ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২৯শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বৃহস্পতিবার, ২৯শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

রাঙ্গামাটিতে মাহিন্দ্র-অটোরিকশার মুখোমুখি সংঘর্ষে এক শিশু নিহত


রাঙ্গামাটিতে মাহিন্দ্র-অটোরিকশার মুখোমুখি সংঘর্ষে এক শিশু নিহত

রাঙ্গামাটিতে মাহিন্দ্র ও অটোরিকশার মুখোমুখি সংঘর্ষের কারণে এক শিশু নিহত হয়েছে। এই মর্মান্তিক ঘটনার ফলে গুরুতর আহত হয়েছেন আরও পাঁচজন।

সোমবার (৬ জুলাই) সকালে জেলার লংগদু উপজেলার ইসলামবাদ এলাকায় অবস্থিত নাজিম টিলায় এই ভয়াবহ দুর্ঘটনা ঘটে।

স্থানীয় লোকজনের কথায় জানা যায়, সকালে বাইট্টাপাড়া বাজার থেকে একটি অটোরিকশা দীঘিনালার দিকে যাচ্ছিল। ইসলামবাদ নাজিম টিলা এলাকায় পৌঁছালে, বিপরীত দিক থেকে আসা একটি যাত্রীবাহী মাহিন্দ্রের সাথে অটোরিকশাটির মুখোমুখি সংঘর্ষ ঘটে। এই দুর্ঘটনার পর স্থানীয়রা দ্রুত আহতদের উদ্ধার করে প্রথমে একটি বেসরকারি হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে রোগীদের অবস্থার অবনতি দেখা দিলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদের উন্নত চিকিৎসার জন্য রাঙ্গামাটি জেনারেল হাসপাতালে স্থানান্তর (রেফার) করেন।

আরও পড়ুন: ইনানীতে ৪২ ঘণ্টা ধরে জ্বলছে আগুন, পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আসেনি

রাঙ্গামাটি জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক মো. শওকত আকবর খান জানান, ‘সড়ক দুর্ঘটনার শিকার কয়েকজন রোগীকে রাঙ্গামাটি হাসপাতালে আনা হয়েছে। তবে, হাসপাতালে আনার আগেই এক শিশুর মৃত্যু ঘটে। এছাড়া, আহত আরও পাঁচজন হাসপাতালে ভর্তি হয়ে চিকিৎসা গ্রহণ করছেন।’

লংগদু থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জাকারিয়া এই বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, ‘দুর্ঘটনাকবলিত গাড়িগুলো জব্দ করার চেষ্টা চলছে। এখন পর্যন্ত নিহতের স্বজনদের পক্ষ থেকে কোনো অভিযোগ করা হয়নি। অভিযোগ থানায় এলে দ্রুত আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

অন্যদিকে, অটো মালিক সমিতির সভাপতি দুলাল জানান, দুর্ঘটনাকবলিত অটোরিকশার চালক বরকত তাদের সমিতির সদস্য নন। তিনি একটি নতুন গাড়ি কিনেছেন এবং কয়েকদিন আগে জানান যে তিনি রাস্তায় গাড়ি চালাবেন। তবুও সমিতির পক্ষ থেকে তারা এই বিষয়ে খোঁজখবর নিচ্ছেন।

এর পাশাপাশি, মাহিন্দ্র মালিক সমিতির নেতা জামাল হোসেন বলেন, সকালে নুর আলম নামের এক চালক তাদের স্ট্যান্ড থেকে যাত্রী নিয়ে দীঘিনালার উদ্দেশ্যে রওনা হয়েছিলেন। এরপরেই নাজিম টিলা স্থানে এই দুর্ঘটনা ঘটে।

আরও পড়ুন: ঠাকুরগাঁও-১ উপনির্বাচনে ৯ ভোটগ্রহণ কর্মকর্তা প্রত্যাহার, নতুন কর্মকর্তাদের নিয়োগ

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

নারী ও কন্যাশিশুর প্রতি বৈষম্য প্রতিরোধে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান ডেপুটি স্পিকারের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

সোমবার, ৬ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৯:২৯ পি.এম


নারী ও কন্যাশিশুর প্রতি বৈষম্য প্রতিরোধে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালনের আহ্বান ডেপুটি স্পিকারের

আজ জাতীয় সংসদ ভবনে, জাতীয় কন্যাশিশু অ্যাডভোকেসি ফোরামের আট সদস্যবিশিষ্ট একটি প্রতিনিধিদল ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামালের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করে।

জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল সকলকে আহ্বান জানিয়ে বলেন যে, পরিবার ও সমাজে ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি গড়ে তোলার মাধ্যমে নারী ও কন্যাশিশুর প্রতি বৈষম্য এবং সহিংসতা প্রতিরোধে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করা উচিত।

আজ সোমবার জাতীয় সংসদ ভবনে, ড. বদিউল আলম মজুমদারের নেতৃত্বে জাতীয় কন্যাশিশু অ্যাডভোকেসি ফোরামের আট সদস্যবিশিষ্ট একটি প্রতিনিধিদল ডেপুটি স্পিকারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে আসলে তিনি এই আহ্বান জানান।

ডেপুটি স্পিকার আরো বলেন, সরকার নারী ও কন্যাশিশুর অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং তাদের নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ জীবন নিশ্চিতের জন্য বিভিন্ন নীতিগত ও আইনগত উদ্যোগ নিয়েছে।

তিনি উল্লেখ করেন, এসব উদ্যোগ বাস্তবায়ন করতে সরকারি প্রতিষ্ঠান, জনপ্রতিনিধি, নাগরিক সমাজ এবং সামাজিক সংগঠনসমূহকে একত্রিতভাবে কাজ করতে হবে।

সাক্ষাৎকালে প্রতিনিধিদলের সদস্যগণ নারী ও কন্যাশিশুর অধিকার প্রতিষ্ঠায় গণসচেতনতা সৃষ্টি, ৩০ সেপ্টেম্বরকে ‘জাতীয় কন্যাশিশু দিবস’ হিসেবে ঘোষণা ও সারাদেশে উদ্‌যাপন, নারী উন্নয়ন নীতি ও জাতীয় শিশুনীতি ২০১১-এ কন্যাশিশুবিষয়ক পৃথক ধারা-উপধারা সংযুক্তি, বাল্যবিবাহ নিরোধ আইন ও বিধিমালার সংশোধন, পার্লামেন্টারি শিশু অধিকার ককাস গঠন এবং নারী ও কন্যাশিশুদের চলার পথে, গণপরিবহনে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও কর্মক্ষেত্রে যৌন হয়রানি সমস্যার বিষয় তুলে ধরেন।

ডেপুটি স্পিকার বলেন, ‘পার্লামেন্টারি শিশু অধিকার ককাস গঠনের ক্ষেত্রে দক্ষ ও অভিজ্ঞ সদস্যদের নিয়ে কমিটি গঠন করা হবে। আজকের শিশুরাই আগামী দিনের ভবিষ্যৎ। তাই তাদের কল্যাণে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে। প্রয়োজনে আইন ও বিধিমালার সংশোধনের বিষয়গুলো ককাসের মাধ্যমে উপস্থাপন করা হবে। আমরা সবাই মিলে এ বিষয়ে কাজ করব। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান কন্যাসন্তানের জনক। কন্যাশিশুর উন্নয়ন, সুরক্ষা ও ক্ষমতায়নে সরকার ইতোমধ্যে বিভিন্ন কার্যক্রম বাস্তবায়ন করে চলেছে।’

তিনি আরো বলেন, ‘আমাদের পরিবারের প্রত্যেকটি সদস্যের মধ্যে কন্যাসন্তান রয়েছে। তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা অপরিহার্য। ধর্মীয় মূল্যবোধের প্রতি সম্মান দেখাতে হবে। গ্রাম থেকে শহর—সব জায়গাতেই ছেলে সন্তানের প্রতি অগ্রাধিকার দেওয়ার প্রবণতা কাম্য নয়। দেশের অধিকাংশ নারী অপুষ্টিতে ভোগেন। তারা সবাইকে খাবার দেওয়ার পরে খেতে বসেন, সবার আগে ঘুম থেকে উঠেন এবং সবার পরে ঘুমাতে যান। পরিবারের জন্য তারা নিজেদের স্বার্থ ত্যাগ করে কঠোর পরিশ্রম করেন। তাই তাদের প্রতি অশোভন আচরণ অত্যন্ত দুঃখজনক। এই ক্ষেত্রে কম্বোডিয়া ও থাইল্যান্ডের নারীরা সামাজিক দৃষ্টিকোণ থেকে বেশ এগিয়ে আছেন।’

সাক্ষাৎকালে নারী ও কন্যাশিশুর অধিকার সুরক্ষা, তাদের জন্য নিরাপদ ও বৈষম্যহীন পরিবেশ নিশ্চিত করা, এবং নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে কন্যাশিশুবান্ধব উদ্যোগ গ্রহণের গুরুত্বের ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করা হয়।

এ সময়, সংসদ, সরকার ও নাগরিক সমাজের সমন্বিত উদ্যোগে নারী ও কন্যাশিশুর ক্ষমতায়ন এবং তাদের অধিকার প্রতিষ্ঠায় কার্যকর ভূমিকা রাখার বিষয়ে মতবিনিময় করা হয়।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

স্বপ্ন পূরণের আশায় সাঁতরে নদী পার হতে গিয়ে নারীর মৃত্যু

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

সোমবার, ৬ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৯:৩০ পি.এম


স্বপ্ন পূরণের আশায় সাঁতরে নদী পার হতে গিয়ে নারীর মৃত্যু

একটি স্বপ্ন পূরণের ভ্রান্ত ধারনা থেকে সাঁতরে নদী পার হতে গিয়ে ডুবে এক নারীর মৃত্যু হয়। নিখোঁজ থাকা অবস্থায় চার ঘণ্টা পরে ফায়ার সার্ভিসের ডুবুরি দল ঐ নারীর মরদেহ উদ্ধার করে।

সোমবার (৬ জুলাই) দুপুরে নওগাঁর ছোট যমুনা নদীতে এই মর্মান্তিক ঘটনা ঘটে। নিহত ওই নারীর নাম শাহিদা বেগম, যিনি নওগাঁর দেবীপুর এলাকার বাসিন্দা, এবং তিনি তিন ও আট বছর বয়সী দুটি সন্তানের জননী।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শাহিদা বেগম একটি স্বপ্ন পূরণের আশায় নদীতে নেমেছিলেন। তিনি বিশ্বাস করেছিলেন, সাঁতরে নদী পার হলে তার আশা পূরণ হবে; কিন্তু তার এই ভ্রান্ত ধারণা থেকে পানিতে নামার ফলে তিনি বিপদে পড়েন। নদীর স্রোতে তিনি নির্ধারিত স্থান থেকে কয়েকশো গজ দূরে ভেসে গিয়ে ক্লান্ত হয়ে পড়েন এবং একসময় নদীর মাঝখানে তলিয়ে যান।

এসময় স্থানীয়রা তাকে বাঁচানোর চেষ্টা করলেও নদীর তীব্র স্রোতের কারণে তাদের চেষ্টা ব্যর্থ হয়। পরে খবর পেয়ে রাজশাহী থেকে ফায়ার সার্ভিসের একটি ডুবুরি দল ঘটনাস্থলে এসে দুর্ঘটনা স্থলে পৌঁছায়। নদীতে প্রায় এক ঘণ্টা তল্লাশি করার পর তারা ওই নারীর মরদেহ উদ্ধার করতে সক্ষম হয়।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ভৈরব উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এনেস্থেসিয়া চিকিৎসকের বিরুদ্ধে নিয়মিত অনুপস্থিতির অভিযোগ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শাহিন আলম, ভৈরব (কিশোরগঞ্জ)

সোমবার, ৬ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৯:৩২ পি.এম


ভৈরব উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এনেস্থেসিয়া চিকিৎসকের বিরুদ্ধে নিয়মিত অনুপস্থিতির অভিযোগ

কিশোরগঞ্জের ভৈরব উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের এনেস্থেসিয়া বিভাগের চিকিৎসক ডা. ফরহাদের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে নিয়মিত কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকা, নির্ধারিত অফিস সময় মেনে দায়িত্ব পালন না করা এবং এর ফলে অস্ত্রোপচারসহ জরুরি স্বাস্থ্যসেবা ব্যাহত হওয়ার অভিযোগ উঠেছে। বিষয়টি নিয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ একাধিকবার কারণ দর্শানোর (শোকজ) নোটিশ দিলেও পরিস্থিতির উন্নতি না হওয়ায় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করা হয়েছে।

গত রোববার (৫ জুলাই) সকাল প্রায় ১১টায় সরেজমিনে ভৈরব উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গিয়ে দেখা যায়, একজন সিজারিয়ান রোগী অপারেশনের অপেক্ষায় রয়েছেন। হাসপাতাল সূত্র জানায়, দায়িত্বরত এনেস্থেসিয়া চিকিৎসক হাসপাতালে উপস্থিত হলে অপারেশন কার্যক্রম শুরু করা হবে।

হাসপাতালের উপস্থিতি রেজিস্টার পর্যালোচনায় দেখা যায়, চলতি মাসের প্রথম পাঁচ কর্মদিবসের মধ্যে দুই দিন ডা. ফরহাদের কোনো উপস্থিতির স্বাক্ষর নেই। এছাড়া গত মাসেও একাধিক কর্মদিবসে তাঁর উপস্থিতির স্বাক্ষর পাওয়া যায়নি বলে হাসপাতাল সূত্র দাবি করেছে।

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. কিশোর কুমার ধর বলেন, “ডা. ফরহাদ প্রায়ই কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকেন। তাঁকে একাধিকবার নিয়মিত উপস্থিত থাকতে এবং সরকারি অফিসের সময়সূচি অনুসরণ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। শোকজও করা হয়েছে। কিন্তু অবস্থার উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন হয়নি।”

দায়িত্বপ্রাপ্ত কিশোরগঞ্জের সিভিল সার্জন ডা. মো. নাজমুল করিম বলেন, “বিষয়টি সম্পর্কে আমি অবগত। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে প্রাপ্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বিষয়টি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে।”

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক হাসপাতালের একাধিক চিকিৎসক ও কর্মচারী জানান, সংশ্লিষ্ট চিকিৎসক প্রায়ই কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকেন। উপস্থিত হলেও অনেক সময় নির্ধারিত অফিস সময় শেষ হওয়ার আগেই চলে যান। ফলে অস্ত্রোপচারসহ গুরুত্বপূর্ণ স্বাস্থ্যসেবা ব্যাহত হয় এবং রোগীদের দুর্ভোগ বাড়ে।

এদিকে অভিযোগ রয়েছে, ভৈরব পৌর শহরের ইসরাত জাহান স্পেশালাইজড হাসপাতালে—যা তাঁর স্ত্রীর মালিকানাধীন—ডা. ফরহাদ নিয়মিত রোগী দেখেন এবং হাসপাতালের ব্যবস্থাপনায়ও সক্রিয়ভাবে সম্পৃক্ত রয়েছেন।

সমাজসেবক নুরুল কাদের সোহেল বলেন, “সরকারি হাসপাতালে কর্মরত চিকিৎসকদের জনগণের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে নিয়মিত কর্মস্থলে উপস্থিত থাকা বাধ্যতামূলক। অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত করে সত্যতা পাওয়া গেলে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।”

অভিযোগের বিষয়ে ডা. ফরহাদ বলেন, “আমি অনেক দিন ধরেই চাকরি ছাড়ার কথা ভাবছিলাম। আজ আমি পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছি।”

স্থানীয়দের অভিযোগ, একজন এনেস্থেসিয়া বিশেষজ্ঞের অনিয়মিত উপস্থিতির কারণে অনেক সময় নির্ধারিত অস্ত্রোপচার বিলম্বিত হয়। এতে রোগী ও তাদের স্বজনদের অতিরিক্ত ভোগান্তি পোহাতে হয়। তারা দ্রুত অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত, প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ এবং সরকারি হাসপাতালে নিরবচ্ছিন্ন চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

উৎপাদন বাড়াচ্ছে ওপেক প্লাস, কিন্তু অতিরিক্ত তেল কিনবে কারা?

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

সোমবার, ৬ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৯:৩২ পি.এম


উৎপাদন বাড়াচ্ছে ওপেক প্লাস, কিন্তু অতিরিক্ত তেল কিনবে কারা?

আগস্ট মাস থেকে টানা পঞ্চমবারের মতো ওপেক প্লাস অপরিশোধিত জ্বালানি তেল উৎপাদনের কোটা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তবে এই সিদ্ধান্তের পর দুটি বড় প্রশ্ন সামনে এসেছে- জোটটি সত্যিই কি ঘোষিত হারে উৎপাদন বাড়াতে পারবে? আর যদি পারে, তাহলে সেই অতিরিক্ত তেল কিনবে কারা?

ওপেক এবং রাশিয়াসহ সহযোগী উৎপাদক দেশগুলো নিয়ে গঠিত ওপেক প্লাসের সাতটি প্রধান সদস্য রোববার (৫ জুলাই) বৈঠকে আগস্ট থেকে দৈনিক আরও ১ লাখ ৮৮ হাজার ব্যারেল উৎপাদন বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেয়। ফলে গত এপ্রিল থেকে দৈনিক মোট উৎপাদন বেড়ে দাঁড়ায় প্রায় ৮ লাখ ব্যারেল।

বিশ্লেষকদের মতে, উৎপাদন বাড়ানোর সক্ষমতা অনেকটাই নির্ভর করছে হরমুজ প্রণালি স্বাভাবিকভাবে খোলা থাকার ওপর। এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ দিয়ে তেল পরিবহন যদি যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরাইলের ইরানে হামলার আগের পর্যায়ে ফিরে আসে, তাহলে উৎপাদন বাড়ানো সম্ভব হতে পারে।

তবে শুধু হরমুজ প্রণালি দিয়ে কত তেল যাচ্ছে, সেটি নয়; মধ্যপ্রাচ্য থেকে মোট অপরিশোধিত তেল রফতানির পরিমাণই বেশি গুরুত্বপূর্ণ। কারণ সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাত হরমুজ প্রণালির বাইরের বন্দরও ব্যবহার করে থাকে।

তার পরও তথ্যের ভিত্তিতে দেখা যাচ্ছে, ১৭ জুন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান ৬০ দিনের যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হওয়ার পর মধ্যপ্রাচ্য থেকে তেল রফতানি কিছুটা বেড়েছে। কিন্তু তা এখনও যুদ্ধ-পূর্ববর্তী অবস্থানের তুলনায় অনেক কম।

পণ্য বিশ্লেষক প্রতিষ্ঠান কেপলারের তথ্য অনুযায়ী, জুনে মধ্যপ্রাচ্য থেকে দৈনিক ৯৬ লাখ ২০ হাজার ব্যারেল তেল রফতানি হয়েছে। অথচ ইরান সংঘাতের পূর্ববর্তী তিন মাসে গড়ে দৈনিক রফতানি ছিল ১ কোটি ৮৪ লাখ ব্যারেল।

জুলাইয়ে পরিস্থিতির আরও কিছুটা উন্নতি হতে পারে। কেপলার বর্তমানে দৈনিক ৯৯ লাখ ৯০ হাজার ব্যারেল চালানের হিসাব রাখছে। তবে আরও কার্গো মূল্যায়নের পর এ সংখ্যা বাড়তে পারে।

তবুও তথ্য বলছে, মধ্যপ্রাচ্য থেকে রফতানি এখনো সীমিত। যদিও যুক্তরাষ্ট্র ও আফ্রিকার মতো অঞ্চল থেকে চালান বেড়েছে তবুও তা উপসাগরীয় অঞ্চলের ঘাটতি পুরোপুরি পূরণ করতে পারেনি।

তবে তেল শিল্প অতীতে দ্রুত পরিবর্তিত পরিস্থিতির সঙ্গে খাপ খাইয়ে নেয়ার সক্ষমতা দেখিয়েছে। তাই হরমুজ প্রণালি খোলা থাকলে মধ্যপ্রাচ্য থেকে উৎপাদন ও রফতানি আরও বাড়ানো সম্ভব বলে ধারণা করা হচ্ছে।

অপরিশোধিত তেলের ফিউচার বাজারও এমন ইঙ্গিত দিচ্ছে যে, ওপেক প্লাস তাদের বাড়তি উৎপাদনের লক্ষ্য পূরণ করতে পারবে। একই সঙ্গে ওপেক প্লাসের সাবেক সদস্য সংযুক্ত আরব আমিরাত এবং ইরান থেকেও অতিরিক্ত তেল বাজারে আসতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

সোমবার (৭ জুলাই) এশিয়ার লেনদেনে ব্রেন্ট অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি প্রায় ৭১ দশমিক ৭২ ডলার। যা ৩ জুলাইয়ের সমাপনী মূল্য ৭২ দশমিক ১২ ডলার এবং ২৭ ফেব্রুয়ারি, অর্থাৎ ইরানে মার্কিন-ইসরায়েলি হামলার আগের দিনের ৭২ দশমিক ৪৮ ডলারের চেয়েও কম।

ফিউচার বাজারের চিত্র দেখে মনে হচ্ছে, ইরান যুদ্ধের আগে যে অতিরিক্ত সরবরাহের আশঙ্কা ছিল, সেটিই আবার ফিরে আসছে। যদি সরবরাহ ব্যবস্থা পুরোপুরি স্বাভাবিক হয় এবং ওপেক প্লাস ও অন্যান্য উৎপাদক দেশ উৎপাদন বাড়াতে পারে, তাহলে বাজারে অতিরিক্ত তেলের পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। তবে যুক্তরাষ্ট্র এবং ইরানের মধ্যে আবারও সংঘাত শুরু হওয়ার ঝুঁকি এখনো রয়ে গেছে।

আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো চীনের চাহিদা। বিশ্বের সবচেয়ে বড় অপরিশোধিত তেল আমদানিকারক দেশটি ইরান যুদ্ধ চলাকালে উল্লেখযোগ্যভাবে তেল কেনা কমিয়ে দিয়েছিল। এ কারণেই ব্রেন্ট তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ১২৬ ডলারের বেশি বাড়েনি।

কেপলারের তথ্য অনুযায়ী, জুনে চীনের সমুদ্রপথে অপরিশোধিত তেল আমদানি এক দশকেরও বেশি সময়ের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে আসে। দেশটি দৈনিক মাত্র ৫৮ লাখ ৪০ হাজার ব্যারেল তেল আমদানি করেছে, যা যুদ্ধ-পূর্ববর্তী সময়ের প্রায় অর্ধেক।

জুলাইয়েও চীনের কম আমদানির প্রবণতা অব্যাহত থাকতে পারে। কেপলার বর্তমানে দৈনিক ৫৩ লাখ ১০ হাজার ব্যারেল আমদানির হিসাব রাখছে। যদিও মাসজুড়ে আরও কার্গো যুক্ত হলে এই সংখ্যা বাড়তে পারে।

এখন সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হলো, চীন আবার কবে বড় পরিসরে অপরিশোধিত তেল কেনা শুরু করবে। অতীতের অভিজ্ঞতা বলছে, দেশটির শোধনাগারগুলো তখনই বাজারে ফিরে আসে, যখন তারা মনে করে তেলের দাম যথেষ্ট কমে গেছে।

দাম কমলে আমদানি বাড়ানো এবং দাম বাড়লে তা কমিয়ে দেওয়ার ক্ষেত্রে চীনের দীর্ঘদিনের একটি প্রবণতা রয়েছে। সাম্প্রতিক মাসগুলোতে সেই প্রবণতা আরও স্পষ্ট হয়েছে।

বিশ্লেষকদের ধারণা, বড় রাষ্ট্রায়ত্ত কোম্পানিগুলোর আগে ছোট স্বাধীন শোধনাগারগুলো বাজারে ফিরতে পারে। আগস্ট থেকেই এসব প্রতিষ্ঠানের আমদানি বাড়তে পারে। আর তেলের দাম কম থাকলে বড় শোধনাগারগুলোও আবার কিনতে শুরু করতে পারে। তবে সেই প্রভাব বৈশ্বিক আমদানির তথ্যে প্রতিফলিত হতে সম্ভবত বছরের চতুর্থ প্রান্তিক পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হবে।

সূত্র- রয়টার্স

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৫
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%