প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতে চলমান প্রাণঘাতী ও অনিরাপদ প্যারাসেলিং কার্যক্রমকে অবিলম্বে বন্ধ করার জন্য লিগ্যাল নোটিশ পাঠানো হয়েছে। সেই সঙ্গে অননুমোদিত অপারেটরদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ এবং আন্তর্জাতিক মানের সুরক্ষা নির্দেশিকা প্রণয়নের দাবি জানানো হয়েছে।
আজ মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট নিশাত ফারজানা সংশ্লিষ্ট সরকারি কর্তৃপক্ষের উদ্দেশ্যে এ নোটিশ পাঠিয়েছেন।
নোটিশে দৃষ্টিপাত করা হয়েছে যে, গত ১ আগস্ট কক্সবাজারের হিমছড়ি এলাকার দরিয়ানগর সৈকতে প্যারাসেলিং করার সময় এক পর্যটক ওপর থেকে ছিটকে পড়ে, যা এক মর্মান্তিক মৃত্যু ঘটায়।
এ দুর্ঘটনাকে ‘অত্যন্ত হৃদয়বিদারক’ বলে উল্লেখ করা হয়েছে এবং এটি পর্যটন খাতের নিরাপত্তার জন্য বড় একটি হুমকি হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। নোটিশে স্পষ্ট করা হয় যে, অননুমোদিত ও ঝুঁকিপূর্ণ উপায়ে প্যারাসেলিং পরিচালনার কারণে প্রাণহানির পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে এবং এ বিষয়ে স্থানীয় প্রশাসন কোনোভাবেই দায় এড়াতে পারে না।
নোটিশের মধ্যে অভিযোগ করা হয়েছে যে, কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতে বিভিন্ন বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে নিরাপত্তাব্যবস্থা, প্রশিক্ষিত অপারেটর এবং মানসম্মত যন্ত্রপাতি ছাড়া প্যারাসেলিং কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে। এতে একাধিক দুর্ঘটনা ঘটলেও প্রশাসনের কার্যকর নজরদারি ও নিয়ন্ত্রণ অভাব পরিলক্ষিত হয়েছে।
তবে নোটিশে আরো বলা হয়েছে যে, প্রশাসনের তদারকির দায়িত্ব থাকা সত্ত্বেও এ ধরনের অননুমোদিত ও ঝুঁকিপূর্ণ কার্যক্রম চলতে থাকা প্রশাসনিক ব্যর্থতারই প্রমাণ। যা ভবিষ্যতের পর্যটকদের নিরাপত্তা প্রশ্নের মুখে ফেলেছে।
লিগ্যাল নোটিশে আট দফা দাবি উত্থাপন করা হয়েছে। দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে—কক্সবাজারে পরিচালিত সব ঝুঁকিপূর্ণ প্যারাসেলিং কার্যক্রম অবিলম্বে বন্ধ করা, সংশ্লিষ্ট অপারেটরদের লাইসেন্স, অনুমোদন এবং নিরাপত্তার মান যাচাই করা, সাম্প্রতিক দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে স্বাধীন তদন্ত কমিটি গঠন করা, দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ, ট্যুরিস্ট পুলিশ ও ট্যুরিস্ট ম্যাজিস্ট্রেটদের দায়িত্ব পালনে সতর্কতা নিশ্চিত করা, নিহত পর্যটকের পরিবারকে যথাযথ ক্ষতিপূরণ প্রদান এবং দরিয়ানগরের ‘ফ্লাই এয়ার সি স্পোর্টস প্যারাসেলিং পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান’-এর বিরুদ্ধে নেওয়া ব্যবস্থা জনসম্মুখে তুলে ধরা।
এছাড়া ভবিষ্যতে প্যারাসেলিংসহ সব ধরনের অ্যাডভেঞ্চার পর্যটন কার্যক্রম পরিচালনার জন্য আন্তর্জাতিক মানের নিরাপত্তা নির্দেশিকা (স্ট্যান্ডার্ড সেফটি গাইডলাইন) এবং একটি কার্যকর নিয়ন্ত্রক কাঠামো (রেগুলেটরি ফ্রেমওয়ার্ক) প্রণয়ন ও কঠোরভাবে বাস্তবায়নের দাবি জানানো হয়েছে।
নোটিশে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে ১৫ কর্মদিবসের মধ্যে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানানো হয়েছে। অন্যথায় জনস্বার্থে প্রয়োজনীয় আইনগত পদক্ষেপ গ্রহণ করার কথা উল্লেখ করেছেন নোটিশদাতা আইনজীবী নিশাত ফারজানা।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন