প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
আজ জাতীয় সংসদ ভবনে, জাতীয় কন্যাশিশু অ্যাডভোকেসি ফোরামের আট সদস্যবিশিষ্ট একটি প্রতিনিধিদল ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামালের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করে।
জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল সকলকে আহ্বান জানিয়ে বলেন যে, পরিবার ও সমাজে ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি গড়ে তোলার মাধ্যমে নারী ও কন্যাশিশুর প্রতি বৈষম্য এবং সহিংসতা প্রতিরোধে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করা উচিত।
আজ সোমবার জাতীয় সংসদ ভবনে, ড. বদিউল আলম মজুমদারের নেতৃত্বে জাতীয় কন্যাশিশু অ্যাডভোকেসি ফোরামের আট সদস্যবিশিষ্ট একটি প্রতিনিধিদল ডেপুটি স্পিকারের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে আসলে তিনি এই আহ্বান জানান।
ডেপুটি স্পিকার আরো বলেন, সরকার নারী ও কন্যাশিশুর অধিকার প্রতিষ্ঠা এবং তাদের নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ জীবন নিশ্চিতের জন্য বিভিন্ন নীতিগত ও আইনগত উদ্যোগ নিয়েছে।
তিনি উল্লেখ করেন, এসব উদ্যোগ বাস্তবায়ন করতে সরকারি প্রতিষ্ঠান, জনপ্রতিনিধি, নাগরিক সমাজ এবং সামাজিক সংগঠনসমূহকে একত্রিতভাবে কাজ করতে হবে।
সাক্ষাৎকালে প্রতিনিধিদলের সদস্যগণ নারী ও কন্যাশিশুর অধিকার প্রতিষ্ঠায় গণসচেতনতা সৃষ্টি, ৩০ সেপ্টেম্বরকে ‘জাতীয় কন্যাশিশু দিবস’ হিসেবে ঘোষণা ও সারাদেশে উদ্যাপন, নারী উন্নয়ন নীতি ও জাতীয় শিশুনীতি ২০১১-এ কন্যাশিশুবিষয়ক পৃথক ধারা-উপধারা সংযুক্তি, বাল্যবিবাহ নিরোধ আইন ও বিধিমালার সংশোধন, পার্লামেন্টারি শিশু অধিকার ককাস গঠন এবং নারী ও কন্যাশিশুদের চলার পথে, গণপরিবহনে, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও কর্মক্ষেত্রে যৌন হয়রানি সমস্যার বিষয় তুলে ধরেন।
ডেপুটি স্পিকার বলেন, ‘পার্লামেন্টারি শিশু অধিকার ককাস গঠনের ক্ষেত্রে দক্ষ ও অভিজ্ঞ সদস্যদের নিয়ে কমিটি গঠন করা হবে। আজকের শিশুরাই আগামী দিনের ভবিষ্যৎ। তাই তাদের কল্যাণে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে। প্রয়োজনে আইন ও বিধিমালার সংশোধনের বিষয়গুলো ককাসের মাধ্যমে উপস্থাপন করা হবে। আমরা সবাই মিলে এ বিষয়ে কাজ করব। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান কন্যাসন্তানের জনক। কন্যাশিশুর উন্নয়ন, সুরক্ষা ও ক্ষমতায়নে সরকার ইতোমধ্যে বিভিন্ন কার্যক্রম বাস্তবায়ন করে চলেছে।’
তিনি আরো বলেন, ‘আমাদের পরিবারের প্রত্যেকটি সদস্যের মধ্যে কন্যাসন্তান রয়েছে। তাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা অপরিহার্য। ধর্মীয় মূল্যবোধের প্রতি সম্মান দেখাতে হবে। গ্রাম থেকে শহর—সব জায়গাতেই ছেলে সন্তানের প্রতি অগ্রাধিকার দেওয়ার প্রবণতা কাম্য নয়। দেশের অধিকাংশ নারী অপুষ্টিতে ভোগেন। তারা সবাইকে খাবার দেওয়ার পরে খেতে বসেন, সবার আগে ঘুম থেকে উঠেন এবং সবার পরে ঘুমাতে যান। পরিবারের জন্য তারা নিজেদের স্বার্থ ত্যাগ করে কঠোর পরিশ্রম করেন। তাই তাদের প্রতি অশোভন আচরণ অত্যন্ত দুঃখজনক। এই ক্ষেত্রে কম্বোডিয়া ও থাইল্যান্ডের নারীরা সামাজিক দৃষ্টিকোণ থেকে বেশ এগিয়ে আছেন।’
সাক্ষাৎকালে নারী ও কন্যাশিশুর অধিকার সুরক্ষা, তাদের জন্য নিরাপদ ও বৈষম্যহীন পরিবেশ নিশ্চিত করা, এবং নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে কন্যাশিশুবান্ধব উদ্যোগ গ্রহণের গুরুত্বের ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করা হয়।
এ সময়, সংসদ, সরকার ও নাগরিক সমাজের সমন্বিত উদ্যোগে নারী ও কন্যাশিশুর ক্ষমতায়ন এবং তাদের অধিকার প্রতিষ্ঠায় কার্যকর ভূমিকা রাখার বিষয়ে মতবিনিময় করা হয়।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন