০৯:৪১ এম
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ব্যাপক বিমান হামলা ও বোমাবর্ষণ সত্ত্বেও, ইরান তার মাটির নিচে লুকানো বিশাল ক্ষেপণাস্ত্র ভাণ্ডার পুনরুদ্ধার করতে সক্ষম হয়েছে। ফলে তেহরান, ইসরায়েলসহ মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য দেশে আগের চেয়ে অনেক বেশি দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করার জন্য সম্পূর্ণ প্রস্তুত রয়েছে। সামরিক বিশেষজ্ঞদের মতে, এই তৎপরতা মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন বোমাবর্ষণ কৌশলের সীমাবদ্ধতা স্পষ্ট করে। মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএন-এর এক প্রতিবেদনে এই তথ্য উঠে এসেছে। ‘সিএনএন’-এর পর্যালোচনা করা স্যাটেলাইট চিত্রে দেখা গেছে, ইরান উন্নত অস্ত্র ব্যবহারের পরিবর্তে সাধারণ নির্মাণ সামগ্রী যেমন বুলডোজার ও ডাম্প ট্রাক ব্যবহার করে মার্কিন ও ইসরায়েলের কোটি কোটি ডলার মূল্যের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা ব্যর্থ করেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কেবলমাত্র সুড়ঙ্গের প্রবেশপথ ধ্বংস করে তেহরানের ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা গুঁড়িয়ে দেওয়া সম্ভব নয়। জেমস মার্টিন সেন্টার ফর ননপ্রলিফারেশন স্টাডিজের গবেষক স্যাম লেয়ার ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা বিশ্লেষণ করে বলেন, ‘মার্কিন সামরিক বাহিনী কৌশলগত সাফল্য অর্জনে বেশ দক্ষ। তবে, যদি এই সামরিক অভিযানের পেছনে কোনো বাস্তবসম্মত কৌশলগত লক্ষ্য না থাকে, তাহলে তা বড় কৌশলগত ব্যর্থতায় রূপ নিতে পারে।’ হামবুর্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘ইনস্টিটিউট ফর পিস রিসার্চ অ্যান্ড সিকিউরিটি পলিসি’-র সিনিয়র গবেষক তৈমুর কাদিশেভ এই বিষয়টিকে প্রযুক্তির দিশা হিসেবে দেখেন। তিনি বলেন, ‘ইরানকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে অত্যন্ত জটিল এবং ব্যয়বহুল অস্ত্র ব্যবহার করতে হয়েছে, কিন্তু ইরান সাধারণ বুলডোজার ব্যবহারে ক্ষতিগ্রস্ত জায়গাগুলো পুনরুদ্ধার করে নিয়েছে।’ চলমান সংঘাতের প্রেক্ষাপটে ইরান ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতির মধ্যে সুড়ঙ্গ খনন অব্যাহত রেখেছে। সাম্প্রতিক স্যাটেলাইট চিত্রে দেখা গেছে, ১৮টি আন্ডারগ্রাউন্ড ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটির ৬৯টি সুড়ঙ্গমুখের মধ্যে ৫০টি সম্প্রতি সম্পূর্ণ চালু হয়েছে। বিশেষ করে, ইস্ফাহানের একটি ঘাঁটিতে ৪টি সুড়ঙ্গমুখ বন্ধ করতে ১৮টি ক্ষেপণাস্ত্র হামলা করা হয়েছিল। মে মাসের প্রথম দিকের স্যাটেলাইট চিত্রেও ধ্বংস হওয়া রাস্তাগুলো পুনরায় পাকা করা হয়েছে। খামেনি-এর একটি ঘাঁটিতে এপ্রিলের মাঝামাঝি অন্তত ১০টি নির্মাণ যান সুড়ঙ্গ পুনর্গঠনের কাজে নিয়োজিত ছিল। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আগের থেকেই ইরানের এই ক্ষেপণাস্ত্র ভাণ্ডারকে যুদ্ধের গুরুত্বপূর্ণ কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছিলেন। গত মার্চে ট্রাম্প ঘোষণা দেন যে, ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা ও লঞ্চারগুলো সম্পূর্ণ ধ্বংস করার জন্য ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। যদিও মার্কিন প্রতিরক্ষা সচিব পিট হেগসেথ ক্লেম করেছেন যে, ইরান কোনো নতুন প্রতিরক্ষা শিল্প গড়ে তুলতে পারবে না। কিন্তু বিশেষজ্ঞদের মতে, ইরানের মূল ক্ষেপণাস্ত্র মজুত, মাটির শত শত মিটার গভীরে অবস্থিত হওয়ায় তা অক্ষত রয়েছে। আন্তর্জাতিক গোয়েন্দা সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, ইরান ইতিমধ্যে ড্রোন উৎপাদন ও ক্ষেপণাস্ত্র লঞ্চারের সক্ষমতা পুনর্গঠন করে ফেলেছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন