ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২৯শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বৃহস্পতিবার, ২৯শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

এআইকে মানবজাতির ভবিষ্যৎ ‘নির্ধারণ’ করতে দেওয়া যাবে না : জাতিসংঘ মহাসচিব


এআইকে মানবজাতির ভবিষ্যৎ ‘নির্ধারণ’ করতে দেওয়া যাবে না : জাতিসংঘ মহাসচিব

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) মানবকল্যাণে ব্যবহৃত হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করতে বৈশ্বিক শাসনব্যবস্থা গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস। তিনি বলেছেন, এআই প্রযুক্তিকে মানবজাতির ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করতে দেওয়া যাবে না।

জেনেভা থেকে এএফপি জানায়, সোমবার জেনেভায় অনুষ্ঠিত ‘গ্লোবাল ডায়ালগ অন এআই গভর্ন্যান্স’-এর প্রথম অধিবেশনে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি উল্লেখ করেন, সরকার, প্রযুক্তি কোম্পানি, শিক্ষাবিদ এবং নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিদের অংশগ্রহণে আয়োজিত এই সংলাপ এমন এক সময়ে অনুষ্ঠিত হচ্ছে, যখন এআই ‘নিয়ন্ত্রণহীন গতিতে’ এগিয়ে চলেছে।

জাতিসংঘ মহাসচিব বলেন, ‘আমাদের নিজেদের সমাজের ওপর কোনো পরিকল্পনা ছাড়া এবং জনগণের সম্মতি ছাড়াই এক ধরনের পরীক্ষা চালানো হচ্ছে।’

আরও পড়ুন: কাতারের শান্তি প্রস্তাব নাকচ, মধ্যপ্রাচ্যে নতুন হামলার শঙ্কা

তিনি বলেন, ‘এ অবস্থা টেকসই নয়।’

গুতেরেস বলেন, ‘এআই ইতোমধ্যে আমাদের বিশ্বকে বদলে দিচ্ছে।’

তিনি বলেন, ‘প্রশ্ন হলো, আমরা কি সম্মিলিতভাবে এ পরিবর্তনের দিকনির্দেশনা দেব, নাকি এটিই আমাদের পরিচালিত করবে।’

তিনি সতর্ক করে বলেন, এআই ব্যবস্থা এখন আর কেবল নির্দেশনার অপেক্ষায় থাকা একটি প্রযুক্তিগত সরঞ্জাম নয়।

আরও পড়ুন: গণভোটের রায় না মানলে তারেক রহমানের ক্ষমতায় থাকার অধিকার নেই: জুনায়েদ

তিনি মন্তব্য করেন, ‘এগুলো এখন নিজেই কোড লিখছে, অনলাইনে কার্যক্রম পরিচালনা করছে এবং মানুষের তত্ত্বাবধান ক্রমাগত কমে যাওয়ার মধ্যে নিজস্ব সিদ্ধান্তও নিচ্ছে।’

তিনি আরও বলেছেন, ‘আমাদের প্রতিষ্ঠানগুলো এমন যন্ত্র পরিচালনার জন্য গড়ে উঠেছে, যেগুলো মানুষের নির্দেশ অনুসরণ করে। কিন্তু যে যন্ত্র নিজেই সিদ্ধান্ত নেয়, সেগুলো পরিচালনার জন্য এসব প্রতিষ্ঠান প্রস্তুত নয়।’

গুতেরেস উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন, এআই সত্য ও মিথ্যার পার্থক্য আরও অস্পষ্ট করে তুলছে। একই সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ কাজ এআইয়ের ওপর ছেড়ে দেওয়া এবং তার দেওয়া ফলাফল অন্ধভাবে বিশ্বাস করার প্রবণতাও বাড়ছে।

তিনি বলেন, নিজে প্রোগ্রামিং না করে এআইকে কী করতে হবে তা নির্দেশ দিয়ে কাজ করিয়ে নেওয়ার পদ্ধতি, অর্থাৎ তথাকথিত ‘ভাইব-কোডিং’, অনেক বিস্ময়কর কাজ করতে পারে।

আরও পড়ুন: বিয়ের ১৫ দিনের মাথায় সড়কে প্রাণ গেল ইতালি প্রবাসী তানভীরের

তবে তিনি বলেন, ‘সত্যকে ভাইব-কোড করা যায় না। মানবজাতির ভবিষ্যৎও ভাইব-কোড করা যায় না।’

ক্ষমতার কেন্দ্রীকরণ বড় ঝুঁকি। গুতেরেস বলেন, এআই-সংশ্লিষ্ট আরেকটি বড় ঝুঁকি হলো, এ প্রযুক্তির ওপর নিয়ন্ত্রণ অল্প কয়েকটি কোম্পানি ও অল্প কয়েকটি দেশের হাতে কেন্দ্রীভূত হয়ে পড়ছে।

তিনি বলেন, বিশ্বের অধিকাংশ দেশেরই এমন সিদ্ধান্ত গ্রহণে কোনো ভূমিকা নেই, যা তাদের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করবে।

তিনি বলেন, এ পরিস্থিতিতে দেশগুলোর সামনে দুটি পথ খোলা রয়েছে, পরিকল্পিত শাসনব্যবস্থা গড়ে তোলা অথবা কোনো দিকনির্দেশনা ছাড়াই পরিস্থিতির স্রোতে ভেসে যাওয়া।

আরও পড়ুন: ক্ষমতা হারালেই কি গ্রেফতার হবেন নেতানিয়াহু?

জাতিসংঘের মহাসচিব বলেন, উন্নয়ন ত্বরান্বিত করা, স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়ন এবং শিক্ষার বিস্তৃত সুযোগ নিশ্চিত করাসহ বহু ক্ষেত্রে এআই বিপুল সম্ভাবনার দ্বার খুলে দিতে পারে।

তবে তিনি জোর দিয়ে বলেন, এ প্রযুক্তির উন্নয়ন অবশ্যই নিরাপত্তা, মানবাধিকার এবং সবার জন্য সমান সুফল নিশ্চিত করার নীতির ভিত্তিতে পরিচালিত হতে হবে।

তিনি এআইয়ের ঝুঁকি মূল্যায়ন ও যাচাইয়ের জন্য অভিন্ন পদ্ধতি এবং যৌথভাবে নির্ধারিত মানদণ্ড প্রণয়নের আহ্বান জানান। বিশেষ করে শিশুদের জন্য নিরাপদ এআই ব্যবস্থা নিশ্চিত করার ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন।

গুতেরেস বলেন, ‘নিরাপদ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত আমরা কোনো ওষুধ শিশুর হাতে তুলে দিই না। প্রতিটি খেলনা পরীক্ষা করা হয়।’

আরও পড়ুন: হাসিনার পতনের আগে ইউনূসকে দায়িত্ব নেওয়ার আহ্বান করেন শফিকুল আলম

তিনি বলেন, ‘কিন্তু এআই ইতোমধ্যেই আমাদের শিশুদের শিক্ষা, বন্ধুত্ব এবং তাদের সবচেয়ে ব্যক্তিগত প্রশ্নের জগতে প্রবেশ করেছে—এটি তাদের ওপর কী প্রভাব ফেলবে, সেই প্রশ্ন তোলার আগেই।’

তিনি শিশুদের সুরক্ষায় একটি ‘এআই চাইল্ড সেফটি প্লেজ’ গ্রহণের আহ্বান জানান। এর আওতায় শিশুদের জন্য উন্মুক্ত প্রতিটি এআই ব্যবস্থা নিরাপদ এবং যৌন নির্যাতনের বিষয়ে ‘শূন্য সহনশীলতা’ নীতি অনুসরণ করছে—এটি সংশ্লিষ্ট কোম্পানিগুলোকে প্রমাণ করতে হবে।

তিনি বলেন, কোনো শিশুর মানসিক বিপর্যয়ের লক্ষণ দেখা দিলে এআই ব্যবস্থাকে তাকে অবশ্যই বাস্তব মানবিক সহায়তার সঙ্গে যুক্ত করতে হবে।

তিনি বলেন, ‘অনিয়ন্ত্রিত এআইয়ের পরীক্ষাগারের ইঁদুর হিসেবে কোনো শিশুকে ব্যবহার করা যাবে না।’

আরও পড়ুন: ডিজেল রপ্তানি বাড়াতে চায় ভারত, শোধনাগারগুলো সক্ষমতা বাড়াচ্ছে

‘ঘাতক রোবট’ নিষিদ্ধের আহ্বান। গুতেরেস বলেন, উন্নয়নশীল দেশগুলোতে এআই সক্ষমতা ও প্রযুক্তিতে প্রবেশাধিকার বাড়ানোও অত্যন্ত জরুরি, যাতে বিদ্যমান গভীর ডিজিটাল বৈষম্য ‘এআই বৈষম্যে’ পরিণত না হয়।

তিনি জানান, দক্ষতা উন্নয়ন, তথ্যভান্ডার গড়ে তোলা এবং সাশ্রয়ী কম্পিউটিং সুবিধা নিশ্চিত করতে ‘গ্লোবাল ফান্ড ফর এআই’ গঠনের প্রস্তাব তিনি জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদে উপস্থাপন করবেন।

এআইয়ের পরিবেশগত প্রভাব কমানোর প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরে তিনি বলেন, প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোকে তাদের ক্রমবর্ধমান পরিবেশগত প্রভাব প্রকাশ করতে হবে এবং ২০৩০ সালের মধ্যে সব ডেটা সেন্টার নবায়নযোগ্য জ্বালানির মাধ্যমে পরিচালনার অঙ্গীকার করতে হবে।

জাতিসংঘ মহাসচিব বলেন, সামরিক ক্ষেত্রে এআইয়ের ব্যবহার, বিশেষ করে স্বয়ংক্রিয় প্রাণঘাতী অস্ত্রব্যবস্থা নিয়ে তিনি সবচেয়ে বেশি উদ্বিগ্ন।

তিনি বলেন, ‘এসবকে প্রকৃত নামেই ডাকা উচিত, ঘাতক রোবট।’

তিনি আরও বলেন, ‘মানুষের নিয়ন্ত্রণ ও বিবেচনা ছাড়াই লক্ষ্য নির্বাচন, আক্রমণ এবং প্রাণহানি ঘটাতে সক্ষম এমন যন্ত্র নৈতিকভাবে সম্পূর্ণ অগ্রহণযোগ্য।’

তিনি বলেন, ‘এ ধরনের অস্ত্র আন্তর্জাতিক আইনের মাধ্যমে নিষিদ্ধ করতে হবে।’

গুতেরেস বলেন, এআইকে ইতিবাচক পথে পরিচালিত করতে জরুরি ভিত্তিতে কার্যকর সুরক্ষাব্যবস্থা গড়ে তোলা প্রয়োজন।

তিনি বলেন, ‘মানুষ ও যন্ত্রের সহাবস্থানের শর্ত নির্ধারণ করার সুযোগ হয়তো আমাদের প্রজন্মের হাতেই শেষবারের মতো রয়েছে।’

তিনি আরও বলেন, ‘এ সুযোগের দরজা এখনো খোলা আছে। তবে এটি বেশিদিন খোলা থাকবে না।’

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বিদ্যুতের খুঁটি উপড়ে পড়ে বান্দরবান-চট্টগ্রাম রুটে যান চলাচল ব্যাহত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

সোমবার, ৬ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৯:২৭ পি.এম


বিদ্যুতের খুঁটি উপড়ে পড়ে বান্দরবান-চট্টগ্রাম রুটে যান চলাচল ব্যাহত

বান্দরবানে সড়কের ওপর বিদ্যুতের খুঁটি উপড়ে পড়ে যাওয়ায় চট্টগ্রামের সাথে বাসসহ সমস্ত ধরনের ভারী যান চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। এর ফলে চরম দুর্ভোগের মধ্যে পড়ে গেছেন চট্টগ্রাম ও ঢাকাগামী যাত্রীরা। তাছাড়া বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ থাকায় পুরো শহর অন্ধকারে রয়েছে।

সোমবার (৬ জুলাই) সন্ধ্যায় শহরের রেইচা বাজার এলাকায় ৩৩ কেভি ক্ষমতাসম্পন্ন একটি বিদ্যুতের খুঁটি সড়কে পড়ে দুর্ঘটনাটি ঘটেছে।

জানা গেছে, টানা কয়েকদিনের ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে রেইচা এলাকায় খুঁটিটির নিচ থেকে মাটি সরে যায়। এর ফলে খুঁটিটি কাত হয়ে সড়কের ওপর পড়ে গেলে বাস, ট্রাকসহ সমস্ত ধরনের ভারী যান চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।

তবে বিকল্প হিসেবে সিএনজিচালিত অটোরিকশা, মাইক্রোবাস, জিপ ও মোটরসাইকেল চলাচল করতে পারছে। অনেকেই পায়ে হেঁটে ওই স্থানটি পার হয়ে সিএনজি, নোয়া বা মোটরসাইকেলে করে নিজেদের গন্তব্যে পৌঁছাচ্ছেন। এদিকে বিদ্যুতের খুঁটিটি পড়া যাওয়ার ফলে সন্ধ্যা থেকেই বান্দরবান শহরে বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রয়েছে; ফলে স্থানীয় বাসিন্দাদেরও চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে।

এ বিষয়ে বান্দরবান বিদ্যুৎ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী সৈয়দ আমির হোসেন বলেন, ‘বৃষ্টির কারণে মাটি সরে ৩৩ কেভির একটি পোল রাস্তায় পড়ে গেছে। আমাদের কাছে যে ক্রেন আছে, সেটি দিয়ে এটি সরানো সম্ভব হচ্ছে না। আমরা খবর দিয়েছি, চট্টগ্রামের মইজ্জারটেক থেকে একটি বড় ক্রেন আসছে। সেটি আসার পর আমরা পোলটি সরাতে পারব, এতে চার থেকে পাঁচ ঘণ্টা সময় লাগবে। রাত ১২টার মধ্যে আশা করি বিদ্যুৎ সরবরাহ সচল করতে পারব।’

উল্লেখ্য, টানা বৃষ্টিপাতের ফলে বান্দরবানের বিভিন্ন স্থানে সড়কে মাটি ধসে পড়ার ঘটনা ঘটেছে। তবে প্রশাসন তাৎক্ষণিকভাবে তা অপসারণ করে সড়ক যোগাযোগ সচল রাখার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

রাঙ্গামাটিতে মাহিন্দ্র-অটোরিকশার মুখোমুখি সংঘর্ষে এক শিশু নিহত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

সোমবার, ৬ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৯:২৯ পি.এম


রাঙ্গামাটিতে মাহিন্দ্র-অটোরিকশার মুখোমুখি সংঘর্ষে এক শিশু নিহত

রাঙ্গামাটিতে মাহিন্দ্র ও অটোরিকশার মুখোমুখি সংঘর্ষের কারণে এক শিশু নিহত হয়েছে। এই মর্মান্তিক ঘটনার ফলে গুরুতর আহত হয়েছেন আরও পাঁচজন।

সোমবার (৬ জুলাই) সকালে জেলার লংগদু উপজেলার ইসলামবাদ এলাকায় অবস্থিত নাজিম টিলায় এই ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় লোকজনের কথায় জানা যায়, সকালে বাইট্টাপাড়া বাজার থেকে একটি অটোরিকশা দীঘিনালার দিকে যাচ্ছিল। ইসলামবাদ নাজিম টিলা এলাকায় পৌঁছালে, বিপরীত দিক থেকে আসা একটি যাত্রীবাহী মাহিন্দ্রের সাথে অটোরিকশাটির মুখোমুখি সংঘর্ষ ঘটে। এই দুর্ঘটনার পর স্থানীয়রা দ্রুত আহতদের উদ্ধার করে প্রথমে একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে রোগীদের অবস্থার অবনতি দেখা দিলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদের উন্নত চিকিৎসার জন্য রাঙ্গামাটি জেনারেল হাসপাতালে স্থানান্তর (রেফার) করেন।

রাঙ্গামাটি জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক মো. শওকত আকবর খান জানান, ‘সড়ক দুর্ঘটনার শিকার কয়েকজন রোগীকে রাঙ্গামাটি হাসপাতালে আনা হয়েছে। তবে, হাসপাতালে আনার আগেই এক শিশুর মৃত্যু ঘটে। এছাড়া, আহত আরও পাঁচজন হাসপাতালে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা গ্রহণ করছেন।’

লংগদু থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাকারিয়া এই বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, ‘দুর্ঘটনাকবলিত গাড়িগুলো জব্দ করার চেষ্টা চলছে। এখন পর্যন্ত নিহতের স্বজনদের পক্ষ থেকে কোনো অভিযোগ করা হয়নি। অভিযোগ থানায় এলে দ্রুত আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

অন্যদিকে, অটো মালিক সমিতির সভাপতি দুলাল জানান, দুর্ঘটনাকবলিত অটোরিকশার চালক বরকত তাদের সমিতির সদস্য নন। তিনি একটি নতুন গাড়ি কিনেছেন এবং কয়েকদিন আগে জানান যে তিনি রাস্তায় গাড়ি চালাবেন। তবুও সমিতির পক্ষ থেকে তারা এই বিষয়ে খোঁজখবর নিচ্ছেন।

এর পাশাপাশি, মাহিন্দ্র মালিক সমিতির নেতা জামাল হোসেন বলেন, সকালে নুর আলম নামের এক চালক তাদের স্ট্যান্ড থেকে যাত্রী নিয়ে দীঘিনালার উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছিলেন। এরপরেই নাজিম টিলা স্থানে এই দুর্ঘটনা ঘটে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

নারী ও কন্যাশিশুর প্রতি বৈষম্য প্রতিরোধে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান ডেপুটি স্পিকারের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

সোমবার, ৬ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৯:২৯ পি.এম


নারী ও কন্যাশিশুর প্রতি বৈষম্য প্রতিরোধে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান ডেপুটি স্পিকারের

আজ জাতীয় সংসদ ভবনে, জাতীয় কন্যাশিশু অ্যাডভোকেসি ফোরামের আট সদস্যবিশিষ্ট একটি প্রতিনিধিদল ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামালের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করে।

জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল সকলকে আহ্বান জানিয়ে বলেন যে, পরিবার ও সমাজে ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি গড়ে তোলার মাধ্যমে নারী ও কন্যাশিশুর প্রতি বৈষম্য এবং সহিংসতা প্রতিরোধে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করা উচিত।

আজ সোমবার জাতীয় সংসদ ভবনে, ড. বদিউল আলম মজুমদারের নেতৃত্বে জাতীয় কন্যাশিশু অ্যাডভোকেসি ফোরামের আট সদস্যবিশিষ্ট একটি প্রতিনিধিদল ডেপুটি স্পিকারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে আসলে তিনি এই আহ্বান জানান।

ডেপুটি স্পিকার আরো বলেন, সরকার নারী ও কন্যাশিশুর অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং তাদের নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ জীবন নিশ্চিতের জন্য বিভিন্ন নীতিগত ও আইনগত উদ্যোগ নিয়েছে।

তিনি উল্লেখ করেন, এসব উদ্যোগ বাস্তবায়ন করতে সরকারি প্রতিষ্ঠান, জনপ্রতিনিধি, নাগরিক সমাজ এবং সামাজিক সংগঠনসমূহকে একত্রিতভাবে কাজ করতে হবে।

সাক্ষাৎকালে প্রতিনিধিদলের সদস্যগণ নারী ও কন্যাশিশুর অধিকার প্রতিষ্ঠায় গণসচেতনতা সৃষ্টি, ৩০ সেপ্টেম্বরকে ‘জাতীয় কন্যাশিশু দিবস’ হিসেবে ঘোষণা ও সারাদেশে উদ্‌যাপন, নারী উন্নয়ন নীতি ও জাতীয় শিশুনীতি ২০১১-এ কন্যাশিশুবিষয়ক পৃথক ধারা-উপধারা সংযুক্তি, বাল্যবিবাহ নিরোধ আইন ও বিধিমালার সংশোধন, পার্লামেন্টারি শিশু অধিকার ককাস গঠন এবং নারী ও কন্যাশিশুদের চলার পথে, গণপরিবহনে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও কর্মক্ষেত্রে যৌন হয়রানি সমস্যার বিষয় তুলে ধরেন।

ডেপুটি স্পিকার বলেন, ‘পার্লামেন্টারি শিশু অধিকার ককাস গঠনের ক্ষেত্রে দক্ষ ও অভিজ্ঞ সদস্যদের নিয়ে কমিটি গঠন করা হবে। আজকের শিশুরাই আগামী দিনের ভবিষ্যৎ। তাই তাদের কল্যাণে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে। প্রয়োজনে আইন ও বিধিমালার সংশোধনের বিষয়গুলো ককাসের মাধ্যমে উপস্থাপন করা হবে। আমরা সবাই মিলে এ বিষয়ে কাজ করব। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান কন্যাসন্তানের জনক। কন্যাশিশুর উন্নয়ন, সুরক্ষা ও ক্ষমতায়নে সরকার ইতোমধ্যে বিভিন্ন কার্যক্রম বাস্তবায়ন করে চলেছে।’

তিনি আরো বলেন, ‘আমাদের পরিবারের প্রত্যেকটি সদস্যের মধ্যে কন্যাসন্তান রয়েছে। তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা অপরিহার্য। ধর্মীয় মূল্যবোধের প্রতি সম্মান দেখাতে হবে। গ্রাম থেকে শহর—সব জায়গাতেই ছেলে সন্তানের প্রতি অগ্রাধিকার দেওয়ার প্রবণতা কাম্য নয়। দেশের অধিকাংশ নারী অপুষ্টিতে ভোগেন। তারা সবাইকে খাবার দেওয়ার পরে খেতে বসেন, সবার আগে ঘুম থেকে উঠেন এবং সবার পরে ঘুমাতে যান। পরিবারের জন্য তারা নিজেদের স্বার্থ ত্যাগ করে কঠোর পরিশ্রম করেন। তাই তাদের প্রতি অশোভন আচরণ অত্যন্ত দুঃখজনক। এই ক্ষেত্রে কম্বোডিয়া ও থাইল্যান্ডের নারীরা সামাজিক দৃষ্টিকোণ থেকে বেশ এগিয়ে আছেন।’

সাক্ষাৎকালে নারী ও কন্যাশিশুর অধিকার সুরক্ষা, তাদের জন্য নিরাপদ ও বৈষম্যহীন পরিবেশ নিশ্চিত করা, এবং নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে কন্যাশিশুবান্ধব উদ্যোগ গ্রহণের গুরুত্বের ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করা হয়।

এ সময়, সংসদ, সরকার ও নাগরিক সমাজের সমন্বিত উদ্যোগে নারী ও কন্যাশিশুর ক্ষমতায়ন এবং তাদের অধিকার প্রতিষ্ঠায় কার্যকর ভূমিকা রাখার বিষয়ে মতবিনিময় করা হয়।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

স্বপ্ন পূরণের আশায় সাঁতরে নদী পার হতে গিয়ে নারীর মৃত্যু

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

সোমবার, ৬ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৯:৩০ পি.এম


স্বপ্ন পূরণের আশায় সাঁতরে নদী পার হতে গিয়ে নারীর মৃত্যু

একটি স্বপ্ন পূরণের ভ্রান্ত ধারনা থেকে সাঁতরে নদী পার হতে গিয়ে ডুবে এক নারীর মৃত্যু হয়। নিখোঁজ থাকা অবস্থায় চার ঘণ্টা পরে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল ঐ নারীর মরদেহ উদ্ধার করে।

সোমবার (৬ জুলাই) দুপুরে নওগাঁর ছোট যমুনা নদীতে এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। নিহত ওই নারীর নাম শাহিদা বেগম, যিনি নওগাঁর দেবীপুর এলাকার বাসিন্দা, এবং তিনি তিন ও আট বছর বয়সী দুটি সন্তানের জননী।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শাহিদা বেগম একটি স্বপ্ন পূরণের আশায় নদীতে নেমেছিলেন। তিনি বিশ্বাস করেছিলেন, সাঁতরে নদী পার হলে তার আশা পূরণ হবে; কিন্তু তার এই ভ্রান্ত ধারণা থেকে পানিতে নামার ফলে তিনি বিপদে পড়েন। নদীর স্রোতে তিনি নির্ধারিত স্থান থেকে কয়েকশো গজ দূরে ভেসে গিয়ে ক্লান্ত হয়ে পড়েন এবং একসময় নদীর মাঝখানে তলিয়ে যান।

এসময় স্থানীয়রা তাকে বাঁচানোর চেষ্টা করলেও নদীর তীব্র স্রোতের কারণে তাদের চেষ্টা ব্যর্থ হয়। পরে খবর পেয়ে রাজশাহী থেকে ফায়ার সার্ভিসের একটি ডুবুরি দল ঘটনাস্থলে এসে দুর্ঘটনা স্থলে পৌঁছায়। নদীতে প্রায় এক ঘণ্টা তল্লাশি করার পর তারা ওই নারীর মরদেহ উদ্ধার করতে সক্ষম হয়।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৫
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%