০২:৪৯ পি.এম
কক্সবাজারের প্রধান পর্যটন কেন্দ্রে কক্সবাজারে ঘন ঘন বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে পর্যটক, ব্যবসায়ী ও শহরবাসী চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন। ঈদের ছুটির মধ্যে গত এক সপ্তাহ ধরে বিদ্যুৎ সংকটের পরিপ্রেক্ষিতে হোটেল-মোটেল ও রেস্তোরাঁ খাতে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। ফলে এই তীব্র গরমের মধ্যে বাধ্য হয়ে পর্যটকরা কক্সবাজার ছাড়ছেন।
পর্যটকদের অভিযোগ রয়েছে যে, বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে লিফটে আটকে আতঙ্কিত হওয়ার ঘটনা ঘটছে। তারা জানাচ্ছেন, এসি ও ফ্যান ছাড়া ঘণ্টার পর ঘণ্টা অসহনীয় পরিস্থিতিতে কাটাতে হচ্ছে। এতে অনেকেই বাধ্য হয়ে কক্সবাজার ছেড়ে যাচ্ছেন।
ব্যবসায়ীরা জানান যে, বিদ্যুৎ সংকটের কারণে জ্বালানির ব্যয় বেড়ে গিয়ে তারা বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন। সাবস্টেশনের একটি পাওয়ার ট্রান্সফরমার নষ্ট হয়ে যাওয়ার কারণে দৈনিক ৮ ঘণ্টা লোডশেডিং চলমান রয়েছে।
আরও পড়ুন: সাতকানিয়ায় সাঙ্গু নদীর বেড়িবাঁধ ধসে মানুষের চরম দুর্ভোগ
সুত্র জানাচ্ছে, ঈদের ছুটিতে দেশের অন্যতম এই পর্যটন নগরী কক্সবাজারে পর্যটকের ভিড় বেড়ে গেছে। পাঁচ শতাধিক হোটেল-মোটেল এখন পর্যটকে ভরে উঠেছে, কিন্তু এই আনন্দঘন সময়েই টানা লোডশেডিংয়ের কারণে বড় সংকট দেখা দিয়েছে।
অনেক স্থানে লিফটে আটকে আতঙ্কিত হওয়ার ঘটনা ঘটছে। কোথাও আবার এসি ও ফ্যান ছাড়াই ঘণ্টার পর ঘণ্টা অসুস্থতায় কাটাতে হচ্ছে পর্যটকদের।
নারায়ণগঞ্জ থেকে কক্সবাজারে ঘুরতে আসা পর্যটক মো. ইব্রাহীম বলেন, ‘কক্সবাজারের মতো দেশের অন্যতম প্রধান পর্যটনকেন্দ্রে এমন ঘন ঘন বিদ্যুৎ বিভ্রাট অত্যন্ত হতাশাজনক।’
এসবের মধ্যে তার স্ত্রী, সন্তান ও ভাইসহ আরও কয়েকজন লিফটে আটকা পড়ে আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। তিনি জানিয়েছেন, ‘প্রায় ১০ থেকে ২০ মিনিট লিফটের ভেতরে আটকে থাকার কারণে তারা আতঙ্কিত হয়ে পড়েন।’
আরও পড়ুন: ফুলবাড়ী কয়লাখনি থেকে দ্রুত কয়লা উত্তোলনের দাবি জানাল ৫০০ জনের মানববন্ধন
মো. ইব্রাহীম আরও বলেন, ‘পর্যটকদের জন্য এ ধরনের পরিস্থিতি উদ্বেগজনক এবং ভোগান্তিকর। কক্সবাজারে বিদ্যুতের সরবরাহ আরও নিরবচ্ছিন্ন হওয়া প্রয়োজন।’
ঢাকার ফকিরাপুর থেকে আসা পর্যটক রনি জানান, ‘কক্সবাজারে এসে সবচেয়ে বেশি বিদ্যুতের সমস্যার কারণে ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে। আমরা বাইরে ঘুরতে বের হলে হোটেলে ফিরতে গিয়ে বেশিরভাগ সময়েই বিদ্যুৎ থাকে না।’
তিনি বলেছেন, ‘বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে হোটেলের শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা (এসি) সহ অন্যান্য সেবাও ঠিকভাবে পরিচালিত হচ্ছে না। এ কারণে পর্যটকদের আরামদায়ক অবস্থান ব্যাহত হচ্ছে এবং ভ্রমণের আনন্দ অনেকটাই ম্লান হয়ে যাচ্ছে।’
ঢাকা থেকে কক্সবাজারে আসা পর্যটক ফায়াজ বলেন, ‘গত ২৪ ঘণ্টার মধ্যে প্রায় ১০ থেকে ১২ ঘণ্টা বিদ্যুৎ ছিল না। বিদ্যুৎ না থাকায় ফ্যান, এসি বা অন্যান্য প্রয়োজনীয় সেবা চালু রাখতে পারিনি।’
আরও পড়ুন: পাঁচবিবির গ্রামবাসীর নিজস্ব অর্থায়নে সেতু নির্মাণ, সরকারি সহযোগিতার দাবি
ফায়াজ বলেন, ‘গরমে আমাদের অনেক সময় লাইট ও ফ্যান ছাড়াই থাকতে হয়েছে। জেনারেটর চালানো হলেও সেটি ২ থেকে ৩ ঘণ্টার বেশি চলেনি।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা আনন্দ করতে কক্সবাজারে এসেছি, কিন্তু বিদ্যুৎ সংকটের কারণে চরম ভোগান্তিতে পড়তে হচ্ছে।’
এদিকে, লোডশেডিংয়ের কারণে অনেক হোটেল-রিসোর্ট জেনারেটরের ওপর নির্ভর করতে বাধ্য হচ্ছে। এতে খরচ বাড়লেও কোনও স্বস্তি মিলছে না। বুকিং বাতিল এবং আগেভাগে চেকআউটের কারণে পর্যটন ব্যবসায়ীরা ক্ষতির মুখে পড়ছেন।
হোটেল সি ক্রাউনের ম্যানেজার সাজ্জাদ হোসেন বলেন, ‘ঈদের পর কক্সবাজারে পর্যটনের মৌসুম শুরু হয় এবং এ সময় বিপুল সংখ্যক পর্যটকের আগমন ঘটে। তাই আমরা সবাই নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সেবার প্রত্যাশা করি।’
আরও পড়ুন: ধুনটে পাঁচ কোটি টাকার সড়ক কাজ বন্ধ, দুর্ভোগে হাজারো মানুষ
তিনি আরও বলেন, ‘জেনারেটরের মাধ্যমে কিছুটা বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হলেও এতে জ্বালানি খরচ বেড়ে গেছে। ফলে নিরবচ্ছিন্ন সেবা দেওয়া আমাদের জন্য কঠিন হয়ে পড়ছে।’
হোটেল প্রাসাদ প্যারাডাইসের মহাব্যবস্থাপক মো. ইয়াকুব আলী জানান, ‘ঈদের পরদিন থেকেই প্রতিদিন ঘন ঘন লোডশেডিং হচ্ছে। এতে হোটেল পরিচালনায় ব্যাপক চাপ পড়ছে।’
তিনি বলেছেন, ‘বিদ্যুৎ সংকটের কারণে অতিথিদের মধ্যেও তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা যাচ্ছে।’
কলাতলীর শালিক রেস্তোরাঁর ব্যবস্থাপক মো. সেজান বলেন, ‘লোডশেডিং মানেই মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হওয়া।’
আরও পড়ুন: বুকব্যথা নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি শ্রমমন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী
তিনি বলেন, ‘বর্তমানে লোডশেডিংয়ের মাত্রা অনেক বেড়ে গেছে।’
কলাতলী-মেরিন ড্রাইভ হোটেল রিসোর্ট মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মুকিম খান বলেন, ‘কক্সবাজারের হোটেল-মোটেল জোনের একটি বড় অংশ সম্পূর্ণভাবে বিদ্যুত্ নির্ভর।’
তিনি জানান, ‘অনেক সময় টানা ৮ থেকে ৯ ঘণ্টা পর্যন্ত লোডশেডিং থাকছে। ফলে জেনারেটরের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে।’
মুকিম খান আরও বলেন, ‘এই পরিস্থিতি দীর্ঘস্থায়ী হলে হোটেল ও পর্যটন শিল্পকে টিকিয়ে রাখা অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়বে।’
আরও পড়ুন: কুলাউড়ায় পুলিশের অভিযানে চোরাই মোটরসাইকেল উদ্ধার, ৪ গ্রেফতার
কক্সবাজার হোটেল-মোটেল মালিক সমিতির সভাপতি আবুল কাশেম সিকদার বলেন, ‘বিদ্যুৎ সংকটের কারণে পর্যটন খাত অর্থনৈতিকভাবে বড় ধরনের ক্ষতির মুখে পড়েছে।’
বিদ্যুৎ বিভাগ জানাচ্ছে, ঈদুল আজহার দিন ভোরে শহরের কলাতলীস্থ সাবস্টেশনের একটি পাওয়ার ট্রান্সফরমার নষ্ট হওয়ায় দৈনিক ৮ ঘণ্টা লোডশেডিং চলছে।
কক্সবাজার বিদ্যুৎ বিভাগের সহকারী প্রকৌশলী বাবুল মিঞা বলেন, ‘ঈদের দিন ভোরে কলাতলী সাবস্টেশনের একটি পাওয়ার ট্রান্সফরমার অভ্যন্তরীণ ত্রুটির কারণে বিকল হয়ে যায়।’
তিনি জানান, ‘প্রতিদিন প্রায় ৫০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ প্রয়োজন হলেও মিলছে ৪০ মেগাওয়াট।’
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন