০৬:৪৯ এম
প্রকাশ : ২১ জুলাই ২০২৬, ০৪: ৫৬
উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল ও কদিনের টানা বৃষ্টির কারণে সিরাজগঞ্জে যমুনা নদীতে পানি বৃদ্ধি অব্যাহত রয়েছে। যমুনায় পানি বাড়ায় নদীপাড়ের শত শত মানুষ ভাঙনে দিশাহারা হয়ে পড়েছে। পানি বৃদ্ধির কারণে চরাঞ্চলের নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়ে যাচ্ছে। জেলার শাহজাদপুর উপজেলার সোনাতনী ইউনিয়নের শ্রীপুর, ধীতপুর, কুসুরি, বারপাখিয়া, কাজীপুর উপজেলার চরগিরিশ ফ্লাড সেন্টার এলাকায় ব্যাপকভাবে নদীভাঙন দেখা দিয়েছে। এ ছাড়া চৌহালী উপজেলায়ও নদীভাঙন দেখা দিয়েছে। ভাঙনের মুখে রয়েছে কাজীপুর উপজেলার পশ্চিম চরগিরিশ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ বিভিন্ন বসতভিটা ও ঘরবাড়ি।
সম্ভাব্য বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় জেলার ৮৩ ইউনিয়নের মধ্যে ৩২টি ইউনিয়ন ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করেছে স্বাস্থ্য বিভাগ। বন্যা-পরবর্তী স্বাস্থ্যঝুঁকি মোকাবিলায় ব্যাপক প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে তারা, যা জানিয়েছেন সিভিল সার্জন নুরুল আমীন।
আরও পড়ুন: রাণীনগরে যুবদলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে পালিত
গত ২৪ ঘণ্টায় যমুনা নদীতে সিরাজগঞ্জ শহররক্ষা বাঁধ হার্ড পয়েন্ট এলাকায় তিন সেন্টিসিটার বৃদ্ধি পেয়েছে এবং কাজীপুরে মেঘাইঘাট পয়েন্টে তিন সেন্টিমিটার পানি বৃদ্ধি ঘটেছে। পানি বাড়ার কারণে এই জেলার ৮৩ ইউনিয়নের মধ্যে ৩১টিকে ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করেছে প্রশাসন।
শাহজাদপুর উপজেলার কুরসি গ্রামের ইয়াসিন মোল্লা বলেছেন, 'নদীভাঙনে আমি সর্বস্বান্ত। চরে আমার প্রায় ৬০ বিঘা জমি ছিল। এসব জমিতে ফসলের আবাদ করে পরিবার-পরিজন নিয়ে দিন কাটাতাম। কিন্তু সর্বনাশা যমুনা নদী আমার সব কেড়ে নিয়েছে। এখন আমি নিঃস্ব।' ভাঙনের কারণে আমার মতো অনেকেই আজ পথের ভিখারি। কাজীপুর উপজেলার চরগিরিশ এলাকার আব্দুল কাদের বলেছেন, 'সহায়-সম্বল যা ছিল, সবকিছু এখন নদীর পেটে। প্রতিদিনই কোনো না কোনো এলাকা ভাঙছে। শুষ্ক মৌসুমে যমুনা থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করার কারণে বর্ষা মৌসুমে ভাঙনের তীব্রতা বেড়েছে। চলতি মাসে এই এলাকার অর্ধশতাধিক বাড়িঘর এবং ফসলি জমি নদীতে চলে গেছে। ভাঙনের মুখে রয়েছে চরগিরিশ ফ্লাড সেন্টার, পশ্চিম চরগিরিশ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়সহ বহু বসতভিটা এবং ঘর-বারি।
সিরাজগঞ্জ পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী জাকির হোসেন জানিয়েছেন, 'গত ১৩ জুলাই থেকে টানা আট দিন ধরে সিরাজগঞ্জে যমুনা নদীর পানি বেড়ে চলেছে। গত ২৪ ঘণ্টায় সিরাজগঞ্জ শহররক্ষা বাঁধ হার্ড পয়েন্টে তিন সেন্টিমিটার পানি বেড়ে বিপৎসীমার ৭০ সেন্টিমিটার নিচে প্রবাহিত হচ্ছে। একই সময়ে কাজীপুর মেঘাইঘাট পয়েন্টেও তিন সেন্টিমিটার পানি বেড়ে বিপৎসীমার ১০৭ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। পানি বৃদ্ধির ফল হিসেবে নতুন নতুন এলাকাগুলোর নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়ে যাচ্ছে। ভাঙন রোধে বালুর বস্তা প্রস্তুত করা হচ্ছে।
আরও পড়ুন: কুড়িগ্রামে ৫০০ পিস ইয়াবাসহ ২৬ মামলার আসামি নয়ন মিয়া গ্রেপ্তার
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন