০২:৫৩ এম
ফুটবল পাগল দেশ ব্রাজিলে প্রতিটি শিশুরই স্বপ্ন বিখ্যাত হলুদ জার্সি গায়ে বিশ্বকাপ খেলার। কিন্তু মাত্র ১৯ বছর বয়সে যে রায়ানের স্বপ্ন সত্যি হবে, তা তাকে হয়তো ঘুণাক্ষরেও ভাবতে হয়নি। ভাস্কো দা গামার একাডেমি থেকে উঠে আসা এক অখ্যাত কিশোর আজ তিনি বিশ্বমঞ্চে সেলেসাওদের অন্যতম ভরসা। রূপকথার মতো এই উত্থান যেন সিনেমার গল্পকেও হার মানায়।
সম্প্রতি ব্রাজিল দলের টিম হোটেলে সংবাদমাধ্যমের সামনে নিজের এই রোমাঞ্চকর যাত্রা নিয়ে খোলামেলা কথা বলেছেন বোর্নমাউথের এই তরুণ স্ট্রাইকার। খেলোয়াড় হিসেবে নিজেকে শানিত করার পেছনে কোচ ফার্নান্দো দিনিজ এবং আন্দোনি ইরাওলার দারুণ প্রভাব রয়েছে, বলছেন তিনি। সেই সঙ্গে বর্তমান কোচ কার্লো আনচেলত্তির দেওয়া সাহস ও অনুপ্রেরণা তার মানসিকভাবে কতটা শক্তিশালী করেছে, সেটিও কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করেন রায়ান।
বয়স মাত্র ১৯ হলেও এরই মধ্যে ব্রাজিলের ফুটবল ইতিহাসে তার নাম যুক্ত হয়েছে। পেলে, এদু, হুলিনহো, কৌতিনহো এবং রোনালদো নাজারিওর মতো কিংবদন্তিদের পর রায়ান হচ্ছেন ব্রাজিলের হয়ে বিশ্বকাপে মাঠে নামা ষষ্ঠ সর্বকনিষ্ঠ ফুটবলার।
আরও পড়ুন: এমপি আব্দুল আজিজের আপত্তিকর ভিডিও ভাইরাল, ক্ষোভ বৃদ্ধি
বিশ্বকাপে তার এই সুযোগটি আসে মূলত রাফিনিয়ার আকস্মিক ইনজুরির কারণে। স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে ম্যাচে শুরুর একাদশে সুযোগ পান তিনি। ৮২ মিনিট পর্যন্ত মাঠে থেকে তিনি নিজের জাত চিনিয়েছেন এবং সতীর্থকে দিয়ে একটি দুর্দান্ত গোলও (অ্যাসিস্ট) করিয়েছেন। তবে দলে জায়গা পাকাপোক্ত করা যে মোটেও সহজ কাজ নয়, সেটি রায়ান ভালোভাবেই জানেন।
ইনজুরি কাটিয়ে নেইমারের ফেরা এবং দলে এনড্রিকের উপস্থিতি তার কথায় উল্লেখযোগ্য। তিনি বলেন, ‘আমাদের দলে জায়গা পাওয়ার লড়াইটা ভীষণ চ্যালেঞ্জিং। আমি মাঠ থেকে উঠলেই সেখানে নেইমার কিংবা এনড্রিকের মতো তারকারা নামবে। এখানে প্রতিদিনের অনুশীলনে কে কেমন করছে, তার ওপর ভিত্তি করেই কোচ চূড়ান্ত একাদশ নির্বাচন করেন।’
এত অল্প বয়সে বিশ্বকাপের মতো বিশাল এক মঞ্চে খেলার অনুভূতি প্রকাশ করতে গিয়ে আবেগে ভাসেন এই তরুণ। তিনি জানান, মাঠে যখন ওয়ার্ম-আপ করছিলেন, তখন বারবার তার ফেলে আসা কঠিন দিনগুলোর কথা মনে পড়ছিল। ভাস্কো দা গামা ক্লাব থেকে বিশ্বমঞ্চে আসার পথ মোটেও মসৃণ ছিল না। চরম প্রতিকূলতা ও অমানুষিক পরিশ্রম পার করে তিনি আজকের এই অবস্থানে পৌঁছেছেন।
রায়ানের মতে, তার এই সাফল্যের মূল চাবিকাঠি হলো অনুশীলনে নিজের সেরাটা দেওয়া। কোচ আনচেলত্তি অনুশীলনের ক্ষেত্রে খুবই কঠোর। আর সেই কঠিন ক্যাম্পগুলোতে নিজের শতভাগ উজার করে দেওয়ায় কোচ তার ওপর আস্থা রেখেছেন এবং সুযোগ পাওয়া মাত্রই সেটি কাজে লাগাতে পেরেছেন।
আরও পড়ুন: এবিজি ইউনিভার্সিটি কাপ ক্রিকেটে ফারইস্টকে হারিয়ে সোনারগাঁওয়ের টানা দুই জয়
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন