ঢাকা বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

ক্ষতিগ্রস্ত পারমাণবিক কেন্দ্রে আইএইএর পরিদর্শনের অনুমতি দেবে না ইরান


ক্ষতিগ্রস্ত পারমাণবিক কেন্দ্রে আইএইএর পরিদর্শনের অনুমতি দেবে না ইরান

মার্কিন-ইসরাইলি হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত পারমাণবিক কেন্দ্রগুলোতে আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থার (আইএইএ) পরিদর্শকদের প্রবেশের সুযোগ দেওয়ার খবর নাকচ করে দিয়েছেন ইরানের পার্লামেন্টের স্পিকার এবং প্রধান আলোচক মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ। তিনি পরিষ্কার জানিয়ে বলেছেন, ইরানের আইন অনুযায়ী কেবল দুটি স্থান—বুশেহর বিদ্যুৎকেন্দ্র এবং তেহরান চুল্লির পরিদর্শনের অনুমতি রয়েছে।

গালিবাফ বলেন, "আমরা নিজেরাই পার্লামেন্টে একটি আইন পাশ করেছি; সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলেরও এ সংক্রান্ত একটি প্রস্তাবনা বা রেজল্যুশন রয়েছে।" তিনি জানান, এই আইনের অধীনে বোমা হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত কেন্দ্রগুলোতে কোনোভাবেই প্রবেশের সুযোগ দেওয়া হবে না। "এটাই আমাদের আইন।"

তিনি বলেন, "পরিদর্শনের মাত্রা বা পরিধি নির্ধারণ করে দেয় সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিল। তারা যে রূপরেখা নির্ধারণ করে দিয়েছে, এর বাইরে ইরান কোনো ছাড় দেবে না।" ঘটনা প্রবণতা কিছুতেই বিরুদ্ধ। গালিবাফ আরও বলেন, বর্তমানে তাদের কেবল দুটি স্থাপনায় প্রবেশের অধিকার রয়েছে: বুশেহর বিদ্যুৎকেন্দ্র এবং তেহরান চুল্লি। এই প্রবেশাধিকার এর মধ্যেই সীমাবদ্ধ রয়েছে এবং তিনি জানান, "আমরা এ সিদ্ধান্তে অটল।"

আরও পড়ুন: সৌদি আরব থেকে ৯ মাসে ২ হাজার মরদেহ, নারী কর্মীরা সন্তানের বাবার পরিচয় জানেন না

ইরানের আলোচনা দলের প্রধান হিসেবে গালিবাফ কূটনৈতিক পদক্ষেপের ক্ষেত্রেও শক্ত অবস্থান নিয়েছেন। সমালোচকদের উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, "তারা কূটনীতি বা যুদ্ধ—কোনোটিতেই দেশকে সাহায্য করে না, তবে আমি লড়াই ও কূটনীতি—উভয় ক্ষেত্রেই অবিচল রয়েছি।"

তিনি আরও বলেন, "আমাদের শহীদ ইমামের (ইসলামি বিপ্লবের প্রয়াত নেতা আয়াতুল্লাহ সাইয়েদ আলী খামেনি) রক্তের প্রতিশোধ হলো আল-কুদস (জেরুজালেম) মুক্ত করা, এবং এ জন্য আমাদের লেবাননকে রক্ষা করতে হবে।" গালিবাফ যুক্ত করেছেন, "শুধু স্লোগান দিয়ে রক্তের বদলা নেওয়া যায় না।"

গালিবাফ বলেন, "আমাদের শত্রু ক্ষমতার ভাষা ছাড়া আর কিছুই বোঝে না। তাই আমাদের অবশ্যই শক্তির জায়গা থেকেই তাদের মোকাবিলা করতে হবে।" এই সপ্তাহে কাতারের রাজধানী দোহায় অনুষ্ঠিত আলোচনার পর তার এই মন্তব্য প্রকাশ্যে এসেছে। ওই আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্রের অংশগ্রহণ ছাড়াই মধ্যস্থতাকারীদের সঙ্গে বৈঠক করেছে ইরান। সেখানে তেহরান আনুষ্ঠানিকভাবে যুদ্ধবিরতির সমঝোতা স্মারক লঙ্ঘনের বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে অভিযোগ উত্থাপন করেছে।

আরও পড়ুন: দুধের উৎপাদন খরচ ৪৪.৮০ টাকা, বিক্রি ১০০-১১০ টাকায়

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

কলমাকান্দায় উদ্ধার হওয়া ট্যাপেন্টাডল, আটক নারী ও পুরুষ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শুক্রবার, ৩ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৪:২৫ এম


কলমাকান্দায় উদ্ধার হওয়া ট্যাপেন্টাডল, আটক নারী ও পুরুষ

নেত্রকোনার কলমাকান্দায় কুরিয়ার সার্ভিসের মাধ্যমে আসা এক হাজার সাতশো পিস অবৈধ নেশাজাতীয় ‘ট্যাপেন্টাডল’ ট্যাবলেট উদ্ধার করেছে পুলিশ। মাদক কারবারের সঙ্গে জড়িত থাকার অভিযোগে পুলিশ রাবিয়া আক্তার ও মো. শামীম নামের দুজনকে হাতেনাতে আটক করেছে। তবে অভিযানের সময় কৌশলে পালিয়ে যান মূলহোতা আশরাফ উদ্দিন নামের ব্যক্তি। আটক রাবিয়া আক্তার পুলিশকে জানিয়েছেন, পালিয়ে যাওয়া আশরাফ উদ্দিন তার স্বামী এবং তার বাড়ি উপজেলার ছোট সালজান এলাকায়।

বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) দুপুরে দায়েরকৃত মামলায় আটক দুই আসামিকে নেত্রকোনা জেলা আদালতে প্রেরণ করা হয়েছে। এর আগে, গতকাল (বুধবার) রাতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পরিচালিত ভিযানে নারীসহ ওই দুজনকে আটক করে পুলিশ। পুলিশ সূত্রে জানা যায়, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর চোখ ফাঁকি দিতে কুরিয়ার সার্ভিসের মাধ্যমে মাদকের বড় একটি চালান কলমাকান্দায় আনা হয়েছে- এমন গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এসআই আব্দুল্লাহ আল নোমান ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করেন। পরে তার নেতৃত্বে পুলিশের একটি দল দ্রুত ঘটনাস্থলে গিয়ে তল্লাশি চালায়।

এ সময় ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেটসহ ওই দুজনকে আটক করা হয়। কলমাকান্দা থানার ওসি (তদন্ত) সজল সরকার এ বিষয়ে বলেন, ‘গোপন সংবাদের ভিত্তিতে পরিচালিত অভিযানে বিপুল পরিমাণ ট্যাপেন্টাডল ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়েছে। মাদকের বিরুদ্ধে পুলিশের এ অভিযান অব্যাহত থাকবে। জড়িতদের আইনের আওতায় এনে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে।’

এদিকে, কুরিয়ার সার্ভিসের মতো মাধ্যম ব্যবহার করে মাদক পরিবহনের নতুন কৌশলে স্থানীয় সচেতন নাগরিকদের মধ্যে গভীর উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। এ ধরনের অপরাধ দমনে কুরিয়ার সেবাগুলোর পার্সেল বুকিংয়ে আরও স্বচ্ছতা আনা এবং প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর কঠোর নজরদারি বাড়ানোর জোর দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

কুড়িগ্রামে সাড়ে তিন লাখ টাকার ভারতীয় চোরাই মোবাইল ডিসপ্লে জব্দ, আটক কয়েকজন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

মোঃ মাইদুল ইসলাম ভূরুঙ্গামারী কুড়িগ্রাম

শুক্রবার, ৩ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৪:৪০ এম


কুড়িগ্রামে সাড়ে তিন লাখ টাকার ভারতীয় চোরাই মোবাইল ডিসপ্লে জব্দ, আটক কয়েকজন

কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারীতে পুলিশের অভিযানে প্রায় সাড়ে তিন লাখ টাকা মূল্যের ভারতীয় চোরাই মোবাইল ফোনের ডিসপ্লে জব্দ করা হয়েছে। এ ঘটনায় মো. সোহাগ মণ্ডল (২১) নামে একজনকে আটক করা হয়। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে আরও কয়েকজনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করছে পুলিশ। তবে চোরাই মালামালের মূল মালিক ও অভিযুক্ত চোরাকারবারি নুর ইসলাম পলাতক রয়েছেন। তাকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা চলছে।

বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) রাত ১০টার দিকে ভূরুঙ্গামারী বাসস্ট্যান্ড এলাকায় গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এ অভিযান পরিচালনা করা হয়।

আটক সোহাগ মণ্ডল (২১) ফুলবাড়ী উপজেলার কবির মামুদ (৩ নম্বর ওয়ার্ড) গ্রামের বাসিন্দা। তিনি লুৎফর রহমান ও শাহিদা বেগমের ছেলে।

পুলিশ সূত্রে জানা যায়, ভূরুঙ্গামারী পুলিশ সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মুনতাসির মামুন মুনের সার্বিক নির্দেশনায় ভূরুঙ্গামারী থানার এসআই (নিরস্ত্র) মো. আলিউল ইসলাম সাদাপোশাকে বাসস্ট্যান্ড এলাকায় দায়িত্ব পালনকালে অভিযান চালিয়ে সোহাগ মণ্ডলকে বিপুল পরিমাণ ভারতীয় মোবাইল ফোনের ডিসপ্লেসহ আটক করেন। পরে তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে আরও কয়েকজনকে আটক করে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।

প্রাথমিক তদন্তে পুলিশ জানতে পারে, জব্দকৃত ডিসপ্লেগুলো অবৈধভাবে কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারী উপজেলার পাথরডুবি ইউনিয়নের বাঁশজানি সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে আনা হয়েছে। এগুলো রাজধানী ঢাকায় পাচারের উদ্দেশ্যে বহন করা হচ্ছিল। পুলিশ দাবি করেছে, বাঁশজানি এলাকার নুর ইসলাম নামে এক চিহ্নিত চোরাকারবারি এসব পণ্য সীমান্ত পেরিয়ে দেশে এনে পাচারের সঙ্গে জড়িত। তবে অভিযানের খবর পেয়ে তিনি পালিয়ে যান।

পুলিশ সূত্রে আরও জানা যায়, ভূরুঙ্গামারী উপজেলার পাথরডুবি ইউনিয়নের বাঁশজানি সীমান্ত দীর্ঘদিন ধরে চোরাচালানের অন্যতম রুট হিসেবে ব্যবহৃত হয়ে আসছে। সীমান্তসংলগ্ন ওই এলাকার কয়েকজন চোরাকারবারি বিভিন্ন ভারতীয় পণ্য দেশে এনে দেশের বিভিন্ন স্থানে সরবরাহ করে থাকে। জব্দকৃত মোবাইল ফোনের ডিসপ্লেগুলোর আনুমানিক বাজারমূল্য প্রায় ৩ থেকে সাড়ে ৩ লাখ টাকা।

ভূরুঙ্গামারী সার্কেলের সহকারী পুলিশ সুপার মুনতাসির মামুন মুন বলেন, “মাদক ও চোরাচালানের বিরুদ্ধে আমরা জিরো টলারেন্স নীতিতে কাজ করছি। ভূরুঙ্গামারীকে মাদক ও চোরাচালানমুক্ত উপজেলা হিসেবে গড়ে তুলতে পুলিশের অভিযান নিয়মিতভাবে চলবে।” তিনি আরও জানান, আটক ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদ চলছে।

উল্লেখ্য, চার মাস আগেও তিলাই ইউনিয়নে বিজিবি ভারতীয় চোরাই মোবাইল ডিসপ্লে জব্দ করেছিল। তবে সে সময় কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি।

 
 

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

খামেনির জানাজায় ৬০০ বিদেশি সাংবাদিক উপস্থিত থাকবেন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

শুক্রবার, ৩ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৪:৪৩ এম


খামেনির জানাজায় ৬০০ বিদেশি সাংবাদিক উপস্থিত থাকবেন

ইসলামী বিপ্লবের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ সাইয়্যেদ আলী খামেনির জানাজা ও দাফন অনুষ্ঠান কাভার করতে প্রায় ৬০০ বিদেশি সাংবাদিক এবং আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের প্রতিনিধি অংশগ্রহণ করবেন বলে ইরান জানিয়েছে। এটি ৪ থেকে ৯ জুলাই পর্যন্ত বিভিন্ন পর্যায়ে অনুষ্ঠিত হবে।

বুধবার (১ জুলাই) সাংবাদিকদের সাথে আলাপকালে ইরানের সংস্কৃতি ও ইসলামি দিকনির্দেশনা বিষয়ক মন্ত্রী আব্বাস সালেহি এ তথ্য জানান। তিনি বলেন, জানাজার আয়োজন উপলক্ষে গণমাধ্যম, চলচ্চিত্র এবং সাংস্কৃতিক অঙ্গনে ব্যাপক প্রস্তুতির প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।

মন্ত্রী আব্বাস সালেহি আরও বলেন, দেশের বিভিন্ন গণমাধ্যমের পাশাপাশি বিশ্বের বিভিন্ন দেশের প্রায় ৬০০ সাংবাদিক ও আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমের প্রতিনিধিরা এ অনুষ্ঠানগুলো কাভার করবেন, যাতে এ ঘটনার বিভিন্ন দিক বিশ্ববাসীর কাছে তুলে ধরা সম্ভব হয়।

সালেহি দাবি করেছেন, খামেনির জানাজা শুধু একজন নেতার প্রতি জাতির শেষ শ্রদ্ধা জানানোর অনুষ্ঠান নয়; এটি জাতীয় শক্তি, সামাজিক সংহতি এবং শত্রুদের মোকাবিলায় ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের প্রতিরোধক্ষমতার বহিঃপ্রকাশও।

তিনি আরো জানান, দেশের খ্যাতিমান প্রামাণ্যচিত্র নির্মাতাদের একটি দল জানাজা ও সংশ্লিষ্ট কর্মসূচিগুলোর উপরে একটি পূর্ণদৈর্ঘ্য তথ্যচিত্র তৈরি করছে। একইসাথে ঐতিহাসিক মুহূর্তটি সংরক্ষণের জন্য বিভিন্ন আলোকচিত্র কর্মসূচিও হাতে নেওয়া হয়েছে।

মন্ত্রী আরও বলেন, আগামী সপ্তাহে ইরানি জনগণের ব্যাপক অংশগ্রহণ ঘটবে এবং শিল্পীদের জন্য স্মরণীয় সৃষ্টিকর্ম তৈরির সুযোগও তৈরি হবে।

ইরানি কর্মকর্তাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, জানাজার কর্মসূচি সোমবার পর্যন্ত চলবে। এর মধ্যে ১০ কিলোমিটার দীর্ঘ শোকযাত্রা অনুষ্ঠিত হবে এবং পরে ৭ জুলাই পবিত্র শহর কুমে, ৮ জুলাই ইরাক এবং ৯ জুলাই মাশহাদে দাফনের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন হয়।

এ ছাড়া, ইরাকের বাগদাদ, কারবালা ও নাজাফেও পৃথক শোকানুষ্ঠানের আয়োজন করা হবে বলে ইরান জানিয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

টাইপ–৫ ডায়াবেটিস: লক্ষণ ও ঝুঁকি, কেন দ্রুত শনাক্ত করা জরুরি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

শুক্রবার, ৩ই জুলাই, ২০২৬ ইং

০৫:০১ এম


টাইপ–৫ ডায়াবেটিস: লক্ষণ ও ঝুঁকি, কেন দ্রুত শনাক্ত করা জরুরি

 

ডায়াবেটিস বলতে সাধারণত আমরা টাইপ–১ ও টাইপ–২ ডায়াবেটিসকেই বুঝে থাকি। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে চিকিৎসাবিজ্ঞানে ‘টাইপ–৫ ডায়াবেটিস’ নামে নতুন একটি আলাদা ধরনের ডায়াবেটিস নিয়ে আলোচনা শুরু হয়েছে। গবেষকদের ধারণা, দীর্ঘদিনের অপুষ্টির কারণে এই সমস্যা তৈরি হতে পারে। যদিও আন্তর্জাতিক ডায়াবেটিস ফেডারেশন (IDF) এটিকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃতি দিয়েছে, তবে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (WHO) এখনো এটিকে আলাদা ধরনের ডায়াবেটিস হিসেবে স্বীকৃতি দেয়নি। কারণ এ বিষয়ে আরও গবেষণা ও শক্তিশালী বৈজ্ঞানিক প্রমাণের প্রয়োজন রয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, বিশ্বজুড়ে প্রায় আড়াই কোটি মানুষ এই ধরনের ডায়াবেটিসে আক্রান্ত হয়ে থাকতে পারেন। কিন্তু অধিকাংশ ক্ষেত্রেই এটি টাইপ–১ বা টাইপ–২ ডায়াবেটিস হিসেবে ভুল শনাক্ত হওয়ায় রোগীরা সঠিক চিকিৎসা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন।

গবেষকদের ভাষ্য অনুযায়ী, টাইপ–৫ ডায়াবেটিস দীর্ঘস্থায়ী অপুষ্টির ফলে অগ্ন্যাশয়ের স্বাভাবিক বিকাশ বাধাগ্রস্ত হলে দেখা দিতে পারে। এতে শরীরে কিছু ইনসুলিন তৈরি হলেও তা পর্যাপ্ত হয় না। একই সঙ্গে অনেক রোগী ইনসুলিনের প্রতি অস্বাভাবিকভাবে সংবেদনশীল হয়ে পড়েন। এর ফলে প্রচলিত চিকিৎসা সবার ক্ষেত্রে কার্যকর নাও হতে পারে; বরং ভুলভাবে ইনসুলিন প্রয়োগ হলে কিছু রোগীর রক্তে শর্করার মাত্রা অতিরিক্ত কমে (হাইপোগ্লাইসেমিয়া) জীবনহানির ঝুঁকিও তৈরি হতে পারে।

টাইপ–৫ ডায়াবেটিসের সম্ভাব্য লক্ষণ:

এই রোগের উপসর্গ অনেকটাই অন্যান্য ধরনের ডায়াবেটিসের মতো হতে পারে। যেমন—

একটানা ক্লান্তি বা দুর্বলতা অনুভব করা।

অতিরিক্ত তৃষ্ণা লাগা।

ঘন ঘন প্রস্রাব হওয়া।

অস্বাভাবিকভাবে ওজন কমে যাওয়া।

অতিরিক্ত ক্ষুধা লাগা।

ঝাপসা দেখা।

ক্ষত বা ঘা ধীরে শুকানো।

গুরুতর অপুষ্টি বা স্বাভাবিকের তুলনায় অনেক কম ওজন থাকা, বিশেষ করে তরুণদের ক্ষেত্রে।

রোগ শনাক্ত না হলে কী ক্ষতি হতে পারে?

যদি টাইপ–৫ ডায়াবেটিস সঠিকভাবে শনাক্ত না হয়, তাহলে রোগী ভুল চিকিৎসা পেতে পারেন। এর ফলে—

অপ্রয়োজনীয় ইনসুলিন ব্যবহারে মারাত্মক হাইপোগ্লাইসেমিয়া হতে পারে।

চোখের রেটিনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে দৃষ্টিশক্তি নষ্ট হওয়ার ঝুঁকি বাড়ে।

কিডনি ধীরে ধীরে বিকল হতে পারে।

স্নায়ুর ক্ষতি (নিউরোপ্যাথি) দেখা দিতে পারে।

পায়ে বা শরীরের অন্য অংশে ক্ষত সৃষ্টি হলে তা সহজে শুকায় না।

জটিল সংক্রমণের কারণে অঙ্গচ্ছেদের প্রয়োজন হতে পারে।

গুরুতর ক্ষেত্রে জীবনহানির ঝুঁকিও তৈরি হতে পারে।

বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, কম ওজনের তরুণদের মধ্যে রক্তে শর্করার মাত্রা বেশি পাওয়া গেলে শুধুমাত্র টাইপ–১ ডায়াবেটিস ধরে নেওয়ার পরিবর্তে রোগীর পুষ্টিগত ইতিহাস, শারীরিক অবস্থা এবং অন্যান্য ক্লিনিক্যাল তথ্যও বিবেচনা করা উচিত।

সবশেষে মনে রাখতে হবে, টাইপ–৫ ডায়াবেটিস নিয়ে গবেষণা এখনো চলমান। তাই এ ধরনের উপসর্গ দেখা দিলে নিজে সিদ্ধান্ত না নিয়ে অবশ্যই একজন এন্ডোক্রিনোলজিস্ট বা ডায়াবেটিস বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া জরুরি। দ্রুত ও সঠিক রোগ নির্ণয়ই জটিলতা প্রতিরোধ এবং উপযুক্ত চিকিৎসা নিশ্চিত করার সবচেয়ে কার্যকর উপায়।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৬
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%