ঢাকা মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ০৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৪ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

পড়ালেখার পাশাপাশি খেলাধুলায়ও শিক্ষার্থীদের পারদর্শী করে তুলতে চাই: শিক্ষামন্ত্রী


পড়ালেখার পাশাপাশি খেলাধুলায়ও শিক্ষার্থীদের পারদর্শী করে তুলতে চাই: শিক্ষামন্ত্রী

শিক্ষামন্ত্রী ড. আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেছেন, আমরা শিক্ষার্থীদের পড়ালেখার পাশাপাশি খেলাধুলায়ও পারদর্শী করে গড়ে তুলতে চাই।

এ কথা তিনি আজ শুক্রবার কচুয়ার মনোহরপুর উচ্চ বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে শিক্ষক সমাবেশ ও মতবিনিময় অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্যের সময় বলেন।

তিনি আরও জানান, আমরা চাই আমাদের শিক্ষার্থীরা পড়ালেখার পাশাপাশি খেলাধুলা ও বিভিন্ন সহশিক্ষা কার্যক্রমে দক্ষ হয়ে গড়ে উঠুক। এ জন্য আমরা চতুর্থ শ্রেণিতে খেলাধুলা ও সংস্কৃতি বিষয় অন্তর্ভুক্ত করছি। এছাড়া ষষ্ঠ শ্রেণিতে 'লার্নিং উইথ হ্যাপিনেস' ও কারিগরি শিক্ষা বিষয়গুলো চালুর উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে।

আরও পড়ুন: ধর্ম যার যার, রাষ্ট্র সবার অধিকার: প্রধানমন্ত্রী

মন্ত্রী আরো উল্লেখ করেন, তরুণ প্রজন্মকে প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষার পাশাপাশি নৈতিক শিক্ষায় শিক্ষিত করতে হবে। এজন্য তাদেরকে পারিবারিক ও ধর্মীয় মূল্যবোধের মাধ্যমে গড়ে তুলতে হবে।

তিনি বলেন, কচুয়াকে আমরা শিক্ষাক্ষেত্রে মডেল হিসেবে গড়ে তুলতে চাই। আজকের আলোচনায় উঠে আসা বেশ কিছু সমস্যা সারা বাংলাদেশেরও সমস্যা। অতএব, আজকের এই আয়োজন শিক্ষার মানোন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।

মনোহরপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের সভাপতি খোরশেদ আলম মান্নানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান প্রফেসর মো. আহসান পারভেজ, চাঁদপুরের জেলা প্রশাসক আহমেদ জিয়াউর রহমান, চাঁদপুরের পুলিশ সুপার মিজানুর রহমান, কচুয়া উপজেলা বিএনপি সভাপতি মো. খায়রুল আবেদীন মিয়া, সাধারণ সম্পাদক মাসুদ এলাহী সুভাষ উপস্থিত ছিলেন।

আরও পড়ুন: সৈয়দপুর সরকারি বিজ্ঞান কলেজের শিক্ষার্থীরা: প্রধানমন্ত্রীর উপহার পেয়ে উচ্ছ্বসিত

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সরকার জনগণের পালস বুঝতে ব্যর্থ হয়েছে: চরমোনাই পীর

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

শুক্রবার, ২৪শে জুলাই, ২০২৬ ইং

০৯:১৯ পি.এম


সরকার জনগণের পালস বুঝতে ব্যর্থ হয়েছে: চরমোনাই পীর

ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির ও চরমোনাই পীর মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করীম (পীর সাহেব চরমোনাই) বলেছেন, জুলাই পরবর্তী সময়ে জনগণ যাদের কাছে দেশের ক্ষমতা দিয়েছে, তারা দেশের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে না। তিনি বলেন, জুলাই সনদ বাস্তবায়ন নিয়ে সরকারের অনীহা প্রমাণ করেছে, তারা দেশের জনগণের পালস বুঝতে ব্যর্থ হয়েছে।

শুক্রবার দুপুরে রাজধানীর বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদের উত্তর গেটে ইসলামী যুব আন্দোলন বাংলাদেশের ১০ম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

চরমোনাই পীর বলেন, ভালো নেতা ও ভালো নীতি ছাড়া জাতির মুক্তি নেই। তিনি উল্লেখ করেন, ভালো নেতা ও নীতির সমন্বয় না হলে দেশের উন্নয়ন, নিরাপত্তা ও সুশাসনের স্বপ্ন কোনোদিন বাস্তবায়ন হবে না। তিনি উল্লেখ করেন, দেশে দুর্নীতি, চাঁদাবাজি, মাদক দূর করার জন্য ইসলামের শ্রেষ্ঠ আদর্শের বিকল্প নেই।

তিনি আরো বলেন, কালো বর্ণের লোকের নাম সাদা মিয়া রাখলে যেমন সে সাদা হয়ে যায় না, তেমনি ইসলামের নাম নিয়ে অনৈতিকতা, উশৃঙ্খলতা, ধোঁকাবাজি করলে তা ইসলাম হয়ে যায় না। বরং ইসলামের নামে বিজাতীয় সংস্কৃতি, অনৈতিকতা, অনৈসলামিক কর্মকাণ্ড করা হয়, তাতে ইসলাম কলঙ্কিত হয়।

ইসলামী যুব আন্দোলন বাংলাদেশ ঢাকা মহানগর দক্ষিণের সভাপতি মাওলানা অলিউল্লাহ তালুকদারের সভাপতিত্বে ঢাকা মহানগর উত্তরের সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ ইকবাল হোসেন এবং দক্ষিণের সাধারণ সম্পাদক নেসার উদ্দিন হুজাইফের যৌথ সঞ্চালনায় সমাবেশে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন ইসলামী আন্দোলনের মহাসচিব মাওলানা গাজী আতাউর রহমান, প্রেসিডিয়াম সদস্য প্রিন্সিপাল সৈয়দ মোসাদ্দেক বিল্লাহ আল মাদানী, সহকারী মহাসচিব আহমাদ আব্দুল কাইয়ুম।

প্রধান বক্তা হিসাবে বক্তব্য রাখেন ইসলামী যুব আন্দোলন বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় সভাপতি, ঢাকা উত্তর যে সিটি কর্পোরেশন নির্বাচনে মেয়র পদপ্রার্থী আলহাজ্ব আতিকুর রহমান মুজাহিদ।

বিশেষ বক্তা হিসেবে বক্তব্য রাখেন ইসলামী যুব আন্দোলন বাংলাদেশ ঢাকা মহানগর উত্তরের সভাপতি মাওলানা হাম্মাদ বিন মোশাররফ, ইসলামী আন্দোলনের কেন্দ্রীয় মুক্তিযোদ্ধা বিষয়ে সম্পাদক বীর মুক্তিযোদ্ধা আবুল কাশেম।

আরো বক্তব্য রাখেন ইসলামী যুব আন্দোলন বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় অ্যাসিস্ট্যান্ট সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা ইলিয়াস হাসান, সাংগঠনিক সম্পাদক প্রভাষক মাওলানা আল আমীন, প্রচার সম্পাদক মুফতি আবু বকর সিদ্দীক, ঢাকা বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মাওলানা আরিফ বিন মেহের উদ্দিন, সিলেট বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মুফতি মোস্তাফিজুর রহমান, মহিলা ও পরিবার কল্যাণ সম্পাদক মুফতি হাফিজুল হক ফাইয়াজ, মাওলানা আল আমীন সোহাগ প্রমুখ।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

চুপ্পুকে গ্রেপ্তার দাবি আসিফ মাহমুদের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

শুক্রবার, ২৪শে জুলাই, ২০২৬ ইং

০৯:২১ পি.এম


চুপ্পুকে গ্রেপ্তার দাবি আসিফ মাহমুদের

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া মো. সাহাবুদ্দিনকে রাষ্ট্রপতি পদ থেকে সদ্য পদত্যাগ করার পরে গ্রেপ্তারের দাবি জানিয়েছেন।

শুক্রবার বিকেল ৫টা ৪০ মিনিটে তিনি নিজের ফেসবুক পেজে এ-সংক্রান্ত একটি পোস্ট করেন।

আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া লিখেছেন, ‘অবিলম্বে ফ্যাসিবাদের দোসর মো. সাহাবুদ্দিন চুপ্পুকে গ্রেপ্তার করতে হবে।’ এর আগে শুক্রবার বিকেলে শারীরিক অসুস্থতার কারণে মো. সাহাবুদ্দিন রাষ্ট্রপতির পদ থেকে পদত্যাগ করেন।

এদিকে, রাষ্ট্রপতি পদটি শূন্য হওয়ায়, সংবিধান অনুযায়ী, দেশের ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ।

শুক্রবার বিকেলে জাতীয় সংসদের শপথকক্ষে অনুষ্ঠিত এক জরুরি সংবাদ সম্মেলনে হাফিজ উদ্দিন এই তথ্য জানান। তিনি বলেন, ‘রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন। তার পদত্যাগপত্র গ্রহণ করা হয়েছে। সংবিধান অনুযায়ী, আমি রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব গ্রহণ করেছি।’

তিনি আরও বলেন, ‘যেদিন আমি স্পিকার হিসেবে শপথ নিয়েছি, সেদিনই ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হিসেবে শপথ নিয়েছি। যদি প্রয়োজন হয়।’

সংবাদ সম্মেলনে জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল, চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি, অ্যাটর্নি জেনারেল রুহুল কুদ্দুস তালুকদারসহ সংসদ সচিবালয়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

গৌরীপুর স্টেডিয়ামে গাঁজাসহ আটক, ভ্রাম্যমাণ আদালতে মাদকসেবীর কারাদণ্ড

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মো. হুমায়ুন কবির, গৌরীপুর (ময়মনসিংহ)

শুক্রবার, ২৪শে জুলাই, ২০২৬ ইং

০৯:২১ পি.এম


গৌরীপুর স্টেডিয়ামে গাঁজাসহ আটক, ভ্রাম্যমাণ আদালতে মাদকসেবীর কারাদণ্ড

ময়মনসিংহের গৌরীপুরে ভ্রাম্যমাণ আদালতের একটি অভিযানে গাঁজাসহ একটি মাদকসেবী আটক হয়েছেন। পরে তাকে এক মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও ২০০ টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে।

বৃহস্পতিবার রাতে গৌরীপুর উপজেলা স্টেডিয়ামের পরিত্যক্ত গ্যালারিতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এ অভিযান পরিচালনা করেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) এবং নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আফিয়া আমিন পাপ্পা।

দণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তি মো. সেলিম (পিতা: মৃত রহমত আলী) হিসেবে চিহ্নিত। তিনি গৌরীপুর পৌর শহরের পশ্চিম দাপুনিয়া মহল্লার একজন বাসিন্দা এবং স্থানীয় একটি নার্সারিতে শ্রমিক হিসেবে কাজ করেন।

ভ্রাম্যমাণ আদালত সূত্রে জানা গেছে, সেলিম স্টেডিয়ামের পরিত্যক্ত গ্যালারিতে বসে গাঁজা সেবন করছিলেন। এ সময় আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সদস্যরা চারদিক ভাগ করে অভিযান চালিয়ে তার কাছ থেকে এক পুড়িয়া গাঁজা উদ্ধার করে। পরে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনের সংশ্লিষ্ট ধারায় তাকে এক মাসের বিনাশ্রম কারাদণ্ড এবং ২০০ টাকা অর্থদণ্ড দেওয়া হয়।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট আফিয়া আমিন পাপ্পা জানান, সাজা কার্যকরের জন্য দণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তিকে গৌরীপুর থানা পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।

গৌরীপুর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) হাবিবুর রহমান বলেন, আদালতের আদেশ অনুযায়ী দণ্ডপ্রাপ্ত ব্যক্তিকে কারাগারে পাঠানোর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

রাষ্ট্রপতির পদত্যাগ নিয়ে যা বললেন বিরোধীদলীয় নেতা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

শুক্রবার, ২৪শে জুলাই, ২০২৬ ইং

০৯:২৫ পি.এম


রাষ্ট্রপতির পদত্যাগ নিয়ে যা বললেন বিরোধীদলীয় নেতা

রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দীনের পদত্যাগের মাধ্যমে, দেরিতে হলেও, জাতির ওপর থেকে স্বৈরাচারের কালো ছায়া সরে যাওয়ার মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। তিনি তার গ্রেপ্তার বা বিচার দাবি সম্পর্কে দলীয় ফোরামে আলোচনা করে জানাবেন বলেও উল্লেখ করেন।

শুক্রবার সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় রাজধানীর মিন্টো রোডে বিরোধীদলীয় নেতার সরকারি বাসভবনে আয়োজিত জরুরি প্রেস ব্রিফিংয়ে তিনি এসব কথা তুলে ধরেন।

এ সময় ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করায় জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজউদ্দিন আহমদকে অভিনন্দন জানান বিরোধীদলীয় নেতা। একই সঙ্গে তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, তিনি ভারপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতি হিসেবে নির্মোহ ও নিরপেক্ষভাবে দায়িত্ব পালন করবেন। যতদিন তিনি এইভাবে দায়িত্ব পালন করবেন, আমরা তাকে সর্বাত্মকভাবে সহযোগিতা করবো।

সাহাবুদ্দীনের পদত্যাগ প্রসঙ্গে জামায়াত আমির বলেন, ২০২৩ সালের এপ্রিলে তৎকালীন ফ্যাসিস্ট হাসিনা সরকার তাকে রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব দিয়েছিল। ৩৬ জুলাই বাংলাদেশে ঘটে যাওয়া পরিবর্তনের দাবিতে বলা হয়েছিল যে, এই প্রেসিডেন্ট থাকতে পারবে না। কারণ গতকালে রাষ্ট্রপতি থাকার সময় অনেকগুলো অঘটন ঘটেছে। বিশেষ করে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে বহু মানুষের জীবন গিয়েছে, কিন্তু রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ অভিভাবক হিসেবে তিনি কোনো দায়িত্ব পালন করেননি। মানুষ মনে করে যে তিনি এই অপকর্মের মদদদাতা ছিলেন। এজন্য তখনই দাবি উঠেছিল যে, তাকে দায়িত্ব থেকে সরে যেতে হবে। যুবকদের একটি অংশ তখন বঙ্গভবনের সামনে গিয়ে এই দাবি উত্থাপন করেছিল, যদিও ওই পদক্ষেপের সঙ্গে আমরা সরাসরি ছিলাম না।

তিনি বলেন, ৫ আগস্ট রাষ্ট্রপতি ভবনে অনুষ্ঠিত মিটিংয়ের পরামর্শের আলোকেই মধ্যরাতে তিনি জাতির উদ্দেশ্যে ভাষণ দিয়েছিলেন। সেই ভাষণে তিনি স্পষ্টভাবে বলেছিলেন, শেখ হাসিনা তার কাছে পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন এবং তিনি তা গ্রহণ ও মঞ্জুর করেছেন। কিন্তু পরবর্তী বছর অর্থাৎ ২০২৫ সালের প্রথম ভাগে একটি জাতীয় দৈনিকের সাক্ষাৎকারে তিনি পুরো বিষয়টি অস্বীকার করে একটি সম্পূর্ণ উল্টো ন্যারেটিভ নিয়ে আসেন। তিনি বলেছিলেন যে, তিনি কোনো পদত্যাগপত্রই দেখেননি, যার দ্বারা বোঝা যায় যে তিনি ১২ কোটি মানুষের সামনে মিথ্যা বলেছেন। দুইটি পরস্পর বিরোধী বিষয় সঠিক হতে পারে না এবং এর মাধ্যমে প্রেসিডেন্ট তার শপথ ভঙ্গ করেছেন।

ডা. শফিকুর রহমান যোগ করেন, রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ মর্যাদার পদে থেকে তিনি এভাবে মিথ্যা প্রচার করতে পারেন না, তাই তিনি এই পদে থাকার নৈতিক অধিকার হারিয়েছেন এবং তার উচিত ছিল নিজ থেকে সরে যাওয়া। কিন্তু তিনি যাননি। বর্তমান সরকার তাকে সরায়নি বরং স্বৈরাচারের এ দোসরকে রেখে জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে ভাষণ দেওয়ার কসরত করা হয়েছে। আমরা বিরোধী দলের সদস্য হিসেবে এর প্রতিবাদ জানিয়েছি, কারণ যিনি স্বৈরাচারের দোসর এবং গণহত্যার সহযোগী ছিলেন, তাকে দিয়ে সংসদে ভাষণ দেওয়া উচিত নয়। আমরা সংসদ থেকে ওয়াক-আউট করে বের হয়ে আসলাম এবং অবাক করার বিষয় হলো ২৯৮ জন সদস্যের মধ্যে পাঁচজনও প্রেসিডেন্টকে তার বক্তব্যের জন্য ধন্যবাদ জানাননি। সরকারি দল সন্তুষ্ট ছিল যে, হাসিনার নিয়োগ দেওয়া প্রেসিডেন্টের মুখ দিয়ে তাকে ফ্যাসিস্ট বলাতে পেরেছে, কিন্তু জনগণ তা পছন্দ করেনি। অবশেষে আজকে (শুক্রবার) তিনি পদত্যাগ করলেন। ইতোমধ্যেই জাতীয় সংসদের দুটি সেশন শেষ হয়েছে এবং আগামী ২০ সেপ্টেম্বর তৃতীয় অধিবেশন শুরু হওয়ার কথা রয়েছে। দেরিতে হলেও জাতির ঘাড় থেকে স্বৈরাচারের একটি কালো ছায়া সরে গেছে, এজন্য আমরা আল্লাহ তায়ালার শুকরিয়া আদায় করি।

জামায়াত আমির আরো বলেন, সাবেক রাষ্ট্রপতি পদত্যাগের পিছনে যে কারণ রয়েছে সে সম্পর্কে আমাদের আগ্রহ নেই। কারণ আমরা আগে থেকেই ধারণা করেছেন যে, তিনি প্রেসিডেন্ট পদে থাকার জন্য যোগ্য নন। তিনি তার যোগ্যতা হারিয়েছেন। অস্থায়ী প্রেসিডেন্ট হিসেবে সংবিধানের ৫৪ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী বর্তমান স্পিকার দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন। আমরা তাকে অভিনন্দন জানাচ্ছি। এবং আমরা তাকে আশ্বস্ত করছি- তিনি যতদিন দায়িত্ব পালন করবেন, আশা রাখবো যে, তিনি ন্যায়নিষ্ঠভাবে দায়িত্ব পালন করবেন। নির্মোহভাবে তিনি দায়িত্ব পালন করবেন। কারো প্রতি তিনি কোনো ধরনের পক্ষপাতিত্ব করবেন না।

তিনি নিরপেক্ষভাবে রাষ্ট্রপতির মর্যাদা রক্ষা করে একদিনের জন্যও যদি তিনি দায়িত্ব পালন করেন অথবা যতদিন তিনি দায়িত্ব পালন করবেন, তখন আমরা আশা করি যে তিনি এইভাবে দায়িত্ব পালন করবেন। যদি তিনি এইভাবে দায়িত্ব পালন করতে পারেন তবে আমরা তাকে সর্বাত্মক সহযোগিতা করতে প্রস্তুত। আমরা অস্থায়ী রাষ্ট্রপতির সুস্বাস্থ্য কামনা করি। সংবিধান অনুযায়ী ৯০ দিনের মধ্যে পরবর্তী প্রেসিডেন্ট নির্বাচন করতে হবে। যেহেতু এর মধ্যেই সংসদ অধিবেশন হওয়ার কথা রয়েছে, তাই স্বাভাবিক প্রক্রিয়াতেই সেই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। স্পিকার বা ডেপুটি স্পিকার হিসেবে যারা শপথ নিয়েছেন, তারা একইসঙ্গে অস্থায়ী রাষ্ট্রপতি হিসেবেও শপথ গ্রহণ করেছেন, ফলে কোনো সাংবিধানিক সংকট তৈরি হতে পারে না।

সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে জামায়াত আমির বলেন, আমরা চাই কোনো সংকট তৈরি না হোক, তবে জনগণের মৌলিক প্রত্যাশা হলো একটি পরিবর্তনের বাংলাদেশ। সাবেক রাষ্ট্রপতির ক্ষেত্রে যদি কোনো বিশ্বাসযোগ্য আলামত পাওয়া যায়, তাহলে সন্দেহ নেই যে কেউ আইনের ঊর্ধ্বে নয় এবং আমরা চিন্তাভাবনা করে আমাদের পদক্ষেপ ঠিক করবো।

আরেক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, পরবর্তী প্রেসিডেন্ট নির্বাচন হবে স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায়; প্রস্তাবক ও সমর্থক থাকবে এবং যদি একাধিক প্রার্থী থাকে, তবে সংসদে ভোটাভুটির মাধ্যমে সংখ্যাগরিষ্ঠ ভোটে প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত হবেন। আমরা প্রেসিডেন্টকে তার নিজ মর্যাদায় দেখতে চাই, কোনো তোষামোদকারী হিসেবে নয়। আমরা এমন রিফর্ম বা সংস্কারের কথা বলছি, যেখানে অফিসের একজন পিয়ন থেকে শুরু করে রাষ্ট্রপতি পর্যন্ত সকলেই মর্যাদার সঙ্গে দায়িত্ব পালনে উৎসাহিত হবেন এবং সবার রাষ্ট্রের নীতি মেনে চলা উচিত।

জামায়াত আমির বলেন, সাবেক রাষ্ট্রপতির অসুস্থতার বিষয়ে আমাদের অভিমত হলো— সব ট্রিটমেন্ট দেশেই সম্ভব; প্রয়োজন হলে বিদেশ থেকে বিশেষজ্ঞ আনা যেতে পারে। তিনি একজন অভিভাবক হিসেবে ব্যর্থ হয়েছেন, কারণ এই গণহত্যার বিরুদ্ধে তিনি একটি শব্দও উচ্চারণ করেননি, বরং নীরব থেকে একে সমর্থন দিয়েছেন। আমরা চাই রাষ্ট্রপতি বা প্রধানমন্ত্রীর মতো গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিরা যেন দেশের স্বাস্থ্য ব্যবস্থার ওপর আস্থা রেখে দেশেই চিকিৎসা নেন, যাতে ব্যবস্থা উন্নত হয়। বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে সহকর্মীদের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে পরবর্তীতে আরো বিস্তারিত প্রতিক্রিয়া জানানো হবে বলে তিনি উল্লেখ করেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ৯ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪২
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫১
মাগরিব ০৫:২৮
ইশা ০৬:৪০
সূর্যোদয় : ০৫:৫৮ সূর্যাস্ত : ০৫:২৮
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%