ঢাকা রবিবার, ২৫শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৯ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৪ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
রবিবার, ২৫শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৯ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

কক্সবাজারের টুপটুপ রিসোর্টে আগুন, ৫ জনের মৃত্যু


কক্সবাজারের টুপটুপ রিসোর্টে আগুন, ৫ জনের মৃত্যু

কক্সবাজারের মেরিনড্রাইভে টুপটুপ রিসোর্টে অগ্নিকাণ্ডের একটি ঘটনা ঘটেছে। এই অগ্নিকাণ্ডের ফলে পাঁচ জনের মৃত্যু হয়েছে। আজ শনিবার সকালে এই দুঃখজনক ঘটনা ঘটে। ফায়ার সার্ভিসের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।

অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় আরো চার জনকে গুরুতর দগ্ধ অবস্থায় উদ্ধার করা হয়েছে। তাদের দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে।

বিস্তারিত আসছে...

আরও পড়ুন: ৯৬ লাখ টাকা চুরির ঘটনায় ভাগ নেওয়ার অভিযোগে ইউপি চেয়ারম্যান শাহ আলম গ্রেপ্তার

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বিশ্বজুড়ে ১০ বছরে সাড়ে ৪ হাজারেরও বেশি শিশু অভিবাসীর মৃত্যু: আইওএম

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

শনিবার, ১৭ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১০:৩০ এম


বিশ্বজুড়ে ১০ বছরে সাড়ে ৪ হাজারেরও বেশি শিশু অভিবাসীর মৃত্যু: আইওএম

ঢাকা, ১৭ অক্টোবর, ২০২৬ : উন্নত জীবন ও নিরাপত্তার সন্ধানে ঝুঁকিপূর্ণ উপায়ে অভিবাসনের চেষ্টা করার ফলে গত দশ বছরে সাড়ে চার হাজারেরও বেশি শিশু মারা গেছে।

এই উদ্বেগজনক তথ্য আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম)-এর সর্বশেষ প্রতিবেদনে প্রকাশিত হয়েছে। তবে সংস্থাটি সতর্ক করেছে যে, নিখোঁজ ও নথিপত্রহীন ঘটনার কারণে শিশু মৃত্যুর প্রকৃত সংখ্যা এই তালিকার চেয়ে অনেক বেশি হতে পারে।

আইওএম-এর ‘মিসিং মাইডেলিকেট গ্রেন্টস প্রজেক্ট’ (নিখোঁজ অভিবাসী প্রকল্প)-এর তথ্য অনুযায়ী, ২০১৪ সাল থেকে সাম্প্রতিক সময় পর্যন্ত বিশ্বব্যাপী বিভিন্ন অভিবাসন রুটে অন্তত ৪,৪১৪ জন শিশু অভিবাসীর মৃত্যু বা নিখোঁজ হওয়ার ঘটনা রেকর্ড করা হয়েছে।

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, সমুদ্রের উত্তাল ঢেউ, মরুভূমির তীব্র আবহাওয়া এবং মানব পাচারকারীদের নিষ্ঠুরতার শিকার হয়ে প্রতি বছর শত শত শিশু প্রাণ হারাচ্ছে। ভূমধ্যসাগরকে সবচেয়ে বিপজ্জনক রুট হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এই রুট পাড়ি দিয়ে ইউরোপে যাওয়ার পথে অর্ধেকেরও বেশি শিশুর মৃত্যু ঘটেছে। মৃত ও নিখোঁজ শিশুদের একটি বড় অংশ সাব-সাহারা আফ্রিকা, যুদ্ধবিধ্বস্ত মধ্যপ্রাচ্য এবং দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন দেশের নাগরিক।

আইওএম এবং জাতিসংঘের শিশু বিষয়ক সংস্থা ইউনিসেফ যৌথভাবে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে জানায়, উদ্ধারকৃত মরদেহ বা ডুবে যাওয়া নৌকার যাত্রীদের অর্ধেকেরও বেশি ক্ষেত্রে বয়স বা সঠিক পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। ফলে নথিবদ্ধ তথ্যের বাইরে হাজার হাজার শিশুর মৃত্যু আড়ালেই থেকে যাচ্ছে।

আইওএম-এর মহাপরিচালক বলেন, 'আইনি ও নিরাপদ অভিবাসন পথের অভাবই শিশুদের এই চরম ঝুঁকির মুখে ঠেলে দিচ্ছে। প্রতিটি শিশুমৃত্যু বিশ্বনেতাদের জন্য একটি জরুরি সতর্কবার্তা।'

সংস্থাটি বিশ্বজুড়ে মানব পাচারকারী চক্রের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণ এবং ঝুঁকিপূর্ণ জনপদের শিশুদের সুরক্ষায় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে অবিলম্বে সমন্বিত পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।

রুটভিত্তিক শিশু মৃত্যুর ভয়াবহ পরিসংখ্যান

ভূমধ্যসাগরীয় রুট: উত্তর আফ্রিকা থেকে সমুদ্রপথে ইউরোপে যাওয়ার এই রুটটি শিশুদের জন্য সবচেয়ে প্রাণঘাতী প্রমাণিত হয়েছে। মোট শিশু মৃত্যুর অর্ধেকেরও বেশি (২,০০০-এর বেশি শিশু) এই রুটে সাগরে ডুবে মারা গেছে।

যুক্তরাষ্ট্র-মেক্সিকো সীমান্ত এবং আমেরিকা অঞ্চল: ল্যাটিন আমেরিকা থেকে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে প্রবেশের চেষ্টা করার সময় মরুভূমির চরম আবহাওয়া ও নদীতে ডুবে কমপক্ষে ৮৫০ জন শিশুর মৃত্যু রেকর্ড করা হয়েছে।

আফ্রিকা মহাদেশীয় রুট: সাহারা মরুভূমি ও হর্ন অব আফ্রিকা অঞ্চলের দুর্গম পথ পাড়ি দিতে গিয়ে আরও শত শত শিশু পানিশূন্যতা ও তীব্র গরমে প্রাণ হারিয়েছে।

লিঙ্গ ও বয়স ভিত্তিক বিশ্লেষণ

আইওএম জানিয়েছে, মৃত শিশুদের মধ্যে যাদের বয়স চিহ্নিত করা সম্ভব হয়েছে, তাদের শতাধিক শিশুর বয়স ৫ বছরের কম ছিল। এছাড়া মোট মৃত্যুর মধ্যে মেয়ে শিশুদের তুলনায় ছেলে শিশুদের মৃত্যুর হার কিছুটা বেশি (প্রায় ৬০ শতাংশ)। তবে অর্ধেকেরও বেশি ক্ষেত্রে (প্রায় ৫২% মরদেহ) বয়স বা লিঙ্গ কোনোটিই সঠিকভাবে শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি।

মৃত্যুর প্রধান কারণসমূহ

নৌকাডুবি ও সলিলসমাধি: অনিরাপদ ও ধারণক্ষমতার অতিরিক্ত যাত্রী বোঝাই প্লাস্টিক বা কাঠের নৌকা উল্টে যাওয়া।

চরম আবহাওয়া: মরুভূমিতে তীব্র তাপপ্রবাহ, পানিশূন্যতা এবং অনাহার।

পাচারকারীদের সহিংসতা: মানব পাচারকারী ও দালাল চক্রের হাতে শারীরিক নির্যাতন এবং ঝুঁকিপূর্ণ পথে জোরপূর্বক ঠেলে দেওয়া।

আন্তর্জাতিক সংস্থার জরুরি আহ্বান

আইওএম এবং জাতিসংঘের শিশু বিষয়ক সংস্থা ইউনিসেফ এক যৌথ বিবৃতিতে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেছে, আইনি ও নিরাপদ অভিবাসন পথের অভাবের কারণে অভিভাবকরা শিশুদের নিয়ে এই চরম আত্মঘাতী পথ বেছে নিচ্ছেন। সংস্থা দুটি বিশ্বনেতাদের প্রতি ঝুঁকিপূর্ণ জনপদের শিশুদের সুরক্ষায় আন্তর্জাতিক সীমানাগুলোতে উদ্ধার তৎপরতা জোরদার এবং মানব পাচারকারী সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছে।

প্রতিবেদনের মূল বিবরণ ও পরিসংখ্যান

৮১ হাজারের মধ্যে অর্ধেকেরই বয়স অজানা : গত এক যুগে বিশ্বজুড়ে সব মিলিয়ে প্রায় ৮১,০০০ অভিবাসীর মৃত্যু ও নিখোঁজ হওয়ার ঘটনা রেকর্ড করেছে আইওএম। তবে এর মধ্যে ৪৪,৮৬২টি ক্ষেত্রে (৫৫.৫ শতাংশ) মৃত বা নিখোঁজ ব্যক্তির বয়স বা বয়স ভিত্তিক কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। ফলে এই বিশাল সংখ্যার ভেতরে আরও কত শত শিশু হারিয়ে গেছে, তা অজানা রয়ে গেছে।

অদৃশ্য মৃত্যু: প্রতিবেদনে উদাহরণ দিয়ে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালে সেন্ট্রাল ভূমধ্যসাগরীয় রুট দিয়ে ইতালি ও মাল্টায় পৌঁছানো মোট অভিবাসীর ১৯ শতাংশই ছিল শিশু। অথচ ওই রুটে রেকর্ডকৃত মোট মৃত্যুর মাত্র ২ শতাংশ শিশু হিসেবে নথিবদ্ধ হয়েছে। এটি প্রমাণ করে যে সমুদ্রের তলদেশে হারিয়ে যাওয়া অসংখ্য শিশুর মৃত্যু নথির বাইরে ও সম্পূর্ণ অদৃশ্য থেকে যাচ্ছে।

তথ্যের উৎসের সীমাবদ্ধতা: আইওএম জানিয়েছে, মেডিকেল এক্সামিনার এবং আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর মতো অফিশিয়াল সরকারি উৎস থেকে মাত্র ১৮ শতাংশ শিশু মৃত্যুর নির্ভরযোগ্য ও পূর্ণাঙ্গ তথ্য পাওয়া যায়। বাকি সিংহভাগ তথ্যই আসে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক মানবিক সংস্থা, গণমাধ্যম এবং বেঁচে যাওয়া প্রত্যক্ষদর্শীদের সাক্ষ্য থেকে।

আইওএম-এর ডেটা ও পলিসি বিভাগের প্রধান স্টুয়ার্ট ক্যাম্পো বলেন, 'অভিবাসন যাত্রায় প্রাণ হারানো প্রতিটি শিশুর হিসাব পাওয়ার অধিকার রয়েছে, অথচ তথ্যের অভাবে অনেকেই এই তালিকা থেকে বাদ পড়ে যাচ্ছে। আমরা যদি বিপদকে চোখেই না দেখি, তবে শিশুদের সুরক্ষাও দিতে পারব না।'

আন্তর্জাতিক ডেটা অ্যালায়েন্স ফর চিলড্রেন অন দ্য মুভ (আইডিএসি) এবং ইউনিসেফের যৌথ সহায়তায় প্রকাশিত এই প্রতিবেদনে বিশ্বনেতাদের প্রতি সীমান্তে মৃতদের বয়স ও অভিবাসন স্ট্যাটাস সঠিকভাবে নথিবদ্ধ করার এবং বিভিন্ন দেশের আইন প্রয়োগকারী সংস্থার মধ্যে তথ্য আদান-প্রদান বৃদ্ধির জন্য জরুরি আহ্বান জানানো হয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

প্রকাশ রাজের আন্দোলন অব্যাহত রাখার ঘোষণা, সরকারকে প্রশ্ন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বিনোদন ডেস্ক

শনিবার, ১৭ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১০:৩০ এম


প্রকাশ রাজের আন্দোলন অব্যাহত রাখার ঘোষণা, সরকারকে প্রশ্ন

ভারতের শিক্ষার্থী ও তরুণদের আটক এবং শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ মিছিলে বিধিনিষেধ আরোপের সমালোচনা করেছেন অভিনেতা প্রকাশ রাজ। তিনি দেশজুড়ে গণতান্ত্রিক অধিকার রক্ষার আন্দোলন অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিয়েছেন। ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে অপসারণ এবং ভোটার তালিকার বিশেষ নিবিড় সংশোধন প্রক্রিয়ার বিরুদ্ধে প্রতিবাদ চালিয়ে যাওয়ার কথাও জানিয়েছেন এই অভিনেতা।

শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) কেরালার তিরুবনন্তপুরমে জ্ঞানেশ কুমার ও ভোটার তালিকা সংশোধন প্রক্রিয়ার বিরুদ্ধে আয়োজিত এক প্রতিবাদ সভায় অংশ নেন প্রকাশ রাজ। সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় তিনি জানান, বাধা দেওয়া হলেও শান্তিপূর্ণ আন্দোলন থামবে না। তাঁর মতে, তরুণেরা নিজেদের সাংবিধানিক অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্যই প্রতিবাদ করছেন।

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ‘ঘরে ঘরে তিরঙ্গা’ স্লোগানের প্রসঙ্গ তুলেও প্রশ্ন করেছেন প্রকাশ রাজ। তিনি বলেন, "জাতীয় পতাকার প্রতি শ্রদ্ধা জানানোর কথা বলা হলেও শান্তিপূর্ণ মিছিলে অংশ নিতে চাওয়া শিক্ষার্থী ও তরুণদের আটক করা হচ্ছে কেন?" এই পরিস্থিতি নিয়ে সরকারের অবস্থান জানতে চান তিনি।

প্রকাশ রাজ আরও বলেন, মহাত্মা গান্ধী, বি আর আম্বেদকর ও ভগৎ সিংয়ের আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে প্রতিবাদকারীরা আন্দোলন চালিয়ে যাবেন। তাঁর দাবি, আন্দোলন দমনের চেষ্টা করে মানুষের প্রশ্ন তোলার অধিকার কেড়ে নেওয়া সম্ভব নয়। নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা এবং ভোটার তালিকা থেকে নাম বাদ পড়ার অভিযোগ নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন তিনি।

প্রতিবাদ সভা শুরুর আগে মাইক্রোফোন ব্যবহারের অনুমতি না থাকার কথা জানিয়ে পুলিশ আয়োজকদের বাধা দেয়। এ নিয়ে সামান্য উত্তেজনা তৈরি হলেও পরে সভা চালিয়ে যাওয়ার অনুমতি দেওয়া হয়। প্রকাশ রাজের বক্তব্য, বাধা ও আটকের ঘটনা সত্ত্বেও দেশজুড়ে শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ অব্যাহত থাকবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

কুকি-চিনের নাথান বম আবার আলোচনায়, সিআইডির বিরুদ্ধে মামলা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ১৭ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১০:৩১ এম


কুকি-চিনের নাথান বম আবার আলোচনায়, সিআইডির বিরুদ্ধে মামলা

দীর্ঘ সময় ধরে আড়ালে থাকার পর নিষিদ্ধ কুকি-চিন ন্যাশনাল ফ্রন্টের (কেএনএফ) প্রধান নাথান বম আবার আলোচনায় এসেছেন। ৮ অক্টোবর, পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) নাথানসহ ৯ জনের বিরুদ্ধে মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইনে মামলা দায়ের করেছে। এই মামলা সংগঠনটির ইউনিফর্ম তৈরিতে অর্থায়ন ও আর্থিক লেনদেনের অভিযোগে করা হয়েছে।

এদিকে, পার্বত্য অঞ্চলে কেএনএফের কার্যক্রম ফের বৃদ্ধি পাওয়ার অভিযোগে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। নাথান বম কি ভারতের মিজোরামে অবস্থান করে দেশে সংগঠনের সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন, অর্থ সংগ্রহের চেষ্টা করছেন, এবং এর পেছনে অন্য কারো ইন্ধন রয়েছে কি না—এসব বিষয় খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

সিআইডির মামলার তথ্য অনুযায়ী, কেএনএফের ৪০ হাজার সেট চার রঙের ক্যামোফ্লেজ ইউনিফর্ম তৈরির কাপড় ও সেলাইয়ের কাজ বাবদ প্রায় এক কোটি ৬৩ লাখ টাকা লেনদেনের তথ্য পাওয়া গেছে। মামলায় নাথান বমকে এক নম্বর আসামি হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।

২০২২ সালের জানুয়ারিতে প্রথমে মিয়ানমারের মংডুতে আত্মগোপন করলেও বর্তমানে তিনি মিজোরামের আইজল শহরে বসবাস করছেন বলে জানা গেছে। সেখানে নাথান বমের উপদেষ্টা পিংলিয়ান জুং বমও রয়েছেন। আইজল এলাকায় নাথানের পূর্বপুরুষদের বসবাস ছিল। মোস্ট ওয়ানটেড আসামি হওয়ার পর তিনি সেখানে পালিয়ে গেছেন। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী অভিযোগ করেছে যে, এখন সেখান থেকেই নাথান বম সংগঠনের সদস্যদের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন।

পুলিশ ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর একাধিক সংস্থার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, বান্দরবান ও পার্বত্য জেলায় কুকি-চিনের কার্যক্রম কম ছিল। তবে তাদের সাম্প্রতিক কার্যক্রম পুলিশকে নতুন করে ভাবিয়ে তুলেছে। বান্দরবান, রাঙ্গামাটি ও খাগড়াছড়ির প্রত্যন্ত এলাকা ও পাহাড়ের এলাকায় তাদের কার্যক্রম বেড়েছে।

আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, নাথান বম তাদের মোস্ট ওয়ানটেড আসামিদের মধ্যে একজন। কেএনএফ যাতে নতুন করে সংগঠিত হতে না পারে, সেজন্য নজরদারি বৃদ্ধি করা হয়েছে। সংগঠনটির সাম্প্রতিক কার্যক্রমের পেছনে তৃতীয় কোনো পক্ষের ইন্ধন রয়েছে কি না, তা-ও খতিয়ে দেখা হচ্ছে।

বান্দরবানের পুলিশ সুপার ওহাবুল ইসলাম খন্দকার গত সোমবার রাতে "আমার দেশ"কে জানিয়েছেন, কুকি-চিনের বিষয়ে পুলিশ সতর্ক রয়েছে।

কেএনএফের মুখপাত্র লালজানের বমের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি এ বিষয়ে কথা বলতে রাজি হননি।

নাথান বমের পরিচয় ও সংগঠন

পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, নাথান বম বান্দরবানের রুমা উপজেলার ইডেনপাড়ার বাসিন্দা এবং বম সম্প্রদায়ের সদস্য। তার বাবা মৃত জাওতন লনচে পেশায় জুমচাষি ছিলেন। পাঁচ ভাই ও এক বোনের মধ্যে নাথান সবার ছোট। তার স্ত্রীর নাম লেলসম কিম বম। ২০০৯ সালে তাদের বিয়ে হয়। স্ত্রীর পেশা নার্স এবং বর্তমানে তিনি লালমনিরহাটে কর্মরত বলে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে।

নাথান বম ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চারুকলা অনুষদ থেকে ২০০৮ সালে স্নাতকোত্তর সম্পন্ন করেন। বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় তিনি পাহাড়ি ছাত্র পরিষদের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। পরে মতবিরোধের কারণে ওই সংগঠন থেকে বহিষ্কৃত হন। বিশ্ববিদ্যালয়ের পড়াশোনা শেষে তিনি কেএনএফ প্রতিষ্ঠা করেন।

২০০৮ সালে রুমার ইডেনপাড়ায় কুকি-চিন ন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট অর্গানাইজেশন (কেএনডিও) নামে একটি বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা প্রতিষ্ঠা করেন নাথান বম। সংগঠন ঘোষিত কার্যক্রমের মধ্যে ছিল বনাঞ্চল সবুজায়ন, পশুপাখি ও প্রাকৃতিক সৌন্দর্য সংরক্ষণসহ বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক কাজ।

কেএনএফের ফেসবুক পেজে উল্লেখ করা হয়েছে, অনগ্রসর ও সুবিধাবঞ্চিত কুকি-চিন জনগোষ্ঠীর অর্থনৈতিক উন্নয়ন এবং সাংস্কৃতিক বৈশিষ্ট্য সংরক্ষণ সংগঠনটির উদ্দেশ্য। নারী-পুরুষ মিলিয়ে সংগঠনটির প্রায় ১,০০০ সদস্য রয়েছে বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে। তাদের মধ্যে অনেকে সশস্ত্র প্রশিক্ষণ নিয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে। সংগঠনটির বিভিন্ন কর্মকাণ্ডের ছবি ও ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশ করা হয়েছিল।

২০১৮ সালে নাথান বম বান্দরবান আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে অংশগ্রহণ করেন। ২০২২ সালের মে মাস থেকে কেএনএফের কর্মকাণ্ড প্রকাশ্যে আসতে শুরু করলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সংগঠনটির বিষয়ে সক্রিয় হয়।

কেএনএফের দাবি, বম সম্প্রদায় দীর্ঘদিন ধরে নির্যাতন ও অধিকার বঞ্চনার শিকার। এ অবস্থার পরিবর্তনের কথা বলে সন্তু লারমার নেতৃত্বাধীন জনসংহতি সমিতি (জেএসএস) থেকে বেরিয়ে আসা বম সম্প্রদায়ের কিছু সদস্যকে নিয়ে নাথান বম সশস্ত্র সংগঠনটি গড়ে তোলেন। সংগঠনটি বান্দরবান, রাঙামাটি ও খাগড়াছড়ি অঞ্চলের বম, পাংখোয়া, লুসাই, খিয়াং, ম্রো ও খুমি—এ ছয় জাতিগোষ্ঠীর প্রতিনিধিত্ব করার দাবিও করে।

ইউনিফর্ম তৈরির অর্থায়নে মামলা

সিআইডির মামলার এজাহার অনুযায়ী, ২০২৫ সালের ১৮ মে রাতে চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশের (সিএমপি) একটি বিশেষ দল বায়েজিদ বোস্তামী থানার মোজাফফরনগর আবাসিক এলাকায় অভিযান চালিয়ে কেএনএফের পোশাক তৈরির সঙ্গে জড়িত একজনকে আটক করে। তাকে জিজ্ঞাসাবাদে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে পরে হালিশহর থানার ছোটপুল এলাকার দুটি ফ্ল্যাটে অভিযান চালিয়ে আরো দুজনকে আটক করা হয়।

তাদের দেওয়া তথ্য যাচাই করে বায়েজিদ বোস্তামী থানার একটি গোডাউন ও একটি পোশাক কারখানা থেকে কেএনএফের ২০ হাজার ৩০০ সেট চার রঙের ক্যামোফ্লেজ ইউনিফর্ম উদ্ধার করা হয়। এর মধ্যে গোডাউন থেকে ১১ হাজার ২০০ সেট এবং কারখানা থেকে ৯,১০০ সেট ইউনিফর্ম জব্দ করা হয়। এ ঘটনায় বায়েজিদ বোস্তামী থানায় সন্ত্রাসবিরোধী আইনে মামলা দায়ের করা হয়।

পরবর্তী সময়ে কেএনএফের ইউনিফর্ম তৈরির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের আর্থিক কর্মকাণ্ডের অনুসন্ধান শুরু করে সিআইডি। এজাহারে বলা হয়, সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান শনাক্ত করার পাশাপাশি ব্যাংক হিসাব, চেক, নগদ অর্থ প্রদান, ক্রয়াদেশ, ব্যবসায়িক পরিচয়, পারস্পরিক যোগাযোগ ও আর্থিক লেনদেন বিশ্লেষণ করা হয়। এতে অর্থের উৎস ও ব্যবহার এবং সংশ্লিষ্টদের মধ্যে যোগসাজশের তথ্য পাওয়া গেছে বলে দাবি করেছে সিআইডি।

মামলার অন্য আসামিরা হলেন—কেএনএফের প্রতিনিধি মংহলাসিন মারমা ওরফে মং, নিয়াজ হায়দার, গোলাম আজম, সাহেদুল ইসলাম, মোহাম্মদ কামরুজ্জামান, জামালুল ইসলাম, মতিউর রহমান ও তৌহিদুল ইসলাম।

অর্থ সংগ্রহের চেষ্টা

পুলিশের সূত্রগুলোর দাবি, কেএনএফের কর্মকাণ্ডের ওপর নজরদারি বাড়ানোর পর সংগঠনটির অর্থ সংগ্রহের কার্যক্রম বাধাগ্রস্ত হয়েছে। আগে বিভিন্ন এনজিও ও সমর্থক গোষ্ঠীর কাছ থেকে রসিদের মাধ্যমে অর্থ সংগ্রহ করা হতো বলে অভিযোগ রয়েছে। সাম্প্রতিক সময়ে সংগঠনটি আবার অর্থ সংগ্রহের চেষ্টা করছে—এমন তথ্যও পুলিশের কাছে এসেছে।

কেএনএফ-সংশ্লিষ্টদের গতিবিধি পর্যবেক্ষণ করছে পুলিশ। বিশেষ করে বান্দরবানের রুমা উপজেলায় নজরদারি জোরদার করা হয়েছে বলে সূত্রগুলো জানিয়েছে।

ইন্টারপোলের সহায়তা নেওয়ার চিন্তা

নাথান বমকে গ্রেপ্তারে আন্তর্জাতিক পুলিশ সংস্থা ইন্টারপোলের সহায়তা নেওয়ার উদ্যোগ আগেই নেওয়া হয়েছিল বলে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে। তবে সে প্রক্রিয়া বেশি দূর এগোয়নি। নাথান বম ও কেএনএফের কার্যক্রম নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হওয়ায় তাকে গ্রেপ্তারে ইন্টারপোলের রেড নোটিস জারির বিষয়টি আবার বিবেচনা করছে পুলিশ। দ্রুত এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানা গেছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বরিশাল মহানগর পুলিশের বিশেষ অভিযান: ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার ৩০ জন

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

নিজস্ব প্রতিবেদক, বরিশাল

শনিবার, ১৭ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১০:৩২ এম


বরিশাল মহানগর পুলিশের বিশেষ অভিযান: ইয়াবাসহ গ্রেপ্তার ৩০ জন

বরিশাল মহানগরীর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ ও অপরাধ দমনে বিশেষ অভিযান পরিচালনা করেছে বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশ (বিএমপি)। গত ১৬ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে মহানগর পুলিশের চারটি থানা ও গোয়েন্দা শাখার পৃথক অভিযানে ১৫০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেটসহ মোট ৩০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

শনিবার (১৭ অক্টোবর) বরিশাল মহানগর পুলিশের পক্ষ থেকে প্রকাশিত বিশেষ আভিযানিক সাফল্যের তথ্য অনুযায়ী, নগরীর বিভিন্ন স্থানে পরিচালিত এসব অভিযানে মাদকদ্রব্যসহ দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ ছাড়া গ্রেপ্তারি পরোয়ানাভুক্ত ছয়জন, নিয়মিত মামলায় পাঁচজন এবং বরিশাল মহানগর অধ্যাদেশের আওতায় ১৭ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, পৃথক অভিযানে বিভিন্ন অভিযোগে গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিদের মোট সংখ্যা ৩০ জন।

বরিশাল মহানগর পুলিশের পক্ষ থেকে মাদকসংক্রান্ত অপরাধ দমনে জনসাধারণের সহযোগিতা কামনা করা হয়েছে। মাদকসংক্রান্ত কোনো তথ্য থাকলে তা পুলিশকে জানানোর আহ্বান জানানো হয়েছে। তথ্যদাতার পরিচয় গোপন রাখা হবে বলেও জানিয়েছে পুলিশ।

মাদকসংক্রান্ত তথ্য জানাতে যোগাযোগ করুন:

☎️ 01320-064000
☎️ 01320-064044

মাদকমুক্ত ও নিরাপদ নগরী গড়ে তুলতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি নগরবাসীর সচেতনতা ও সহযোগিতা গুরুত্বপূর্ণ।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৪ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৪
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৪৮
মাগরিব ০৫:২৪
ইশা ০৬:৩৬
সূর্যোদয় : ০৬:০০ সূর্যাস্ত : ০৫:২৪
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%