ঢাকা শনিবার, ০৭ই নভেম্বর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ২২শে কার্তিক, ১৪৩২বঙ্গাব্দ ২৬শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
শনিবার, ০৭ই নভেম্বর, ২০২৬ইং ২২শে কার্তিক, ১৪৩২বাং

রাজবাড়ীতে অভিযান, ৮ নেতাকর্মী আটক আওয়ামী লীগ-যুবলীগ-ছাত্রলীগের


রাজবাড়ীতে অভিযান, ৮ নেতাকর্মী আটক আওয়ামী লীগ-যুবলীগ-ছাত্রলীগের

রাজবাড়ীর থানা পুলিশের অভিযানের ফলে নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগ ও কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ, যুবলীগ এবং অন্যান্য অঙ্গসংগঠনের ৮ জন সক্রিয় সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে রয়েছেন, রাজবাড়ী সদর উপজেলার ছোট নুরপুর গ্রামের মৃত হাকিম মাতুব্বরের ছেলে মোঃ রাব্বানী (৪৬), রাধাকান্তপুর গ্রামের আঃ কুদ্দুস শেখের ছেলে মাইনউদ্দিন শেখ (৪২), ভবদিয়া (স্কুলের পাশে) মৃত আঃ লতিফের ছেলে মোঃ নাসির উদ্দিন (৪২), আলাদীপুর গ্রামের সাইদুর রহমানের ছেলে মোঃ রিয়াদ মন্ডল (২৬), ভান্ডারিয়া গ্রামের মৃত তমিজ উদ্দিনের ছেলে মোঃ আঃ ছালাম মিলন (৫৭), দক্ষিন ভবানীপুর এলাকার মৃত আঃ সালামের ছেলে মোঃ সাইফুল ইসলাম সোহাগ (৪২), রসুলপুর গ্রামের আব্দুল আলিমের ছেলে নাহিদ মিয়া (২৪), এবং ধুলদি জয়পুর গ্রামের মৃত আনছার আলী শেখের ছেলে মোঃ নাসির শেখ (৬৪)।

গ্রেপ্তারকৃত সকলেই আওয়ামী লীগ ও সহযোগি সংগঠনের নেতাকর্মী। রবিবার (১৪ জুন), রাজবাড়ী থানা এলাকায় অভিযান পরিচালনা করে নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগ ও কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ, যুবলীগ এবং তার অন্যান্য অঙ্গসংগঠনের ৮ জন সক্রিয় সদস্যকে গ্রেপ্তার করে। গত ১৩ জুন ভোর সাড়ে ৫ টার সময় রাজবাড়ী সদর থানার গোপিনাথাদিয়া গ্রামের রাজবাড়ী ফিলিং ষ্টেশনের দক্ষিন পাশে রাজবাড়ী-ফরিদপুর মহাসড়কের উপর ৩০-৩৫ জন নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগ ও কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ, যুবলীগ এবং তার অন্যান্য অঙ্গ সংগঠনের সক্রিয় সদস্যরা বর্তমান সরকারকে উৎখাত, রাষ্ট্রবিরোধী ষড়যন্ত্র, দেশে অস্থিরতা সৃষ্টি, জন নিরাপত্তা বিপন্ন করা, জনমনে ত্রাস ও আতঙ্ক সৃষ্টির লক্ষ্যে নাশকতা করার একটি ঝটিকা মিছিল বের করে।

আরও পড়ুন: কোনো পরাশক্তির কাছে মাথা নত করবেন না প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান: এমপি খোকন

মিছিলের সময় দাবি করা হয়েছিল যে, সরকারকে উৎখাত, রাষ্ট্রবিরোধী ষড়যন্ত্র সহ বিভিন্ন ধরনের শ্লোগান দেয়। আসামীদের হাতে নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগ ও কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের ব্যানার ও ফেস্টুন ছিল। তৎপ্রেক্ষিতে ঘটনার সাথে জড়িত আসামীদের বিরুদ্ধে রাজবাড়ী সদর থানায় একটি নিয়মিত মামলা দায়ের করা হয়। রাজবাড়ী সদর থানার অফিসার ইনচার্জ উত্তম কুমার ঘোষ বলেন, রাজবাড়ী সদর থানার এসআই মোঃ শহিদুল ইসলাম সঙ্গীয় অফিসার ও ফোর্সসহ রাজবাড়ী থানা এলাকায় অভিযান পরিচালনা করেছেন।

অভিযানে নিষিদ্ধ ঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগ ও কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ, যুবলীগ এবং তার অন্যান্য অঙ্গসংগঠনের ৮ জন সক্রিয় সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়। রবিবার দুপুরে ধৃত আসামীদেরকে রাজবাড়ী আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে। বিচারক তাদের জামিন না মঞ্জুর করে কারাগারে প্রেরণ করেছেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

কুড়িগ্রাম সীমান্তে ৯ জনকে পুশইনের চেষ্টা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ১৪ই জুন, ২০২৬ ইং

০৫:৪৮ পি.এম


কুড়িগ্রাম সীমান্তে ৯ জনকে পুশইনের চেষ্টা

কুড়িগ্রামের রৌমারী উপজেলার গয়টাপাড়া বংশিরচর গয়টাপাড়া ও ইজলা মারি সীমান্তের মাধ্যমে ২ শিশুসহ ৯ জনকে পুশইনের চেষ্টা করেছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)। এদের মধ্যে রয়েছে ৬ জন পুরুষ, ১ জন নারী এবং ২ জন শিশু।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে যে রবিবার (১৪ জুন) ভোর ৬টার দিকে ১০৬০ নম্বর মেইন পিলারের নিকটবর্তী গয়টাপাড়া বংশিরচর বটতলা সীমান্ত দিয়ে ২ শিশু, ১ জন নারী এবং ৩ জন যুবককে বাংলাদেশে প্রবেশ করানোর চেষ্টা করা হয়। এসময় একই সঙ্গে ইজলামারী সীমান্ত দিয়েও আরও ৩ জন পুরুষকে বাংলাদেশে ঢুকানোর চেষ্টা করা হয়।

বিএসএফের দাবি, সীমান্তে জড়ো হওয়া ব্যক্তিরা বাংলাদেশের ময়মনসিংহ জেলার ভালুকা উপজেলার বিরুনিয়া ইউনিয়নের কাংশী গ্রামের বাসিন্দা। তবে, তাদের বাংলাদেশে প্রবেশ করানোর ঘটনার কারণে সীমান্ত এলাকায় নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়েছে।

ঘটনার খবর পেয়ে বিজিবি সদস্যরা সীমান্ত এলাকায় সতর্ক অবস্থানে চলে আসে। পাশাপাশি স্থানীয় গ্রামবাসীরাও সীমান্তে নজরদারি জোরদার করেন। পুশইনের ঘটনা প্রতিহত করার জন্য সীমান্তের বিভিন্ন পয়েন্টে টহল ও পর্যবেক্ষণ বৃদ্ধি করা হয়েছে বলে জানা গেছে।

স্থানীয়দের মতে, সাম্প্রতিক সময়ে রৌমারী সীমান্তের বিভিন্ন পয়েন্টে একাধিকবার পুশইনের চেষ্টা করা হয়েছে। তবে বিজিবি এবং সীমান্তবর্তী এলাকার বাসিন্দাদের সতর্ক অবস্থানের কারণে এসব প্রচেষ্টা প্রতিহত করা সম্ভব হচ্ছে। বর্তমানে গয়টাপাড়া ও ইজলামারী সীমান্ত এলাকায় নজরদারি অব্যাহত রয়েছে।

এ বিষয়ে জামালপুর-৩৫ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল হাসানুর রহমান জানান, দেশের সার্বভৌমত্ব ও সীমান্ত সুরক্ষায় বিজিবি অত্যন্ত কঠোর অবস্থানে রয়েছে। এই ঘটনার পর থেকে সীমান্তজুড়ে নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও নজরদারি আরও জোরদার করা হয়েছে। যে কোনো ধরনের অবৈধ অনুপ্রবেশ বা অপতৎপরতা ঠেকাতে বিজিবি সদা তৎপর রয়েছে। তিনি আরও বলেন, আমরা কোম্পানি পর্যায়ে পতাকা বৈঠকের পর বিএসএফ ফেরত নিতে অস্বীকৃতি জানালে এখন পর্যন্ত অধিনায়ক পর্যায়ে কথাবার্তা চলছে। তবে, সিদ্ধান্ত হয়নি বলেও তিনি জানান।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

দুই মাস ইউরোপে সংগীত পরিবেশন করবেন জেমস

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বিনোদন ডেস্ক

রবিবার, ১৪ই জুন, ২০২৬ ইং

০৫:৫২ পি.এম


দুই মাস ইউরোপে সংগীত পরিবেশন করবেন জেমস

বাংলা ব্যান্ডসংগীতের কিংবদন্তি শিল্পী ‘নগরবাউল’খ্যাত জেমস আবারও আন্তর্জাতিক মঞ্চে গান শোনাতে প্রস্তুত। তিনি দীর্ঘ প্রায় দুই মাসের ইউরোপ সফরে যাচ্ছেন, যেখানে মহাদেশটির ছয়টি শহরে অনুষ্ঠিত হবে তার কনসার্ট।

ইউরোপ সফরের ঘোষণা আগেই দেওয়া হলেও এতদিন বিস্তারিত সূচি প্রকাশ করা হয়নি। এবার জেমস নিজের ফেসবুক পেজে ট্যুরের পূর্ণাঙ্গ শিডিউল প্রকাশ করেছেন, যা ঘিরে ভক্তদের মধ্যে তৈরি হয়েছে ব্যাপক উচ্ছ্বাস।

প্রকাশিত সূচি অনুযায়ী, আগামী ২৫ জুলাই যুক্তরাজ্যের লন্ডন থেকে শুরু হবে এই সফর। এরপর ২৬ জুলাই পর্তুগালে কনসার্ট করবে, ৯ আগস্ট সাইপ্রাসে, ১৬ আগস্ট ইতালির রোমে, ২২ আগস্ট ভেনিসে এবং ৫ সেপ্টেম্বর সুইডেনে কনসার্ট করবেন তিনি।

বিদেশে বসবাসরত বাংলা গানের শ্রোতাদের জন্য এই আয়োজন বিশেষ আকর্ষণ হয়ে উঠবে বলে মনে করছেন আয়োজকরা। এর আগে যুক্তরাষ্ট্র সফরেও জেমস ও তার ব্যান্ড সফলভাবে একাধিক কনসার্ট সম্পন্ন করেছিল।

জেমসের মুখপাত্র রুবাইয়াৎ ঠাকুর রবিন বলেন, ‘প্রায় দুই মাসের ট্যুর। এর আগে আমেরিকায় সফলভাবে ট্যুর দিয়েছিলাম আমরা। আশা করছি, ইউরোপের ট্যুরটা বেশ জাঁকজমকপূর্ণ হবে। এর মধ্যেই শুরু হয়েছে টিকিট বিক্রি। প্রবাসী বাঙালিরা অপেক্ষায় আছেন দারুণ কিছু কনসার্ট উপভোগ করার জন্য।’

দীর্ঘ সংগীতজীবনে দেশ-বিদেশের অসংখ্য মঞ্চ মাতিয়েছেন জেমস। তার জনপ্রিয় গান ও অনন্য পরিবেশনা আজও ভক্তদের কাছে সমানভাবে সমাদৃত। তাই এবারের ইউরোপ সফর নিয়েও প্রবাসী বাঙালি সংগীতপ্রেমীদের মধ্যে দেখা দিয়েছে বাড়তি প্রত্যাশা।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

শরণার্থী শিবির থেকে বিশ্বকাপে, অস্ট্রেলিয়ার জার্সিতে গোল করে ইরানকুন্ডার ইতিহাস

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

রবিবার, ১৪ই জুন, ২০২৬ ইং

০৫:৫৫ পি.এম


শরণার্থী শিবির থেকে বিশ্বকাপে, অস্ট্রেলিয়ার জার্সিতে গোল করে ইরানকুন্ডার ইতিহাস

বিশ্বকাপে নিজেদের উদ্বোধনী ম্যাচে তুরস্ককে পরাজিত করে দারুণ সূচনা করেছে অস্ট্রেলিয়া। তুর্কিদের বিরুদ্ধে ২-০ গোলের এই জয়ে প্রথম গোলটি করে অস্ট্রেলিয়াকে গুরুত্বপূর্ণ ৩ পয়েন্ট অর্জন করতে সাহায্য করেছেন নেস্টোরি ইরানকুন্ডা। সেই সাথে বিশ্বকাপে জাতীয় দলের হয়ে গোল করা সর্বকনিষ্ঠ খেলোয়াড় হিসেবে একটি নতুন ইতিহাস রচনা করেছেন তিনি।

তুরস্কের বিরুদ্ধে গোল করে আলোচনা সৃষ্টি হলেও ইরানকুন্ডার সাফল্য এক দিনে আসেনি। তিনি আসলে বুরুন্ডিয়ান এবং জন্মভূমি তানজানিয়া। ২০০৬ সালে সেখানে একটি শরণার্থী শিবিরে জন্মগ্রহণ করেন এই ফুটবলার। তার বাবা-মা বুরুন্ডির নাগরিক। গৃহযুদ্ধ থেকে বাঁচতে তারা নিজেদের দেশ ছেড়েছিলেন। শৈশবে ইরানকুন্ডা অস্ট্রেলিয়ায় চলে যান এবং ফুটবলের মাধ্যমে নতুন জীবন গড়ার সুযোগ পান।

অস্ট্রেলিয়ার ঘরোয়া লিগের ক্লাব অ্যাডিলেড ইউনাইটেডের যুব দলে নিজের প্রতিভার ঝলক দেখান তিনি। তাঁর দুর্দান্ত গতি, শারীরিক শক্তি এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতার জন্য দ্রুত সবার দৃষ্টি আকর্ষণ করেন। এরপর তিনি সিনিয়র দলের হয়ে ১৬টি গোল করেছেন এবং আটটি গোলে অ্যাসিস্ট করেছেন, যা ইউরোপীয় বড় ক্লাবগুলোর আগ্রহ সৃষ্টি করেছে।

২০২৪ সালে তিনি বায়ার্ন মিউনিখে যোগ দেন। তবে মূল দলের হয়ে তিনি কখনো খেলেননি। তবে ইংলিশ স্ট্রাইকার হ্যারি কেইনের মতো তারকার সঙ্গে মেলামেশা তার অভিজ্ঞতা বাড়িয়েছে।

বিশ্বকাপে খেলার স্বপ্ন পূরণের জন্য ইরানকুন্ডার একটি কঠিন সিদ্ধান্ত নিতে হয়েছিল। জার্মান জাতীয় দলে নিয়মিত খেলোয়াড় হিসেবে সুযোগ না পাওয়ায় তিনি বুঝতে পেরেছিলেন যে অস্ট্রেলিয়ান জাতীয় দলের পরিকল্পনায় টিকে থাকতে হলে তাকে মাঠে আরও বেশি খেলার সুযোগ অর্জন করতে হবে। সুইজারল্যান্ডের গ্রাসহপার ক্লাবে ধারে খেলানোর পর তিনি বায়ার্ন মিউনিখ ছেড়ে ইংলিশ ক্লাব ওয়াটফোর্ড এফসিতে নতুন চুক্তি স্বাক্ষর করেন।

দলবদলের পর দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ইরানকুন্ডা বলেন, "এটি একটি কঠিন সিদ্ধান্ত ছিল, কিন্তু আমার মূল লক্ষ্য ছিল বিশ্বকাপে খেলা। আমার নিয়মিত খেলার প্রয়োজন ছিল এবং আমি তা করতে পারছিলাম না।"

ঝুঁকিটা কাজে লেগেছিল। ২০২৪ সাল থেকে বিশ্বকাপ বাছাইপর্বের জন্য ডাক পাওয়া ইরানকুন্ডা নিজের দ্বিতীয় আন্তর্জাতিক ম্যাচেই ফিলিস্তিনের বিরুদ্ধে গোল করে অস্ট্রেলিয়া জাতীয় দলের হয়ে দ্বিতীয় সর্বকনিষ্ঠ গোলদাতা হন। এরপর থেকে তিনি দলে নিজের জায়গা পাকা করে নিয়েছেন।

আর তুরস্কের বিপক্ষে ভ্যাঙ্কুভারে তিনি ইতিহাস সৃষ্টি করেছেন। ২৭তম মিনিটের সময় সকারুদের অর্ধ থেকে পল ওকোন-ইঙ্গস্টলারের লম্বা পাস পান বাঁ প্রান্তে থাকা ইরানকুন্ডা। তারপর বাঁ পায়ে বল ঠেলে বক্সে ঢুকে ডান পায়ের শটে গোলকিপারকে পরাস্ত করেন। এতে তিনি ২০ বছর ও ১২৫ দিন বয়সী হয়ে বিশ্বকাপে সর্বকনিষ্ঠ অস্ট্রেলিয়ান গোলদাতা হন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

শারীরিক প্রতিবন্ধকতা জয় করে কৃষকের পাশে এক কর্মকর্তা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ১৪ই জুন, ২০২৬ ইং

০৫:৫৬ পি.এম


শারীরিক প্রতিবন্ধকতা জয় করে কৃষকের পাশে এক কর্মকর্তা

 

ভোরের কুয়াশা তখনও পুরোপুরি কাটেনি। গ্রামের সরু রাস্তা ধরে মোটরসাইকেল ছুটছে ধানক্ষেতের দিকে। পেছনে রোদ উঠতে শুরু করেছে এবং সামনে অপেক্ষা করছেন কয়েকজন কৃষক। তাদের জমিতে দেখা দিয়েছে রোগ। দ্রুত সমাধান না পেলে নষ্ট হতে পারে পুরো ফসল। কৃষকদের সেই উৎকণ্ঠার মুহূর্তে ভরসার নাম একজন মানুষ-মফিজ উদ্দিন। তাঁর একটি হাত নেই। জীবনের নির্মম এক দুর্ঘটনায় হারিয়েছেন ডান হাত। কিন্তু তিনি হারাননি দায়িত্ববোধ, হারাননি মানুষের পাশে দাঁড়ানোর অঙ্গীকার। বরং সেই দুর্ঘটনাই যেন তাকে আরও দৃঢ় করেছে।

তিনি ঝিনাইদহ সদর উপজেলার হলিধানী ব্লকের হাজারো কৃষকের কাছে কেবল একজন উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা নন; তিনি আস্থার প্রতীক ও নির্ভরতার নাম। সরকারি চাকরিতে দায়িত্ব পালনে অনীহা কিংবা নানা অজুহাতের অভিযোগ যখন প্রায়ই শোনা যায়, তখন শারীরিক প্রতিবন্ধকতাকে জয় করে মাঠে-মাঠে কৃষি সেবা পৌঁছে দিয়ে তিনি ব্যতিক্রমী দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন মফিজ উদ্দিন। কৃষকের সমস্যাই যেন তাঁর নিজের সমস্যা। কোনো কৃষকের জমিতে রোগ দেখা দিলে, ফসল নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হলে অথবা নতুন প্রযুক্তি সম্পর্কে জানার প্রয়োজন হলে সবার আগে যে মানুষটির কথা মনে পড়ে, তিনি মফিজ উদ্দিন।

হলিধানী ব্লকে বর্তমানে প্রায় ৪ হাজার ৫৫৩ জন কৃষক রয়েছেন। তারা ধান, গম, ভুট্টা, বিভিন্ন ধরনের সবজি ও মসলা উৎপাদন করে জীবিকা নির্বাহ করেন। এসব কৃষকের জন্য সরকারি কৃষি সেবা নিশ্চিত করার দায়িত্বে রয়েছেন তিনি। কিন্তু দায়িত্ব তাঁর কাছে কেবল সরকারি চাকরির অংশ নয়; এটি যেন এক ধরনের মানবিক অঙ্গীকার।

ঝিনাইদহ সদর উপজেলার কালিচরণপুর ইউনিয়নের ছোট মান্দারবাড়িয়া গ্রামের জন্ম মফিজ উদ্দিনের। বাবা মৃত আফসার উদ্দিন জোয়ার্দার। সাত ভাই ও দুই বোনের বড় পরিবারে বেড়ে ওঠা মফিজ ছোটবেলা থেকেই সংগ্রামের সঙ্গে পরিচিত। বর্তমানে তিনি দুই কন্যা সন্তানের জনক। শিক্ষাজীবনে ঝিনাইদহ থেকে এসএসসি (ভোকেশনাল) পাস করার পর ফরিদপুর কৃষি প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউট থেকে ডিপ্লোমা ইন এগ্রিকালচার সম্পন্ন করেন। পরে যশোরে কাজী নজরুল ইসলাম ডিগ্রি কলেজ থেকে ব্যাচেলর অব এডুকেশন (এগ্রিকালচার) ডিগ্রি অর্জন করেন। কিন্তু তাঁর জীবনের সবচেয়ে বড় পরীক্ষা এসেছিল ২০০৯ সালের ১১ জানুয়ারি। একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরিরত অবস্থায় ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় ট্রাকের চাপায় বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় তাঁর একটি হাত। মুহূর্তের মধ্যে বদলে যায় পুরো জীবন। হাসপাতালে শুয়ে থাকা সেই দিনগুলোতে ভবিষ্যৎ যেন অন্ধকারে ঢেকে গিয়েছিল।

পরিবার, স্বপ্ন, কর্মজীবন- সবকিছু নিয়ে তৈরি হয়েছিল অনিশ্চয়তা। অনেকেই ভেবেছিলেন, হয়তো তিনি আর স্বাভাবিক জীবনে ফিরতে পারবেন না। কিন্তু মফিজ উদ্দিন হার মানেননি।

দীর্ঘ চিকিৎসা, সহনীয় শারীরিক কষ্ট আর মানসিক যন্ত্রণাকে সঙ্গী করে নতুন করে জীবন শুরু করেন। নিজের সীমাবদ্ধতাকে মেনে নিয়ে নয়, বরং তাকে জয় করেই সামনে এগিয়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেন। ধীরে ধীরে শিখে নেন এক হাত দিয়েই জীবন ও কর্মক্ষেত্রের সব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে।

সেই দৃঢ় ইচ্ছাশক্তির ফলেই ২০১৩ সালের ১৪ আগস্ট কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা হিসেবে যোগদান করেন তিনি। চাকরি জীবনের শুরু যশোরে। পরে বরিশাল ও ফরিদপুরে দায়িত্ব পালন শেষে ২০২২ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি ঝিনাইদহ সদর উপজেলার হলিধানী ব্লকে যোগদান করেন। এরপর থেকে মাঠমুখী কর্মকাণ্ড, কৃষকদের সঙ্গে নিবিড় যোগাযোগ এবং সমস্যার দ্রুত সমাধান দেওয়ার কারণে অল্প সময়েই কৃষকদের হৃদয়ে জায়গা করে নেন তিনি।

স্থানীয় কৃষক আব্দুর রাজ্জাক বলেন, "মফিজ উদ্দিনের প্রকৃত অফিস কোনো দালানকোঠা নয়, তার অফিস কৃষকের মাঠ। অনেক সময় সরকারি ছুটির দিনেও কৃষকের ফোন পেয়ে ছুটে যান জমিতে। দিন-রাতের নির্দিষ্ট কোনো কর্মঘণ্টা নেই তার।"

কৃষক সাইফুল ইসলাম বলেন, "ধানের জমিতে রোগ দেখা দিলে আগে আমি খুব চিন্তায় পড়তাম। এখন মফিজ ভাইকে ফোন দিলেই চলে আসেন। জমিতে নেমে রোগ শনাক্ত করেন, কী ওষুধ দিতে হবে বলে দেন। এক হাত না থাকলেও কাজের ক্ষেত্রে তাকে কখনো দুর্বল মনে হয়নি।"

মফিজ উদ্দিন বলেন, "দুর্ঘটনার পর অনেকেই ভেবেছিলেন আমি হয়তো আর কিছু করতে পারব না। কিন্তু আমি বিশ্বাস করতাম, মানুষ চাইলে যেকোনো বাধা অতিক্রম করতে পারে। কৃষকদের জন্য কাজ করার ইচ্ছাটাই আমাকে শক্তি দিয়েছে।

তার মতে, পুরস্কার বা সম্মাননার পরিবর্তে সবচেয়ে বড় অর্জন হলো কৃষকের মুখের হাসি।

তিনি বলেন, "কোনো কৃষকের ক্ষতি কমলে, ভালো ফলন হলে অথবা তার পরিবারে স্বস্তি ফিরলে সেটাই আমার সবচেয়ে বড় পুরস্কার।"

ঝিনাইদহ সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. নুর-এ-নবী বলেন, "মফিজ উদ্দিন অত্যন্ত দায়িত্বশীল ও পরিশ্রমী কর্মকর্তা। শারীরিক প্রতিবন্ধকতা তার কাজে কোনো বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারেনি। তিনি কৃষকদের মধ্যে ব্যাপক আস্থা অর্জন করেছেন। একটি হাত হারিয়ে অনেকেই জীবনযুদ্ধে থেমে যান। কিন্তু মফিজ উদ্দিন প্রমাণ করেছেন, মানুষের শক্তি তার হাতে নয়, তার মনোবলে। তাই ঝিনাইদহের কৃষকদের কাছে তিনি শুধু একজন কৃষি কর্মকর্তা নন; তিনি সাহস, সংগ্রাম, দায়িত্ববোধ ও মানবিকতার এক উজ্জ্বল প্রতীক।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ২৬শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৫০
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪০
মাগরিব ০৫:১৬
ইশা ০৬:২৯
সূর্যোদয় : ০৬:০৮ সূর্যাস্ত : ০৫:১৬
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%