০২:৩৮ পি.এম
যুক্তরাষ্ট্রে মাদক পাচারের মামলায় প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ক্ষমা পাওয়া হন্ডুরাসের সাবেক প্রেসিডেন্ট হুয়ান অরল্যান্ডো হার্নান্দেজের বিরুদ্ধে দুর্নীতির মামলার বিচার চলাকালীন তিনি কারামুক্ত থাকতে পারবেন বলে রায় দিয়েছেন দেশটির এক বিচারক।
নিজের নামের আদ্যক্ষর ‘জেওএইচ’ নামে পরিচিত সাবেক এই প্রেসিডেন্ট গত ২৬ জুলাই দেশে ফেরেন। ট্রাম্প প্রায় আট মাস আগে তার ৪৫ বছরের কারাদণ্ড বাতিল করে ক্ষমা ঘোষণা করেন এবং এর পর তিনি দেশে ফিরে আসেন।
তেগুসিগালপা থেকে বার্তা সংস্থা এএফপি এই সংক্রান্ত খবর জানিয়েছে।
আরও পড়ুন: ২ ঘণ্টা গুলি বিনিময়ের পর উজোবাজারের পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে: পুলিশ সুপার
২০১৩ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনী প্রচারের জন্য অর্থায়নের উদ্দেশ্যে দুই মিলিয়ন ডলার সরকারি অর্থ আত্মসাতের অভিযোগে জারি করা গ্রেফতারি পরোয়ানা স্থগিত হওয়ার পর হার্নান্দেজ হন্ডুরাসে ফিরে আসেন।
বিচার বিভাগের মুখপাত্র কার্লোস সিলভা সাংবাদিকদের জানিয়েছেন, সোমবার অর্থ পাচার ও জালিয়াতির অভিযোগে আনুষ্ঠানিকভাবে অভিযুক্ত করার শুনানির সভাপতি বিচারক গ্রেফতারি পরোয়ানা স্থগিতের সিদ্ধান্ত বহাল রেখেছেন। তবে সাবেক প্রেসিডেন্টকে দেশ ছেড়ে পালাবেন না— এ বিষয়ে লিখিত অঙ্গীকার দিতে নির্দেশ দিয়েছেন।
সিলভা জানান, হার্নান্দেজের বিদেশ সফরে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হয়েছে। তার মামলার প্রথম শুনানির দিন ধার্য করা হয়েছে ১২ আগস্ট।
হন্ডুরাসের প্রেসিডেন্ট নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার মাত্র কয়েক দিন আগে গত নভেম্বরে ট্রাম্প হার্নান্দেজকে ক্ষমা ঘোষণায় সুরাহা করেন।
আরও পড়ুন: বিএনপি ও জামায়াতের মধ্যে পাল্টাপাল্টি দোষারোপ, রাজনৈতিক সম্পর্কের বিতর্ক তীব্র
ট্রাম্প অভিযোগ করেন, সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের আমলে হার্নান্দেজ অন্যায় বিচারের শিকার হয়েছেন। এছাড়া, ফৌজদারি তদন্তের একটি অংশ ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে পরিচালিত হয়েছে বলেও তিনি জানান।
হন্ডুরাসের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে হার্নান্দেজের রাজনৈতিক মিত্র ও রক্ষণশীল প্রার্থী নাসরি আসফুরা বিজয়ী না হলে, দেশটিতে যুক্তরাষ্ট্রের সহায়তা বন্ধ করার হুমকি দেওয়ার পর ট্রাম্প এ ক্ষমা ঘোষণা করেন। বিরোধীদের জালিয়াতির অভিযোগের মধ্যে অল্প ব্যবধানে আসফুরা নির্বাচনে জয় লাভ করেন।
২০২৪ সালের জুনে নিউইয়র্কের একটি ফেডারেল আদালত মাদক ও অস্ত্র-সংক্রান্ত তিনটি অভিযোগে হার্নান্দেজকে দোষী সাব্যস্ত করে ৪৫ বছরের কারাদণ্ড প্রদান করেন।
প্রসিকিউটরদের অভিযোগ রয়েছে যে, রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা বাহিনীকে ব্যবহার করে তিনি যুক্তরাষ্ট্রে শত শত টন কোকেন পাচারে সহায়তা করেছিলেন এবং এ কার্যক্রমে তিনি মাদক পাচারকারী হোয়াকিন ‘এল চাপো’ গুজমানের মতো ব্যক্তিদের সঙ্গে সহযোগিতা করেছেন।
আরও পড়ুন: মাধ্যমিক শিক্ষকরা সরকারকে উচ্চতর গ্রেড বৈষম্য দূর করতে দুই মাসের সময় দিলেন
হার্নান্দেজ যুক্তরাষ্ট্রের মামলাকে এবং হন্ডুরাসের বিচারিক কার্যক্রমকেও ‘রাজনৈতিক নিপীড়ন’ বলে উড়িয়ে দিয়েছেন। দেশে ফিরে আসার পর তিনি ঘোষণা দেন, তিনি ‘মাথা নত করবেন না’ এবং তার বিরুদ্ধে সব অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছেন।
সোমবারের শুনানির আগে হার্নান্দেজ বলেন, ‘আজ আমরা পুনরায় এই আক্রমণের মুখে ন্যায়বিচারের সামনে দাঁড়িয়েছি।’
২০১৪ থেকে ২০২২ পর্যন্ত টানা দুই মেয়াদে প্রেসিডেন্ট হিসাবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন হার্নান্দেজ। তার রাজনৈতিক জীবনজুড়ে দুর্নীতির অভিযোগ ওঠে।
হার্নান্দেজের দেশে ফেরার বিষয়টি হন্ডুরাসে মিশ্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি করেছে। দুর্নীতির মামলার অন্যান্য কয়েকজন আসামির বিরুদ্ধে অভিযোগ ইতোমধ্যে প্রত্যাহার করা হয়েছে। তাদের মধ্যে রয়েছেন সাবেক প্রেসিডেন্ট পরফিরিও লোবো (২০১০-২০১৪), যার বিরুদ্ধে সরকারি অর্থ ব্যবহারের অনুমোদন দেওয়ার অভিযোগ ছিল।
আরও পড়ুন: ফ্রান্সে ব্র্যান্ডের দোকানে হামলা, ফরাসি বিলাসবহুল পণ্য অতিরিক্ত অবক্ষয়ের প্রতীক
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন