ঢাকা বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

দুপুর থেকে ৮ ঘণ্টা গ্যাস সরবরাহ বন্ধ থাকবে যেসব এলাকায়


দুপুর থেকে ৮ ঘণ্টা গ্যাস সরবরাহ বন্ধ থাকবে যেসব এলাকায়

লিকেজযুক্ত পুরাতন বিতরণ লাইন পরিবর্তন এবং সার্ভিস লাইন প্রতিস্থাপন কাজের জন্য আজ মঙ্গলবার (২১ জুলাই) দুপুর ১২টা থেকে রাজধানীর কিছু এলাকায় ৮ ঘণ্টা গ্যাস সরবরাহ বন্ধ থাকবে।

সোমবার (২০ জুলাই) একটি বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানিয়েছে তিতাস গ্যাস কর্তৃপক্ষ।

এতে উল্লেখ করা হয়েছে, লিকেজযুক্ত পুরাতন বিতরণ লাইন পরিবর্তন ও সার্ভিস লাইন প্রতিস্থাপন কাজের জন্য ২১ জুলাই দুপুর ১২টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত মোট ৮ ঘণ্টা গ্যাস সরবরাহ বন্ধ থাকবে ফ্রি স্কুল স্ট্রীট, ভুতের গলি, কিচেন রোড, আল আমিন রোড, কাঠাল বাগান এলাকায় বিদ্যমান আবাসিক এবং বাণিজ্যিক শ্রেণির গ্রাহকদের জন্য।

আরও পড়ুন: সুইজারল্যান্ডের প্রতি বাংলাদেশে বিনিয়োগ ও বাণিজ্য সম্প্রসারণের আহ্বান রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুলের

এছাড়া, এর আশপাশের এলাকায় গ্যাসের স্বল্পচাপ থাকতে পারে। গ্রাহকদের সাময়িক অসুবিধার জন্য কর্তৃপক্ষ আন্তরিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করেছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

দলকে নিয়ে গর্ব প্রকাশ করলেন ডি মারিয়া

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

মঙ্গলবার, ২১শে জুলাই, ২০২৬ ইং

০৭:২৫ এম


দলকে নিয়ে গর্ব প্রকাশ করলেন ডি মারিয়া

স্পেনের কাছে টানা দ্বিতীয়বার বিশ্বকাপ জেতা হলো না আর্জেন্টিনার। এই হৃদয় ভাঙা হারের পর আর্জেন্টিনার সাবেক মিডফিল্ডার অ্যাঞ্জেল ডি মারিয়া লিওনেল মেসিদের পাশে দাঁড়ালেন। এই প্রসঙ্গে তিনি বলেছেন, বিশ্বকাপে মেসিরা যে পারফরম্যান্স প্রদর্শন করেছে, সেটির জন্য পুরো আর্জেন্টিনা গর্বিত হচ্ছে। আর্জেন্টিনার জনগণ লিওনেল মেসিদের দলের প্রতি গর্বিত। ২০২২ সালের কাতার বিশ্বকাপজয়ী আর্জেন্টিনা দলের সদস্য হিসেবে ডি মারিয়াও আছেন।

তিনি গত কোপা আমেরিকা খেলে ফুটবল থেকে বিদায় নিয়েছেন। স্পেনের কাছে ফাইনাল ম্যাচে হারের পর তিনি একটি বার্তা প্রকাশ করেন। ডি মারিয়া বলেন, ‘দেশ তোমাদের নিয়ে গর্বিত। বিশ্বকাপে তোমরা যে ভালোবাসা ও আবেগ দেখিয়েছ, সেটি দেশকে আবার ঐক্যবদ্ধ করেছে। তোমরা ইতিহাস গড়েছ, তোমরা কিংবদন্তি এবং তোমাদের কাছ থেকে কেউ কিছু নিতে পারবে না।’ এ ছাড়া তিনি আরো বলেন, ‘আমাদের দেশে ইতিহাসের সেরা জাতীয় দল তোমরাই। (ফিনালিস্সিমাসহ) টানা পাঁচটি ফাইনাল, কেউ এটা তোমাদের কাছ থেকে নিতে পারবে না। সবকিছুর জন্য তোমাদের ধন্যবাদ। আমি সবাইকে ভালোবাসি।’

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

রাজবাড়ী পৌর পয়োবর্জ্য স্টেশন দখলের ঘটনায় সেবা বিঘ্নিত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ২১শে জুলাই, ২০২৬ ইং

০৭:৩০ এম


রাজবাড়ী পৌর পয়োবর্জ্য স্টেশন দখলের ঘটনায় সেবা বিঘ্নিত

প্রকাশ : ২১ জুলাই ২০২৬, ০৫: ৫৩

রাজবাড়ীর পৌর পয়োবর্জ্য ব্যবস্থাপনা স্টেশনের আগের লোকজনকে হটিয়ে বিএনপি নেতাকর্মীরা নিজেরা দখলে নেওয়ায় অস্বাস্থ্যকর অবস্থা সৃষ্টি হয়েছে। এর ফলে, বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় নাকাল পৌরবাসী। পূর্বে একদিন পরপর বাসাবাড়ি ও অফিসের বর্জ্য সংগ্রহ করা হলেও, বর্তমানে সপ্তাহে দুদিন সংগ্রহ করায় বাড়িতে জমে থাকা সমস্যা সমাধানের জন্য প্রতিদিন পৌরসভায় অভিযোগ দিচ্ছে ভুক্তভোগীরা। প্রতিকার না পাওয়ায় পরিবারগুলোর ব্যবহার্য বর্জ্য ব্যবস্থাপনা নিয়ে ক্ষুব্ধ পৌরবাসী। বাড়িতে জমে থাকা সাংসারিক বর্জ্য না সরানোয় পরিবেশ দূষণের শিকার শত শত পরিবার।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, রাজবাড়ী পৌরসভা বাসাবাড়ির পয়োবর্জ্য সংগ্রহ করে ডাম্পিং স্টেশনে (ল্যান্ডফিল্ড) ফেলতে দুটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের (এনজিও) সঙ্গে পৌরসভা চুক্তি করে। প্রতিষ্ঠান দুটি হলো ন্যাচার সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশন ও রাজবাড়ী উন্নয়ন সংস্থা।

চুক্তির মাধ্যমে এ দুটি সংস্থাকে কাজ দেন সাবেক মেয়র। তাদের চুক্তি অনুযায়ী ২০২৭ সালের নভেম্বর পর্যন্ত তাদের মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা। বর্জ্য ব্যবস্থাপনার জন্য পৌর কর্তৃপক্ষ তাদের গাড়ি, ভ্যান ও ভ্যাকুয়াম ট্রাক (মনুষ্যবর্জ্য অপসারণ ট্রাক) শর্ত সাপেক্ষে ব্যবহারের সুযোগ দেয়। এ কর্মকাণ্ডে ওয়ার্ড অনুযায়ী লোক নিয়োগসহ বাড়ি বাড়ি থেকে রান্নার বর্জ্য সংগ্রহ করে তা পৌর ডাম্পিং স্টেশনে ফেলে। এ কাজে নিয়োগ পাওয়া ওই দুটি এনজিও দায়িত্ব পালন করে আসছিল।

কিন্তু বিএনপি সরকার গঠন করার পর সরকারদলীয় কিছু নেতাকর্মী আগের সংস্থার লোকদের হটিয়ে নিজেরা দখলে নেয় ডাম্পিং স্টেশনের ব্যবস্থাপনা সংস্থার অফিস। ফলস্বরূপ, ভয়ে ও আতঙ্কে আগের সংস্থার লোকদের চলে যেতে বাধ্য করা হয়। ডাম্পিং এলাকা ঘুরে দেখা গেছে আগের সাইনবোর্ড নেই, কিন্তু নতুন কোনো সাইনবোর্ডও লাগায়নি। নাম প্রকাশে অস্বীকৃতি জানানোর এক কর্মচারী জানান, বিএনপির লোকজন দখল নেওয়ার পর ভয়ে আগের লোকজন চলে গেছে। তাছাড়া পৌর নাগরিকদের সঙ্গে ব্যবসা করতে গেলে নিয়ম মানতে হবে, কিন্তু এরা কোনো নিয়মের ধার ধারে না।

দখল হওয়ার পর গত ১৯ এপ্রিল পৌর কর্তৃপক্ষের কাছে অভিযোগ করে ন্যাচার সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশন ও রাজবাড়ী উন্নয়ন সংস্থা এনজিওর প্রতিনিধি। তবে পৌরসভা থেকে কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। বরং দায়িত্ব এড়ানোর মতো কথা বলেন পৌর নির্বাহী কর্মকর্তা রবিউল হক। তিনি বলেন, ‘পৌরসভা থেকে কাউকে নতুনভাবে ইজারা দেওয়া হয়নি। তবে কে দখল নিল, না নিল সেটি তাদের দেখার বিষয় নয়। বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ঠিকমতো হচ্ছে কি না সেটাই বড় কথা।’ বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ঠিকমতো হচ্ছে না, এমন প্রশ্নের উত্তরে তিনি জানান, গাফিলতির কারণে একজন কর্মচারীকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। অন্যদিকে, বর্জ্য ব্যবস্থাপনার বিশৃঙ্খল অবস্থায় গ্রাহকরা প্রতিনিয়ত অভিযোগ দিচ্ছে পৌরসভায়। কিন্তু কর্তৃপক্ষ কোনো সুরাহার উদ্যোগ নিচ্ছে না।

জানা গেছে, বাসাপ্রতি ১০০ টাকা নিলেও বর্জ্য অপসারণের জন্য অতিরিক্ত টাকা আদায় করার অভিযোগ উঠেছে। ভ্যাকুয়াম ট্রাকের জন্য এক হাজার ৫০০ টাকা নেওয়ার কথা থাকলেও নেওয়া হচ্ছে দুই হাজার টাকা। আবার দুই ট্রাক বর্জ্য অপসারণ করার কথা থাকলেও অর্ধেকটা ভরে ট্রিপের সংখ্যা বাড়িয়ে গ্রাহকের কাছ থেকে অতিরিক্ত টাকা নেওয়ার অভিযোগ করছেন অনেকে।

এদিকে, সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী ও রাজবাড়ী-১ আসনের এমপি আলী নেওয়াজ মাহমুদ খৈয়ম জেলা সমন্বয় সভায় পৌর এলাকায় পয়োবর্জ্য অপসারণের ব্যাপারে ক্ষোভ ঝেড়েছেন পৌর কর্তৃপক্ষের ওপর। গত রোববার পৌরসভার বিভিন্ন সড়কে ও উঠানে ময়লা-আবর্জনা দেখতে পাওয়ায় তিনি রীতিমতো বিস্ময় প্রকাশ করেছেন। শহরকে পরিষ্কার ও সুন্দর রাখতে পৌর প্রশাসকসহ সংশ্লিষ্টদের প্রতি নির্দেশনা দিয়েছেন।

ল্যান্ডস্টেশন অবৈধভাবে দখলে নেওয়া ব্যক্তিরা হলো—রাজবাড়ী জেলা কৃষক দলের আহ্বায়ক আইয়ুব আলী ও রাজবাড়ী সদর উপজেলা বিএনপি সাংগঠনিক সম্পাদক চঞ্চল শাহরিয়ার। আইয়ুব আলী জানান, ‘পৌরসভা তাদের মৌখিক অনুমতি দিয়েছে, বিষয়টি এমপির নলেজে আছে। সামনাসামনি আলাপ করলে বুঝতে পারবেন।’ চঞ্চল জানান, তাদের সঙ্গে পৌরসভার চুক্তি হবে। পৌরসভা তাকে অনুমতি দিয়েছে। বিষয়টি টেন্ডার প্রক্রিয়ার মধ্যে আছে। তিনি আরো জানান, আগের এনজিও প্রতিনিধিদের কোনো কাগজপত্র নেই এবং তারা পৌরসভায় কোনো টাকা জমা দেয় না। তিনি জানান, তার কোনো এনজিও নেই তবে ব্যবসায়ী লাইসেন্স আছে। তবে তিনি বর্জ্য অপসারণের অনিয়মের বিষয়ে কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

পর্যটনকেন্দ্র রাধানগর সানসেট পয়েন্টে দর্শনার্থীদের ভোগান্তির অভিযোগ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ২১শে জুলাই, ২০২৬ ইং

০৭:৩৪ এম


পর্যটনকেন্দ্র রাধানগর সানসেট পয়েন্টে দর্শনার্থীদের ভোগান্তির অভিযোগ

সরিষাবাড়ীর রাধানগর সানসেট পয়েন্টে দর্শনার্থীরা অসুবিধার মুখোমুখি হচ্ছেন।

জামালপুরের সরিষাবাড়ী উপজেলার পিংনা ইউনিয়নের যমুনা নদীর তীরে গড়ে উঠা রাধানগর সানসেট পয়েন্ট এখন স্থানীয়দের পাশাপাশি দূরদূরান্তের দর্শনার্থীদের জন্য অন্যতম আকর্ষণীয় স্থান। এজন্য এখানে যমুনার মনোরম প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও সূর্যাস্ত উপভোগ করার জন্য প্রতিদিন অসংখ্য মানুষ ভিড় করছেন। কিন্তু পর্যটকদের অভিযোগ, আকর্ষণীয় ক্যাটালগ দেখিয়ে নিম্নমানের খাবার পরিবেশন করা হচ্ছে এবং এজন্য অতিরিক্ত মূল্য আদায় করা হচ্ছে, যা তাদের বিড়ম্বনায় ফেলেছে।

স্থানীয় সূত্র এবং ভুক্তভোগীদের অভিযোগ অনুসারে, সানসেট পয়েন্টের কিছু ফাস্টফুডের দোকানে কম্পিউটারে তৈরি আকর্ষণীয় খাবারের ছবি দেখিয়ে অর্ডার নেওয়া হলেও, পরিবেশন করা হয় নিম্নমানের খাবার। অথচ এর জন্য তুলনামূলক বেশি মূল্য দিতে হয়। বিশেষত শুক্র ও শনিবার দর্শনার্থীদের চাপ বেড়ে গেলে খাবারের মান আরো নিম্নমুখী হয় বলে অভিযোগ উঠেছে। এ বিষয়ে প্রতিবাদ জানানোর চেষ্টা করলে অনেক সময় ক্রেতাদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করা হয় বলে জানিয়েছেন কিছু দর্শনার্থী।

দর্শনার্থী জাহাঙ্গীর আলম, শাহীন আলম সরকার, লাকী আক্তার এবং স্বপন আকন্দ বলেন, তারা পরিবার নিয়ে ঘুরতে এসে ক্যাটালগ দেখে যে খাবারের অর্ডার দিয়েছেন, তা পরিবেশন করা হয়েছে তার সঙ্গে কোনো মিল নেই। খাবারের মান ছিল অত্যন্ত নিম্নমানের, কিন্তু নেওয়া হয়েছে অনেক বেশি মূল্য।

একজন শিক্ষার্থী সানজিদা ছোলাইমান আওকী এবং সাদিয়া ছোলাইমান রেইকী জানিয়েছেন, ক্যাটালগে আকর্ষণীয় জুসের ছবি দেখানো হয়, কিন্তু যে পানীয় পরিবেশন করা হয়েছে, তাতে লেবুর স্বাদটাই নেই। বরফ এবং বিট লবণের মিশ্রণ করে সাধারণ মানের পানীয় আহারের জন্য বেশি দামের দাবি করা হয়েছে।

ওষুধ ব্যবসায়ী মমিনুল ইসলাম শান্ত, আনিছুর রহমান খোকন, ইকবাল হোসেন ও আবুল হোসেনসহ বেশ কয়েকজন দর্শনার্থী বলেন, ফুচকা, চটপটি ও অন্যান্য ফাস্টফুডের মান অত্যন্ত নিম্নমানের এবং স্বাদহীন। অভিযোগ জানাতে গেলে বিক্রেতারা অনেক সময় গুরুত্ব দেন না, বরং অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন। ফলে অনেক সময় দর্শনার্থীরা বিব্রতকর পরিস্থিতি থেকে বাঁচতে চুপ থাকেন।

এদিকে স্থানীয় জনগণের অভিযোগ, যমুনা নদীতে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক অনুমোদন ছাড়াই ভাসমান রেস্টুরেন্ট কার্যক্রম চলছে। তাদের উদ্বেগ, নিরাপত্তাব্যবস্থা নিশ্চিত না থাকায় সেখানে যেকোনো দুর্ঘটনা ঘটতে পারে।

ভুক্তভোগী দর্শনার্থীরা পর্যটন সম্ভাবনাময় এ স্থানটির সুনাম রক্ষায় নিয়মিত ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা, খাবারের মান ও মূল্য তদারকি এবং সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের কার্যকর নজরদারির দাবি জানিয়েছেন।

এ বিষয়ে বক্তব্য পাওয়ার জন্য উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আফরোজা আফসানার মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সাতছড়ি জাতীয় উদ্যানে টিলা ধস, ঝুঁকিতে ত্রিপুরাপল্লী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

মঙ্গলবার, ২১শে জুলাই, ২০২৬ ইং

০৭:৩৭ এম


সাতছড়ি জাতীয় উদ্যানে টিলা ধস, ঝুঁকিতে ত্রিপুরাপল্লী

 

সাতছড়ি জাতীয় উদ্যানের টিলার ওপর অবস্থিত ত্রিপুরা পল্লীর ২৪টি ক্ষুদ্র জাতিগোষ্ঠীর পরিবার এখন চরম আতঙ্ক ও অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছেন। টানা বৃষ্টিপাত, পাহাড়ি ছড়ার প্রবল স্রোত এবং মাটি ধসের কারণে তাদের বসবাসের টিলা ধীরে ধীরে বিলীন হয়ে যাচ্ছে। বছরের পর বছর ধরে চলা এই ভাঙনে ইতোমধ্যে টিলার বড় একটি অংশ ধসে পড়েছে। পল্লীবাসীর ঘরবাড়ি, চলাচলের রাস্তা এবং পুরো বসতি বর্তমানে ঝুঁকির মুখে রয়েছে।

পরিস্থিতি সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, সাতছড়ি জাতীয় উদ্যানে অবস্থিত ত্রিপুরা পল্লীর চারপাশের মাটি ধসে বিভিন্ন স্থানে বড় বড় ফাটলের সৃষ্টি হয়েছে। পল্লী থেকে বের হওয়ার একমাত্র ব্রিজটির এক পাশের মাটি সরে গিয়ে সেটিও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে, ফলে স্থানীয়দের বিকল্প দুর্গম পথ ব্যবহার করতে হচ্ছে।

পল্লীবাসীদের অভিযোগ, বর্ষা মৌসুম আসলেই তাদের আতঙ্ক বৃদ্ধি পায়। টানা বৃষ্টিপাত শুরু হলেই টিলার বিভিন্ন অংশ অসহায়ভাবে ধসে পড়ে। পাহাড়ি ছড়ায় পানি বাড়ালে বাইরের সঙ্গে যোগাযোগ সম্পূর্ণ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়। এর ফলে স্কুলগামী শিক্ষার্থী, অসুস্থ এবং বয়স্ক ব্যক্তিরা চরম দুর্ভোগে পড়েন। জরুরি প্রয়োজনে বাইরে যাওয়াও অনেক সময় সাধারণত অসম্ভব হয়ে যায়।

ত্রিপুরা পল্লীর হেডম্যান চিত্তরঞ্জন দেববর্মা বলেন, “এই পাহাড়ে আমাদের জন্ম, আমাদের জীবন-জীবিকা সবকিছু। জায়গাটি আমাদের কাছে শুধু বসবাসের স্থান নয়, এটি আমাদের অস্তিত্বের অংশ। আমরা কখনো টিলা কাটিনি, বরং রক্ষা করার চেষ্টা করেছি। কিন্তু বছরের পর বছর ধরে টিলা ধসে এখন আমাদের ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।”

তিনি আরো বলেন, “ছোটবেলায় যেসব ছড়া ছোট দেখেছি, এখন সেগুলো বড় হয়ে ভয়ংকর রূপ নিয়েছে। প্রতি বর্ষায় টিলা ধসে নতুন নতুন ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে। সামনের দিনগুলো নিয়ে আমরা খুবই উদ্বিগ্ন।”

সন্ধ্যা রাণী দেববর্মা জানান, ২০১৭ সালে প্রথম বড় ধরনের টিলা ধস শুরু হয়। তখন তিনটি পরিবার নিজেদের বসতভিটা ছেড়ে অন্যত্র চলে যেতে বাধ্য হয়। পরবর্তী সময়ে আরো দুটি পরিবার স্থানান্তরিত হয়েছে এবং বর্তমানে পুরো টিলাটিই ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে।

তিনি বলেন, “দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে আরো পরিবার গৃহহীন হয়ে পড়বে। এই টিলাগুলো শুধু মানুষের বসবাসের জায়গা নয়, জীববৈচিত্র্য রক্ষার ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ। টিলা ধসে গেলে পরিবেশেরও বড় ক্ষতি হবে।”

বাসিন্দা শাহিন দেববর্মা বলেন, “প্রতিবার বৃষ্টি হলেই টিলা ধসে পড়ে। এভাবে ধসে প্রায় অর্ধেক টিলা বিলীন হয়ে গেছে। যাতায়াতের একমাত্র ব্রিজটিও এখন ঝুঁকিতে। দ্রুত স্থায়ী প্রকল্প নেওয়া না হলে পুরো পল্লী হারিয়ে যেতে পারে।”

সাতছড়ি তেলমাছড়া বিট অফিসার মেহেদি হাসান বলেন, সাতছড়ি জাতীয় উদ্যান প্রকৃতিপ্রেমী ও পর্যটকদের কাছে অত্যন্ত জনপ্রিয়। কিন্তু টানা বৃষ্টির কারণে ত্রিপুরা পল্লীসহ আশপাশের অন্যান্য টিলাগুলো ধসে পড়ছে। গাছপালাও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে, এবং পল্লীর একমাত্র ব্রিজটিও ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) গালিব চৌধুরী বলেন, ত্রিপুরা পল্লীর ভাঙন রোধে বড় ধরনের অর্থের প্রয়োজন। স্থানীয় বাসিন্দারা লিখিত আবেদন দিলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। পাশাপাশি ঝুঁকিপূর্ণ পরিবারগুলোর বিকল্প আবাসনের বিষয়েও উদ্যোগ নেওয়া হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৬
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%