বৃহস্পতিবার, ৬ই আগস্ট, ২০২৬ ইং
০৯:৩৯ পি.এম
লালমনিরহাট, ৬ আগস্ট, ২০২৬ : উজানের ঢলে তিস্তা নদীর পানি আকস্মিকভাবে বৃদ্ধি পেয়ে লালমনিরহাটের পাটগ্রাম উপজেলার দহগ্রাম ইউনিয়নে স্বল্পস্থায়ী বন্যার সৃষ্টি হয়েছে।
এজন্য, বন্যার পানির স্রোতে আঞ্চলিক সড়ক ভেঙে যাওয়ার কারণে প্রায় দুই হাজার পরিবারের সঙ্গে উপজেলা সদরের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।
তবে আজ বৃহস্পতিবার সকালে পানি কমতে শুরু করেছে, কিন্তু ক্ষতিগ্রস্ত সড়ক এলাকায় যান চলাচল এখনও বন্ধ রয়েছে।
স্থানীয়রা জানায়, গতকাল বুধবার সন্ধ্যায় উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে তিস্তার পানি হঠাৎ দুই থেকে তিন ফুট বৃদ্ধি পায়। এর ফলে, দহগ্রাম ইউনিয়নের নদী তীরবর্তী ১, ২ ও ৩ নম্বর ওয়ার্ডসহ অন্তত ১০টি এলাকা প্লাবিত হয়ে যায়।
বন্যার পানিতে প্রায় ৫০০ একর আমন ধানের জমি তলিয়ে গেলেও, কয়েক ঘণ্টার মধ্যে পানি নেমে যাওয়ার কারণে বড় ধরনের ফসলহানির আশঙ্কা নেই বলে জানিয়েছে উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর।
পানি সরে যাওয়ার সময়, সিসটিয়ারপাড় এলাকার সাকোয়া নদীর ওপর নির্মিত সেতুর উভয় পাশের সংযোগ সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এছাড়া, সিসটিয়ারপাড়-আঙ্গরপোতা-পাটগ্রাম উপজেলা সদর সংযোগকারী একমাত্র আঞ্চলিক পাকা সড়কের প্রায় ২০ ফুট অংশ ধসে প্রায় ১০ ফুট গভীর গর্তের সৃষ্টি হয়েছে।
এতে ডাঙ্গাপাড়া, মিস্ত্রিপাড়া, প্রধানপাড়া, ওলেরপাড় ও সাকোয়াপাড়াসহ কয়েকটি গ্রামের প্রায় দুই হাজার পরিবারের যাতায়াত ও গণপরিবহন চলাচল বন্ধ হয়ে যায়।
লালমনিরহাট সড়ক ও জনপথ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী দেবাশীষ সাহা বাসসকে জানান, আকস্মিক পাহাড়ি ঢলের প্রবল স্রোতেই সড়কটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে জরুরি মেরামতের কাজ শুরু হয়েছে এবং এক-দুই দিনের মধ্যে যান চলাচল স্বাভাবিক করার চেষ্টা চলছে।
পাটগ্রাম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) তানভীর হোসেন বাসসকে বলেন, সড়ক ভেঙে যাওয়ার বিষয়টি জানার পর সড়ক ও জনপথ বিভাগের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে।
দ্রুত সড়কটি মেরামতের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে এবং স্বাভাবিক যোগাযোগ ব্যবস্থা পুনঃস্থাপনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ইরান-সমর্থিত হুতি বিদ্রোহীদের পৃথক হামলায় তরফ থেকে ইয়েমেনের মধ্যাঞ্চল এবং পূর্বাঞ্চলে অন্তত ৩০ সৈন্য নিহত হয়েছেন। এ হামলার ফলে আহত হয়েছেন আরো অর্ধ-শতাধিক সৈন্য।
বৃহস্পতিবার ইয়েমেনের সরকারি কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে মার্কিন বার্তা সংস্থা রয়টার্সের একটি প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।
দেশটির কর্মকর্তাদের যথাযথ তথ্য অনুযায়ী, মারিব ও হাদরামাউত প্রদেশে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ইয়েমেন সরকারের বিভিন্ন সামরিক ক্যাম্প লক্ষ্যমাত্রা করে ওই হামলা চালানো হয়েছে।
পরে, ইরান-সমর্থিত হুতি গোষ্ঠী হামলার দায় স্বীকার করে জানায়, তারা মারিব ও হাদরামাউতের বিভিন্ন এলাকায় ‘সৌদি সামরিক মোতায়েন’ লক্ষ্য করে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে।
হুথিদের দাবি অনুযায়ী, আল-রুয়াইক, আল-আবর ও আল-থানিয়াহ এলাকায় সৌদি-সমর্থিত বাহিনীর অবস্থানে হামলার ফলে শত শত যোদ্ধা নিহত বা আহত হয়েছে।
এছাড়া তারা একাধিক সামরিক ঘাঁটি, অস্ত্রের গুদাম এবং বিভিন্ন সামরিক যান ধ্বংস হয়েছে বলেও দাবি করেছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন জেলায় শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণের নামে মসজিদের মাইক খুলে ফেলার ঘটনা নিয়ে নতুন করে রাজনৈতিক বিতর্ক সৃষ্টি হয়েছে। বিরোধী দলগুলো অভিযোগ করছে, সুপ্রিম কোর্টের রায়ের ভুল ব্যাখ্যা করা হচ্ছে এবং একটি নির্দিষ্ট ধর্মীয় সম্প্রদায়কে লক্ষ্যবস্তু করা হচ্ছে। রাজ্য প্রশাসন তবে দাবি করছে, এটি ধর্মের বিষয় নয় বরং শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণ আইন বাস্তবায়নের অংশ।
সংখ্যালঘু মুসলিম সম্প্রদায় অভিযোগ করছে, তারা প্রকাশ্যে বা মসজিদের মধ্যে আজান দেওয়া নিয়ে সীমাবদ্ধতা আরোপের চেষ্টা হচ্ছে। তাদের দাবি, শব্দদূষণের অজুহাতে বিভিন্ন জায়গায় মসজিদের মাইক খুলে ফেলা হচ্ছে।
রাজ্যের বিদ্যমান বিধি অনুযায়ী, আবাসিক এলাকায় দিনে ৫৫ ডেসিবেল এবং রাতে ৪৫ ডেসিবেল শব্দের মাত্রা রাখা অপরিহার্য। রাজ্য প্রশাসন জানিয়ে দিয়েছে যে, এই আইন ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান নির্বিশেষে সবার জন্য প্রযোজ্য।
এদিকে বিজেপির বেশ কয়েকজন নেতা শব্দ নিয়ন্ত্রণের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য বলেছেন, ধর্মীয় অনুষ্ঠান ঘরের মধ্যেই পালন করা উচিত এবং মাইক ব্যবহারের প্রয়োজনীয়তা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। দলের জ্যেষ্ঠ নেতা দিলীপ ঘোষ বলেন, অন্যের অসুবিধা এড়িয়ে সবারই শব্দ নিয়ন্ত্রণে রাখা উচিত।
মুসলিম নেতা এবং আইন বিশেষজ্ঞদের দাবি, কলকাতা হাইকোর্ট ও সুপ্রিম কোর্টের রায়ের মধ্যে কোথাও মাইক পুরোপুরি বন্ধ বা খুলে ফেলার নির্দেশ দেওয়া হয়নি। বরং নির্ধারিত শব্দসীমা মেনে মাইক ব্যবহারের কথা বলা হয়েছে।
ঘটনার প্রতিবাদে তৃণমূল কংগ্রেসের বিধায়ক নজরুল ইসলাম বলেছেন, আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী নির্ধারিত শব্দসীমার মধ্যে মাইক ব্যবহারে কোনো আপত্তি নেই। তবে যদি লিখিত সরকারি নির্দেশ ছাড়া পুলিশ জোরপূর্বক মাইক খুলতে আসে, তাহলে ভিডিও প্রমাণ সংরক্ষণ করে আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার পরামর্শ দেন তিনি।
আইএসএফ বিধায়ক নওশাদ সিদ্দিকী অভিযোগ করেছেন, লিখিত নির্দেশনা ছাড়া পুলিশের এ ধরনের পদক্ষেপ সংবিধানের বিভিন্ন অনুচ্ছেদের বিরুদ্ধে। তিনি এ ব্যাপারে একটি সুনির্দিষ্ট স্ট্যান্ডার্ড অপারেটিং প্রসিডিউর (এসওপি) প্রকাশের দাবি করেছেন এবং কলকাতা হাইকোর্টে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন।
কংগ্রেস নেতা অধীর রঞ্জন চৌধুরী বলেছেন, শব্দদূষণ মন্দির, মসজিদসহ সব ধর্মীয় স্থান থেকেই হতে পারে। তাই স্থানীয়ভাবে আলোচনার মাধ্যমে সমস্যার সমাধান হওয়া উচিত। একই ধরনের বক্তব্য রেখেছেন সিপিএম নেতা ও আইনজীবী বিকাশরঞ্জন ভট্টাচার্য। তিনি বলেছেন, নির্ধারিত শব্দসীমা মেনে চললে পুলিশ মাইক খুলে দিতে পারে না।
এদিকে পরিস্থিতি উত্তপ্ত হওয়ার মধ্যে বৃহস্পতিবার সংসদ অধিবেশন শেষে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের দলত্যাগী তিন সংখ্যালঘু এনসিপিআই এমপি কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের সঙ্গে সাক্ষাৎ করে মসজিদের মাইক অপসারণের অভিযোগসংবলিত লিখিত আবেদন ও ভিডিও প্রমাণ জমা দিয়েছেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের দুই জায়ান্ট ক্লাব, ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড এবং বর্তমান চ্যাম্পিয়ন আর্সেনাল, নজরে রেখেছে ব্রাজিলের তরুণ প্রতিভাবান স্ট্রাইকার কাউয়া এলিয়াসকে। এই ২০ বছর বয়সী ব্রাজিলিয়ান স্ট্রাইকার বর্তমানে ইউক্রেনীয় ক্লাব শাখতার দোনেৎস্কের হয়ে খেলছেন।
সম্প্রতি, কুদ্রিভকার বিরুদ্ধে শাখাখতারের ৫-১ ব্যবধানের জয়ের ম্যাচে দারুণ একটি হ্যাটট্রিক করে বড় ক্লাবগুলোর নজরে আসেন। শাখাখতার দোনেৎস্ক তাদের এই উদীয়মান তারকার দামও নির্ধারণ করেছে প্রায় ৩০ মিলিয়ন।
দ্য সানের প্রতিবেদন অনুসারে, প্রিমিয়ার লিগের এই দুই জায়ান্ট ক্লাবের স্কাউটরা গ্যালারিতে উপস্থিত থেকে ম্যাচটি দেখেছেন। কাউয়া এলিয়াসের টেকনিক্যাল ক্ষমতা ও গোল করার দক্ষতার প্রতি তারা প্রশংসা জানিয়েছে এবং ইতিবাচক মূল্যায়ন পাঠিয়েছে।
কেবল প্রিমিয়ার লিগ নয়, ইতালিয়ান জায়ান্ট এসি মিলান এবং পর্তুগিজ ক্লাব এফসি পোর্তোও এই তরুণ স্ট্রাইকারকে নিজেদের দলে অন্তর্ভুক্ত করতে বেশ আগ্রহী হচ্ছে।
ফ্লুমিনেন্স থেকে গত বছর শাখতার দোনেৎস্কে যোগ দেওয়া এই ব্রাজিলিয়ানের সঙ্গে চলতি চুক্তি ২০২৯ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত রয়েছে। এই ব্রাজিলিয়ান ফুটবল বিশ্বের অন্যতম সেরা তরুণ প্রতিভা হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
ইউরোপের বড় বড় ক্লাবগুলোর এই আগ্রহের কারণে আগামী দিনে তাকে কেন্দ্র করে বড় কোনো দলবদলের লড়াই দেখা যেতে পারে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
নওগাঁর মান্দা উপজেলার স্থানীয় জনগণের দীর্ঘদিনের ভোগান্তি নিরসনের জন্য পাঁজরভাঙ্গা থেকে জলছত্র পর্যন্ত প্রায় ১৩ কিলোমিটার সড়ক প্রশস্তকরণ কাজের উদ্বোধন কার্যক্রম সম্পন্ন হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৭ আগস্ট) বিকেল ৫টায় কশব ইউনিয়ন বিএনপির উদ্যোগে আয়োজিত একটি সুধী সমাবেশ ও জনসভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে উক্ত কাজের উদ্বোধন করেন নওগাঁ-৪ (মান্দা) আসনের সংসদ সদস্য ডা. একরামুল বারী টিপু।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্য প্রদানকালে এমপি ডা. একরামুল বারী টিপু বলেন, দীর্ঘ সময় ধরে পাঁজরভাঙ্গা থেকে জলছত্র পর্যন্ত সড়কটি সংকীর্ণ থাকার কারণে স্থানীয় বাসিন্দা, শিক্ষার্থী এবং বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষকে চরম দুর্ভোগের শিকার হতে হতো। সড়কটি প্রশস্ত হওয়ার ফলে মানুষের চলাচল সহজ হবে, কৃষিপণ্য দ্রুত বাজারজাত করা সম্ভব হবে, ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসার ঘটবে এবং এলাকায় সার্বিক যোগাযোগব্যবস্থায় ইতিবাচক পরিবর্তন আসবে।
তিনি আরও বলেন, জনগণের প্রয়োজনকে অগ্রাধিকার দিয়েই এলাকার উন্নয়ন কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। পর্যায়ক্রমে মান্দা উপজেলার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সড়কের উন্নয়ন কাজও সম্পন্ন করা হবে।
কশব ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মো. আবুল হাসেম সরদারের সভাপতিত্বে এবং সাবেক ছাত্রনেতা নূর এনায়েত নুরুজ্জামান হারুনের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত জনসভায় প্রধান বক্তা হিসেবে বক্তব্য প্রদান করেন মান্দা উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি মো. মকলেছুর রহমান (মকে)।
বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মান্দা উপজেলা বিএনপির সহ-সভাপতি মো. তোফাজ্জল হোসেন টুকু। নজর দেওয়া যায় যে, অনুষ্ঠানে স্থানীয় বিএনপি ও অঙ্গসহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মী, জনপ্রতিনিধি এবং এলাকার বিপুলসংখ্যক সাধারণ মানুষ উপস্থিত ছিলেন।
সড়ক প্রশস্তকরণ কাজের উদ্বোধনকে কেন্দ্র করে স্থানীয়দের মধ্যে উৎসবমুখর পরিবেশের সৃষ্টি হয়েছে। এলাকাবাসী দীর্ঘদিনের দাবি বাস্তবায়নের উদ্যোগকে স্বাগত জানিয়ে দ্রুত কাজ সম্পন্ন করার দাবি জানিয়েছেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ