ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২৯শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বৃহস্পতিবার, ২৯শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১৩ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

নতুন মার্কিন নিষেধাজ্ঞার জবাব দিতে পুরোপুরি প্রস্তুত ইরান


নতুন মার্কিন নিষেধাজ্ঞার জবাব দিতে পুরোপুরি প্রস্তুত ইরান

ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ নতুন মার্কিন নিষেধাজ্ঞার প্রভাবকে গুরুত্ব না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে তিনি উল্লেখ করেন, যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক অবস্থান এমন নয় যে, তারা অন্য দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক আরো সীমিত করার মতো পদক্ষেপ নিতে পারে। সোমবার যুক্তরাষ্ট্রের অর্থমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট নতুন অর্থনৈতিক পদক্ষেপের ঘোষণা দেন। তিনি জানান, এসব পদক্ষেপের উদ্দেশ্য হলো ইরানের ‘অর্থনৈতিক জীবনধারা বন্ধ করে দেওয়া’。

তবে বেসেন্ট ইরানের বিরুদ্ধে সবচেয়ে কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপের সিদ্ধান্ত এখনই নেননি। তিনি সতর্ক করে বলেন, ইরানের সঙ্গে বাণিজ্য চালিয়ে যাওয়া দেশগুলোকে মার্কিন ডলারভিত্তিক আর্থিক ব্যবস্থার থেকে বিচ্ছিন্ন হওয়ার ঝুঁকি নিতে হবে। বেসেন্ট কোন কোন বাণিজ্যিক অংশীদারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে, তা স্পষ্ট করেননি। নতুন নিষেধাজ্ঞা বা শাস্তিমূলক ব্যবস্থা কার্যকর হবে কবে, সেটিও তিনি জানাননি।

বরং তিনি বলেন, নতুন মার্কিন নির্দেশনা মেনে চলার জন্য সংশ্লিষ্ট দেশগুলোকে সময় দেওয়া হবে। এর আগে মার্কিন অর্থ মন্ত্রণালয় ইরানের তেল বাণিজ্যের সঙ্গে যুক্ত থাকার অভিযোগে ৬০ ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান ও জাহাজের ওপর নতুন নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে। তবে এই তালিকায় চীনের কোনো আর্থিক প্রতিষ্ঠান অন্তর্ভুক্ত হয়নি। চীন ইরানের সবচেয়ে বড় বাণিজ্যিক অংশীদার।

আরও পড়ুন: ইসরাইলে নির্বাচন: ৮৫ শতাংশ ভোট গণনা শেষ, চূড়ান্ত ফলাফল দুই দিনে আসবে

মার্কিন নিষেধাজ্ঞার ঘোষণা আসার পর গালিবাফ মন্তব্য করেন, যুক্তরাষ্ট্রের হুমকি এখন আর অন্য দেশগুলো সহজে বিশ্বাস করে না। তার বক্তব্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের নিজের অর্থনৈতিক অবস্থাই এমন নয় যে তারা অন্য দেশগুলোর সঙ্গে সম্পর্ক আরো সীমিত করতে পারে। এক্সে দেওয়া পোস্টে গালিবাফ বলেন, ইরানের বড় বাণিজ্যিক অংশীদাররা গণমাধ্যমে এবং তেহরানে পাঠানো বিভিন্ন বার্তার মাধ্যমে জানিয়েছেন, তারা যুক্তরাষ্ট্রের এসব বক্তব্যকে গুরুত্ব দিচ্ছে না। ইরানের অর্থমন্ত্রী আলি মাদানিজাদেহও মন্তব্য করেন, তার দেশ যুক্তরাষ্ট্রের নতুন নিষেধাজ্ঞার জন্য ‘পুরোপুরি প্রস্তুত’।

রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে মাদানিজাদেহ বলেন, যুক্তরাষ্ট্র অর্থনৈতিক চাপ ও নিষেধাজ্ঞা চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছে। তবে এসব মোকাবিলার জন্য তেহরানের নিজস্ব ব্যবস্থা ও প্রস্তুতি রয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, ইরানের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এখন শুধু হামলা ঠেকানোর মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। প্রয়োজনে শত্রুর হামলার জবাব দেওয়ার সক্ষমতাও ইরানের রয়েছে। মাদানিজাদেহ দাবি করেন, চীন ও রাশিয়া যুক্তরাষ্ট্রের এসব পদক্ষেপ গ্রহণ করেনি। তিনি আশা প্রকাশ করেন, অন্যান্য দেশগুলোও মার্কিন পদক্ষেপের বিরুদ্ধে অবস্থান নেবে।

নতুন মার্কিন অর্থনৈতিক পদক্ষেপ ঘোষণার আগেই ইরান সামরিক জবাব দেওয়ার হুমকি দিয়েছিল। একই সঙ্গে উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে তেল রপ্তানি আরো কমিয়ে দেওয়ার হুমকিও দেওয়া হয়েছে। ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল হোসেইন মোহেব্বি বলেছেন, ইরানের অবকাঠামো হুমকির মুখে পড়লে যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ স্বার্থ এবং জ্বালানি সরবরাহের গুরুত্বপূর্ণ পথগুলোতে বড় ধরনের আঘাত করা হবে। রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম প্রেস টিভি তার এই বক্তব্য প্রকাশ করেছে। এর ফলে অর্থনৈতিক চাপের পাশাপাশি ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সামরিক উত্তেজনাও অব্যাহত রয়েছে।

ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংঘাতের সমাধান করতে চাপের মধ্যে রয়েছে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসন। যুদ্ধের কারণে জ্বালানির দাম বেড়েছে। এমন পরিস্থিতিতে ইরানের ওপর আরো অর্থনৈতিক চাপ প্রয়োগের পথেই এগোচ্ছে ওয়াশিংটন। ইরান অবশ্য গত কয়েক দশক ধরেই যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন দেশের নিষেধাজ্ঞার মধ্যে রয়েছে। এসব নিষেধাজ্ঞা দেশটির অর্থনীতিতে বড় ধরনের ক্ষতি করেছে। তবে ইরানের নেতৃত্বকে তাদের অবস্থান পরিবর্তনে বাধ্য করতে পারেনি। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানে হামলা শুরু করার পর প্রায় ছয় মাস পেরিয়ে গেছে। সাম্প্রতিক কয়েক সপ্তাহে কোনো পক্ষই বড় ধরনের হামলা চালায়নি। তবে যুদ্ধ স্থায়ীভাবে বন্ধ হয়ে কূটনৈতিক সমাধানের দিকে পরিস্থিতি এগোচ্ছে- এমন স্পষ্ট কোনো লক্ষণও দেখা যাচ্ছে না।

আরও পড়ুন: স্পেনে দ্রুতগতির ট্রেনের সংঘর্ষে নিহত ৬৮, আহত ৮০

এদিকে উপসাগরীয় অঞ্চলে জাহাজে ইরানের হামলা বন্ধ করতে নতুন পথ খুঁজছে যুক্তরাষ্ট্র। পাশাপাশি তাদের মিত্রদের মাধ্যমে লোহিত সাগরেও ইরানের হামলা বন্ধের চেষ্টা চলছে। যুদ্ধের কারণে ইরানের প্রচলিত সামরিক সক্ষমতার বড় একটি অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। দেশটির অর্থনীতিও বড় ধরনের চাপের মধ্যে পড়েছে। এ ছাড়া ইরানের তৎকালীন সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি নিহত হয়েছেন। তবে এর পরও ইরানের হাতে উপসাগরীয় অঞ্চলের প্রতিবেশী দেশগুলোতে হামলা চালানোর মতো উল্লেখযোগ্য ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন সক্ষমতা রয়েছে। হরমুজ প্রণালিতে চলাচলকারী তেলবাহী জাহাজগুলোকেও হুমকির মুখে ফেলতে পারে তেহরান। ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির বর্তমান অবস্থা এখনো পুরোপুরি পরিষ্কার নয়। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল এই কর্মসূচি পুরোপুরি ধ্বংস করতে চায়। ফলে নিষেধাজ্ঞা, সামরিক চাপ এবং পারমাণবিক কর্মসূচিকে ঘিরে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে উত্তেজনা এখনো অব্যাহত রয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

শিবগঞ্জ সীমান্তে ২৫ লাখ টাকার ভারতীয় ট্রাক যন্ত্রাংশ জব্দ করলো ৫৯ বিজিবি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মোঃ শাহিন,চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি

মঙ্গলবার, ২৫শে আগস্ট, ২০২৬ ইং

১১:৫৯ এম


শিবগঞ্জ সীমান্তে ২৫ লাখ টাকার ভারতীয় ট্রাক যন্ত্রাংশ জব্দ করলো ৫৯ বিজিবি

চাঁপাইনবাবগঞ্জের শিবগঞ্জ সীমান্তে বিশেষ অভিযান চালিয়ে ২৫ লাখ টাকা মূল্যের ২০০ পিস ভারতীয় ট্রাকের বিভিন্ন ধরণের যন্ত্রাংশ জব্দ করেছে মহানন্দা ব্যাটালিয়ন (৫৯ বিজিবি)।

বিজিবি সূত্র জানায়, সীমান্ত এলাকায় চোরাচালান ও মাদকবিরোধী নিয়মিত কার্যক্রমের অংশ হিসেবে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে অভিযানটি পরিচালনা করা হয়। আজ মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট ২০২৬) ভোর ৫টার দিকে মহানন্দা ব্যাটালিয়নের সোনামসজিদ বিওপির একটি বিশেষ টহল দল সীমান্ত পিলার ১৮৪/২-এস থেকে প্রায় ২ কিলোমিটার বাংলাদেশের অভ্যন্তরে শিবগঞ্জ থানার শাহাবাজপুর ইউনিয়নের কয়লাবাড়ী ট্রাক টার্মিনালে তল্লাশি চালায়। এ সময় মালিকবিহীন অবস্থায় ২০০ পিস বিভিন্ন প্রকারের ভারতীয় ট্রাকের যন্ত্রাংশ উদ্ধার করা হয়, যার স্থানীয় বাজারমূল্য আনুমানিক ২৫ লাখ টাকা।

উল্লেখ্য, এর আগেও গত ১ আগস্ট মহানন্দা ব্যাটালিয়ন শিবগঞ্জের বালিয়াদিঘীর তালতলা এলাকায় একটি অভিযান চালিয়ে আরও ২৯১ পিস ভারতীয় ট্রাকের যন্ত্রাংশ আটক করেছিল।

ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে ৫৯ বিজিবির অধিনায়ক লেঃ কর্নেল মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম চৌধুরী (এসজিপি, বিএফএম, পিএসসি) জানান, উদ্ধারকৃত মালামালের বিষয়ে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে। সীমান্ত দিয়ে সব ধরণের চোরাচালান প্রতিরোধে বিজিবি জিরো টলারেন্স নীতি বজায় রেখে সতর্ক অবস্থানে রয়েছে এবং এই ধরণের অভিযান ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সুদানে অতর্কিত হামলায় জাতিসংঘের ২ শান্তিরক্ষী নিহত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মঙ্গলবার, ২৫শে আগস্ট, ২০২৬ ইং

১২:০৪ পি.এম


সুদানে অতর্কিত হামলায় জাতিসংঘের ২ শান্তিরক্ষী নিহত

দক্ষিণ সুদানের জংলেই রাজ্যে একটি টহল দলের ওপর সশস্ত্র ব্যক্তিদের হামলার ফলে জাতিসংঘের দুই শান্তিরক্ষী প্রাণ হারিয়েছেন। সোমবার পাজুত এলাকার দিকে যাওয়ার সময় টহল দলটি আকস্মিকভাবে হামলার শিকার হয়।

 

এই তথ্য নিশ্চিত করেছে জাতিসংঘের দক্ষিণ সুদান মিশন (ইউএনএমআইএসএস)।

হামলায় আরো সাতজন আহত হয়েছেন।

আহতদের মধ্যে তিনজন জাতিসংঘের শান্তিরক্ষী, দুইজন দক্ষিণ সুদানের পুলিশ সদস্য এবং দুইজন বেসামরিক কর্মী রয়েছেন। জাতিসংঘের মুখপাত্র স্তেফান দুজারিক জানিয়েছেন, নিহত দুই শান্তিরক্ষী এবং আহত তিন শান্তিরক্ষী সকলেই ইথিওপিয়ার নাগরিক।

 

এখন পর্যন্ত হামলার দায় কোনো গোষ্ঠী স্বীকার করেনি। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এবং জরুরি সহায়তার জন্য ইউএনএমআইএসএস ঘটনাস্থলে একটি বিশেষ দ্রুত প্রতিক্রিয়া দল মোতায়েন করেছে। ইউএনএমআইএসএসের প্রধান অনিতা কিকি গেবো মন্তব্য করেছেন, দক্ষিণ সুদানে শান্তি প্রতিষ্ঠায় কাজ করা জাতিসংঘের কর্মীদের ওপর এ ধরনের হামলা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।

দুজারিক জানিয়েছেন, চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে মিলিশিয়াদের হামলায় নিহত জাতিসংঘের শান্তিরক্ষীর সংখ্যা বেড়ে ৯ জনে দাঁড়িয়েছে।

 

তিনি উল্লেখ করেছেন, জাতিসংঘের শান্তিরক্ষীদের ওপর হামলা আন্তর্জাতিক আইনে যুদ্ধাপরাধ হিসেবে গণ্য হতে পারে। জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসও হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। তিনি হামলার জন্য দায়ীদের দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে বিচারের আওতায় আনার আহ্বান জানিয়েছেন। একই সঙ্গে নিহত ও আহতদের পরিবার এবং স্বজনদের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন তিনি।

দক্ষিণ সুদানে দীর্ঘদিন ধরে সরকারি বাহিনী ও বিরোধী যোদ্ধাদের মধ্যে সংঘাত চলছে।

 

সরকারি বাহিনী বিরোধী নেতা রিক মাচারের অনুগত যোদ্ধা এবং বিভিন্ন মিলিশিয়ার বিরুদ্ধে লড়াই করছে। গত বছর রাষ্ট্রদ্রোহিতাসহ বিভিন্ন অভিযোগে মাচারকে উপরাষ্ট্রপতির পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়। তবে মাচার এসব অভিযোগকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেছেন।

২০১৮ সালে প্রেসিডেন্ট সালভা কির এবং রিক মাচারের মধ্যে একটি শান্তিচুক্তি হয়েছিল। কিন্তু সেই চুক্তি কার্যকরভাবে ভেঙে পড়ায় দেশটিতে আবারও বড় ধরনের গৃহযুদ্ধ শুরু হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্ত দক্ষিণ সুদানে মানবিক সহায়তা কর্মী ও তাদের সম্পদের ওপর ৪৫০টির বেশি সহিংস হামলার ঘটনা ঘটেছে। গত বছরের একই সময়ের তুলনায় এই সংখ্যা দ্বিগুণেরও বেশি।

গত ডিসেম্বর থেকে জংলেই রাজ্যে সংঘাত তীব্র হয়েছে। সেই সময় বিরোধী যোদ্ধারা সরকারি বাহিনীর কয়েকটি অবস্থান দখল করে নেয়। এরপর শান্তিচুক্তি বজায় রাখার প্রতিশ্রুতি থাকলেও সরকার জানুয়ারি থেকে বিমান ও স্থল হামলার মাধ্যমে পাল্টা অভিযান চালিয়ে আসছে।

এ পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্র প্রেসিডেন্ট সালভা কির এবং রিক মাচারের মধ্যে আবারও আলোচনার আহ্বান জানিয়েছে। দেশটি শান্তিচুক্তির পক্ষগুলোর মধ্যে দ্রুত সংলাপ শুরু করে শান্তি বজায় রাখা এবং নতুন করে গৃহযুদ্ধের ঝুঁকি কমানোর আহ্বান জানিয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণিতে হিসাববিজ্ঞান পাঠদানে পরিবর্তনের প্রস্তাব

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মঙ্গলবার, ২৫শে আগস্ট, ২০২৬ ইং

১২:০৮ পি.এম


একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণিতে হিসাববিজ্ঞান পাঠদানে পরিবর্তনের প্রস্তাব

মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) মহাপরিচালকের কাছে আবেদন করেছেন ৩৪তম বিসিএস (সাধারণ শিক্ষা) ক্যাডারের কর্মকর্তা ও ঢাকা উদ্যান সরকারি কলেজের প্রভাষক (হিসাববিজ্ঞান) মো. আব্দুর রাজ্জাক।

তিনি উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ে একাদশ শ্রেণি থেকেই হিসাববিজ্ঞান প্রথম ও দ্বিতীয় পত্র একসঙ্গে পাঠদানের সরকারি নির্দেশনা পরিবর্তনের জন্য আবেদন করেছেন। মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) তিনি এ বিষয়ে লিখিত আবেদনটি জমা দেন। বর্তমানে তিনি মাউশিতে বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হিসেবে কর্মরত আছেন। যুগান্তরে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানা গেছে।

মো. আব্দুর রাজ্জাকের যুক্তি হলো, হিসাববিজ্ঞান একটি প্রক্রিয়াভিত্তিক বিষয় হওয়ায় প্রথম পত্রের বিষয়বস্তু যথাযথভাবে আয়ত্ত করার আগে দ্বিতীয় পত্র পাঠদান শিক্ষার্থীদের জন্য জটিল হয়ে ওঠে। দীর্ঘ ১৬ বছরের অভিজ্ঞতা থেকে তিনি দেখেছেন, উচ্চ মাধ্যমিকের হিসাববিজ্ঞান প্রথম পত্রের ১০টি অধ্যায় ধারাবাহিকভাবে সম্পন্ন না করে দ্বিতীয় পত্রের বিষয়বস্তু শিক্ষার্থীদের জন্য যথাযথভাবে অনুধাবন করা কঠিন হয়ে পড়ে।

বর্তমান নির্দেশনা অনুসারে প্রথম বর্ষ থেকেই দুই পত্র একসঙ্গে পাঠদান করা হচ্ছে। চিঠিতে তিনি উল্লেখ করেন, এতে পাঠদানের ধারাবাহিকতা ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি হচ্ছে। এর ফলাফল এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফলেও প্রতিফলিত হচ্ছে। ২০২৫ সালে হিসাববিজ্ঞান বিষয়ে প্রায় ৪২ শতাংশ শিক্ষার্থী অকৃতকার্য হয়েছে।

আবেদনে তিনি শ্রেণিকক্ষে পাঠদানের বাস্তব সমস্যার কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, সপ্তাহে পাঁচ দিন পাঁচ শিক্ষক পাঁচটি পৃথক অধ্যায় পড়ালে শিক্ষার্থীদের একসঙ্গে একাধিক অধ্যায় অনুসরণ করতে হয়। এর ফলে একটি অধ্যায়ের সঙ্গে আরেকটির সম্পর্ক বুঝতে এবং ধারাবাহিকভাবে প্রস্তুতি নিতে তাদের সমস্যা হয়। আবার কোনো শিক্ষক বা শিক্ষার্থীর অনুপস্থিতি কিংবা কোনো কারণে নির্ধারিত ক্লাস বাতিল হলে ওই শিক্ষকের পরবর্তী ক্লাস পেতে প্রায় ১৫ দিন অপেক্ষা করতে হয়। এতে পাঠের ধারাবাহিকতা আরো ব্যাহত হয়। অন্যদিকে পাঁচ শিক্ষক একই অধ্যায় পর্যায়ক্রমে পড়ালে তাদের পাঠদানের পদ্ধতি ও উপস্থাপনার ভিন্নতার কারণে শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি হওয়ার আশঙ্কা থাকে।

এ অবস্থায় তিনি প্রথম বর্ষে শুধু হিসাববিজ্ঞান প্রথম পত্র এবং দ্বিতীয় বর্ষে শুধু দ্বিতীয় পত্র পাঠদানের নির্দেশনা জারির প্রস্তাব দিয়েছেন। পাশাপাশি একটি শ্রেণিকক্ষে সর্বোচ্চ দুই শিক্ষকের সমন্বিত ও পরিকল্পিত পাঠদানের ব্যবস্থা করার আহ্বান জানানো হয়েছে।

সংশ্লিষ্টদের মতে, একই বিষয়ের একাধিক বই কেনার সামর্থ্য অধিকাংশ শিক্ষার্থীর নেই। এর ফলে শ্রেণিকক্ষে বিভিন্ন বই অনুসরণ করে পাঠদান করা হলে শিক্ষার্থীরা আর্থিকভাবে চাপে পড়ে। এ কারণে শ্রেণিকক্ষে অননুমোদিত বই অনুসরণ করে পাঠদান বন্ধ করে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি) কর্তৃক অনুমোদিত বই অনুসরণ নিশ্চিত করার দাবি উঠেছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

লোহিত সাগরে সৌদি জাহাজে হুতিদের ক্ষেপণাস্ত্র-ড্রোন হামলা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মঙ্গলবার, ২৫শে আগস্ট, ২০২৬ ইং

১২:১৩ পি.এম


লোহিত সাগরে সৌদি জাহাজে হুতিদের ক্ষেপণাস্ত্র-ড্রোন হামলা

হুতি বিদ্রোহীরা দাবি করেছে যে, সৌদি আরবের একটি তেলবাহী জাহাজে হামলা চালানো হয়েছে সাগরে। সোমবার, ইয়ানবুর উপকূলের কাছে ‘আমজান’ নামের জাহাজটিকে লক্ষ্যবস্তু করে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ব্যবহার করা হয়েছে, এমনটি জানিয়েছে ইরান-ঘনিষ্ঠ এই সশস্ত্র গোষ্ঠী।

হামলার খবর প্রকাশ হওয়ার পর সৌদি আরবও ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছে। সৌদি নৌপরিবহন সংস্থা বাহরি জানায়, তাদের আমজান জাহাজ আঞ্চলিক জলসীমায় একটি ‘শত্রুতামূলক ঘটনার’ শিকার হয়েছে। হুতিদের সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি বলেন, ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনের মাধ্যমে জাহাজটিতে হামলা করা হয়েছে। তিনি দাবি করেন, এই হামলা সৌদি আরবের বিরুদ্ধে তাদের ঘোষিত ‘অবরোধের জবাবে অবরোধ’ অভিযানের অংশ।

হুতিরা সৌদি সামরিক বহরে হামলার দাবি করেছে। তাদের ভাষ্যমতে, এসব বহরে ইয়েমেন সরকারের বাহিনীর জন্য সামরিক সরঞ্জাম নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল। হুতিরা দাবি করে, সৌদি ভূখণ্ড থেকে ইয়েমেনে হামলার প্রস্তুতি নেওয়া এসব সামরিক সরঞ্জামবাহী বহর তাদের লক্ষ্যবস্তু ছিল।

ইয়েমেনের সশস্ত্র বাহিনী নামে বিবৃতি দিয়ে হুতিরা জানিয়েছে, তারা সৌদি বাহিনীর বিরুদ্ধে দুটি সামরিক অভিযান পরিচালনা করেছে। প্রথম অভিযানে, সৌদি সামরিক বাহিনীর একটি বড় বহরকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়। ওই বহরে বিপুল পরিমাণ সামরিক সরঞ্জাম ছিল বলে দাবি করেছে হুতিরা। আল-আবর ও আল-ওয়াদিয়াহ এলাকায় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন দিয়ে হামলা চালানো হয়। হুতিরা দাবি করে, হামলায় অস্ত্রবোঝাই ১০টির বেশি ট্রাকে আগুন ধরে যায় এবং সেগুলো ধ্বংস হয়। এসব ট্রাক সৌদি ভূখণ্ড থেকে ইয়েমেনে হামলা চালানোর জন্য যাচ্ছিল বলে গোষ্ঠীটি দাবি করেছে।

দ্বিতীয় অভিযানে আল-কানাইস এলাকায় সৌদি বাহিনীকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়। তাদের দাবি, ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন দিয়ে চালানো এই হামলায় কয়েক ডজন সেনা নিহত ও আহত হয়েছেন। নিহত ও আহতদের মধ্যে কমান্ডার ও কর্মকর্তারাও ছিলেন বলে দাবি করা হয়েছে। এ ছাড়া, কয়েকটি অস্ত্রের গুদামে আগুন ধরে সেগুলোও ধ্বংস হয়েছে বলে হুতিরা দাবি করেছে। এসব দাবির সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি। গত সপ্তাহ থেকে সৌদি আরবের ওপর চাপ বাড়াতে তিনটি লক্ষ্য সামনে এনেছে হুতিরা।

প্রথম লক্ষ্য হলো ‘অবরোধের জবাবে অবরোধ’। এর মাধ্যমে সৌদি জাহাজ চলাচলের বিরুদ্ধে আনসারুল্লাহ নামে পরিচিত হুতিদের ঘোষিত নৌ-নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করার কথা বলা হয়েছে। দ্বিতীয় লক্ষ্য হলো, যেখানে সৌদি সেনাদের সমাবেশ হবে, সেখানেই হামলা চালানো। তৃতীয় লক্ষ্য হলো ইয়েমেনের সার্বভৌমত্ব রক্ষা করা এবং যেকোনো শত্রু বাহিনীর প্রবেশের বিরুদ্ধে লড়াই করা। আনসারুল্লাহর দাবি, তাদের নৌ-অভিযানের কারণে সৌদিদের ওপর কঠোর অবরোধ তৈরি হয়েছে। এমনকি সৌদি জাহাজের ক্ষেত্রে ‘একটি জাহাজও পার হতে পারবে না’ বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছে তারা।

সৌদি আরব ও হুতিদের মধ্যে সংঘাত আবার শুরু হওয়ার পর গত কয়েক সপ্তাহে সৌদি রাষ্ট্রীয় তেল কোম্পানি আরামকোর বিভিন্ন স্থাপনায় অন্তত চারবার হামলার ঘটনা ঘটেছে বলে দাবি করা হয়েছে। এদিকে, ইরানও সাম্প্রতিক সময়ে আরো প্রকাশ্যে হুতিদের সমর্থনে কথা বলছে। তেহরানের দাবি, ইয়েমেনে তাদের মিত্র হুতিরা পশ্চিম এশিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের মিত্রদের ওপর চাপ তৈরি করছে। ইরানের ইসলামী বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল হোসেইন মোহেব্বি এ সপ্তাহে ইরানের আধা সরকারি বার্তা সংস্থা মেহর নিউজ এজেন্সিকে দেওয়া এক বক্তব্যে সৌদি আরবের সামরিক সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তিনি বলেন, সৌদি আরবের সামরিক সক্ষমতা ইসরায়েলের তুলনায়ও কম। এই অবস্থায় দেশটি কীভাবে আনসারুল্লাহ ও ইয়েমেনি যোদ্ধাদের মোকাবেলা করবে তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তিনি।

ইরান ও হুতিদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সুবিধা হলো, তারা তেল পরিবহনের গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথের কাছাকাছি অবস্থান করছে। এসব পথের মধ্যে হরমুজ প্রণালি ও বাব আল-মান্দেব অন্যতম। লোহিত সাগরকে এডেন উপসাগরের সঙ্গে যুক্ত করেছে বাব আল-মান্দেব প্রণালি। এই সরু সমুদ্রপথ দিয়ে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের গুরুত্বপূর্ণ একটি অংশ পরিচালিত হয়। আল মনিটরের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হুতিদের অবরোধের পরও বাব আল-মান্দেব দিয়ে জাহাজ চলাচল আবার বাড়তে পারে। সাম্প্রতিক উত্তেজনা বাড়ার আগে সাধারণত প্রতিদিন প্রায় ৫০টি জাহাজ এই প্রণালি দিয়ে চলাচল করত।

তবে সরু এই সমুদ্রপথগুলোতে জাহাজ চলাচল পুরোপুরি বন্ধ হয়নি। মেরিন ট্রাফিকের তথ্য অনুযায়ী, গত সপ্তাহে হরমুজ ও বাব আল-মান্দেব প্রণালিতে জাহাজ চলাচল সক্রিয় ছিল। হরমুজ প্রণালি দিয়ে ১২১টি জাহাজ চলাচল করেছে। এর আগের সময়ে এই সংখ্যা ছিল ১১৮টি। অর্থাৎ জাহাজ চলাচল প্রায় ২ দশমিক ৫ শতাংশ বেড়েছে। পণ্যবাহী জাহাজও এই পথে চলাচল করেছে। তবে শুধু মোট জাহাজের সংখ্যা দিয়ে পরিস্থিতির পুরো চিত্র বোঝা যাচ্ছে না। কারণ, উত্তেজনা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে জাহাজ চলাচলের ধরনও বদলে গেছে। আল মনিটর জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালিতে চলাচলে বাধা তৈরি হওয়ায় সৌদি আরব লোহিত সাগর দিয়ে তেল রপ্তানির পথ পরিবর্তন করছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৮ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৫
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%