০৪:৪২ পি.এম
সাম্প্রতিক দিনগুলোতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা তীব্র হয়ে উঠেছে। সংঘাত বন্ধ করার এবং স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে কিছু দফায় সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হলেও, উভয় পক্ষের পাল্টাপাল্টি হামলা অব্যাহতভাবে চালিয়ে যাচ্ছে।
এই চলমান উত্তেজনা আরো বাড়াতে যুক্তরাষ্ট্র এবার মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে ২০টিরও বেশি যুদ্ধজাহাজ এবং শত শত সামরিক উড়োজাহাজ মোতায়েনের কথা জানাচ্ছে।
তুর্কি সংবাদ মাধ্যম আনাদোলু এজেন্সি বুধবার জানায়, মার্কিন সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) এ তথ্যটি নিশ্চিত করেছে।
আরও পড়ুন: যাত্রাবাড়ীতে ছিনতাই সন্দেহে গণপিটুনিতে আহত যুবক নিশাত মিয়ার মৃত্যু
সংবাদমাধ্যমটির প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, আগামী কয়েক দিনের মধ্যে ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের হামলা আরো জোরদার হবে। এ প্রসঙ্গে মঙ্গলবার ফক্স নিউজকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, ‘আমরা তাদের ওপর খুব কঠোরভাবে হামলা চালাচ্ছি।
উপকূল এবং সমুদ্রতীরবর্তী এলাকায় তাদের যা কিছু আছে, সবকিছুই লক্ষ্য করে হামলা চালানো হচ্ছে। যতক্ষণ না আমি বলব যে (থামো) যথেষ্ট হয়েছে, ততক্ষণ হামলা চলবে।’
তিনি আরও উল্লেখ করেন, ‘আজ রাতে আমরা কঠোর হামলা চালাব। আগামীকাল রাতেও হামলা হবে। তার পরের রাতেও হামলা হবে। এরপর আগামী সপ্তাহে তাদের জন্য পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হবে। কারণ তখন বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোতে হামলা হবে। এরপর সেতুগুলোতে হামলা হবে। আমরা তাদের সব বিদ্যুৎকেন্দ্র অচল করে দেব।
সব সেতু ধ্বংস করে দেব, যদি তারা আলোচনার টেবিলে না আসে।’
আরও পড়ুন: কাতারের শান্তি প্রস্তাব নাকচ, মধ্যপ্রাচ্যে নতুন হামলার শঙ্কা
ইরানের সামনে চুক্তি করা ছাড়া আর কোনও পথ নেই দাবি করে ট্রাম্প বলেন, ‘তারা চুক্তি করতে চায়। তাদের চুক্তি করাই ভালো। নইলে তাদের আর কিছুই অবশিষ্ট থাকবে না।’
যুক্তরাষ্ট্র হরমুজ প্রণালি খোলা রাখতে চায় বলেও জানিয়েছেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, ‘আমি আগে সেখানে (হরমুজ প্রণালি) একটি ফি আরোপের কথা ভেবেছিলাম। কিন্তু এর পরিবর্তে উপসাগরীয় দেশগুলো যুক্তরাষ্ট্রে বড় অঙ্কের বিনিয়োগ করতে চায়, যা আমার কাছে আরও ভালো মনে হয়েছে।’
তবে আমি ফি আরোপের ধারণাটি পছন্দ করি না। হরমুজ প্রণালি সবার জন্য উন্মুক্ত থাকতে হবে। না হলে অন্যরাও একই কাজ শুরু করবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
ট্রাম্পের এই মন্তব্যের পূর্বে, মঙ্গলবার মার্কিন সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানায়, হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজে হামলা চালানোর ক্ষেত্রে ইরানের সক্ষমতা দুর্বল করার লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্র নতুন করে হামলা চালিয়েছে। পরে যুক্তরাষ্ট্র আবারও ইরানের বিরুদ্ধে নৌ অবরোধ কার্যকর করেছে।
আরও পড়ুন: গণভোটের রায় না মানলে তারেক রহমানের ক্ষমতায় থাকার অধিকার নেই: জুনায়েদ
বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে মার্কিন নৌবাহিনীর ২০টিরও বেশি যুদ্ধজাহাজ এবং শত শত সামরিক উড়োজাহাজ মোতায়েন রয়েছে বলেও জানানো হয়েছে। সাম্প্রতিক দিনগুলোতে হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে উত্তেজনা তীব্র হয়েছে। পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় দুই দেশের মধ্যে সংঘাত বন্ধ ও স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরিত হলেও, উভয় পক্ষের পাল্টাপাল্টি হামলা অব্যাহত রয়েছে।
ট্রাম্পের ভাষায়, ‘এই লোকদের সঙ্গে আলোচনার একমাত্র উপায় হলো শক্তি প্রদর্শন। আর সেই শক্তি হলো সামরিক শক্তি। আমরা সেটাই করেছি।’
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন