প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
ভারতের রাজধানী উত্তাল হয়ে উঠেছে নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগের দাবিতে। আন্দোলনকারীরা পুলিশি বাধা ও গণগ্রেফতারের পরও পিছু হটতে রাজি নয়। জেল থেকে মুক্তি পাওয়ার পর তারা ঘোষণা করেছেন, আন্দোলন থামবে না বরং তা সারা ভারতে ছড়িয়ে দেওয়া হবে।
ভোটার তালিকা সংক্রান্ত অনিয়মের অভিযোগের প্রেক্ষিতে এই ঘটনার সূত্রপাত ঘটে। ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ (সিজেপি) দিল্লির যন্তর মন্তরে প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে বিক্ষোভের ডাক দিয়েছিল।
কিন্তু শনিবার আন্দোলনের শুরুতেই পুলিশ কঠোর অবস্থান নেয়। প্রায় ৩ থেকে ৭ হাজার আন্দোলনকারীকে আটক করা হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে ৪৫টি মেট্রো স্টেশন বন্ধ করে দেওয়া হয় এবং আড়াইশ ট্রেন বাতিল করা হয়। এমনকি আন্দোলনরত তিন প্রধান নেতা—অভিজিৎ দীপকে, আশুতোষ রাঙ্কা ও সৌরভ দাসকে আটক করে দিল্লি পুলিশ।
রোববার (১১ অক্টোবর) সকালে আদালত তাদের শর্তসাপেক্ষে মুক্তি দেয়। আদালতের শর্ত ছিল, আগামী এক বছর তারা শান্তিশৃঙ্খলা ভঙ্গ করতে পারবেন না। তবে জেল থেকে বের হওয়ার পর সিজেপি প্রধান অভিজিৎ দীপ জানান, তারা এমন কোনো মুচলেকায় সই করেননি যা আন্দোলন করতে বাধা দেয়। তিনি বলেন, "শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ জানানো দেশের প্রতিটি মানুষের সাংবিধানিক অধিকার। আমাদের আন্দোলন স্থগিত করার প্রশ্নই ওঠে না।"
সংগঠনের নেতারা সরকারের এই পদক্ষেপকে ১৯৭৫ সালের ভারতের ‘জরুরি অবস্থা’র সাথে তুলনা করেছেন। তাদের অভিযোগ, পুলিশ তরুণদের ভয় দেখাচ্ছে এবং তাদের পরিবারকে হুমকি দিচ্ছে।
অন্যদিকে ক্ষমতাসীন বিজেপি সরকার এই ঘটনার জন্য রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রের অভিযোগ তুলেছে। তাদের দাবি, বিরোধীদের উসকানিতে দেশে অরাজকতা তৈরির চেষ্টা চলছে। ভারতের প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং বলেছেন, "গণতন্ত্রে প্রতিবাদ করার অধিকার সবার আছে, কিন্তু তার নামে দেশে বিশৃঙ্খলা তৈরি করা যাবে না।"
তবে সরকারের এই কড়া হুঁশিয়ারি সত্ত্বেও রাজপথ ছাড়তে নারাজ আন্দোলনকারীরা। তাদের স্পষ্ট বক্তব্য—দাবির সমাধান না হওয়া পর্যন্ত সংগ্রাম চলবে।
সূত্র: এনডিটিভি
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন