প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
লেবাননে সামরিক অভিযান আরো জোরদার করার নির্দেশ দিয়েছে ইসরায়েল। দেশটির সেনাবাহিনীকে লেবাননের অভ্যন্তরে আরো অগ্রসর হওয়ার নির্দেশ দেওয়ার পর আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম ২ শতাংশের বেশি বেড়েছে।
সোমবার দিনের শুরুতে লেনদেনে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ২ দশমিক ৩৭ ডলার বা ২ দশমিক ৭১ শতাংশ বেড়ে ৮৯ দশমিক ৭৩ ডলারে পৌঁছায়। একই সময়ে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ২ দশমিক ১৬ ডলার বা ২ দশমিক ৩৭ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৯৩ দশমিক ২৮ ডলারে ওঠে।
ছয় সপ্তাহেরও বেশি সময় আগে যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করা হলেও ইরান-সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর সঙ্গে সংঘাত অব্যাহত রয়েছে। এর মধ্যেই ইসরায়েলের নতুন সামরিক পদক্ষেপ মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা আরো বাড়িয়েছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, ওয়াশিংটনে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় ইসরায়েল-লেবানন শান্তি আলোচনা অনুষ্ঠিত হওয়ার পরও সংঘাত তীব্র হওয়ার কারণে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে যুদ্ধবিরতি চুক্তি সম্প্রসারণের সম্ভাবনা নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। এর ফলে জ্বালানি বাজারে সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ আরো বেড়েছে।
ইসরায়েল-লেবানন সংঘাতকে চলমান ইরান যুদ্ধের সবচেয়ে বড় আঞ্চলিক বিস্তার হিসেবে দেখা হচ্ছে। গত ২ মার্চ হিজবুল্লাহ ইরানের সমর্থনে ইসরায়েলের দিকে রকেট ও ড্রোন হামলা শুরু করলে উত্তেজনা নতুন মাত্রা পায়।
এপ্রিলের মাঝামাঝি যুদ্ধবিরতি হলেও উভয়পক্ষের মধ্যে বিচ্ছিন্ন হামলা অব্যাহত রয়েছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শুক্রবার জানিয়েছেন, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি চুক্তির মেয়াদ বাড়ানোর প্রস্তাব নিয়ে তিনি শিগগিরই সিদ্ধান্ত নেবেন। এর মাধ্যমে স্থায়ী সমাধানের লক্ষ্যে আলোচকদের আরো সময় দেওয়া হতে পারে। তবে সম্ভাব্য যেকোনো সমঝোতায় ইসরায়েলের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা থাকবে বলে মনে করা হচ্ছে। অন্যদিকে, ইরানও বারবার বলেছে, হিজবুল্লাহকে আলোচনার অংশ করতে হবে।
এদিকে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি পরিবহনপথ হরমুজ প্রণালিতে পুঁতে রাখা মাইন নিয়েও উদ্বেগ বাড়ছে। বাজার বিশ্লেষকদের শঙ্কা, এ কারণে প্রণালিটি পুরোপুরি চালু করতে বিলম্ব হতে পারে এবং জ্বালানি সরবরাহ স্বাভাবিক হতে আরো সময় লাগবে।
বিশ্লেষক টনি সাইকামোরের মতে, কোনো সমঝোতা হলেও তা তাৎক্ষণিকভাবে বাজারে বিপুলপরিমাণ তেল সরবরাহ নিশ্চিত করবে না। ফলে তেলের দামের ওপর চাপ অব্যাহত থাকতে পারে।
অন্যদিকে, চীনের দুর্বল অর্থনৈতিক তথ্য এবং উৎপাদন খাতের স্থবিরতার ইঙ্গিত সত্ত্বেও বাজারে সরবরাহ সংকটের আশঙ্কাই বর্তমানে তেলের দামের ওপর বেশি প্রভাব ফেলছে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।
সূত্র: রয়টার্স
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন