১১:৫৮ এম
ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ নতুন মার্কিন নিষেধাজ্ঞার প্রভাবকে গুরুত্ব না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে তিনি উল্লেখ করেন, যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক অবস্থান এমন নয় যে, তারা অন্য দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক আরো সীমিত করার মতো পদক্ষেপ নিতে পারে। সোমবার যুক্তরাষ্ট্রের অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট নতুন অর্থনৈতিক পদক্ষেপের ঘোষণা দেন। তিনি জানান, এসব পদক্ষেপের উদ্দেশ্য হলো ইরানের ‘অর্থনৈতিক জীবনধারা বন্ধ করে দেওয়া’。
তবে বেসেন্ট ইরানের বিরুদ্ধে সবচেয়ে কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপের সিদ্ধান্ত এখনই নেননি। তিনি সতর্ক করে বলেন, ইরানের সঙ্গে বাণিজ্য চালিয়ে যাওয়া দেশগুলোকে মার্কিন ডলারভিত্তিক আর্থিক ব্যবস্থার থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়ার ঝুঁকি নিতে হবে। বেসেন্ট কোন কোন বাণিজ্যিক অংশীদারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে, তা স্পষ্ট করেননি। নতুন নিষেধাজ্ঞা বা শাস্তিমূলক ব্যবস্থা কার্যকর হবে কবে, সেটিও তিনি জানাননি।
বরং তিনি বলেন, নতুন মার্কিন নির্দেশনা মেনে চলার জন্য সংশ্লিষ্ট দেশগুলোকে সময় দেওয়া হবে। এর আগে মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয় ইরানের তেল বাণিজ্যের সঙ্গে যুক্ত থাকার অভিযোগে ৬০ ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান ও জাহাজের ওপর নতুন নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। তবে এই তালিকায় চীনের কোনো আর্থিক প্রতিষ্ঠান অন্তর্ভুক্ত হয়নি। চীন ইরানের সবচেয়ে বড় বাণিজ্যিক অংশীদার।
আরও পড়ুন: ইসরাইলে নির্বাচন: ৮৫ শতাংশ ভোট গণনা শেষ, চূড়ান্ত ফলাফল দুই দিনে আসবে
মার্কিন নিষেধাজ্ঞার ঘোষণা আসার পর গালিবাফ মন্তব্য করেন, যুক্তরাষ্ট্রের হুমকি এখন আর অন্য দেশগুলো সহজে বিশ্বাস করে না। তার বক্তব্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের নিজের অর্থনৈতিক অবস্থাই এমন নয় যে তারা অন্য দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক আরো সীমিত করতে পারে। এক্সে দেওয়া পোস্টে গালিবাফ বলেন, ইরানের বড় বাণিজ্যিক অংশীদাররা গণমাধ্যমে এবং তেহরানে পাঠানো বিভিন্ন বার্তার মাধ্যমে জানিয়েছেন, তারা যুক্তরাষ্ট্রের এসব বক্তব্যকে গুরুত্ব দিচ্ছে না। ইরানের অর্থমন্ত্রী আলি মাদানিজাদেহও মন্তব্য করেন, তার দেশ যুক্তরাষ্ট্রের নতুন নিষেধাজ্ঞার জন্য ‘পুরোপুরি প্রস্তুত’।
রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে মাদানিজাদেহ বলেন, যুক্তরাষ্ট্র অর্থনৈতিক চাপ ও নিষেধাজ্ঞা চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছে। তবে এসব মোকাবিলার জন্য তেহরানের নিজস্ব ব্যবস্থা ও প্রস্তুতি রয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, ইরানের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এখন শুধু হামলা ঠেকানোর মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। প্রয়োজনে শত্রুর হামলার জবাব দেওয়ার সক্ষমতাও ইরানের রয়েছে। মাদানিজাদেহ দাবি করেন, চীন ও রাশিয়া যুক্তরাষ্ট্রের এসব পদক্ষেপ গ্রহণ করেনি। তিনি আশা প্রকাশ করেন, অন্যান্য দেশগুলোও মার্কিন পদক্ষেপের বিরুদ্ধে অবস্থান নেবে।
নতুন মার্কিন অর্থনৈতিক পদক্ষেপ ঘোষণার আগেই ইরান সামরিক জবাব দেওয়ার হুমকি দিয়েছিল। একই সঙ্গে উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে তেল রপ্তানি আরো কমিয়ে দেওয়ার হুমকিও দেওয়া হয়েছে। ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল হোসেইন মোহেব্বি বলেছেন, ইরানের অবকাঠামো হুমকির মুখে পড়লে যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ স্বার্থ এবং জ্বালানি সরবরাহের গুরুত্বপূর্ণ পথগুলোতে বড় ধরনের আঘাত করা হবে। রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম প্রেস টিভি তার এই বক্তব্য প্রকাশ করেছে। এর ফলে অর্থনৈতিক চাপের পাশাপাশি ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সামরিক উত্তেজনাও অব্যাহত রয়েছে।
ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাতের সমাধান করতে চাপের মধ্যে রয়েছে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন। যুদ্ধের কারণে জ্বালানির দাম বেড়েছে। এমন পরিস্থিতিতে ইরানের ওপর আরো অর্থনৈতিক চাপ প্রয়োগের পথেই এগোচ্ছে ওয়াশিংটন। ইরান অবশ্য গত কয়েক দশক ধরেই যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন দেশের নিষেধাজ্ঞার মধ্যে রয়েছে। এসব নিষেধাজ্ঞা দেশটির অর্থনীতিতে বড় ধরনের ক্ষতি করেছে। তবে ইরানের নেতৃত্বকে তাদের অবস্থান পরিবর্তনে বাধ্য করতে পারেনি। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানে হামলা শুরু করার পর প্রায় ছয় মাস পেরিয়ে গেছে। সাম্প্রতিক কয়েক সপ্তাহে কোনো পক্ষই বড় ধরনের হামলা চালায়নি। তবে যুদ্ধ স্থায়ীভাবে বন্ধ হয়ে কূটনৈতিক সমাধানের দিকে পরিস্থিতি এগোচ্ছে- এমন স্পষ্ট কোনো লক্ষণও দেখা যাচ্ছে না।
আরও পড়ুন: স্পেনে দ্রুতগতির ট্রেনের সংঘর্ষে নিহত ৬৮, আহত ৮০
এদিকে উপসাগরীয় অঞ্চলে জাহাজে ইরানের হামলা বন্ধ করতে নতুন পথ খুঁজছে যুক্তরাষ্ট্র। পাশাপাশি তাদের মিত্রদের মাধ্যমে লোহিত সাগরেও ইরানের হামলা বন্ধের চেষ্টা চলছে। যুদ্ধের কারণে ইরানের প্রচলিত সামরিক সক্ষমতার বড় একটি অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। দেশটির অর্থনীতিও বড় ধরনের চাপের মধ্যে পড়েছে। এ ছাড়া ইরানের তৎকালীন সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি নিহত হয়েছেন। তবে এর পরও ইরানের হাতে উপসাগরীয় অঞ্চলের প্রতিবেশী দেশগুলোতে হামলা চালানোর মতো উল্লেখযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন সক্ষমতা রয়েছে। হরমুজ প্রণালিতে চলাচলকারী তেলবাহী জাহাজগুলোকেও হুমকির মুখে ফেলতে পারে তেহরান। ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির বর্তমান অবস্থা এখনো পুরোপুরি পরিষ্কার নয়। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল এই কর্মসূচি পুরোপুরি ধ্বংস করতে চায়। ফলে নিষেধাজ্ঞা, সামরিক চাপ এবং পারমাণবিক কর্মসূচিকে ঘিরে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে উত্তেজনা এখনো অব্যাহত রয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন