ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২২শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৬ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১১ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বৃহস্পতিবার, ২২শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৬ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

শাহজাদপুরে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মাঝে ঢেউটিন ও গৃহ নির্মাণের চেক বিতরণ


শাহজাদপুরে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারের মাঝে ঢেউটিন ও গৃহ নির্মাণের চেক বিতরণ

সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুর উপজেলার সোনাতনী ইউনিয়নের সাম্প্রতিক বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ৭০ টি পরিবারের মাঝে পরিবার প্রতি ২ বান ঢেউটিন ও গৃহ নির্মাণের জন্য ৬ হাজার টাকার চেক বিতরণ করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) শাহজাদপুর উপজেলা প্রশাসনের আয়োজনে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের মানবিক সহায়তা কর্মসূচির আওতায় এ বিতরণ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ড. এ মুহিত, এমপি।
আরও উপস্থিত ছিলেন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সাবরিনা শারমিন, মাননীয় প্রতিমন্ত্রীর সহধর্মিণী স্থপতি ফাহমিদা মুহিত, সহকারী কমিশনার ( ভূমি) মোঃ ফরিদুল ইসলাম, শাহজাদপুর থানার অফিসার ইনচার্জ সাইফুল ইসলাম, প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মিজানুর রহমান, উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি ইকাবাল হোসেন হিরু,সাধারণ সম্পাদক আরিফুজ্জামান আরিফ, সিনিয়র সহ-সভাপতি আব্দুল জব্বার, পৌর বিএনপির সাবেক সভাপতি ইমদাদুল হক নওশাদ সিনিয়র সহ-সভাপতি রেজাউল ইসলাম রাজা, উপজেলা বিএনপির সাবেক প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক আল-আমীন হোসেন, সোনাতনী ইউনিয়ন বিএনপির সাবেক সহ-সভাপতি রুবেল রানা ছাত্রদের আহ্বায়ক আল-মামুন জুয়েল প্রমুখ। এ কর্মসূচির আওতায় বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পুনর্বাসন এবং ক্ষতিগ্রস্ত ঘরবাড়ি মেরামত ও পুনর্নির্মাণে সহায়তা প্রদানের লক্ষ্যে ঢেউটিন ও গৃহ নির্মাণের চেক বিতরণ করা হয়।
এ সময় উপজেলা প্রশাসনের কর্মকর্তা, স্থানীয় জনপ্রতিনিধি এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।
মানবিক সহায়তা কার্যক্রমের মাধ্যমে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর দুর্ভোগ লাঘব ও পুনর্বাসন কার্যক্রমকে এগিয়ে নেওয়াই এ উদ্যোগের মূল লক্ষ্য।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

রাজশাহীতে প্রধানমন্ত্রীর জনসভা হবে ঐতিহাসিক: ভূমিমন্ত্রী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০২:২৫ পি.এম


রাজশাহীতে প্রধানমন্ত্রীর জনসভা হবে ঐতিহাসিক: ভূমিমন্ত্রী

প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান রাজশাহীর ঐতিহাসিক মাদ্রাসা মাঠে বক্তব্য রাখবেন। ভূমিমন্ত্রী ও রাজশাহী সদর আসনের সংসদ সদস্য মিজানুর রহমান মিনু এই জনসভাকে ঐতিহাসিক হিসেবে উল্লেখ করেছেন।

মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) দুপুরে রাজশাহী সফরের সময় প্রধানমন্ত্রী নগরীর ধর্মসভা মন্দিরের পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করবেন এবং হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের শারদীয় শুভেচ্ছা জানাবেন। পরে বিকাল ৩টায় ঐতিহাসিক মাদ্রাসা মাঠে স্থানীয় বিএনপি আয়োজিত জনসভায় প্রধান অতিথি হিসেবে তিনি বক্তব্য প্রদান করবেন।

প্রধানমন্ত্রীর আগমনকে কেন্দ্র করে রাজশাহীতে উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে। রাজশাহী সিটি করপোরেশনের উদ্যোগে সড়ক সংস্কার ও সড়ক বিভাজকে রং করার কাজ সম্পন্ন হয়েছে। জনসভা উপলক্ষে মাদ্রাসা মাঠে একটি বড় মঞ্চ নির্মাণ করা হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর সফরকে ঘিরে দলীয় নেতা-কর্মীদের মধ্যে উৎসাহ-উদ্দীপনা দেখা দিয়েছে। ভূমিমন্ত্রী মিজানুর রহমান মিনু বলেন, "বাংলাদেশের কোনো রাষ্ট্রপ্রধান হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের শুভেচ্ছা জানাতে কখনো রাজশাহী আসেননি। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান আসছেন। তিনি তাদের শুভেচ্ছা জানানোর পাশাপাশি জনসভায় রাজশাহীবাসীর উদ্দেশে বক্তব্য রাখবেন। তাই প্রধানমন্ত্রীর এই জনসভা হবে ঐতিহাসিক।"

মিজানুর রহমান মিনু আরও জানান, জনসভায় রাজশাহীবাসীর পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রীর কাছে কয়েকটি দাবি তুলে ধরা হবে। এর মধ্যে রয়েছে রাজশাহী-ঢাকা মহাসড়ক চার লেনে উন্নীত করা, রাজশাহী-কলকাতা, রাজশাহী-ঢাকা ও রাজশাহী-চট্টগ্রাম রুটে সরাসরি তিনটি ট্রেন চালু এবং রাজশাহী বিমানবন্দরে কার্গো বিমান চলাচলের ব্যবস্থা করা।

রাজশাহী মহানগর পুলিশের (আরএমপি) মুখপাত্র উপকমিশনার গাজিউর রহমান জানান, প্রধানমন্ত্রীর সফর উপলক্ষে বিমান অবতরণের স্থান, ভিআইপিদের যাতায়াতের পথ, ধর্মসভা মন্দির, সার্কিট হাউস ও জনসভাস্থলে নিরাপত্তাব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। নগরীর গুরুত্বপূর্ণ স্থানে প্রায় ৪০০টি সিসিটিভি ক্যামেরার মাধ্যমে নজরদারি করা হচ্ছে। যানজট নিয়ন্ত্রণে বিশেষ ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা জোরদার করা হয়েছে।

প্রধানমন্ত্রীর সফর উপলক্ষে রাজশাহীতে নেওয়া হয়েছে নানা প্রস্তুতি। সফরসূচি অনুযায়ী, সকালে সামরিক বাহিনীর বিমানে সৈয়দপুর বিমানবন্দরে নেমে সেখান থেকে রংপুরের ধর্মসভা (রাধা গোবিন্দ মন্দির) পরিদর্শন করেন। এরপর দুপুরে রাজশাহীর ধর্মসভা মন্দিরের পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করবেন। পরে মাদ্রাসা মাঠের জনসভায় যোগ দেবেন। জনসভা শেষে বিকালে চট্টগ্রামের উদ্দেশে রওয়ানা হবেন প্রধানমন্ত্রী। সেখানে জে এম সেন হলের রহমতগঞ্জ পূজামণ্ডপ পরিদর্শন শেষে রাতে ঢাকায় ফিরবেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মধুপুরে ৫ বছরের শিশুকে ধ'র্ষ'ণ'চে'ষ্টার অভিযোগ, বৃদ্ধের বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আঃ হামিদ, মধুপুর (টাঙ্গাইল) প্রতিনিধি

মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০২:৩২ পি.এম


মধুপুরে ৫ বছরের শিশুকে ধ

টাঙ্গাইলের মধুপুরে পাঁচ বছর বয়সী এক শিশুকে কলা দেওয়ার কথা বলে বাড়িতে ডেকে নিয়ে ধর্ষণচেষ্টার অভিযোগ উঠেছে ৬৫ বছর বয়সী এক বৃদ্ধের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত মো. আঃ খালেকের বিরুদ্ধে মধুপুর থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছেন শিশুটির বাবা। পুলিশ জানিয়েছে, অভিযোগটি গুরুত্বের সঙ্গে তদন্ত করে অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারে প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।
সোমবার (১৯ অক্টোবর) বিকেল আনুমানিক সাড়ে ৩টার দিকে উপজেলার আউশনারা ইউনিয়নের বোকার বাইদ (নতুন বাজার) এলাকায় এ ঘটনা ঘটে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। অভিযুক্ত আঃ খালেক ওই এলাকার মৃত বসু চকদারের ছেলে।
অভিযোগ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শিশুটির বাবা মো. আলমগীর হোসেন পেশায় একজন ব্যাটারিচালিত অটোরিকশাচালক। কাজের প্রয়োজনে তিনি ঢাকায় অবস্থান করছিলেন। এ সুযোগে প্রতিবেশী আঃ খালেক শিশুটিকে কলা দেওয়ার কথা বলে নিজের বাড়ির একটি ঘরে ডেকে নিয়ে যান বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
দীর্ঘ ১৫ থেকে ২০ মিনিট পেরিয়ে গেলেও মেয়ে বাড়িতে ফিরে না আসায় তার মা মোছা. আকলিমা খাতুন খোঁজ করতে খালেকের বাড়িতে যান। সেখানে কাউকে দেখতে না পেয়ে ঘরের টিনের দরজার বাইরে থেকে শব্দ শুনতে পান তিনি। পরে দরজা ধাক্কা দিয়ে ভেতরে প্রবেশ করে শিশুটির পোশাক খুলে ধর্ষণের চেষ্টা করতে দেখেন বলে অভিযোগ করেন তিনি।
এ সময় আকলিমা খাতুন চিৎকার করলে এবং দরজার ছিটকানি আটকে দেওয়ার চেষ্টা করলে অভিযুক্ত খালেক ছিটকানি খুলে পালিয়ে যান বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
পরে শিশুটির বাবা ঢাকা থেকে বাড়িতে ফিরে স্বজন ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের সঙ্গে আলোচনা করেন। মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) তিনি মধুপুর থানায় উপস্থিত হয়ে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন।
এ বিষয়ে মধুপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এ কে এম ফজলুল হক বলেন, “অভিযোগ পেয়েছি। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখা হচ্ছে। অভিযুক্তকে গ্রেপ্তারে প্রয়োজনীয় আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।”
এ ধরনের অভিযোগ শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়ে এলাকায় নতুন করে উদ্বেগ তৈরি করেছে। অভিযোগের সুষ্ঠু তদন্ত, শিশুটির নিরাপত্তা ও মানসিক সুরক্ষা নিশ্চিত করা এবং ঘটনার সত্যতা যাচাই করে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন সচেতন মহল।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ভালুকায় বিরুনীয়া ইউনিয়নে বিএনপির নেতাকর্মীদের পূজামণ্ডপ পরিদর্শন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

ভালুকা (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি

মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০২:৩৯ পি.এম


ভালুকায় বিরুনীয়া ইউনিয়নে বিএনপির নেতাকর্মীদের পূজামণ্ডপ পরিদর্শন

শারদীয় দুর্গোৎসব উপলক্ষে ময়মনসিংহের ভালুকা উপজেলার বিরুনীয়া ইউনিয়নের বিভিন্ন পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করেছেন বিএনপি ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীরা।সোমবার রাতে স্থানীয় সংসদ সদস্য আলহাজ ফখর উদ্দিন আহমেদ বাচ্চুর নির্দেশনায় তাঁরা এসব পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করেন।

পরিদর্শনকালে নেতাকর্মীরা পূজামণ্ডপগুলোর সার্বিক পরিস্থিতি সম্পর্কে খোঁজখবর নেন এবং সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সঙ্গে শারদীয় দুর্গোৎসবের শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। এ সময় তাঁরা দুর্গোৎসব যেন শান্তিপূর্ণ, সুশৃঙ্খল ও উৎসবমুখর পরিবেশে সম্পন্ন হয়,সে বিষয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

পরিদর্শনকালে উপস্থিত ছিলেন ভালুকা উপজেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক সাখাওয়াত হোসেন পাঠান, উপজেলা বিএনপির সদস্য ও বিরুনীয়া ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আব্দুল কাইয়ুম সরকার রিপন,বিরুনীয়া ইউনিয়ন কৃষক দলের আহ্বায়ক শাহনেওয়াজ মল্লিক সেলিম,বিএনপি নেতা শাহীন পাঠান, সেলিম মণ্ডল,বিরুনীয়া ইউনিয়ন কৃষক দলের সদস্যসচিব সুহেল রানা,বিরুনীয়া ইউনিয়ন শ্রমিক দলের সাধারণ সম্পাদক সাহাদাত হোসেন,যুবনেতা কবির হোসেন, ফজলুল হক ও নাজমুল হোসেন।

এ ছাড়া উপস্থিত ছিলেন পৌর ছাত্রদল নেতা নুহা তালুকদার,ছাত্রদল নেতা সিফাত হোসেন,মেহেদী হাসান অন্তর পাঠান,জাকারিয়া রাতুল সরকার,কৃষক দলের আহ্বায়ক তোফাজ্জল দুলাল প্রমুখ। এ সময় বিএনপি ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।

নেতাকর্মীরা দুর্গোৎসবের সার্বিক পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণের পাশাপাশি সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রেখে সবাইকে আনন্দ ও সৌহার্দ্যের মধ্য দিয়ে শারদীয় দুর্গোৎসব উদ্‌যাপনের আহ্বান জানান।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

নড়াইলে গা ঘেষে মসজিদ-মন্দিরের অবস্থান, সম্প্রীতির বন্ধনে প্রায় ৪৫ বছর ধরে চলছে দুর্গোৎসব

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

নড়াইল প্রতিনিধি

মঙ্গলবার, ২০ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০২:৪২ পি.এম


নড়াইলে গা ঘেষে মসজিদ-মন্দিরের অবস্থান, সম্প্রীতির বন্ধনে প্রায় ৪৫ বছর ধরে চলছে দুর্গোৎসব
নড়াইলে অন্তত ১৫টি মসজিদ-মন্দিরের পাশাপাশি অবস্থান, নেই কোনো বিদ্বেষ, দুই ধর্মের সম্প্রীতির বন্ধন অটুট রেখে শুরু হয়েছে দুর্গোৎসব

নড়াইলে উৎসবমুখর পরিবেশে  হিন্দু সম্প্রদায়ের দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এই জেলায় রয়েছে সাম্প্রদায়িক-সম্প্রীতির এক অনন্য উদাহরণ। এখানে অন্তত ১৫টি এলাকায় গা ঘেষে মসজিদ-মন্দিরের অবস্থান সম্প্রীতির উজ্জ্বল উদাহরণ সৃষ্টি করেছে। এর মধ্যে জেলা শহরের মহিষখোলা এলাকায় মসজিদ-মন্দিরের পাশাপাশি অবস্থান। এখানে সম্প্রীতির বন্ধনে প্রায় ৪৫ বছর ধরে চলছে দুই ধর্মের ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান। মুসলিম ও হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষের মাঝে নেই কোনো হিংসা, বিদ্বেষ। বরং যুগ যুগ ধরে ধর্ম পালনে একে-অপরকে সহযোগিতা করে আসছেন সবাই।
 
জেলা শহরের মহিষখোলা সার্বজনীন পূজামণ্ডপের সহসভাপতি প্রলয় কুমার ভৌমিক বলেন, মহিষখোলায় একই আঙিনায় মসজিদ ও মন্দিরের অবস্থান। এটি সারাদেশের মধ্যে অনন্য নজির। এই নিয়ে দুই ধর্মের মানুষের মধ্যে কখনো মতবিরোধ নেই। সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রেখে যার যার ধর্ম পালন করছেন। নামাজ ছাড়াও মুসলিম সম্প্রদায়ের লোকজন একই মাঠ ব্যবহার করে ওয়াজ মাহফিল দিচ্ছেন। আবার আমরা পূজার কাজে মাঠ ব্যবহার করছি। একেবারে পাশাপাশি মসজিদ ও মন্দিরের অবস্থান।  

মসজিদের ইমাম হাফেজ মো : এনামুল হক জানান, মহিষখোলা সার্বজনীন পূজামণ্ডপ এবং পুরাতন রেজিস্ট্রি অফিস জামে মসজিদটি একই জায়গায়। আমাদের নামাজের সময় ওরা পূজা অনুষ্ঠান বন্ধ রাখে। নামাজ শেষ হলে আমার তাদের ধর্মীয় অনুষ্ঠান শুরু করে। এখনো পর্যন্ত কোনো সমস্যা হয়নি। আশা করছি ভবিষ্যতেও সমস্যা হবে না।

মহিষখোলা সার্বজনীন পূজামণ্ডপের সাধারণ সম্পাদক শুভঙ্কর বলেন, দীর্ঘ ৪৫ বছর ধরে আমাদের পূজামণ্ডপ এবং মুসলিম সম্প্রদায়ের মসজিদটি পাশাপাশি অবস্থান করছে। যে যার ধর্ম পালন করছেন। আজানের সময় আজান হচ্ছে। আবার পূজার অনুষ্ঠান হচ্ছে। অসাম্প্রদায়িক চেতনায় আমরা একে-অপরকে সহযোগিতা করে আসছি। মুসলিম ও হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজন তাদের ধর্মীয় বিধি-বিধান সুষ্ঠু-সুন্দর ভাবে পালন করে আসছেন।

পুরাতন রেজিস্ট্রি অফিস জামে মসজিদের মুয়াজ্জিন মফিজুর রহমান বলেন, আল কোরআনে সূরা কা-ফিরুন এ আল্লাহপাক বলেছেন, লাকুম দ্বীনুকুম ওয়ালিয়া দ্বীন। অর্থাৎ ‘তোমাদের ধর্ম তোমাদের এবং আমার ধর্ম আমার (কাছে প্রিয়)’। মুয়াজ্জিন মফিজুর রহমান আরও বলেন, যে দেশে মুসলিমরা সংখ্যাগরিষ্ঠ, সে দেশে অন্যন্যা ধর্মালম্বীরা মুসলিমদের কাছে আমানত। ডিমের ভেতরে কুসুম যেমন নিরাপদ, তেমনি তারা (অমুসলিম) নিরাপদে থাকবে। আমরা সেইভাবে নিরাপদে রাখার চেষ্টা করি।

শহরের ভওয়াখালী মিতালী সংঘের পূজারী তন্দ্রা মুখার্জি বলেন, আমাদের নড়াইলে দুর্দান্ত একটি উদাহরণ হলো-মহিষখোলা ছাড়াও জেলার অনেক স্থানে মসজিদ ও মন্দিরের পাশাপাশি অবস্থান। এখানে মুসলিম এবং হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজন সম্প্রীতির অনন্য নজির স্থাপন করেছেন। আমরা ছোটবেলা থেকে এভাবেই দেখে আসছি।

এদিকে জেলার বিভিন্ন এলাকায় খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, মহিষখোলা এলাকা ছাড়াও অন্তত ১৫টি স্থানে মসজিদ ও পূজামণ্ডপের একেবারে কাছাকাছি অবস্থান রয়েছে। নামাজের সময় হলে পূজামণ্ডপের ঢাক-ঢোল, গান-বাজনাসহ বিভিন্ন আচার অনুষ্ঠান যেমন বন্ধ থাকছে; তেমনি পূজা-অর্চনার সময় মুসলিম সম্প্রদায়ের লোকজন ধর্মীয় বিধি-বিধান মেনে হিন্দু সম্প্রদায়ের ধর্মীয় উৎসবের সুযোগ করে দিচ্ছেন। সঙ্গতকারণে নড়াইলে মুসলিম ও হিন্দু সম্প্রদায়ের লোকজনের মাঝে সাম্প্রদায়িক-সম্প্রীতির উজ্জ্বল উদাহরণ সৃষ্টি হয়েছে।

জেলা পূজা উদযাপন পরিষদের সভাপতি অ্যাডভোকেট পজঙ্ক বিহারী অন্ন ষোষ জানান, এ বছর নড়াইলে ৫৪৩টি মণ্ডপে সুষ্ঠু-সুন্দর ভাবে দুর্গাপূজা অনুষ্ঠিত হচ্ছে।

নড়াইল-২ আসনের সংসদ সদস্য আতাউর রহমান বাচ্চু বলেন, আমি শহরের যে (মহিষখোলা) ওয়ার্ডের বাসিন্দা, সেইখানে আমার বাড়ির পাশেই মসজিদ ও মন্দির মুখোমুখি। এখানে একই মাঠ ব্যবহার করে দুই ধর্মের লোকজন যার যার ধর্ম পালন করছেন। আশার করছি এবারও সবকিছু স্বাভাবিক থাকবে। বিগত সময়ে আমাদের এখানে কোনো সমস্যা হয়নি। দুর্গাপূজা সুষ্ঠু-সুন্দর ভাবে অনুষ্ঠানের লক্ষ্যে নড়াইলে আইন-শৃঙ্খলাবাহিনীর পাশাপাশি বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের পক্ষ থেকে খোঁজখবর রাখা হচ্ছে। যাতে কেউ ঘোলাপানিতে কেউ মাছ শিকার করতে না পারেন। #

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১১ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৩
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫০
মাগরিব ০৫:২৭
ইশা ০৬:৩৮
সূর্যোদয় : ০৫:৫৯ সূর্যাস্ত : ০৫:২৭
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%