০৯:২০ পি.এম
রাঙামাটির বাঘাইছড়ি উপজেলার পর্যটনকেন্দ্র সাজেকে আয়োজকরা অনির্দিষ্টকালের সড়ক অবরোধ প্রত্যাহার করেছেন। রবিবার (১১ অক্টোবর) বিকেল ৫টার দিকে প্রশাসনের আশ্বাসের ভিত্তিতে অবরোধ প্রত্যাহার করা হয়। তবে দাবিগুলো বাস্তবায়নের জন্য প্রশাসনকে দুই দিনের সময়সীমা দেওয়া হয়েছে।
সকাল ৬টা থেকে শুরু হওয়া অবরোধের কারণে সাজেক-দীঘিনালা সড়কের বিভিন্ন স্থানে পর্যটক ও যানবাহন আটকা পড়ে। অবরোধ প্রত্যাহার করার ফলে প্রায় ১১ ঘণ্টা পর সড়কটিতে যান চলাচল স্বাভাবিক হওয়ার সুযোগ তৈরি হয়। আটকে পড়া পর্যটকেরা তাদের গন্তব্যের উদ্দেশে রওনা দেন।
সাজেক থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা তোফাজ্জল হোসেন অবরোধ প্রত্যাহারের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, অবরোধকারীরা কিছু শর্ত দিয়েছেন এবং প্রশাসনের আশ্বাসের পরিপ্রেক্ষিতে তারা অবরোধ প্রত্যাহার করেছেন।
আরও পড়ুন: তরুণরা খেলাধুলায় থাকলে মাদক থেকে দূরে থাকবে মেয়র প্রার্থী হাসিবুল হাসান হাসিব
এর আগে সাজেক গণ-অধিকার রক্ষা কমিটি ও সাজেক কার্বারি অ্যাসোসিয়েশনের ডাকে রবিবার সকাল ৬টা থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য এ অবরোধ শুরু হয়। সড়কের বিভিন্ন স্থানে ব্যারিকেড দেওয়ার ফলে সাজেক ও খাগড়াছড়ির দুই দিক থেকে আসা পর্যটক ও যানবাহন আটকা পড়ে।
প্রতিদিন সাধারণত দুই দফায় সেনাবাহিনীর এসকর্টের মাধ্যমে খাগড়াছড়ি থেকে সাজেকে পর্যটকদের যাতায়াতের ব্যবস্থা করা হয়। তবে অবরোধের কারণে রবিবার একবার এসকর্ট পরিচালনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। খাগড়াছড়ি থেকে সাজেকের উদ্দেশে যাওয়া পর্যটকরা বাঘাইহাটের গঙ্গারাম উজোবাজার এলাকায় পৌঁছালে অবরোধকারীরা তাদের আটকে দেন। অন্যদিকে সাজেক থেকে বের হওয়ার সময় পর্যটকরা মাচালং এলাকায় আটকা পড়েন।
পরে প্রশাসনের সঙ্গে আলোচনা ও আশ্বাসের পর অবরোধ প্রত্যাহার করা হয়। এরপর উভয় পাশে আটকে থাকা পর্যটকেরা সেনাবাহিনী ও স্থানীয় প্রশাসনের সহায়তায় গন্তব্যের উদ্দেশে যাত্রা শুরু করেন।
গত ৮ অক্টোবর সাজেকের উজোবাজার এলাকায় এক সমাবেশ থেকে প্রশাসনকে ৪৮ ঘণ্টার সময়সীমা বেঁধে দিয়েছিল সংগঠন দুটি। দাবিগুলো পূরণ না হওয়ায় শনিবার (১০ অক্টোবর) সাজেক কার্বারি অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি নতুন জয় চাকমা ও সাজেক গণ-অধিকার রক্ষা কমিটির আহ্বায়ক বাবুধন চাকমার যৌথ বিবৃতিতে অনির্দিষ্টকালের অবরোধের ঘোষণা দেওয়া হয়।
আরও পড়ুন: টাঙ্গাইলে জেলা পুলিশের অভিযানে ইয়াবা উদ্ধার ১৪৮ পিস ইয়াবা সহ ৩১ জন গ্রেপ্তার
বিবৃতিতে অভিযোগ করা হয়, পার্বত্য চট্টগ্রাম জনসংহতি সমিতির (জেএসএস—সন্তু গ্রুপ) নামে একটি সশস্ত্র গোষ্ঠী সাজেকে অবস্থান নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের হুমকি ও ভয়ভীতি দেখাচ্ছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা, ওই গোষ্ঠীকে এলাকা থেকে সরিয়ে নেওয়া এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিতে অবরোধের ডাক দেওয়া হয়।
বিবৃতিতে গত ২৯ সেপ্টেম্বর সাজেকের চাইল্যাতলী এলাকায় গুলিতে কস্মিতা ত্রিপুরা (৮) নামের এক শিশু আহত হওয়ার ঘটনাও উল্লেখ করা হয়।
অবরোধ চলাকালে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এলাকায় পুলিশের পাশাপাশি সেনাবাহিনীর টহল জোরদার করা হয়। প্রশাসনের আশ্বাসে আপাতত অবরোধ প্রত্যাহার হলেও আগামী দুই দিনের মধ্যে দাবিগুলো বাস্তবায়ন করা হয় কি না, সেদিকেই এখন নজর থাকবে।
আরও পড়ুন: পাপোশ তৈরি করে স্বাবলম্বী হচ্ছেন হুমায়ুন কবির
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন