০৬:৪৬ এম
> জাতীয়
পদ-পদবি না পাওয়ার কারণে জমিয়তের নেতৃবৃন্দের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ দেখা দিয়েছে।
রাজনৈতিক মিত্রদের পুরস্কৃত করার বিষয়টি নিয়ে প্রধানমন্ত্রী বক্তব্য রেখেছেন।
আরও পড়ুন: চকরিয়ায় নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ নেতা আকিত হোসেন সজিব গ্রেফতার
প্রকাশ : ২১ জুলাই ২০২৬, ০৬: ২৮
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। ছবি: সংগৃহীত
রাজনৈতিকখবর
সরকারের কাছ থেকে অবলম্বন করে বিএনপির মিত্ররা মূল্যায়নের দাবি তুলেছে।
আরও পড়ুন: হাসপাতালে স্বেচ্ছাসেবককে পেটানোর ঘটনায় ছাত্রদল নেতা শহিদুল ইসলাম বহিষ্কার
আন্দোলন-সংগ্রামে সহযাত্রী এবং এক সময়ে জোটসঙ্গী থাকা নেতারা এখন যথাযথভাবে মূল্যায়িত হওয়ার দাবি জানাচ্ছেন। কিছু নেতা অভিমান ও চাপের কৌশলও অবলম্বন করছেন। এর মধ্যে কিছু নেতাকে পুরস্কৃত করা হয়েছে এবং রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ পদে অধিষ্ঠিত হয়েছেন ভাগ্যবান কয়েকজন। যাদের হয়নি, তাদের কেউ হতাশ। যদিও অনেকে আশা ছাড়েননি। এই পরিস্থিতিতে বিএনপি চেয়ারপার্সন তারেক রহমান মান ভাঙানোর উদ্যোগ গ্রহণ করেছেন। গতকাল সোমবার রাতে তাদের নিয়ে নৈশভোজে তিনি মিলিত হয়েছেন। এর আগে শুধুমাত্র ‘ভোটসঙ্গী’ হওয়ার কারণে রাশেদ খানকে ‘বিশেষ সহকারী নিয়োগ করে’ অন্যান্যদের ধৈর্য্য ধরে থাকতে বলেছেন।
প্রাপ্তি ও অপ্রাপ্তির জটিল দোলাচালে কেউ সন্তুষ্ট এবং কেউ ক্ষুব্ধ। দীর্ঘদিনের সহযাত্রীর অবস্থান দেখেও কিছু রাজনৈতিক দল সরকারের পদ-পদবি পায়নি। এ কারণে তাদের মধ্যে অসন্তোষ ওঠে। কিছু রাজনৈতিক দল প্রকাশ্যে এ বিষয়টি তুলে ধরেছে। যদিও ইসলামপন্থি কিছু দল বিএনপি জোটে না থাকার পরেও সরকারের পদ পেতে আগ্রহ প্রকাশ করেছে। দেড় দশকের বেশি সময় ধরে স্বৈরাচারী সরকারের বিরোধী আন্দোলনে বিএনপির সাথে একযোগে আন্দোলন করেও কিছু না পাওয়ার কারণে হতাশা প্রকাশ করছে।
অসন্তুষ্টদের অনেকে অভিযোগ করছেন যে, বিএনপির জোটসঙ্গী হিসেবে স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে অংশ নিয়ে তারাও নানা নির্যাতনে শিকার হয়েছেন। তবে, কিছু রাজনৈতিক দল প্রতিদানের অংশীদার হলেও অধিকাংশ দল অবাঞ্চিত রয়ে গেছে।
ছাত্রজনতার বিপ্লবের মাধ্যমে হাজারো প্রাণের বিনিময়ে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট স্বৈরাচার শেখ হাসিনার পতন ঘটে। এরপর নোবেল বিজয়ী অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত হয়। তারা একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন পরিচালনা করে। গত ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত সেই নির্বাচনে বিএনপি নিঃশর্ত সংখ্যাগরিষ্ঠতা লাভ করে। বিএনপি ও এর জোটসহ সমমনা ও যুগপৎ আন্দোলনের অংশীদাররা ২১৪ আসনে বিজয়ী হয়েছে। এর মধ্যে বিএনপি ২১১ আসন ও শরিকরা ৩টি আসন পেয়েছে। গণসংহতি আন্দোলনের জোনায়েদ সাকি ও গণঅধিকার পরিষদ সভাপতি নুরুল হক নুর প্রতিমন্ত্রী হন।
আরও পড়ুন: ভ্যাকসিন কারখানা স্থাপনে জাপানের সহায়তা চাইলেন প্রধানমন্ত্রী
এনডিএম চেয়ারম্যান ববি হাজ্জাজ বিএনপিতে যোগ দিয়ে নির্বাচন করেন। তিনি দলের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান ছিলেন। তিনি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে পদ থেকে ইস্তফা দিয়ে বিএনপিতে যোগ দেন এবং এমপি নির্বাচিত হন। বর্তমানে তিনিও সরকারের প্রতিমন্ত্রী।
সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাক্টিভিস্ট এবং রাজনৈতিক বিশ্লেষক ডা. জাহেদ উর রহমান নাগরিক ঐক্যের যুগ্ম সম্পাদকের পদ থেকে ইস্তফা দিয়ে প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার বিষয়ক মন্ত্রণালয় এবং সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টার দায়িত্ব পান।
গণঅধিকার পরিষদের সাধারণ সম্পাদকের পদ থেকে ইস্তফা দিয়ে বিএনপিতে যোগ দেওয়া রাশেদ খানকে গতকাল সচিবের মর্যাদায় প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারীর পদ দেওয়া হয়।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা জানান, সাড়ে ১৫ বছরের স্বৈরাচার শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে আন্দোলনে দেশের বৃহত্তম রাজনৈতিক দল বিএনপির নেতৃত্বে গঠিত আন্দোলন সংগ্রামে নিবন্ধিত ও অনিবন্ধিত অনেক রাজনৈতিক দল অংশগ্রহণ করেছে। এছাড়াও বিভিন্ন নাগরিক ফোরাম এবং অধিকারকর্মীরাও স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে গুরুত্বপূর্ণ ভুমিকা পালন করেন। বিএনপির নেতৃত্বে তিনটি জোট স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে কার্যকর ভূমিকা পালন করে।
আরও পড়ুন: তারেক রহমানের জাপান সফর: নীল অর্থনীতির নতুন সম্ভাবনা
গণতন্ত্র মঞ্চ, ১২ দলীয় জোট ও জাতীয়বাদী সমমনা জোট।
গণতন্ত্র মঞ্চ, বিএনপি নেতৃত্বের সঙ্গে সমন্বয় রেখে সাতটি দলের সমন্বয়ে গঠিত। এই দলের মধ্যে আ স ম আবদুর রবের নেতৃত্বাধীন জাতীয় সমাজতান্ত্রিক দল-জেএসডি আসন পায়নি। বিজেপি নেতা মাহমুদুর রহমান মান্নার দলের প্রার্থী মনোনয়নের চূড়ান্ত পদক্ষেপ বাদ পড়ে। এ দলেরই একসময় যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ডা. জাহেদ উর রহমান পদত্যাগ করে প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় এবং সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টার দায়িত্ব পান।
কমরেড সাইফুল হকের নেতৃত্বে বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির জন্য একটি আসন বরাদ্দ থাকলেও তাতে বিজয়ী হতে পারেননি। জোনায়েদ সাকির গণসংহতি আন্দোলন নির্বাচনে একটি আসনে বিজয়ী হয় এবং সরকারের প্রতিমন্ত্রীর পদ পান।
গণঅধিকার পরিষদে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক ছাত্র নেতা ড. রেজা কিবরিয়া নির্বাচনে সন্তোষজনক ফলাফল লাভ করে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন। এই দলে সভাপতি নুরুল হক নুর সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়ে নতুন সরকারের প্রতিমন্ত্রী হয়েছেন।
আরও পড়ুন: কমলাপুর পর্যন্ত মেট্রোরেলের ৮৫% কাজ সম্পন্ন, জুলাইয়ে চালু হবে
তবে, জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের বাকি দলের সদস্যদের মধ্যে নির্বাচন ও সরকারের পদ-পদবি থেকে কেউই কিছু পাননি।
১২ দলীয় জোট রাজনৈতিক মিত্র অসন্তোষের জমিয়ত ও ইসলামপন্থিদের মধ্যে অসন্তোষ ধারাবাহিকভাবে প্রকাশ পাচ্ছে। প্রধানমন্ত্রীর আয়োজিত এই নৈশভোজে অংশ নেওয়ার জন্য প্রেসক্রিপ্টের লিঙ্কে থাকা জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের নেতারা সরকার গঠানের পর থেকে কার্যত উপেক্ষিত হয়ে এসেছেন। বিএনপির সঙ্গে তাদের এমন কিছু সম্পর্কের অবনতি হয়েছে যা রহস্যজনক।
জমিয়তের নেতারা বলেছেন, তারা নির্বাচনে চারটি আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার সুযোগ পেয়েছিল, কিন্তু তাদের স্পষ্ট বিজয় অর্জন করতে পারেনি। তাই সরকার গঠন শেষে ইউজার দলের অধিকারকে মূল্যায়িত করা হয়নি বলেই মনে করছেন জমিয়তের নেতারা।
জমিয়তের সভাপতি মাওলানা উবায়দুল্লাহ ফারুকের মতে, নির্বাচনের পর সরকারের সঙ্গে তাদের কোনো যোগাযোগ নেই। সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, “জোটের অন্যদের সঙ্গে সম্পর্ক থাকলেও আমাদের বরাবর উপেক্ষা করা হয়েছে।”
আরও পড়ুন: আইসিএও'র নিরাপত্তা নিরীক্ষা শুরু, শেষ হবে ৬ নভেম্বর
এ বিষয়ে ক্ষমতাসীন সরকারের নীতি নির্ধারক ও বিএনপির শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে কথা বলা হয়েছে, কিন্তু তারা প্রকাশ্যে এ বিষয়ে মন্তব্য করতে রাজি হননি। তবে, রাশেদ খানের নিয়োগ নিয়ে বিএনপি, ছাত্রদল ও যুবদলের নেতাদের মধ্যে বিকাশ সৃষ্ট হয়েছে। এক সাবেক ছাত্রদল নেতা জানিয়েছেন, দলের পরীক্ষিত নেতাদের মূল্যায়িত না করে অন্যান্যদের প্রতি পক্ষপাতিত্ব হচ্ছে এবং এটি দলের মধ্যে নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন