ঢাকা বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

সুদানে অতর্কিত হামলায় জাতিসংঘের ২ শান্তিরক্ষী নিহত


সুদানে অতর্কিত হামলায় জাতিসংঘের ২ শান্তিরক্ষী নিহত

দক্ষিণ সুদানের জংলেই রাজ্যে একটি টহল দলের ওপর সশস্ত্র ব্যক্তিদের হামলার ফলে জাতিসংঘের দুই শান্তিরক্ষী প্রাণ হারিয়েছেন। সোমবার পাজুত এলাকার দিকে যাওয়ার সময় টহল দলটি আকস্মিকভাবে হামলার শিকার হয়।

 

এই তথ্য নিশ্চিত করেছে জাতিসংঘের দক্ষিণ সুদান মিশন (ইউএনএমআইএসএস)।

আরও পড়ুন: আড়াইহাজারে পরিবেশদূষণের দায়ে প্রবাসী হাসপাতালকে ৫০ হাজার টাকা জরিমানা

হামলায় আরো সাতজন আহত হয়েছেন।

আহতদের মধ্যে তিনজন জাতিসংঘের শান্তিরক্ষী, দুইজন দক্ষিণ সুদানের পুলিশ সদস্য এবং দুইজন বেসামরিক কর্মী রয়েছেন। জাতিসংঘের মুখপাত্র স্তেফান দুজারিক জানিয়েছেন, নিহত দুই শান্তিরক্ষী এবং আহত তিন শান্তিরক্ষী সকলেই ইথিওপিয়ার নাগরিক।

 

এখন পর্যন্ত হামলার দায় কোনো গোষ্ঠী স্বীকার করেনি। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে এবং জরুরি সহায়তার জন্য ইউএনএমআইএসএস ঘটনাস্থলে একটি বিশেষ দ্রুত প্রতিক্রিয়া দল মোতায়েন করেছে। ইউএনএমআইএসএসের প্রধান অনিতা কিকি গেবো মন্তব্য করেছেন, দক্ষিণ সুদানে শান্তি প্রতিষ্ঠায় কাজ করা জাতিসংঘের কর্মীদের ওপর এ ধরনের হামলা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।

আরও পড়ুন: প্রধানমন্ত্রীর জাপান সফরে ৪টি সহযোগিতা স্মারক সই

দুজারিক জানিয়েছেন, চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে মিলিশিয়াদের হামলায় নিহত জাতিসংঘের শান্তিরক্ষীর সংখ্যা বেড়ে ৯ জনে দাঁড়িয়েছে।

 

তিনি উল্লেখ করেছেন, জাতিসংঘের শান্তিরক্ষীদের ওপর হামলা আন্তর্জাতিক আইনে যুদ্ধাপরাধ হিসেবে গণ্য হতে পারে। জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসও হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। তিনি হামলার জন্য দায়ীদের দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে বিচারের আওতায় আনার আহ্বান জানিয়েছেন। একই সঙ্গে নিহত ও আহতদের পরিবার এবং স্বজনদের প্রতি সমবেদনা জানিয়েছেন তিনি।

দক্ষিণ সুদানে দীর্ঘদিন ধরে সরকারি বাহিনী ও বিরোধী যোদ্ধাদের মধ্যে সংঘাত চলছে।

আরও পড়ুন: রুয়ান্ডার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নতুন নিষেধাজ্ঞা

 

সরকারি বাহিনী বিরোধী নেতা রিক মাচারের অনুগত যোদ্ধা এবং বিভিন্ন মিলিশিয়ার বিরুদ্ধে লড়াই করছে। গত বছর রাষ্ট্রদ্রোহিতাসহ বিভিন্ন অভিযোগে মাচারকে উপরাষ্ট্রপতির পদ থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়। তবে মাচার এসব অভিযোগকে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে দাবি করেছেন।

২০১৮ সালে প্রেসিডেন্ট সালভা কির এবং রিক মাচারের মধ্যে একটি শান্তিচুক্তি হয়েছিল। কিন্তু সেই চুক্তি কার্যকরভাবে ভেঙে পড়ায় দেশটিতে আবারও বড় ধরনের গৃহযুদ্ধ শুরু হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

জাতিসংঘের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্ত দক্ষিণ সুদানে মানবিক সহায়তা কর্মী ও তাদের সম্পদের ওপর ৪৫০টির বেশি সহিংস হামলার ঘটনা ঘটেছে। গত বছরের একই সময়ের তুলনায় এই সংখ্যা দ্বিগুণেরও বেশি।

আরও পড়ুন: ভোটার এলাকা পরিবর্তনের সময় ১ নভেম্বর পর্যন্ত বাড়াল ইসি

গত ডিসেম্বর থেকে জংলেই রাজ্যে সংঘাত তীব্র হয়েছে। সেই সময় বিরোধী যোদ্ধারা সরকারি বাহিনীর কয়েকটি অবস্থান দখল করে নেয়। এরপর শান্তিচুক্তি বজায় রাখার প্রতিশ্রুতি থাকলেও সরকার জানুয়ারি থেকে বিমান ও স্থল হামলার মাধ্যমে পাল্টা অভিযান চালিয়ে আসছে।

এ পরিস্থিতিতে যুক্তরাষ্ট্র প্রেসিডেন্ট সালভা কির এবং রিক মাচারের মধ্যে আবারও আলোচনার আহ্বান জানিয়েছে। দেশটি শান্তিচুক্তির পক্ষগুলোর মধ্যে দ্রুত সংলাপ শুরু করে শান্তি বজায় রাখা এবং নতুন করে গৃহযুদ্ধের ঝুঁকি কমানোর আহ্বান জানিয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণিতে হিসাববিজ্ঞান পাঠদানে পরিবর্তনের প্রস্তাব

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মঙ্গলবার, ২৫শে আগস্ট, ২০২৬ ইং

১২:০৮ পি.এম


একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণিতে হিসাববিজ্ঞান পাঠদানে পরিবর্তনের প্রস্তাব

মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা অধিদপ্তরের (মাউশি) মহাপরিচালকের কাছে আবেদন করেছেন ৩৪তম বিসিএস (সাধারণ শিক্ষা) ক্যাডারের কর্মকর্তা ও ঢাকা উদ্যান সরকারি কলেজের প্রভাষক (হিসাববিজ্ঞান) মো. আব্দুর রাজ্জাক।

তিনি উচ্চ মাধ্যমিক পর্যায়ে একাদশ শ্রেণি থেকেই হিসাববিজ্ঞান প্রথম ও দ্বিতীয় পত্র একসঙ্গে পাঠদানের সরকারি নির্দেশনা পরিবর্তনের জন্য আবেদন করেছেন। মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) তিনি এ বিষয়ে লিখিত আবেদনটি জমা দেন। বর্তমানে তিনি মাউশিতে বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা হিসেবে কর্মরত আছেন। যুগান্তরে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানা গেছে।

মো. আব্দুর রাজ্জাকের যুক্তি হলো, হিসাববিজ্ঞান একটি প্রক্রিয়াভিত্তিক বিষয় হওয়ায় প্রথম পত্রের বিষয়বস্তু যথাযথভাবে আয়ত্ত করার আগে দ্বিতীয় পত্র পাঠদান শিক্ষার্থীদের জন্য জটিল হয়ে ওঠে। দীর্ঘ ১৬ বছরের অভিজ্ঞতা থেকে তিনি দেখেছেন, উচ্চ মাধ্যমিকের হিসাববিজ্ঞান প্রথম পত্রের ১০টি অধ্যায় ধারাবাহিকভাবে সম্পন্ন না করে দ্বিতীয় পত্রের বিষয়বস্তু শিক্ষার্থীদের জন্য যথাযথভাবে অনুধাবন করা কঠিন হয়ে পড়ে।

বর্তমান নির্দেশনা অনুসারে প্রথম বর্ষ থেকেই দুই পত্র একসঙ্গে পাঠদান করা হচ্ছে। চিঠিতে তিনি উল্লেখ করেন, এতে পাঠদানের ধারাবাহিকতা ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি শিক্ষার্থীদের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি হচ্ছে। এর ফলাফল এইচএসসি পরীক্ষার ফলাফলেও প্রতিফলিত হচ্ছে। ২০২৫ সালে হিসাববিজ্ঞান বিষয়ে প্রায় ৪২ শতাংশ শিক্ষার্থী অকৃতকার্য হয়েছে।

আবেদনে তিনি শ্রেণিকক্ষে পাঠদানের বাস্তব সমস্যার কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, সপ্তাহে পাঁচ দিন পাঁচ শিক্ষক পাঁচটি পৃথক অধ্যায় পড়ালে শিক্ষার্থীদের একসঙ্গে একাধিক অধ্যায় অনুসরণ করতে হয়। এর ফলে একটি অধ্যায়ের সঙ্গে আরেকটির সম্পর্ক বুঝতে এবং ধারাবাহিকভাবে প্রস্তুতি নিতে তাদের সমস্যা হয়। আবার কোনো শিক্ষক বা শিক্ষার্থীর অনুপস্থিতি কিংবা কোনো কারণে নির্ধারিত ক্লাস বাতিল হলে ওই শিক্ষকের পরবর্তী ক্লাস পেতে প্রায় ১৫ দিন অপেক্ষা করতে হয়। এতে পাঠের ধারাবাহিকতা আরো ব্যাহত হয়। অন্যদিকে পাঁচ শিক্ষক একই অধ্যায় পর্যায়ক্রমে পড়ালে তাদের পাঠদানের পদ্ধতি ও উপস্থাপনার ভিন্নতার কারণে শিক্ষার্থীদের মধ্যে বিভ্রান্তি তৈরি হওয়ার আশঙ্কা থাকে।

এ অবস্থায় তিনি প্রথম বর্ষে শুধু হিসাববিজ্ঞান প্রথম পত্র এবং দ্বিতীয় বর্ষে শুধু দ্বিতীয় পত্র পাঠদানের নির্দেশনা জারির প্রস্তাব দিয়েছেন। পাশাপাশি একটি শ্রেণিকক্ষে সর্বোচ্চ দুই শিক্ষকের সমন্বিত ও পরিকল্পিত পাঠদানের ব্যবস্থা করার আহ্বান জানানো হয়েছে।

সংশ্লিষ্টদের মতে, একই বিষয়ের একাধিক বই কেনার সামর্থ্য অধিকাংশ শিক্ষার্থীর নেই। এর ফলে শ্রেণিকক্ষে বিভিন্ন বই অনুসরণ করে পাঠদান করা হলে শিক্ষার্থীরা আর্থিকভাবে চাপে পড়ে। এ কারণে শ্রেণিকক্ষে অননুমোদিত বই অনুসরণ করে পাঠদান বন্ধ করে জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি) কর্তৃক অনুমোদিত বই অনুসরণ নিশ্চিত করার দাবি উঠেছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

লোহিত সাগরে সৌদি জাহাজে হুতিদের ক্ষেপণাস্ত্র-ড্রোন হামলা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মঙ্গলবার, ২৫শে আগস্ট, ২০২৬ ইং

১২:১৩ পি.এম


লোহিত সাগরে সৌদি জাহাজে হুতিদের ক্ষেপণাস্ত্র-ড্রোন হামলা

হুতি বিদ্রোহীরা দাবি করেছে যে, সৌদি আরবের একটি তেলবাহী জাহাজে হামলা চালানো হয়েছে সাগরে। সোমবার, ইয়ানবুর উপকূলের কাছে ‘আমজান’ নামের জাহাজটিকে লক্ষ্যবস্তু করে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ব্যবহার করা হয়েছে, এমনটি জানিয়েছে ইরান-ঘনিষ্ঠ এই সশস্ত্র গোষ্ঠী।

হামলার খবর প্রকাশ হওয়ার পর সৌদি আরবও ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছে। সৌদি নৌপরিবহন সংস্থা বাহরি জানায়, তাদের আমজান জাহাজ আঞ্চলিক জলসীমায় একটি ‘শত্রুতামূলক ঘটনার’ শিকার হয়েছে। হুতিদের সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি বলেন, ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোনের মাধ্যমে জাহাজটিতে হামলা করা হয়েছে। তিনি দাবি করেন, এই হামলা সৌদি আরবের বিরুদ্ধে তাদের ঘোষিত ‘অবরোধের জবাবে অবরোধ’ অভিযানের অংশ।

হুতিরা সৌদি সামরিক বহরে হামলার দাবি করেছে। তাদের ভাষ্যমতে, এসব বহরে ইয়েমেন সরকারের বাহিনীর জন্য সামরিক সরঞ্জাম নিয়ে যাওয়া হচ্ছিল। হুতিরা দাবি করে, সৌদি ভূখণ্ড থেকে ইয়েমেনে হামলার প্রস্তুতি নেওয়া এসব সামরিক সরঞ্জামবাহী বহর তাদের লক্ষ্যবস্তু ছিল।

ইয়েমেনের সশস্ত্র বাহিনী নামে বিবৃতি দিয়ে হুতিরা জানিয়েছে, তারা সৌদি বাহিনীর বিরুদ্ধে দুটি সামরিক অভিযান পরিচালনা করেছে। প্রথম অভিযানে, সৌদি সামরিক বাহিনীর একটি বড় বহরকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়। ওই বহরে বিপুল পরিমাণ সামরিক সরঞ্জাম ছিল বলে দাবি করেছে হুতিরা। আল-আবর ও আল-ওয়াদিয়াহ এলাকায় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন দিয়ে হামলা চালানো হয়। হুতিরা দাবি করে, হামলায় অস্ত্রবোঝাই ১০টির বেশি ট্রাকে আগুন ধরে যায় এবং সেগুলো ধ্বংস হয়। এসব ট্রাক সৌদি ভূখণ্ড থেকে ইয়েমেনে হামলা চালানোর জন্য যাচ্ছিল বলে গোষ্ঠীটি দাবি করেছে।

দ্বিতীয় অভিযানে আল-কানাইস এলাকায় সৌদি বাহিনীকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়। তাদের দাবি, ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন দিয়ে চালানো এই হামলায় কয়েক ডজন সেনা নিহত ও আহত হয়েছেন। নিহত ও আহতদের মধ্যে কমান্ডার ও কর্মকর্তারাও ছিলেন বলে দাবি করা হয়েছে। এ ছাড়া, কয়েকটি অস্ত্রের গুদামে আগুন ধরে সেগুলোও ধ্বংস হয়েছে বলে হুতিরা দাবি করেছে। এসব দাবির সত্যতা যাচাই করা সম্ভব হয়নি। গত সপ্তাহ থেকে সৌদি আরবের ওপর চাপ বাড়াতে তিনটি লক্ষ্য সামনে এনেছে হুতিরা।

প্রথম লক্ষ্য হলো ‘অবরোধের জবাবে অবরোধ’। এর মাধ্যমে সৌদি জাহাজ চলাচলের বিরুদ্ধে আনসারুল্লাহ নামে পরিচিত হুতিদের ঘোষিত নৌ-নিষেধাজ্ঞা কার্যকর করার কথা বলা হয়েছে। দ্বিতীয় লক্ষ্য হলো, যেখানে সৌদি সেনাদের সমাবেশ হবে, সেখানেই হামলা চালানো। তৃতীয় লক্ষ্য হলো ইয়েমেনের সার্বভৌমত্ব রক্ষা করা এবং যেকোনো শত্রু বাহিনীর প্রবেশের বিরুদ্ধে লড়াই করা। আনসারুল্লাহর দাবি, তাদের নৌ-অভিযানের কারণে সৌদিদের ওপর কঠোর অবরোধ তৈরি হয়েছে। এমনকি সৌদি জাহাজের ক্ষেত্রে ‘একটি জাহাজও পার হতে পারবে না’ বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছে তারা।

সৌদি আরব ও হুতিদের মধ্যে সংঘাত আবার শুরু হওয়ার পর গত কয়েক সপ্তাহে সৌদি রাষ্ট্রীয় তেল কোম্পানি আরামকোর বিভিন্ন স্থাপনায় অন্তত চারবার হামলার ঘটনা ঘটেছে বলে দাবি করা হয়েছে। এদিকে, ইরানও সাম্প্রতিক সময়ে আরো প্রকাশ্যে হুতিদের সমর্থনে কথা বলছে। তেহরানের দাবি, ইয়েমেনে তাদের মিত্র হুতিরা পশ্চিম এশিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের মিত্রদের ওপর চাপ তৈরি করছে। ইরানের ইসলামী বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল হোসেইন মোহেব্বি এ সপ্তাহে ইরানের আধা সরকারি বার্তা সংস্থা মেহর নিউজ এজেন্সিকে দেওয়া এক বক্তব্যে সৌদি আরবের সামরিক সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তিনি বলেন, সৌদি আরবের সামরিক সক্ষমতা ইসরায়েলের তুলনায়ও কম। এই অবস্থায় দেশটি কীভাবে আনসারুল্লাহ ও ইয়েমেনি যোদ্ধাদের মোকাবেলা করবে তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন তিনি।

ইরান ও হুতিদের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ সুবিধা হলো, তারা তেল পরিবহনের গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথের কাছাকাছি অবস্থান করছে। এসব পথের মধ্যে হরমুজ প্রণালি ও বাব আল-মান্দেব অন্যতম। লোহিত সাগরকে এডেন উপসাগরের সঙ্গে যুক্ত করেছে বাব আল-মান্দেব প্রণালি। এই সরু সমুদ্রপথ দিয়ে আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের গুরুত্বপূর্ণ একটি অংশ পরিচালিত হয়। আল মনিটরের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হুতিদের অবরোধের পরও বাব আল-মান্দেব দিয়ে জাহাজ চলাচল আবার বাড়তে পারে। সাম্প্রতিক উত্তেজনা বাড়ার আগে সাধারণত প্রতিদিন প্রায় ৫০টি জাহাজ এই প্রণালি দিয়ে চলাচল করত।

তবে সরু এই সমুদ্রপথগুলোতে জাহাজ চলাচল পুরোপুরি বন্ধ হয়নি। মেরিন ট্রাফিকের তথ্য অনুযায়ী, গত সপ্তাহে হরমুজ ও বাব আল-মান্দেব প্রণালিতে জাহাজ চলাচল সক্রিয় ছিল। হরমুজ প্রণালি দিয়ে ১২১টি জাহাজ চলাচল করেছে। এর আগের সময়ে এই সংখ্যা ছিল ১১৮টি। অর্থাৎ জাহাজ চলাচল প্রায় ২ দশমিক ৫ শতাংশ বেড়েছে। পণ্যবাহী জাহাজও এই পথে চলাচল করেছে। তবে শুধু মোট জাহাজের সংখ্যা দিয়ে পরিস্থিতির পুরো চিত্র বোঝা যাচ্ছে না। কারণ, উত্তেজনা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে জাহাজ চলাচলের ধরনও বদলে গেছে। আল মনিটর জানিয়েছে, হরমুজ প্রণালিতে চলাচলে বাধা তৈরি হওয়ায় সৌদি আরব লোহিত সাগর দিয়ে তেল রপ্তানির পথ পরিবর্তন করছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

‘জীবন আরো সুন্দর হচ্ছে’, জন্মদিনে দুয়া লিপা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বিনোদন ডেস্ক

মঙ্গলবার, ২৫শে আগস্ট, ২০২৬ ইং

১২:১৬ পি.এম


‘জীবন আরো সুন্দর হচ্ছে’, জন্মদিনে দুয়া লিপা

পপ তারকা দুয়া লিপা জীবনের নতুন অধ্যায়ে প্রবেশ করে প্রথম জন্মদিন উদযাপন করেছেন। গত ২২ আগস্ট তার জন্মদিন উপলক্ষে স্বামী ও ব্রিটিশ অভিনেতা ক্যালাম টার্নারের সঙ্গে কাটানো কিছু রোমান্টিক ও আনন্দময় মুহূর্ত সোমবার (২৪ আগস্ট) ইনস্টাগ্রামে অনুরাগীদের সঙ্গে শেয়ার করেছেন

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত ছবিগুলো এবং ভিডিওতে দেখা যায়, দুয়া লিপা এবং ক্যালাম টার্নার গ্রামীণ পরিবেশে সময় কাটাচ্ছেন। তারা ফুলের ক্ষেতে ঘুরে বেড়াচ্ছেন, দুজনের মিষ্টি সেলফি তুলছেন, বাস্কেটবল খেলছেন এবং জন্মদিনের বিশেষ কেক ও ডিনারের ছবি পোস্ট করেছেন গায়িকা। একটি ছবিতে ক্যালাম টার্নারকে দুয়া লিপার গালে ভালোবাসা প্রকাশ করতে দেখা যায়। ক্যাপশনে দুয়া লিপা লিখেছেন, ‘এত ভালোবাসা আর শুভেচ্ছার জন্য সবাইকে ধন্যবাদ।

জীবনের পরবর্তী ধাপের জন্য প্রস্তুত। সবকিছু দিন দিন আরো সুন্দর হচ্ছে।’

চলতি বছরের মে মাসে লন্ডনে একটি ঘরোয়া আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে দুয়া লিপা ও ক্যালাম টার্নার বিবাহবন্ধনে আবদ্ধ হন। পরে জুনে ইতালির সিসিলিতে একটি জমকালো আয়োজনের মাধ্যমে পরিবার ও ঘনিষ্ঠ বন্ধুদের নিয়ে বিয়ের মূল উৎসব পালন করেন তারা।

সম্প্রতি ভোগ ইতালিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে দুয়া লিপা জানিয়েছেন, ক্যালাম টার্নারের সঙ্গে এই বাঁধনে জড়ানোর পর তার গান লেখার ভাবনাতেও ইতিবাচক পরিবর্তন এসেছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ভারতে প্যাকেটজাত খাবারের মোড়কে স্বাস্থ্য সতর্কতা নিয়ে বিতর্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মঙ্গলবার, ২৫শে আগস্ট, ২০২৬ ইং

১২:২১ পি.এম


ভারতে প্যাকেটজাত খাবারের মোড়কে স্বাস্থ্য সতর্কতা নিয়ে বিতর্ক

ভারতে প্যাকেটজাত খাবার ও পানীয়ের মোড়কে পুষ্টি ও স্বাস্থ্যসংক্রান্ত সতর্কতামূলক লেবেল দেওয়া নিয়ে নতুন বিতর্ক শুরু হয়েছে।

প্যাকেটজাত খাবারে বেশি চিনি, লবণ ও চর্বি থাকলে ভোক্তাদের সহজে জানানোর জন্য প্যাকেটের সামনে রঙিন সতর্কবার্তা দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছিল ভারত।

তবে, বড় খাদ্য ও পানীয় কম্পানিগুলোর বিরোধিতার কারণে এই পরিকল্পনা থেকে সরে এসেছে দেশটির খাদ্য নিরাপত্তা নিয়ন্ত্রক সংস্থা।

ভারতের খাদ্য নিরাপত্তা ও মান নিয়ন্ত্রণ কর্তৃপক্ষ 

(এফএসএসএআই) গত আগস্টে জানিয়েছে, প্যাকেটের সামনে রঙিন সতর্কবার্তা দেওয়ার প্রস্তাবটি আর এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে না। এর পরিবর্তে, প্যাকেটের ওপর সাদা-কালো ছকের মাধ্যমে খাবারে কতটুকু চিনি, চর্বি ও লবণ রয়েছে, তা উল্লেখ করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।

তবে, এ সিদ্ধান্ত নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। জনস্বাস্থ্যকর্মীদের আবেদনের পর ভারতের সুপ্রিম কোর্ট বিষয়টি পর্যালোচনা করছে। জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, প্যাকেটের সামনে সহজে বোঝা যায় এমন সতর্কবার্তা থাকলে মানুষ খাবার কেনার সময় বেশি সচেতন হতে পারেন।

এ ক্ষেত্রে কিছু পানীয়র উদাহরণ সামনে এসেছে। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ভারতের বাইরে বিক্রি হওয়া কিছু পানীয়তে ক্যালোরি বা চিনির পরিমাণ কম থাকে।

কিন্তু ভারতে একই ব্র্যান্ডের পানীয়তে চিনি প্রায় তিন গুণ বেশি। কৃত্রিম রংও ব্যবহার করা হয়, যার কারণে ইউরোপে পণ্যের মোড়কে স্পষ্ট স্বাস্থ্য সতর্কতা দেওয়ার নিয়ম রয়েছে। ভারতে অবশ্য এসব তথ্য সাধারণত পণ্যের পেছনে ছোট অক্ষরে লেখা থাকে।

জনস্বাস্থ্যকর্মীদের অভিযোগ, বড় ভোক্তাপণ্য কম্পানিগুলো দীর্ঘদিন ধরে প্যাকেটজাত খাবারের সামনে বাধ্যতামূলক পুষ্টি সতর্কতা দেওয়ার উদ্যোগের বিরোধিতা করে আসছে।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, খাবারের পুষ্টিগুণ সম্পর্কে সহজ ও স্পষ্ট তথ্য থাকলে মানুষ স্বাস্থ্যকর খাবার বেছে নিতে পারেন।

বিশ্বের প্রায় ২০টি দেশে ইতোমধ্যে প্যাকেটের সামনে সহজে বোঝা যায় এমন পুষ্টি লেবেল চালু হয়েছে। এসব লেবেলে বেশি চিনি বা লবণের মাত্রা লাল রঙে এবং কম চর্বির মাত্রা সবুজ রঙে দেখানো হতে পারে।

ল্যান্সেট জার্নালে প্রকাশিত এক গবেষণায় বলা হয়েছে, ২০৫০ সালের মধ্যে ভারতে প্রায় ৪৫ কোটি মানুষ অতিরিক্ত ওজন বা স্থূলতায় ভুগতে পারেন। এ কারণে জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা খাবারের পুষ্টি সম্পর্কে আরও স্বচ্ছ তথ্য দেওয়ার ওপর জোর দিচ্ছেন।

রয়টার্সের পর্যালোচনা করা রেকর্ডিং অনুযায়ী, গত ১৯ মার্চ শিল্পখাতের প্রতিনিধিদের সঙ্গে এফএসএসএআইয়ের একটি বৈঠকে সতর্কতামূলক লেবেল নিয়ে তীব্র আলোচনা হয়। শিল্পখাতের কর্মকর্তারা তখন দাবি করেন, এ ধরনের লেবেল ভোক্তাদের বিভ্রান্ত করতে পারে এবং এগুলো খুব বেশি কার্যকর নাও হতে পারে।

কোকা-কোলা ইন্ডিয়ার এক ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা মিলি ভট্টাচার্য ওই বৈঠকে বলেন, যারা আগে থেকেই খাবারের উপাদানের তালিকা পড়েন না, তারা শুধু মোড়কের ওপর একটি প্রতীক বা সতর্কতা দেখেই খাদ্যাভ্যাস উল্লেখযোগ্যভাবে পরিবর্তন করবেন, এমন ধারণা পুরোপুরি ঠিক নয়।

তিনি বলেন, সতর্কতামূলক লেবেল মানুষকে বেশি চিনি বা লবণযুক্ত খাবার খাওয়া থেকে বিরত রাখতে পারবে না। তার মতে, ভারতীয় চিকিৎসকেরা রোগীদের কোন খাবার এড়িয়ে চলা উচিত, সে বিষয়ে ইতোমধ্যে পরামর্শ দিয়ে থাকেন। তবে জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, মোড়কের সামনে সহজে বোঝা যায় এমন সতর্কতামূলক লেবেল থাকলে ভোক্তারা খাবার কেনার সময় দ্রুত ও সচেতন সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন।

অস্ট্রেলিয়ার জর্জ ইনস্টিটিউট ফর গ্লোবাল হেলথের খাদ্যনীতি বিভাগের প্রধান সিমোন পেট্রিগিউ বলেন, সতর্কতামূলক লেবেল চালু হলে খাদ্য কম্পানিগুলোর মুনাফায় প্রভাব পড়তে পারে। তাই কম্পানিগুলো যতদিন সম্ভব এ ধরনের লেবেল ঠেকিয়ে রাখতে আগ্রহী।

তার মতে, এর ফলে ভারতীয় ভোক্তারা তারা যে খাবার কিনছেন, সেটি কতটা স্বাস্থ্যকর সে সম্পর্কে পর্যাপ্ত তথ্য পাচ্ছেন না। দুই ডজনের বেশি দেশে খাবারের মোড়কের সামনে পুষ্টি লেবেল নিয়ে গবেষণা করা পেট্রিগিউ বলেন, বিভিন্ন স্বার্থগোষ্ঠীর চাপ নিয়ন্ত্রকদের কঠোর নিয়ম চালুর প্রক্রিয়াকে অনেকটাই বাধাগ্রস্ত করেছে। এফএসএসএআই এ বিষয়ে মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। সংস্থাটি বলেছে, খাদ্যপণ্যের লেবেল সংক্রান্ত বিষয়টি বর্তমানে আদালতে বিচারাধীন।

ভারতে প্যাকেটজাত খাবার ও পানীয়ের বাজার ১০ হাজার কোটি ডলারের বেশি। শিল্পখাতের হিসাবে, দেশটিতে তৈরি প্রায় ৮০ শতাংশ প্যাকেটজাত খাবারে চিনি, লবণ ও চর্বির পরিমাণ বেশি হতে পারে।

২০১৭ সাল থেকে ভারতে প্যাকেটজাত খাবারের সামনে রঙের মাধ্যমে সতর্কবার্তা দেওয়ার বিভিন্ন প্রস্তাব এসেছে। খাবার কতটা স্বাস্থ্যকর, তা বোঝাতে স্টার রেটিং চালুর প্রস্তাবও দেওয়া হয়েছিল। তবে এখন পর্যন্ত খাবারের পেছনে উপাদান ও পুষ্টির তথ্য লেখা থাকাই মূলত বাধ্যতামূলক। একই ব্র্যান্ডের খাবার ও পানীয় বিভিন্ন দেশে ভিন্ন উপাদান দিয়ে তৈরি করা হচ্ছে, এ বিষয়টিও আলোচনায় এসেছে।

ভারতে প্যাকেটজাত খাবার নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও সচেতনতা বাড়ছে। ‘ফুড ফার্মার’ নামে পরিচিত রেভান্ত হিমাতসিংকা ইউটিউব ও ইনস্টাগ্রামে প্যাকেটজাত খাবারের উপাদান নিয়ে নিয়মিত কথা বলেন। তার অনুসারীর সংখ্যা ৫০ লাখের বেশি। তিনি বিভিন্ন দেশের একই ব্র্যান্ডের পণ্যের উপাদান তুলনা করে দেখান এবং ভারতীয় পণ্যে ব্যবহৃত উপাদান নিয়ে ভোক্তাদের সচেতন করার চেষ্টা করেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৬
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%