলে, বিশ্ববাজারে গ্যাসের ঘাটতি দেখা দিলে অথবা গ্যাস সরবরাহের অবকাঠামোতে সমস্যা হলে দাম বেড়ে যেতে পারে। যদি শীতের তীব্রতাও বেড়ে যায়, তাহলে পরিস্থিতি আরো কঠিন হয়ে উঠতে পারে।
ইরানকে ঘিরে সংঘাতের কারণে হরমুজ প্রণালির জাহাজ চলাচল ব্যাহত হওয়ায় বিশ্ববাজারে এলএনজির সরবরাহ কমেছে। এর প্রভাব ইউরোপের গ্যাস বাজারেও পড়েছে। চলতি বছর ইউরোপে গ্যাসের দাম দ্বিগুণের বেশি বেড়েছে। বর্তমানে প্রতি মেগাওয়াট ঘণ্টা গ্যাসের দাম প্রায় ৭৫ ইউরো। হরমুজ প্রণালির পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগের পাশাপাশি শীত মৌসুমে ইউরোপে গ্যাসের চাহিদা বাড়ার বিষয়টিও বাজারে চাপ তৈরি করছে। গত সপ্তাহে ইউরোপীয় ইউনিয়নের জ্বালানি কমিশনার ড্যান ইয়র্গেনসেন সতর্ক করে বলেন, চলতি শীতে জ্বালানির দাম নিয়ে ইউরোপীয় ইউনিয়নকে কঠিন পরিস্থিতির মুখে পড়তে হতে পারে। তিনি সদস্য দেশগুলোকে গ্যাসের মজুদ আরো বাড়ানোর চেষ্টা চালিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান। একই সঙ্গে গ্যাসের ব্যবহার কমানোর ওপরও গুরুত্ব দেন তিনি।
জার্মান সরকার গ্যাসের মজুত দ্রুত বাড়ানোর জন্য সরাসরি বাজারে হস্তক্ষেপের আহ্বান প্রত্যাখ্যান করেছে। তবে ২০২৭ সালের প্রথম তিন মাসের জন্য অতিরিক্ত গ্যাস সরবরাহ নিশ্চিত করতে দরপত্র আয়োজনের উদ্যোগকে সমর্থন করেছে সরকার। ভিএনজির প্রধান নির্বাহী হাইটমুলার এই উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়েছেন। তার মতে, এই পদ্ধতিতে বাজারে বড় ধরনের হস্তক্ষেপ না করেই গ্যাস মজুত বাড়ানোর জন্য প্রয়োজনীয় উৎসাহ তৈরি হবে। জার্মানির রাজধানী বার্লিনে একটি কৌশলগত গ্যাস মজুত তৈরির পরিকল্পনা নিয়েও আলোচনা চলছে। হাইটমুলার এই উদ্যোগেরও সমর্থন করেছেন। তার মতে, হঠাৎ বড় ধরনের গ্যাস সরবরাহ সংকট দেখা দিলে এই কৌশলগত মজুত জার্মানির জন্য অতিরিক্ত নিরাপত্তা দিতে পারে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন