বৃহস্পতিবার, ২২শে অক্টোবর, ২০২৬ ইং
০৬:৫৪ পি.এম
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগর উপজেলার চাতলপাড় মেঘনা নদীতে গোসল করতে গিয়ে নিখোঁজ হওয়ার তিন দিন পর পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী ফারিয়ার মরদেহ স্থানীয়রা উদ্ধার করেছে। বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) সকালে চাতলপাড়ের মেঘনার তীরে শিশু ফারিয়ার মরদেহ ভেসে ওঠে।
গত মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) দুপুর ১২টার দিকে বাড়ির পাশের মেঘনা নদীতে গোসল করতে গিয়ে নিখোঁজ হয় শিশু ফারিয়া। সে চাতলপাড় ইউনিয়নের কাঁঠালকান্দি গ্রামের সাখাওয়াত মিয়ার মেয়ে। স্থানীয় একটি বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির শিক্ষার্থী হিসেবে তার পরিচিতি রয়েছে।
পরিবার ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মঙ্গলবার দুপুরে ফারিয়া তার চাচাতো ভাই-বোনদের সঙ্গে বাড়ির পাশের মেঘনা নদীতে গোসল করতে যায়। হঠাৎ করে সে স্রোতের পানিতে নদীতে তলিয়ে যায়। এ সময় তার সাথে থাকা শিশুরা তাকে উদ্ধারের চেষ্টা করে। তবে তারা বয়সে ছোট হওয়ায় তাৎক্ষণিকভাবে তাকে উদ্ধার করতে পারেনি।
একপর্যায়ে ফারিয়ার সঙ্গে থাকা শিশুরা তাদের বাড়িতে গিয়ে পরিবারের সদস্য ও স্থানীয় লোকজনকে খবর দেয়। এরপর স্বজন ও এলাকাবাসী নদীতে নেমে শিশুটিকে খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। পরে ফায়ার সার্ভিসের একটি টিম সারাদিন চেষ্টা করে মরদেহ উদ্ধার করতে ব্যর্থ হয়। অবশেষে বৃহস্পতিবার সকালে চাতলপাড়রের ফকিরদিয়া নামক স্থানে তার মরদেহ ভেসে ওঠে।
নাসিরনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ শাহিনুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ঢাকা মহানগর পশ্চিম শাখা ছাত্রদলের নতুন কমিটি নিয়ে নেতাকর্মীদের মধ্যে আলোচনা ও তৎপরতা বৃদ্ধি পেয়েছে। নতুন নেতৃত্বে শীর্ষ পর্যায়ে নতুন মুখ আসবে কি না, অথবা সদ্য বিলুপ্ত কমিটির নেতাদের মধ্য থেকেই সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হবে—এ নিয়ে চলছে নানা হিসাব-নিকাশ। সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদে একাধিক নেতার নাম আলোচনায় রয়েছে। তবে নতুন কমিটি গঠনে আন্দোলন-সংগ্রামে ভূমিকা, কারাবরণের অভিজ্ঞতা, সাংগঠনিক দক্ষতা ও পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তিকে গুরুত্ব দেওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দিন নাছির।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানাচ্ছে, রাড্ডা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে হামলার ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে কমিটি বিলুপ্ত হলেও সাবেক নেতৃত্বের একাংশ আগের কমিটির নেতাদের মধ্য থেকেই নতুন নেতৃত্ব দেখতে চান। অন্যদিকে, নতুন কমিটিতে গ্রহণযোগ্য ও পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তির নেতাদের মূল্যায়নের বিষয়টিও আলোচনায় রয়েছে। সব মিলিয়ে নতুন নেতৃত্বে কারা আসবেন, তা নিয়ে পদপ্রত্যাশীদের মধ্যে বেড়েছে দৌড়ঝাঁপ।
গত ৩০ সেপ্টেম্বর ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সংসদের দপ্তর সম্পাদক মো. জাহাঙ্গীর আলম স্বাক্ষরিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে ঢাকা মহানগর পশ্চিম শাখা ছাত্রদলের কমিটি বিলুপ্তির ঘোষণা দেওয়া হয়। বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, কমিটিটি মেয়াদোত্তীর্ণ হওয়ায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে শিগগিরই নতুন কমিটি ঘোষণা করা হবে বলেও উল্লেখ করা হয়। এরপর থেকেই সম্ভাব্য নেতৃত্ব নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। নেতাকর্মীরা যেকোনো সময় নতুন কমিটি ঘোষণা হতে পারে—এমন প্রত্যাশা করছেন।
এর আগে ২০২৪ সালের ২৪ ডিসেম্বর ঢাকা মহানগর পশ্চিম শাখা ছাত্রদলের নয় সদস্যের আংশিক কমিটি ঘোষণা করা হয়েছিল। ওই কমিটিতে মো. রবিন খানকে সভাপতি এবং আকরাম আহমেদকে সাধারণ সম্পাদক করা হয়েছিল। পরে চলতি বছরের ৪ এপ্রিল ইউনিটটির পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণা করা হয়। পূর্ণাঙ্গ কমিটি ঘোষণার কয়েক মাসের মধ্যেই তা বিলুপ্ত হওয়ায় নতুন নেতৃত্ব নির্বাচন নিয়ে সংগঠনের ভেতরে আলোচনা আরও জোরালো হয়েছে।
সভাপতি-সম্পাদক পদে একাধিক নাম
নতুন কমিটির সভাপতি পদে আলোচনায় রয়েছেন বিলুপ্ত কমিটির সদ্য সাবেক সাধারণ সম্পাদক আকরাম আহমেদ, সাবেক সহসভাপতি মোতহার হোসেন নিলয়, গোলাম মাওলা গোলাপ, কাউসার খান ও কাজী শাওন আলম।
অন্যদিকে, সাধারণ সম্পাদক পদে আলোচনায় রয়েছেন বিলুপ্ত কমিটির সাবেক যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাকারিয়া খান সিজার, মিরপুর কলেজ ছাত্রদলের সদস্যসচিব শরীফুল ইসলাম সুমন, সাবেক দপ্তর সম্পাদক শহীদুল আলম এবং সাবেক প্রচার সম্পাদক সাইফুল ইসলাম সজীব। তবে এ বিষয়ে কেন্দ্রীয় সংসদের পক্ষ থেকে এখনো আনুষ্ঠানিকভাবে কারও নাম ঘোষণা করা হয়নি।
পদপ্রত্যাশীদের মধ্যে কয়েকজনের দীর্ঘদিনের সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড ও আন্দোলন-সংগ্রামে অংশগ্রহণের বিষয়টি আলোচনায় এসেছে। বিশেষ করে সাবেক সাধারণ সম্পাদক আকরাম আহমেদের সাংগঠনিক অভিজ্ঞতা এবং বিএনপির আন্দোলন-সংগ্রামে তার ভূমিকার কথা সামনে আনছেন সংশ্লিষ্টরা।
আকরাম আহমেদ ২০১৬ সালের ৭ ফেব্রুয়ারি বাংলা কলেজ ছাত্রদলের দপ্তর সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। পরে ২০২১ সালের ১১ আগস্ট ঢাকা মহানগর পশ্চিম ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক হন। ২০২৪ সালের ২৪ ডিসেম্বর তাকে মহানগর পশ্চিম ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক করা হয়।
দলীয় আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় ভূমিকার কারণে ২০১৫ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে সাতবার গ্রেপ্তার হয়ে কারাবরণ করেছেন বলে জানা গেছে। এ ছাড়া তার বিরুদ্ধে ২৪টি রাজনৈতিক মামলা রয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। ২০১৫ সালে অবরোধ কর্মসূচি চলাকালে পুলিশের গুলিতে তার ডান পায়ের হাঁটুর জয়েন্টে গুলি লাগে। আহত অবস্থায় তাঁকে প্রায় সাত মাস কারাভোগ করতে হয়।
ত্যাগী নেতাদের মূল্যায়নের দাবি
নতুন কমিটিতে দায়িত্ব পাওয়ার বিষয়ে নিজের অবস্থান তুলে ধরে পদপ্রত্যাশী মোতহার হোসেন নিলয় আমার দেশকে বলেন, “দল আমাকে যেখানে মূল্যায়ন করবে, সেখানে আমি দায়িত্ব পালন করব। দল যদি মনে করে, দলের দুর্দিনে আমার অবদান রয়েছে, তাহলে আমাকে যেখানে দায়িত্ব পালন করতে বলবে, সেখানেই দায়িত্ব পালন করব।”
অন্যদিকে, সাধারণ সম্পাদক পদপ্রত্যাশী শরীফুল ইসলাম সুমন আমার দেশকে বলেন, “দলের দুর্দিনে নেতাকর্মীদের মূল্যায়ন করতে হবে। বিশেষ করে যারা দলের আন্দোলন-সংগ্রামে ছিলেন, তাদের নিয়ে কমিটি গঠন করা হোক। অতীতে দলের প্রয়োজনে যেখানে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে, সেখানে দায়িত্ব পালন করেছি। আগামীতেও দল যেখানে উপযুক্ত মনে করবে, সেখানে দায়িত্ব পালন করব।”
আরেক পদপ্রত্যাশী ছাত্রদল নেতা জাকারিয়া খান সিজার আমার দেশকে বলেন, “দলের আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয়ভাবে অংশ নিতে গিয়ে গুলিবিদ্ধ হয়েছি, জেল-জুলুম ও নানা নির্যাতনের শিকার হয়েছি। দলের কঠিন সময়ে, যখন প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে বিএনপিকে যেতে হয়েছে, তখনও দলের পাশে ছিলাম। দলের দুঃসময়ে রাজপথে থেকে আন্দোলন-সংগ্রাম করেছি, দলের আদর্শ ও লক্ষ্য বাস্তবায়নে কাজ করেছি। এখন দল রাষ্ট্রক্ষমতায়, দলের সুসময় চলছে। এই সময়ে আমার ব্যক্তিগত চাওয়া-পাওয়ার চেয়ে দলীয় সিদ্ধান্ত ও সাংগঠনিক শৃঙ্খলা আমার কাছে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। দল আমাকে যেখানে যে দায়িত্ব পালনের জন্য উপযুক্ত মনে করবে, সেখানেই আমি দায়িত্ব পালন করতে প্রস্তুত। দলের প্রয়োজনে যেকোনো দায়িত্ব নিষ্ঠা, সততা ও আন্তরিকতার সঙ্গে পালন করতে চাই। ছাত্রদলের সাংগঠনিক কার্যক্রমকে আরও গতিশীল করা এবং দলের আদর্শে নতুন প্রজন্মকে উদ্বুদ্ধ করাই আমার লক্ষ্য।”
আন্দোলন-সংগ্রামে পরীক্ষিতদের গুরুত্ব
নতুন কমিটি গঠনের ক্ষেত্রে আন্দোলন-সংগ্রামে সক্রিয় থাকা, হামলা-মামলার শিকার হওয়া এবং কারাবরণের অভিজ্ঞতাকে গুরুত্ব দেওয়া হতে পারে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা। সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক পদ পেতে ছাত্রদলের একাধিক নেতা তৎপরতা চালাচ্ছেন। তাদের কেউ কেউ বিএনপির জাতীয় পর্যায়ের নেতা এবং ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় নেতাদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন। নিজেদের সাংগঠনিক অভিজ্ঞতা, রাজনৈতিক ত্যাগ ও অতীত কর্মকাণ্ড তুলে ধরে নেতৃত্বের দৌড়ে এগিয়ে থাকার চেষ্টা করছেন তারা।
সংশ্লিষ্ট সূত্রের ভাষ্য, পদপ্রত্যাশীদের কর্মকাণ্ড যাচাই-বাছাই করে নতুন নেতৃত্ব নির্ধারণ করা হবে। আন্দোলন-সংগ্রামে সামনের সারিতে থাকা এবং রাজনৈতিক নিপীড়ন, হামলা ও মামলার শিকার হওয়ার বিষয়গুলোও বিবেচনায় আসতে পারে। তবে শেষ পর্যন্ত কারা নেতৃত্বে আসছেন, তা নির্ভর করছে কেন্দ্রীয় সংসদের সিদ্ধান্তের ওপর।
নতুন কমিটি ঘোষণার সম্ভাব্য সময় ও নেতৃত্ব নির্বাচনের প্রক্রিয়া সম্পর্কে ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দিন নাছির আমার দেশকে বলেন, “শিগগিরই নতুন কমিটি ঘোষণার কাজ চলছে। নতুন কমিটিতে আন্দোলন-সংগ্রামে পরীক্ষিত নেতাদের মূল্যায়ন করা হবে। ইতোমধ্যে পদপ্রত্যাশীদের সঙ্গে আমরা যোগাযোগ করছি। তাঁদের বিষয়ে খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
টাঙ্গাইলের মধুপুরে পাঁচ বছর বয়সী এক শিশুকে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগে দায়ের করা মামলার প্রধান আসামি আব্দুল খালেককে (৭৫) গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) বিকেল পাঁচটার দিকে উপজেলার কাকরাইদ চৌরাস্তা মোড় থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
গ্রেপ্তারকৃত আব্দুল খালেক বোকারবাইদ নতুন বাজার এলাকার মৃত বসু চকদারের ছেলে।
পুলিশ ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, গত সোমবার (১৯ অক্টোবর) বেলা আনুমানিক ৩টার দিকে প্রতিবেশী আব্দুল খালেক কলা দেওয়ার কথা বলে শিশুটিকে নিজের বাড়িতে ডেকে নিয়ে যান। পরে তাকে ঘরের ভেতরে নিয়ে যাওয়ার অভিযোগ ওঠে। দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও শিশুটি বাড়িতে ফিরে না আসায় তার মা খোঁজাখুঁজি শুরু করেন। এর আগে শিশুটি মাকে জানিয়েছিল, দাদা খালেক তাকে কলা দেওয়ার কথা বলে ডাকছেন।
একপর্যায়ে শিশুটির মা খালেকের বাড়িতে গিয়ে ঘরের ভেতর থেকে শব্দ শুনতে পান। পরে টিনের দরজায় ধাক্কা দিয়ে ভেতরে প্রবেশ করে তিনি শিশুটির পোশাক খোলা অবস্থায় এবং খালেককে ধর্ষণচেষ্টারত অবস্থায় দেখতে পান বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে। এ সময় শিশুটির মা চিৎকার করে দরজার ছিটকিনি আটকে দেওয়ার চেষ্টা করলে অভিযুক্ত খালেক জোরপূর্বক ছিটকিনি খুলে পালিয়ে যান বলে অভিযোগে বলা হয়েছে।
এ ঘটনায় শিশুটির পরিবারের পক্ষ থেকে মধুপুর থানায় আব্দুল খালেককে আসামি করে মামলা করা হয়। মামলা দায়েরের পর থেকেই তিনি আত্মগোপনে ছিলেন বলে পুলিশ জানিয়েছে।
পরে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে মধুপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এ কে এম ফজলুল হকের নির্দেশনায় মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা উপপরিদর্শক (এসআই) রফিকের নেতৃত্বে পুলিশ অভিযান চালায়। বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) উপজেলার কাকরাইদ চৌরাস্তা মোড় হতে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
মধুপুর থানার ওসি জানান, মামলা দায়েরের পর থেকেই আসামিকে গ্রেপ্তারে পুলিশ তৎপর ছিল। বৃহস্পতিবার বিকেলে অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। প্রয়োজনীয় আইনি প্রক্রিয়া শেষে তাকে বিজ্ঞ আদালতে সোপর্দ করা হবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
গতকাল বাংলাদেশের হয়ে ওয়ানডে ক্রিকেটে অভিষেক হয়েছে। তবে আজ অফ স্পিনার আলিস আল ইসলামকে দুঃসংবাদ শুনতে হলো। শারজায় আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে ত্রিদেশীয় সিরিজের ম্যাচে আলিসের বোলিং অ্যাকশন সন্দেহজনক বলে মন্তব্য করেছেন ম্যাচ অফিশিয়ালরা। এর ফলে, তাকে বোলিং অ্যাকশনের পরীক্ষা দিতে হবে।
আইসিসি আজ এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, বুধবার (২১ অক্টোবর) শারজায় আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে অনুষ্ঠিত ম্যাচে আলিসের বোলিং অ্যাকশন সন্দেহজনক মনে হয়েছে ম্যাচ অফিশিয়ালদের। ২৯ বছর বয়সী এই অফ স্পিনারকে এখন আইসিসির স্বীকৃত পরীক্ষাকেন্দ্রে বোলিং অ্যাকশনের পরীক্ষা দিতে হবে।
আইসিসির নিয়ম অনুযায়ী, যদি পরীক্ষায় কোনো বোলারের বোলিং অ্যাকশন অবৈধ প্রমাণিত হয়, তাহলে তাকে বোলিং থেকে সাময়িকভাবে নিষিদ্ধ করা হয়। বোলিং অ্যাকশনে প্রয়োজনীয় পরিবর্তন এনে পুনরায় পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হলেই কেবল তিনি আবার বোলিং করতে পারেন।
এর আগে ঘরোয়া ক্রিকেটে আলিস আল ইসলামের বোলিং অ্যাকশন নিয়ে দুবার প্রশ্ন উঠেছিল। ২০১৯ সালে নিজের বিপিএল অভিষেকের সময় তার অ্যাকশন নিয়ে প্রশ্ন উঠলে তিনি অ্যাকশন সংশোধন করে ফিরে আসেন। ২০২৫ বিপিএলেও তার বোলিং অ্যাকশন নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করা হয়েছিল। এ দফায়ও তিনি পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হন।
আইসিসির নিয়ম অনুযায়ী, বোলারের হাত কাঁধের সমান্তরালে আসার পর থেকে বল ছাড়ার আগ পর্যন্ত কনুই ১৫ ডিগ্রির বেশি প্রসারিত হলে সেই বোলিং অ্যাকশন অবৈধ হিসেবে গণ্য হয়।
মাঠে ম্যাচ অফিশিয়ালরা তাদের অভিজ্ঞতা ও খালি চোখে পর্যবেক্ষণের ভিত্তিতে কোনো বোলারের অ্যাকশন নিয়ে সন্দেহ প্রকাশ করতে পারেন। এরপর সংশ্লিষ্ট বোলারের অ্যাকশন পরীক্ষা করা হয় আইসিসির স্বীকৃত পরীক্ষাকেন্দ্রে। সেখানে আধুনিক প্রযুক্তি ও মানবদেহের নড়াচড়া নিয়ে কাজ করা বিশেষজ্ঞদের তত্ত্বাবধানে পরীক্ষা করে অ্যাকশনের বৈধতা নির্ধারণ করা হয়।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ভোলার চরফ্যাশন বেতুয়া–ঢাকা নৌপথে লঞ্চ চলাচলে মালিকপক্ষের রোটেশন পদ্ধতির গ্যাঁড়াকলে যাত্রীদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এ পরিস্থিতিতে রোটেশন পদ্ধতির আইনি ভিত্তি জনসম্মুখে প্রকাশের দাবি জানিয়েছেন ভুক্তভোগীরা। একই সঙ্গে এ পদ্ধতি বাতিল করে স্বাভাবিক ও প্রতিযোগিতামূলক যাত্রীসেবা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়েছেন তাঁরা।
জানা যায়, বেতুয়া–ঢাকা নৌপথে দৈনিক তিনটি কোম্পানির এমভি কর্ণফুলী, এমভি টিপু ও এমভি তাসরিফ লঞ্চ চলাচলের জন্য বিআইডব্লিউটিএর নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী রুট পারমিট নেওয়া হয়েছে। শুরুতে কয়েক মাস নির্ধারিত সময়সূচি মেনে লঞ্চ চলাচল করলেও পরবর্তীতে মালিকপক্ষের পারস্পরিক সমঝোতায় রোটেশন পদ্ধতি চালু করা হয়।
অভিযোগ রয়েছে, বিআইডব্লিউটিএর নির্ধারিত দৈনিক লঞ্চ চলাচলের সময়সূচি উপেক্ষা করে মালিকপক্ষ নিজেদের সুবিধামতো এই রোটেশন পদ্ধতি চালু করেছে। এর ফলে একেক দিন একটি কোম্পানির লঞ্চ চলাচল বন্ধ রেখে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করছে। এতে যাত্রীদের নির্বিঘ্নে যাতায়াতের অধিকার ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি চরম ভোগান্তি বাড়ছে।
ভুক্তভোগীদের দাবি, দেশের প্রচলিত কোনো আইন, বিধিমালা বা সরকারি আদেশের ভিত্তিতে এ পদ্ধতি চালু করা হয়ে থাকলে তা প্রকাশ করতে হবে। অন্যথায় অবিলম্বে এ ব্যবস্থা বাতিল করতে হবে। তাঁদের ভাষ্য, লঞ্চমালিকদের ব্যবসা করার অধিকার থাকলেও সাধারণ যাত্রীদের জিম্মি করে রাখার অধিকার কারও নেই। নদীপথে যাতায়াত সাধারণ মানুষের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হলেও সংশ্লিষ্টদের অবহেলা ও অনিয়মের কারণে এ রুটে কাঙ্ক্ষিত যাত্রীসেবা নিশ্চিত হচ্ছে না।
চরফ্যাশন পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা মো. কামাল হোসেন প্রশ্ন তুলে বলেন, প্রতিদিনের সিডিউলে তিন কোম্পানির লঞ্চ আসা-যাওয়ার কথা থাকলেও সে আইন তারা মানছেন না। রোটেশন পদ্ধতি কি যাত্রীসেবা নিশ্চিত করার জন্য করা হয়েছে, নাকি যাত্রীদের জিম্মি করে অতিরিক্ত অর্থ আদায়ের সুযোগ তৈরির জন্য? তাঁর অভিযোগ, নির্ধারিত কেবিনের বরাদ্দ শেষ হয়ে গেলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের মুঠোফোন নম্বর বন্ধ পাওয়া যায়। পরে বাধ্য হয়ে লঞ্চের স্টাফদের জন্য নির্ধারিত ছোট কেবিন অতিরিক্ত টাকা দিয়ে বুকিং করতে হয়।
আছলামপুর ইউনিয়নের বাসিন্দা জাহিদুল ইসলাম বলেন, বিভিন্নভাবে চেষ্টা করেও কেবিন বুকিং করতে না পারায় চলমান দীর্ঘ সরকারি ছুটিতেও পরিবার নিয়ে বাড়ি ফিরতে পারেননি তিনি। এ ধরনের ভোগান্তি বন্ধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট অনিয়মের জবাবদিহি নিশ্চিত করার দাবি জানান তিনি।
অন্যদিকে, লঞ্চমালিকপক্ষের দাবি, পদ্মা সেতু চালু হওয়ার পর ভোলা–বরিশাল হয়ে সড়কপথে ঢাকায় যাতায়াতকারী যাত্রীর সংখ্যা বেড়েছে। এতে নৌপথে যাত্রী কমেছে প্রায় ৩০ শতাংশ। ফলে লঞ্চ পরিচালনায় লোকসানের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। এ লোকসান এড়াতেই রোটেশন পদ্ধতি চালু রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছেন তাঁরা।
এ বিষয়ে স্কুলশিক্ষক ইকবাল হোসেন বলেন, লঞ্চমালিকদের ব্যবসায়িক স্বার্থ এবং সাধারণ মানুষের নির্বিঘ্নে যাতায়াতের অধিকার—দুই বিষয়ই বিবেচনায় নেওয়া প্রয়োজন। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ তদন্ত করে সরকার বা বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ) প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে পারে। মালিকপক্ষের যাত্রীসংকট ও লোকসানের যুক্তি বিবেচনায় নেওয়ার পাশাপাশি সেই সংকটের দায় যেন সাধারণ যাত্রীদের বহন করতে না হয়, তা নিশ্চিত করতে হবে।
ইতিপূর্বে রোটেশন পদ্ধতি বাতিলের দাবি জানিয়ে এর আগে জনস্বার্থে আইনি নোটিশ পাঠিয়েছেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী অ্যাডভোকেট আব্দুল বাছেদ। নোটিশে এ পদ্ধতির কারণে প্রতিযোগিতামূলক যাত্রীসেবা বাধাগ্রস্ত হওয়া, যাত্রী ও ব্যবসায়ীদের ভোগান্তি এবং নৌযান চলাচলে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টির বিষয়গুলো তুলে ধরা হয়েছে। একই সঙ্গে অবিলম্বে এ ব্যবস্থা বাতিলের আহ্বান জানানো হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ