ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৫ই নভেম্বর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ২০ই কার্তিক, ১৪৩২বঙ্গাব্দ ২৪শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বৃহস্পতিবার, ০৫ই নভেম্বর, ২০২৬ইং ২০ই কার্তিক, ১৪৩২বাং

দুর্বল প্রবৃদ্ধির সময়ে উন্নয়নশীল অর্থনীতিতে সম্ভাবনার নতুন দ্বার খুলতে পারে এআই


দুর্বল প্রবৃদ্ধির সময়ে উন্নয়নশীল অর্থনীতিতে সম্ভাবনার নতুন দ্বার খুলতে পারে এআই

ঢাকা, ৬ আগস্ট, ২০২৬ (বিএসএস) : কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) উন্নয়নশীল দেশগুলোকে এমন অগ্রগতির সুযোগ এনে দিতে পারে, যা প্রচলিত পথে অর্জন করতে এক শতাব্দী সময় লাগতে পারত। তবে এ সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে হলে সরকারগুলোকে অবশ্যই দ্রুত বিদ্যুৎ, ইন্টারনেট সংযোগ, দক্ষ জনশক্তি ও শক্তিশালী প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা গড়ে তুলতে হবে। বিশ্বব্যাংক গ্রুপের ‘ওয়ার্ল্ড ডেভেলপমেন্ট রিপোর্ট ২০২৬ : দ্য প্রমিজ অব আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স’-এ এই তথ্য উঠে এসেছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, উচ্চ আয়ের দেশগুলোতে জেনারেটিভ এআইয়ের কারণে চাকরি স্বয়ংক্রিয় (অটোমেশন) হয়ে যাওয়ার ঝুঁকি নিম্ন ও মধ্যম আয়ের দেশের তুলনায় তিন গুণেরও বেশি। নিম্ন ও মধ্যম আয়ের দেশগুলোতে বিদ্যমান চাকরির মাত্র ৪ দশমিক ৫ শতাংশ-এ ঝুঁকিতে রয়েছে, যেখানে উচ্চ আয়ের দেশগুলোতে এ হার ১৪ দশমিক ২ শতাংশ।

অন্যদিকে, উন্নয়নশীল অর্থনীতির ১৬ দশমিক ২ শতাংশ চাকরিতে এআই উৎপাদনশীলতা উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়াতে পারে, যা উচ্চ আয়ের দেশগুলোর সম্ভাব্য ১৮ দশমিক ৭ শতাংশ বৃদ্ধির খুব কাছাকাছি। বিশ্বব্যাংকের মতে, উন্নয়নশীল দেশগুলোর জন্য এআইয়ের সবচেয়ে বড় সম্ভাবনা মানুষের চাকরি কেড়ে নেওয়ায় নয়, বরং তাদের সক্ষমতা বাড়িয়ে তোলায়।

আরও পড়ুন: ৬৭ পুলিশ পরিদর্শক এসএসপি পদে পদোন্নতি পেলেন

বিশ্বব্যাংক গ্রুপের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট ও প্রধান অর্থনীতিবিদ ইন্দরমিত গিল বলেন, ‘এআই উন্নয়নশীল অর্থনীতির সামনে এক নতুন আশার দ্বার খুলে দিয়েছে, এবং তাদের এই সুযোগ কাজে লাগাতে হবে। এর সুফল পেতে বিশাল আকারের মডেল বা বড় ডেটা সেন্টারের প্রয়োজন নেই। স্থানীয় বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ ছোট ও স্বল্পব্যয়ের এআই টুল ব্যবহার করে লাখো মানুষের কাছে উন্নত স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা, বিচারিক সেবা এবং কৃষি সম্প্রসারণ সেবা পৌঁছে দেওয়া সম্ভব।’

তিনি আরও বলেন, ‘তবে তাদের দ্রুত এগোতে হবে। কারণ বিদ্যুৎ বা ইন্টারনেটের মতো আগের সাধারণ প্রযুক্তির তুলনায় এআই অনেক দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে এবং এটি স্থানীয় প্রেক্ষাপটনির্ভর। ওয়ার্ল্ড ডেভেলপমেন্ট রিপোর্ট-২০২৬ দেখিয়েছে, উন্নয়নশীল দেশগুলো কীভাবে এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করছে এবং সফল হচ্ছে।’

প্রতিবেদনটি উন্নয়নশীল দেশগুলোর ওপর এআইয়ের প্রভাব নিয়ে প্রথম পূর্ণাঙ্গ মূল্যায়ন। এতে তুলে ধরা হয়েছে, কীভাবে এসব দেশের সরকার ও ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ইতোমধ্যেই এআই ব্যবহার শুরু করেছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এআই ইতোমধ্যে ব্যক্তি, ব্যবসা ও সরকারকে বিভিন্ন সমস্যা সমাধান, তথ্য বিশ্লেষণ, পূর্বাভাসের মানোত্তর এবং বৃহৎ পরিসরে সেবা প্রদানে সহায়তা করছে।

আরও পড়ুন: মাদক নিয়ন্ত্রণে সবাইকে একযোগে কাজ করতে হবে: বিদ্যুৎমন্ত্রী

বিশেষ করে যেসব দেশে প্রশিক্ষিত পেশাজীবী, নির্ভরযোগ্য তথ্য ভান্ডার ও সরকারি সক্ষমতার ঘাটতি রয়েছে, সেখানে এআই-এর এসব সক্ষমতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এআই চিকিৎসকদের রোগ নির্ণয়ে, কৃষকদের ফসলসংক্রান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণে এবং ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোকে আরও উৎপাদনশীল হতে সহায়তা করতে পারে। একইভাবে সরকারও কর আদায়, সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি, দুর্যোগ মোকাবিলা, স্বাস্থ্যসেবা ও শিক্ষার মান উন্নয়নে এআই ব্যবহার করতে পারে।

বর্তমানে উন্নয়নশীল অর্থনীতিগুলো গড় প্রবৃদ্ধির হিসাবে গত তিন দশকের মধ্যে সবচেয়ে দুর্বল সময় পাড় করছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২০-এর দশকের শেষ নাগাদ এআই এই প্রবৃদ্ধিকে উল্লেখযোগ্যভাবে ত্বরান্বিত করতে পারে এবং একই সঙ্গে মানুষের জীবনে বাস্তব সুফল বয়ে আনতে পারে।

তবে এই সুযোগ নিশ্চিত নয়। কারণ বর্তমানে সবচেয়ে উন্নত এআই ব্যবস্থা অতি অল্প কয়েকটি দেশ ও প্রতিষ্ঠানের হাতে সীমাবদ্ধ। অন্যদিকে অনেক উন্নয়নশীল দেশ এখনও পর্যাপ্ত বিদ্যুৎ, ইন্টারনেট, তথ্য, দক্ষ জনবল ও প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতার অভাবে কার্যকরভাবে এআই ব্যবহার করতে পারছে না।

আরও পড়ুন: ডেঙ্গু প্রতিরোধে সচেতনতা ও ঐক্যবদ্ধ কাজের আহ্বান রিজভীর

যথাযথ নীতিগত পদক্ষেপ না নিলে এআই দেশগুলোর মধ্যে বৈষম্য আরও বাড়াতে পারে, অভ্যন্তরীণ অসমতা বৃদ্ধি করতে পারে, বাজারে একচেটিয়া প্রভাব সৃষ্টি করতে পারে, সরকারি প্রতিষ্ঠানের প্রতি মানুষের আস্থা দুর্বল করতে পারে এবং নিরাপত্তা, অধিকার ও সামাজিক সংহতির ক্ষেত্রে নতুন ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, একটি সুস্পষ্ট তিন ধাপের পথনির্দেশনা দেওয়া হয়েছে-প্রথমে বিদ্যমান এআই সরঞ্জাম গ্রহণ, এরপর সেগুলোকে স্থানীয় বাস্তবতার সঙ্গে মানিয়ে নেওয়া এবং দীর্ঘমেয়াদে উন্নত বা ফ্রন্টিয়ার এআই উন্নয়নের দিকে অগ্রসর হওয়া। এই ধাপভিত্তিক কৌশল দেশের মৌলিক প্রস্তুতি ছাড়া ব্যয়বহুল ও অকার্যকরভাবে উন্নত এআই অনুকরণের ঝুঁকি কমাবে।

ওয়ার্ল্ড ডেভেলপমেন্ট রিপোর্ট ২০২৬-এর পরিচালক গৌরব নায়ার বলেন, ‘এই সুযোগ সঠিকভাবে কাজে লাগানোর সময় খুবই সীমিত। প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে অমীমাংসিত সমস্যাগুলোর সমাধানে এআই এক জীবনে একবারই আসা সুযোগ। যেসব উন্নয়নশীল দেশ এখনই বিদ্যুৎ, সংযোগ, দক্ষতা ও প্রাতিষ্ঠানিক ভিত্তি গড়ে তুলবে, তারা তাদের জনগণের কল্যাণে এআই গ্রহণ ও অভিযোজনে এগিয়ে থাকবে।’

প্রতিবেদনটিতে স্পষ্ট করে বলা হয়েছে, মৌলিক অবকাঠামোতে বিনিয়োগ ছাড়া এআইয়ের সম্ভাবনা বাস্তবায়ন সম্ভব নয়। উদাহরণ হিসেবে বলা হয়েছে, সাব-সাহারান আফ্রিকার গ্রামীণ স্কুলগুলোর প্রায় এক-তৃতীয়াংশে এখনো নির্ভরযোগ্য বিদ্যুৎ নেই এবং দুই-তৃতীয়াংশের বেশি স্কুলে নির্ভরযোগ্য ইন্টারনেট সংযোগও অনুপস্থিত।

আরও পড়ুন: গার্মেন্টস শিল্প ধ্বংসের জন্য আন্দোলন করছে সরকার: এমপি দিপু

এই ঘাটতি দূর করা ইতোমধ্যেই অগ্রাধিকার হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। বিশ্বব্যাংক গ্রুপ ‘মিশন ৩০০’-এর মাধ্যমে অংশীদারদের সঙ্গে কাজ করছে, যার লক্ষ্য ২০৩০ সালের মধ্যে সাব-সাহারান আফ্রিকার ৩০ কোটি মানুষের কাছে বিদ্যুৎ পৌঁছে দেওয়া। যা ভবিষ্যতে ডিজিটাল ও এআই অন্তর্ভুক্তির ভিত্তি আরও শক্তিশালী করবে।

প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, দেশগুলোকে কম্পিউটিং সক্ষমতা বাড়ানোর পাশাপাশি স্থানীয় ভাষা ও স্থানীয় তথ্য ভান্ডার সমৃদ্ধ করতে হবে, যাতে এআই প্রযুক্তি নিজস্ব জনগণ ও অর্থনীতির প্রয়োজন অনুযায়ী ব্যবহার করা যায়।

সরকারের উচিত নতুন উদ্যোক্তা ও প্রতিষ্ঠানের জন্য বিনিয়োগ আকর্ষণ, নতুন ধারণা পরীক্ষার সুযোগ এবং সফল উদ্যোগগুলোকে সম্প্রসারণের পরিবেশ তৈরি করা। বর্তমানে অনেক এআই পরীক্ষামূলক প্রকল্প চলছে, তবে কোনগুলো কার্যকর ফল দিচ্ছে তা নির্ধারণ করাই বড় চ্যালেঞ্জ। এ জন্য উন্নত তথ্য-প্রমাণ, দক্ষ মানবসম্পদ এবং আরও সুস্পষ্ট ক্রয় ও মূল্যায়ন কাঠামো প্রয়োজন।

প্রতিবেদনের সবশেষে বলা হয়েছে, এআই ব্যবহারে জনগণের আস্থা অর্জন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রযুক্তিটি দ্রুত পরিবর্তিত হওয়ায় সরকারগুলোর উচিত অতিরিক্ত কঠোর নিয়ন্ত্রণের পরিবর্তে দায়িত্বশীল উদ্ভাবন, স্বেচ্ছাসেবী মানদণ্ড এবং ধাপে ধাপে নীতিমালা প্রয়োগের মাধ্যমে নিরাপদ ও কার্যকর এআই ব্যবহারের পরিবেশ নিশ্চিত করা।

আরও পড়ুন: হাম উপসর্গে আরও ৩ জনের মৃত্যু, আক্রান্ত ১,৩৯৬

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

পাটগ্রামে আকস্মিক বন্যায় সড়ক ভেঙে যোগাযোগ ব্যাহত, কমতে শুরু করেছে পানি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ৬ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৯:৩৯ পি.এম


পাটগ্রামে আকস্মিক বন্যায় সড়ক ভেঙে যোগাযোগ ব্যাহত, কমতে শুরু করেছে পানি

লালমনিরহাট, ৬ আগস্ট, ২০২৬ : উজানের ঢলে তিস্তা নদীর পানি আকস্মিকভাবে বৃদ্ধি পেয়ে লালমনিরহাটের পাটগ্রাম উপজেলার দহগ্রাম ইউনিয়নে স্বল্পস্থায়ী বন্যার সৃষ্টি হয়েছে।

এজন্য, বন্যার পানির স্রোতে আঞ্চলিক সড়ক ভেঙে যাওয়ার কারণে প্রায় দুই হাজার পরিবারের সঙ্গে উপজেলা সদরের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।

তবে আজ বৃহস্পতিবার সকালে পানি কমতে শুরু করেছে, কিন্তু ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক এলাকায় যান চলাচল এখনও বন্ধ রয়েছে।

স্থানীয়রা জানায়, গতকাল বুধবার সন্ধ্যায় উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে তিস্তার পানি হঠাৎ দুই থেকে তিন ফুট বৃদ্ধি পায়। এর ফলে, দহগ্রাম ইউনিয়নের নদী তীরবর্তী ১, ২ ও ৩ নম্বর ওয়ার্ডসহ অন্তত ১০টি এলাকা প্লাবিত হয়ে যায়।

বন্যার পানিতে প্রায় ৫০০ একর আমন ধানের জমি তলিয়ে গেলেও, কয়েক ঘণ্টার মধ্যে পানি নেমে যাওয়ার কারণে বড় ধরনের ফসলহানির আশঙ্কা নেই বলে জানিয়েছে উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর।

পানি সরে যাওয়ার সময়, সিসটিয়ারপাড় এলাকার সাকোয়া নদীর ওপর নির্মিত সেতুর উভয় পাশের সংযোগ সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এছাড়া, সিসটিয়ারপাড়-আঙ্গরপোতা-পাটগ্রাম উপজেলা সদর সংযোগকারী একমাত্র আঞ্চলিক পাকা সড়কের প্রায় ২০ ফুট অংশ ধসে প্রায় ১০ ফুট গভীর গর্তের সৃষ্টি হয়েছে।

এতে ডাঙ্গাপাড়া, মিস্ত্রিপাড়া, প্রধানপাড়া, ওলেরপাড় ও সাকোয়াপাড়াসহ কয়েকটি গ্রামের প্রায় দুই হাজার পরিবারের যাতায়াত ও গণপরিবহন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।

লালমনিরহাট সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী দেবাশীষ সাহা বাসসকে জানান, আকস্মিক পাহাড়ি ঢলের প্রবল স্রোতেই সড়কটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে জরুরি মেরামতের কাজ শুরু হয়েছে এবং এক-দুই দিনের মধ্যে যান চলাচল স্বাভাবিক করার চেষ্টা চলছে।

পাটগ্রাম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তানভীর হোসেন বাসসকে বলেন, সড়ক ভেঙে যাওয়ার বিষয়টি জানার পর সড়ক ও জনপথ বিভাগের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে।

দ্রুত সড়কটি মেরামতের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে এবং স্বাভাবিক যোগাযোগ ব্যবস্থা পুনঃস্থাপনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

হুতিদের হামলায় ইয়েমেনে ৩০ সেনা নিহত

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ৬ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৯:৪১ পি.এম


হুতিদের হামলায় ইয়েমেনে ৩০ সেনা নিহত

ইরান-সমর্থিত হুতি বিদ্রোহীদের পৃথক হামলায় তরফ থেকে ইয়েমেনের মধ্যাঞ্চল এবং পূর্বাঞ্চলে অন্তত ৩০ সৈন্য নিহত হয়েছেন। এ হামলার ফলে আহত হয়েছেন আরো অর্ধ-শতাধিক সৈন্য।

বৃহস্পতিবার ইয়েমেনের সরকারি কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে মার্কিন বার্তা সংস্থা রয়টার্সের একটি প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।

দেশটির কর্মকর্তাদের যথাযথ তথ্য অনুযায়ী, মারিব ও হাদরামাউত প্রদেশে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ইয়েমেন সরকারের বিভিন্ন সামরিক ক্যাম্প লক্ষ্যমাত্রা করে ওই হামলা চালানো হয়েছে।

পরে, ইরান-সমর্থিত হুতি গোষ্ঠী হামলার দায় স্বীকার করে জানায়, তারা মারিব ও হাদরামাউতের বিভিন্ন এলাকায় ‘সৌদি সামরিক মোতায়েন’ লক্ষ্য করে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে।

হুথিদের দাবি অনুযায়ী, আল-রুয়াইক, আল-আবর ও আল-থানিয়াহ এলাকায় সৌদি-সমর্থিত বাহিনীর অবস্থানে হামলার ফলে শত শত যোদ্ধা নিহত বা আহত হয়েছে।

এছাড়া তারা একাধিক সামরিক ঘাঁটি, অস্ত্রের গুদাম এবং বিভিন্ন সামরিক যান ধ্বংস হয়েছে বলেও দাবি করেছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

আজান বন্ধে পশ্চিমবঙ্গে মসজিদের মাইক খুলে নেওয়া হচ্ছে

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ৬ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৯:৪৭ পি.এম


আজান বন্ধে পশ্চিমবঙ্গে মসজিদের মাইক খুলে নেওয়া হচ্ছে

পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন জেলায় শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণের নামে মসজিদের মাইক খুলে ফেলার ঘটনা নিয়ে নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। বিরোধী দলগুলো অভিযোগ করছে, সুপ্রিম কোর্টের রায়ের ভুল ব্যাখ্যা করা হচ্ছে এবং একটি নির্দিষ্ট ধর্মীয় সম্প্রদায়কে লক্ষ্যবস্তু করা হচ্ছে। রাজ্য প্রশাসন তবে দাবি করছে, এটি ধর্মের বিষয় নয় বরং শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণ আইন বাস্তবায়নের অংশ।

সংখ্যালঘু মুসলিম সম্প্রদায় অভিযোগ করছে, তারা প্রকাশ্যে বা মসজিদের মধ্যে আজান দেওয়া নিয়ে সীমাবদ্ধতা আরোপের চেষ্টা হচ্ছে। তাদের দাবি, শব্দদূষণের অজুহাতে বিভিন্ন জায়গায় মসজিদের মাইক খুলে ফেলা হচ্ছে।

রাজ্যের বিদ্যমান বিধি অনুযায়ী, আবাসিক এলাকায় দিনে ৫৫ ডেসিবেল এবং রাতে ৪৫ ডেসিবেল শব্দের মাত্রা রাখা অপরিহার্য। রাজ্য প্রশাসন জানিয়ে দিয়েছে যে, এই আইন ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান নির্বিশেষে সবার জন্য প্রযোজ্য।

এদিকে বিজেপির বেশ কয়েকজন নেতা শব্দ নিয়ন্ত্রণের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য বলেছেন, ধর্মীয় অনুষ্ঠান ঘরের মধ্যেই পালন করা উচিত এবং মাইক ব্যবহারের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। দলের জ্যেষ্ঠ নেতা দিলীপ ঘোষ বলেন, অন্যের অসুবিধা এড়িয়ে সবারই শব্দ নিয়ন্ত্রণে রাখা উচিত।

মুসলিম নেতা এবং আইন বিশেষজ্ঞদের দাবি, কলকাতা হাইকোর্ট ও সুপ্রিম কোর্টের রায়ের মধ্যে কোথাও মাইক পুরোপুরি বন্ধ বা খুলে ফেলার নির্দেশ দেওয়া হয়নি। বরং নির্ধারিত শব্দসীমা মেনে মাইক ব্যবহারের কথা বলা হয়েছে।

ঘটনার প্রতিবাদে তৃণমূল কংগ্রেসের বিধায়ক নজরুল ইসলাম বলেছেন, আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী নির্ধারিত শব্দসীমার মধ্যে মাইক ব্যবহারে কোনো আপত্তি নেই। তবে যদি লিখিত সরকারি নির্দেশ ছাড়া পুলিশ জোরপূর্বক মাইক খুলতে আসে, তাহলে ভিডিও প্রমাণ সংরক্ষণ করে আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার পরামর্শ দেন তিনি।

আইএসএফ বিধায়ক নওশাদ সিদ্দিকী অভিযোগ করেছেন, লিখিত নির্দেশনা ছাড়া পুলিশের এ ধরনের পদক্ষেপ সংবিধানের বিভিন্ন অনুচ্ছেদের বিরুদ্ধে। তিনি এ ব্যাপারে একটি সুনির্দিষ্ট স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিউর (এসওপি) প্রকাশের দাবি করেছেন এবং কলকাতা হাইকোর্টে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন।

কংগ্রেস নেতা অধীর রঞ্জন চৌধুরী বলেছেন, শব্দদূষণ মন্দির, মসজিদসহ সব ধর্মীয় স্থান থেকেই হতে পারে। তাই স্থানীয়ভাবে আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধান হওয়া উচিত। একই ধরনের বক্তব্য রেখেছেন সিপিএম নেতা ও আইনজীবী বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য। তিনি বলেছেন, নির্ধারিত শব্দসীমা মেনে চললে পুলিশ মাইক খুলে দিতে পারে না।

এদিকে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হওয়ার মধ্যে বৃহস্পতিবার সংসদ অধিবেশন শেষে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দলত্যাগী তিন সংখ্যালঘু এনসিপিআই এমপি কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে মসজিদের মাইক অপসারণের অভিযোগসংবলিত লিখিত আবেদন ও ভিডিও প্রমাণ জমা দিয়েছেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

দুই ইংলিশ জায়ান্টের নজরে ব্রাজিলের তরুণ প্রতিভা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

বৃহস্পতিবার, ৬ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৯:৪৮ পি.এম


দুই ইংলিশ জায়ান্টের নজরে ব্রাজিলের তরুণ প্রতিভা

ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের দুই জায়ান্ট ক্লাব, ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড এবং বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্সেনাল, নজরে রেখেছে ব্রাজিলের তরুণ প্রতিভাবান স্ট্রাইকার কাউয়া এলিয়াসকে। এই ২০ বছর বয়সী ব্রাজিলিয়ান স্ট্রাইকার বর্তমানে ইউক্রেনীয় ক্লাব শাখতার দোনেৎস্কের হয়ে খেলছেন।

সম্প্রতি, কুদ্রিভকার বিরুদ্ধে শাখাখতারের ৫-১ ব্যবধানের জয়ের ম্যাচে দারুণ একটি হ্যাটট্রিক করে বড় ক্লাবগুলোর নজরে আসেন। শাখাখতার দোনেৎস্ক তাদের এই উদীয়মান তারকার দামও নির্ধারণ করেছে প্রায় ৩০ মিলিয়ন।

দ্য সানের প্রতিবেদন অনুসারে, প্রিমিয়ার লিগের এই দুই জায়ান্ট ক্লাবের স্কাউটরা গ্যালারিতে উপস্থিত থেকে ম্যাচটি দেখেছেন। কাউয়া এলিয়াসের টেকনিক্যাল ক্ষমতা ও গোল করার দক্ষতার প্রতি তারা প্রশংসা জানিয়েছে এবং ইতিবাচক মূল্যায়ন পাঠিয়েছে।

কেবল প্রিমিয়ার লিগ নয়, ইতালিয়ান জায়ান্ট এসি মিলান এবং পর্তুগিজ ক্লাব এফসি পোর্তোও এই তরুণ স্ট্রাইকারকে নিজেদের দলে অন্তর্ভুক্ত করতে বেশ আগ্রহী হচ্ছে।

ফ্লুমিনেন্স থেকে গত বছর শাখতার দোনেৎস্কে যোগ দেওয়া এই ব্রাজিলিয়ানের সঙ্গে চলতি চুক্তি ২০২৯ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত রয়েছে। এই ব্রাজিলিয়ান ফুটবল বিশ্বের অন্যতম সেরা তরুণ প্রতিভা হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।

ইউরোপের বড় বড় ক্লাবগুলোর এই আগ্রহের কারণে আগামী দিনে তাকে কেন্দ্র করে বড় কোনো দলবদলের লড়াই দেখা যেতে পারে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ২৪শে জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৯
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪১
মাগরিব ০৫:১৭
ইশা ০৬:৩০
সূর্যোদয় : ০৬:০৬ সূর্যাস্ত : ০৫:১৭
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%