১১:১২ পি.এম
২০২৬-২০২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে আপাতত কালো টাকা সাদা করার সুযোগ না রাখায় সরকারকে সতর্ক সাধুবাদ জানিয়েছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)।
এই সঙ্গে বাজেট বাস্তবায়ন-প্রক্রিয়ায় সুশাসন নিশ্চিতের সুস্পষ্ট পথরেখা নেই উল্লেখ করে সংস্থাটি হতাশাও প্রকাশ করেছে।
বৃহস্পতিবার (১১ জুন) প্রস্তাবিত বাজেট ঘোষণা হওয়ার পর প্রতিক্রিয়া জানিয়ে সংস্থাটির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান একটি বিবৃতি দেন।
আরও পড়ুন: কুড়িগ্রামে দুই কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগে চার খাদ্য কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দুদকের মামলা
বিবৃতিতে তিনি বলেন, প্রস্তাবিত বাজেটে কালো টাকা সাদা করার সুযোগ না দেয়া সরকারের দুর্নীতিবিরোধী নির্বাচনী অঙ্গীকারের স্বপক্ষে একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা। কিন্তু অতীতে দেখা গেছে, বিনিয়োগ, কর্মসংস্থানসহ নানা অজুহাতে পরবর্তীতে বিভিন্ন খাতে অর্থ বিলে এই সুযোগ অব্যাহত রাখা হয়েছে।
ফলে কোনোভাবেই যেন বাজেটে কালো টাকা বৈধ করার অনৈতিক সুযোগ আর না ফেরে— এই প্রত্যাশা করছি।
ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, স্বাধীনতার পরে নিরবিচ্ছন্নভাবে এই সুযোগ প্রদান করা হয়েছেন, কিন্তু এর মাধ্যমে প্রকৃত অর্থে আর্থিক লাভের থেকে সৎ করদাতাদের নিরুৎসাহিত করার পাশাপাশি কর ফাঁকির দুর্বিনীত সংস্কৃতির সৃষ্টি হয়েছে।
আশা করি, এই দুর্নীতিসহায়ক চর্চার বিপরীতে সরকার একটি দৃষ্টান্ত স্থাপন করবে।
আরও পড়ুন: কক্সবাজারে নলকূপ খননের স্থান থেকে গ্যাসের আগুন, বাপেক্সের বিশেষজ্ঞ দল ঘটনাস্থলে
বিবৃতিতে নতুন পে-স্কেল বাস্তবায়নের শর্ত হিসেবে সরকারি চাকরিজীবীদের সম্পদ-বিবরণী প্রকাশের বাধ্যবাধকতা নিশ্চিতের দাবিও জানানো হয়।
টিআইবির নির্বাহী পরিচালক বলেন, সরকারি চাকরিজীবীদের নতুন বেতনকাঠামো যেভাবে ধাপে ধাপে বাস্তবায়নের সিদ্ধান্ত হয়েছে, তা প্রমাণ করছে এ বিষয়ে সরকারকে বাস্তবতার আলোকে কতটা কঠোর হিসাব-নিকাশ করতে হয়েছে।
১১ বছরের ব্যবধানে আর্থিক সক্ষমতার কঠিন সীমাবদ্ধতা সত্ত্বেও প্রস্তাবিত বাজেটে বেতন বৃদ্ধির ঘোষণা যৌক্তিক বিবেচিত হয়েছে।
তবে এ বরাদ্দের মাধ্যমে সরকারি কর্মজীবীদের পেশাগত উৎকর্ষের পাশাপাশি দুর্নীতিমুক্ত কর্মসম্পাদনের প্রত্যাশিত সুফল পেতে হলে নতুন পে-স্কেল প্রযোজ্য হওয়ার শর্ত হিসেবে, সংশ্লিষ্ট কর্মজীবীদের সম্পদ-বিবরণী প্রকাশের বাধ্যবাধকতা নিশ্চিত করতে হবে।
আরও পড়ুন: কুমিল্লায় রাজস্ব কর্মকর্তা বুলেট বৈরাগী হত্যা মামলায় পাঁচজনের বিরুদ্ধে চার্জশিট
অর্থাৎ যে সকল সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারী প্রতিবছর নিজের ও পরিবারের নির্ভরশীল সদস্যদের আয় ও সম্পদের হিসাব হালনাগাদ করবেন, শুধু তাদের জন্যই নতুন পে-স্কেল প্রযোজ্য হবে।
এছাড়া বাজেটে উল্লেখ্যযোগ্য সংখ্যক নিত্যপণ্য ও সেবার শুল্ককর ছাড় দেওয়ার প্রস্তাব সাধুবাদ পাওয়ার যোগ্য বলে উল্লেখ করেন ড. ইফতেখারুজ্জামান।
একইসঙ্গে তিনি করফাঁকি ও অনিয়ম রোধে কর প্রশাসনের ভেতরে বিদ্যমান দুর্নীতি ও যোগসাজশমূলক অনিয়ম বন্ধ করতে কার্যকর পদক্ষেপ নেয়ার আহ্বান জানান।
অন্যদিকে বাজেট বাস্তবায়ন-প্রক্রিয়ায় সুশাসন নিশ্চিতের সুস্পষ্ট পথরেখা নেই উল্লেখ করে হতাশও প্রকাশ করেন ড. ইফতেখারুজ্জামান। তিনি আশা করেন, চূড়ান্ত বাজেটে এ বিষয়ে আলোকপাত করা হবে।
আরও পড়ুন: সেনাপ্রধানের সঙ্গে মার্কিন প্রতিনিধি দলের সাক্ষাৎ, এলএফটি-২০২৬ সফলভাবে সম্পন্ন
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন