প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
কিশোরগঞ্জের ভৈরব উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের এনেস্থেসিয়া বিভাগের চিকিৎসক ডা. ফরহাদের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন ধরে নিয়মিত কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকা, নির্ধারিত অফিস সময় মেনে দায়িত্ব পালন না করা এবং এর ফলে অস্ত্রোপচারসহ জরুরি স্বাস্থ্যসেবা ব্যাহত হওয়ার অভিযোগ উঠেছে। বিষয়টি নিয়ে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ একাধিকবার কারণ দর্শানোর (শোকজ) নোটিশ দিলেও পরিস্থিতির উন্নতি না হওয়ায় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করা হয়েছে।
গত রোববার (৫ জুলাই) সকাল প্রায় ১১টায় সরেজমিনে ভৈরব উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে গিয়ে দেখা যায়, একজন সিজারিয়ান রোগী অপারেশনের অপেক্ষায় রয়েছেন। হাসপাতাল সূত্র জানায়, দায়িত্বরত এনেস্থেসিয়া চিকিৎসক হাসপাতালে উপস্থিত হলে অপারেশন কার্যক্রম শুরু করা হবে।
হাসপাতালের উপস্থিতি রেজিস্টার পর্যালোচনায় দেখা যায়, চলতি মাসের প্রথম পাঁচ কর্মদিবসের মধ্যে দুই দিন ডা. ফরহাদের কোনো উপস্থিতির স্বাক্ষর নেই। এছাড়া গত মাসেও একাধিক কর্মদিবসে তাঁর উপস্থিতির স্বাক্ষর পাওয়া যায়নি বলে হাসপাতাল সূত্র দাবি করেছে।
উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. কিশোর কুমার ধর বলেন, “ডা. ফরহাদ প্রায়ই কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকেন। তাঁকে একাধিকবার নিয়মিত উপস্থিত থাকতে এবং সরকারি অফিসের সময়সূচি অনুসরণ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। শোকজও করা হয়েছে। কিন্তু অবস্থার উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন হয়নি।”
দায়িত্বপ্রাপ্ত কিশোরগঞ্জের সিভিল সার্জন ডা. মো. নাজমুল করিম বলেন, “বিষয়টি সম্পর্কে আমি অবগত। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স থেকে প্রাপ্ত প্রতিবেদনের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বিষয়টি স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হবে।”
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক হাসপাতালের একাধিক চিকিৎসক ও কর্মচারী জানান, সংশ্লিষ্ট চিকিৎসক প্রায়ই কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকেন। উপস্থিত হলেও অনেক সময় নির্ধারিত অফিস সময় শেষ হওয়ার আগেই চলে যান। ফলে অস্ত্রোপচারসহ গুরুত্বপূর্ণ স্বাস্থ্যসেবা ব্যাহত হয় এবং রোগীদের দুর্ভোগ বাড়ে।
এদিকে অভিযোগ রয়েছে, ভৈরব পৌর শহরের ইসরাত জাহান স্পেশালাইজড হাসপাতালে—যা তাঁর স্ত্রীর মালিকানাধীন—ডা. ফরহাদ নিয়মিত রোগী দেখেন এবং হাসপাতালের ব্যবস্থাপনায়ও সক্রিয়ভাবে সম্পৃক্ত রয়েছেন।
সমাজসেবক নুরুল কাদের সোহেল বলেন, “সরকারি হাসপাতালে কর্মরত চিকিৎসকদের জনগণের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে নিয়মিত কর্মস্থলে উপস্থিত থাকা বাধ্যতামূলক। অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত করে সত্যতা পাওয়া গেলে দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া উচিত।”
অভিযোগের বিষয়ে ডা. ফরহাদ বলেন, “আমি অনেক দিন ধরেই চাকরি ছাড়ার কথা ভাবছিলাম। আজ আমি পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছি।”
স্থানীয়দের অভিযোগ, একজন এনেস্থেসিয়া বিশেষজ্ঞের অনিয়মিত উপস্থিতির কারণে অনেক সময় নির্ধারিত অস্ত্রোপচার বিলম্বিত হয়। এতে রোগী ও তাদের স্বজনদের অতিরিক্ত ভোগান্তি পোহাতে হয়। তারা দ্রুত অভিযোগের নিরপেক্ষ তদন্ত, প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ এবং সরকারি হাসপাতালে নিরবচ্ছিন্ন চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার দাবি জানিয়েছেন।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন