ঢাকা বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বুধবার, ২৮শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১২ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

যুক্তরাষ্ট্র সফরে মেলানিয়া ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠক করেন জুবাইদা রহমান


যুক্তরাষ্ট্র সফরে মেলানিয়া ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠক করেন জুবাইদা রহমান

জাতিসংঘের ৮১তম অধিবেশনের সাইডলাইনে মার্কিন ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্প বিশেষ বৈঠক আয়োজন করেন, যেখানে বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানদের সহধর্মিণীরা উপস্থিত ছিলেন। এই বৈঠকে ডা. জুবাইদা রহমান, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সহধর্মিণী, অংশগ্রহণ করেন।

শনিবার (৩ অক্টোবর) প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইং থেকে মেলানিয়া ট্রাম্পের সঙ্গে জুবাইদা রহমানের একটি ছবি প্রকাশ করা হয়। প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইং হোয়াইট হাউসের সৌজন্যে এই ছবি প্রকাশ করে।

প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইং জানায়, জাতিসংঘের ৮১তম অধিবেশনের সাইডলাইনে মার্কিন ফার্স্ট লেডি মেলানিয়া ট্রাম্প বিভিন্ন দেশের রাষ্ট্র ও সরকারপ্রধানদের সহধর্মিণীদের (ফার্স্ট লেডি) নিয়ে বিশেষ বৈঠক করেন। বৈঠকে তিনি তার বিশ্বব্যাপী শিশু কল্যাণবিষয়ক উদ্যোগ 'ফস্টারিং দ্য ফিউচার টুগেদার' উন্মোচন করেন এবং অন্যান্য দেশের ফার্স্ট লেডিদের এই আন্দোলনে যুক্ত হওয়ার আহ্বান জানান।

আরও পড়ুন: বিএনপিকে যারা ভোট দিয়েছে ও দেয়নি, তারা নিরাপদে থাকবে: নয়ন

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রীর উপজেলা প্রশাসনকে সৌর প্যানেল স্থাপনের নির্দেশনা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ৩ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৯:১৩ পি.এম


স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রীর উপজেলা প্রশাসনকে সৌর প্যানেল স্থাপনের নির্দেশনা

স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম উপজেলা প্রশাসনকে নির্দেশনা দিয়েছেন, হাটবাজার থেকে প্রাপ্ত রাজস্বের ১০-১৫ শতাংশ অর্থ সৌর প্যানেল স্থাপনে ব্যয় করতে হবে। তিনি কর্মকর্তাদের নিজ নিজ বাসভবনে সৌর প্যানেল স্থাপনে এগিয়ে আসার জন্যও আহ্বান জানান। এ সময় তিনি তার সাম্প্রতিক চীন সফরের অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন, যেখানে বিশাল আকারে সৌরবিদ্যুৎ উৎপাদন দেখার সুযোগ হয়েছিল।

আজ শনিবার বিকেলে রাজধানীর আগারগাঁওয়ে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরে ‘সৌর বিদ্যুৎ, ডেঙ্গু প্রতিরোধ ও উন্নয়ন কর্মসূচি পর্যালোচনা সভায়’ প্রধান অতিথির বক্তৃতায় এসব নির্দেশনা প্রদান করেন তিনি।

সড়কের উন্নয়ন ও রক্ষণাবেক্ষণ, নবায়নযোগ্য জ্বালানির সম্প্রসারণ এবং উন্নয়ন কার্যক্রম স্বচ্ছভাবে বাস্তবায়নের জন্য সব উপজেলা নির্বাহী প্রকৌশলীকে তৎপর থাকার নির্দেশ দিয়েছেন তিনি।

প্রতিমন্ত্রী বলেন, দেশে এ পর্যন্ত প্রায় ছয় হাজার কিলোমিটার সড়ক পাকা করা হয়েছে। তবে অনেক সড়ক প্রশস্তকরণ, পুনর্নির্মাণ ও দীর্ঘমেয়াদি রক্ষণাবেক্ষণের প্রয়োজন রয়েছে। এ জন্য সংশ্লিষ্টদের রাস্তা প্রশস্তকরণ, পুনর্নির্মাণ ও বৃহৎ রক্ষণাবেক্ষণ প্রকল্প প্রস্তাব পাঠানোর আহ্বান জানান তিনি।

তিনি উল্লেখ করেন, সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী প্রায় পাঁচ হাজার কিলোমিটার গ্রামীণ সড়কের রক্ষণাবেক্ষণ প্রকল্প অনুমোদন করেছেন। রক্ষণাবেক্ষণ প্রকল্প সারা দেশ থেকে এলে মূল বাজেট থেকে অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হবে। এই অর্থ থেকে উপজেলা নির্বাহী প্রকৌশলীরা প্রয়োজনীয় ব্যয় নির্বাহ করতে পারবেন।

প্রতিমন্ত্রী আরো বলেন, কার্পেটিংয়ের পর সড়ক সম্পূর্ণ শক্ত হতে সাধারণত ৭২ ঘণ্টা সময় লাগে। এ সময় সড়ক পাহারা দিতে ঠিকাদারকে দিনে ও রাতে দুজন করে নিরাপত্তাকর্মী নিয়োগ দেওয়ার নির্দেশ দেন তিনি। এ বিষয়ে উপজেলা প্রকৌশলীদের দায়িত্বশীলভাবে কাজ করতে বলেন প্রতিমন্ত্রী।

তিনি জানান, সরকারের সিদ্ধান্ত ও মন্ত্রিপরিষদের অনুমোদন অনুযায়ী ২০২৮ সাল থেকে অর্থবছর হবে ১ এপ্রিল থেকে ৩১ মার্চ। এতে আগস্ট-সেপ্টেম্বর থেকে মার্চ পর্যন্ত টানা শুষ্ক মৌসুমে উন্নয়ন কাজ বাস্তবায়নের সুযোগ বাড়বে।

তিনি আরো জানান, জুলাই সনদে স্বাক্ষরিত বিষয়গুলো সংবিধানে অন্তর্ভুক্ত করতে সংসদে একটি সংবিধান সংশোধন কমিটি কাজ করছে। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারব্যবস্থা, দ্বিকক্ষ সংসদ এবং রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতার ভারসাম্যসহ সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো এ কমিটির আওতায় বিবেচনা করা হচ্ছে।

মতবিনিময় শেষে তিনি জানান, ভবিষ্যতে প্রয়োজন অনুযায়ী উপজেলা নির্বাহী প্রকৌশলীদের সঙ্গে মূল্যায়নভিত্তিক আলোচনা করা হবে।

সভায় বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মো. শহীদুল হাসান এবং সভাপতিত্ব করেন স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী মো. বেলাল হোসেন। এছাড়া উপস্থিত ছিলেন অধিদপ্তর ও মন্ত্রণালয়ের বিভিন্ন পর্যায়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

জাবি ছাত্রদলের দুই নেতা বহিষ্কার, একজনকে শোকজ নোটিশ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ৩ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৯:১৩ পি.এম


জাবি ছাত্রদলের দুই নেতা বহিষ্কার, একজনকে শোকজ নোটিশ

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় (জাবি) শাখা ছাত্রদলের দুই নেতাকে বহিষ্কার করা হয়েছে সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের অভিযোগে। একই অভিযোগের কারণে সংগঠনটির আরেক নেতাকে শোকজ নোটিশ প্রদান করা হয়েছে।

শনিবার (৩ অক্টোবর) কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের দপ্তর সম্পাদক মো. জাহাঙ্গীর আলমের স্বাক্ষরিত পৃথক বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য প্রকাশ করা হয়।

বহিষ্কৃত দুই নেতা হলেন—জাবি শাখা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক এস এম শফিকুল ইসলাম এবং ছাত্রনেতা রাসেল খন্দকার।

বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে, সুনির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে কেন্দ্রীয় সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব এবং সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছিরের নির্দেশে শফিকুল ইসলাম ও রাসেল খন্দকারকে সাংগঠনিক পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।

অন্যদিকে, একই অভিযোগের কারণে জাবি শাখা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক সেলিম রেজাকে শোকজ করা হয়েছে। তাঁকে আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ছাত্রদল কেন্দ্রীয় সংসদের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের উপস্থিতিতে কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে লিখিত ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে আরো উল্লেখ করা হয়েছে, সেলিম রেজার বিরুদ্ধে কেন স্থায়ী সাংগঠনিক শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে না, সে বিষয়ে লিখিত ব্যাখ্যা দিতে হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

জামায়াতের আশকারায় অপরাধীরা ফেরেশতা, ছাগল চোর রাজনীতিবিদ: সুজাউদ্দৌলা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ৩ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৯:৩২ পি.এম


জামায়াতের আশকারায় অপরাধীরা ফেরেশতা, ছাগল চোর রাজনীতিবিদ: সুজাউদ্দৌলা

প্রধানমন্ত্রী উপ-প্রেসসচিব সুজাউদ্দৌলা (সুজন মাহমুদ) মন্তব্য করেছেন যে, রাজাকাররা যখন আওয়ামী লীগের মেশিনে প্রবেশ করত, তখন মুক্তিযোদ্ধা হয়ে বের হতো। ঠিক একইভাবে জামায়াতের মেশিনে অপরাধীরা প্রবেশ করলে ফেরেশতা হয়ে বের হয়। তিনি বলেন, ‘জামায়াতের মেশিনে গেলে সব জায়েজ হয়ে যায়! এর আগে আওয়ামী লীগের মেশিনে যেমন রাজাকার গেলে মুক্তিযোদ্ধা হয়ে বের হতো।’

শনিবার (৩ অক্টোবর) সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে তিনি এই মন্তব্য করেন।

সুজাউদ্দৌলা তার পোস্টে উল্লেখ করেন, ‘জুলাই আন্দোলনকারীদের রাজাকার বানিয়েছিল স্বৈরাচার হাসিনার সঙ্গে আরেকজন কথিত নেতা; মেজর আখতার। স্বৈরাচার পতনের পরে হাসিনা ভারতে পালিয়ে গিয়েছিলেন এবং মেজর আখতার জামায়াতে চলে গিয়েছিল! বাহ, সুন্দর না!’

তিনি আরও বলেন, ‘এই মেজর আখতার বিমানবন্দরের দুই কর্মকর্তার গায়ে হাত দিল, নির্বাহী পরিচালককে যাচ্ছেতাই মুখের ভাষা ব্যবহার করে মারতে উদ্যত হয়েছিল। ডিউটিরত অবস্থায় গায়ে হাত তোলা ফৌজদারি অপরাধ। এই অপরাধে মামলা হয়েছে, অপরাধী আটকও হয়েছে। সঙ্গে সঙ্গেই জামায়াতিরা জেগে উঠলো। আমির বিবৃতি দিয়ে বললেন, তিনি অপরাধ করেননি! হ্যাঁ, আমির সাব হয়তো ঠিকই বলেছেন, কারণ তাদের অপরাধ তো শুরুই হয় বলাৎকার আর ধর্ষণ দিয়ে! এর নিচে কোনো অপরাধ, অপরাধ নয়! তাদের নেতাদের অপরাধ হইতেই পারে না!’

তিনি আরো লেখেন, ‘জামায়াতের মেশিনে গেলে সব জায়েজ হয়ে যায়! এর আগে আওয়ামী লীগের মেশিনে যেমন রাজাকার গেলে মুক্তিযোদ্ধা হয়ে বের হতো, ঠিক তেমনি এখন জামায়াতের মেশিনে অপরাধী-দুর্নীতিবাজ আর বলাৎকারীরা গেলেই ফেরেশতা হয়ে বের হয়। আর ছাগল চোর গেলেই রাজনীতিবিদ হয়ে বের হয়।’

সুজাউদ্দৌলা তার পোস্টে আরও উল্লেখ করেন, ‘হাসিনা পালানোর সময় তাদের মাসতুতো ভাই জামায়াতের কাছে তাদের এই মেশিন দিয়ে গেছে! কি আজব মেশিন মাইরি!! বিরুদ্ধে গেলেই চাঁদাবাজ আর সঙ্গে থাকলেই পীরসাব!’

সবশেষে তিনি লেখেন, ‘সরকার অপরাধীদের শাস্তি দেয় আর জামায়াত দিচ্ছে আশকারা।’

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

কুবিতে ৬৮২৭ জনের স্বাস্থ্যসেবায় মাসে মাথাপিছু বরাদ্দ ৮ টাকা ৫৫ পয়সা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

শনিবার, ৩ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

০৯:৩৩ পি.এম


কুবিতে ৬৮২৭ জনের স্বাস্থ্যসেবায় মাসে মাথাপিছু বরাদ্দ ৮ টাকা ৫৫ পয়সা

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে (কুবি) ৬ হাজার ৮২৭ জন শিক্ষক-শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীর প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবার জন্য চলতি অর্থবছরে বরাদ্দ রাখা হয়েছে ৭ লাখ টাকা। এই বরাদ্দের ফলে বিশ্ববিদ্যালয় পরিবারের একজন সদস্যের স্বাস্থ্যসেবায় বছরে বরাদ্দ পড়ছে ১০২ টাকা ৫৪ পয়সা। মাসের হিসাবে এই অর্থের পরিমাণ মাত্র ৮ টাকা ৫৫ পয়সা।

সীমিত এই বরাদ্দের পাশাপাশি ওষুধের সংকট, চিকিৎসক ও জনবল ঘাটতি এবং রোগ নির্ণয়ের প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষার সুযোগ না থাকায় বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল সেন্টারের সেবা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষার্থীদের অভিযোগ রয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের বাজেট ও একাডেমিক শাখার তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরে কুবির মোট বাজেট ৮৩ কোটি ২৯ লাখ ৯৫ হাজার টাকা। এর মধ্যে প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা খাতে বরাদ্দ ৭ লাখ টাকা, যা মোট বাজেটের শূন্য দশমিক শূন্য ৮৪ শতাংশ।

একাডেমিক শাখার তথ্য অনুযায়ী, বিশ্ববিদ্যালয়ে বর্তমানে ৬ হাজার ২১৩ জন শিক্ষার্থী, ২৮৬ জন শিক্ষক এবং ৩২৮ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী রয়েছেন। সব মিলিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় পরিবারের সদস্য সংখ্যা ৬ হাজার ৮২৭ জন।

মেডিকেল সেন্টারের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩-২৪ ও ২০২৪-২৫ অর্থবছরে চিকিৎসা খাতে বরাদ্দ ছিল ৬ লাখ টাকা করে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে তা বাড়িয়ে ৭ লাখ টাকা করা হয়। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরেও একই পরিমাণ বরাদ্দ রাখা হয়েছে।

এই ৭ লাখ টাকার প্রায় ২০ শতাংশ, অর্থাৎ ১ লাখ ৪০ হাজার টাকা চিকিৎসা সরঞ্জাম কেনা ও মেরামতে ব্যয় হয়। বাকি ৮০ শতাংশ ওষুধ কেনায় ব্যয় করা হয়।

মেডিকেল সেন্টারের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, প্রতি মাসে ওষুধ কেনার জন্য বরাদ্দ থাকে ৬০ হাজার টাকা। এর মধ্যে ৯ হাজার টাকা ভ্যাট হিসেবে চলে যায়। ফলে ওষুধ কেনায় কার্যত ব্যয় করা যায় ৫১ হাজার টাকা। এই অর্থে মাসে ১২ ধরনের ওষুধসহ অন্যান্য ওষুধসামগ্রী কেনা হয়। তবে মেডিকেল সেন্টার থেকে কোনো ধরনের অ্যান্টিবায়োটিক সরবরাহ করা হয় না।

শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, প্রয়োজনীয় অনেক ওষুধই মেডিকেল সেন্টারে পাওয়া যায় না। ফলে সামান্য অসুস্থতার চিকিৎসা নিতেও তাঁদের বাইরে থেকে ওষুধ কিনতে হচ্ছে।

আইন বিভাগের শিক্ষার্থী মো. বায়েজিদ হোসেন বলেন, ‘বিশ্ববিদ্যালয়ের সবচেয়ে অবহেলিত সেক্টর হচ্ছে মেডিকেল সেক্টর। শিক্ষার্থীরা এখানে ন্যূনতম সেবা পায় না। ছয় হাজার শিক্ষার্থীর জন্য দুটি অ্যাম্বুল্যান্স যথেষ্ট নয়। আমি দাঁতের ব্যথার জন্য মেডিকেল সেন্টারে গিয়েছিলাম। আমাকে শুধু গ্যাসের ট্যাবলেট আর এইস দেওয়া হয়েছে।’

ফার্মেসি বিভাগের শিক্ষার্থী নাঈম ভূঁইয়া বলেন, ‘কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের মেডিকেল সেন্টারকে নাপা সেন্টার বলা হয়। বর্তমানে কিছু ওষুধ আসছে। কিন্তু এতে পরিপূর্ণ সেবা পাওয়ার সুযোগ নেই। কোনো শিক্ষার্থীর জ্বর হলে তাকে ব্লাড টেস্টের জন্য শহরে যেতে হয়।’

তিনি বলেন, ‘ছোটখাটো সমস্যার জন্য যে সেবাটা প্রয়োজন, সেটাও যথেষ্ট পরিমাণে নেই। পরিপূর্ণ একটি সেবাদান কেন্দ্র করতে হলে একটি মিনি প্যাথলজি, একজন ফার্মাসিস্ট ও মেডিকেল টেকনোলজিস্ট প্রয়োজন।’

অর্থ ও ওষুধের সংকটের পাশাপাশি মেডিকেল সেন্টারে চিকিৎসকের সংখ্যাও প্রয়োজনের তুলনায় কম। সেখানে পাঁচজন চিকিৎসক থাকার কথা থাকলেও একজন শিক্ষাছুটিতে থাকায় বর্তমানে কর্মরত আছেন চারজন। এর বাইরে দুজন খণ্ডকালীন চিকিৎসক, একজন সহকারী রেজিস্ট্রার, একজন নার্স ও তিনজন সাপোর্টিভ স্টাফ রয়েছেন।

মেডিকেল সেন্টারের ডেপুটি চিফ মেডিকেল অফিসার ডা. মাহমুদুল হাসান বলেন, ‘আমাদের স্টেকহোল্ডারের সংখ্যা দিন দিন বাড়ছে, ওষুধের চাহিদাও বাড়ছে। সে তুলনায় ওষুধের জোগান কম আছে। প্রতিবছর ইন্সট্রুমেন্ট কিনতে মোট বাজেটের প্রায় ২০ শতাংশ খরচ হয়। প্রতি মাসে যে পরিমাণ ওষুধ কেনা হয়, সেই টাকার ১৫ শতাংশ মেডিকেল ট্যাক্স দিতে হয়।’

জনবল সংকটের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘ছাত্র-ছাত্রী এবং শিক্ষক-কর্মকর্তাদের বিপরীতে আমাদের জনবলও কম আছে। উপাচার্য স্যারকে জানিয়েছি, স্বাস্থ্যব্যবস্থার উন্নয়ন করতে হলে অবকাঠামো উন্নয়নের পাশাপাশি আমাদের কিছু লোকবল দরকার।’

মেডিকেল সেন্টারে একজন আবাসিক চিকিৎসক, একজন ফার্মাসিস্ট ও একজন ক্লিনার প্রয়োজন বলেও জানান তিনি। বিশেষ করে বন্ধের দিনগুলোতে প্রাথমিক চিকিৎসা নিশ্চিত করতে আবাসিক চিকিৎসক এবং ওষুধ ব্যবস্থাপনার জন্য ফার্মাসিস্ট প্রয়োজন বলে জানান তিনি।

মেডিকেল সেন্টারে রোগ নির্ণয়ের প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষার সুযোগ না থাকায় শিক্ষার্থীদের ছোটখাটো রোগ শনাক্ত করতেও ক্যাম্পাসের বাইরে যেতে হচ্ছে। বিশেষ করে ডেঙ্গুসহ বিভিন্ন রোগ দ্রুত শনাক্ত করতে একটি মিনি প্যাথলজি স্থাপনের প্রয়োজনীয়তার কথা জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

ডা. মাহমুদুল হাসান বলেন, ‘আমাদের যদি মিনি প্যাথলজি থাকত, এখন যে ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব চলছে, তা দ্রুত শনাক্ত করা যেত।’

তবে মিনি অপারেশন থিয়েটার চালুর প্রস্তুতি শেষ পর্যায়ে রয়েছে বলে জানান তিনি। তাঁর ভাষ্য, ‘আগামী কিছুদিনের মধ্যে আমাদের মিনি অপারেশন থিয়েটার চালু হবে। সেখানে আমরা প্রাথমিক ট্রিটমেন্টগুলো দিতে পারব। সবকিছু প্রস্তুত আছে, রুমটি বুঝে পেলেই আমরা কার্যক্রম শুরু করতে পারব।’

মেডিকেল সেন্টার সূত্র জানায়, বর্তমানে রাত ৮টা পর্যন্ত চিকিৎসাসেবা চালু থাকে। সম্প্রতি চিকিৎসক ও নার্সদের দায়িত্ব ভাগ করে রোস্টার ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে। ছুটির দিনেও চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে সপ্তাহান্তে রোস্টার চালু করা হয়েছে। এর মাধ্যমে মেডিকেল সেন্টারের পাশাপাশি আবাসিক হলগুলোতেও চিকিৎসাসেবা দেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে।

সীমিত বরাদ্দে বিপুলসংখ্যক শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও কর্মকর্তা-কর্মচারীর স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে গিয়ে ওষুধ, জনবল ও পরীক্ষা-নিরীক্ষার সংকট তৈরি হচ্ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। শিক্ষার্থীদের দাবি, স্বাস্থ্য খাতে বরাদ্দ বাড়ানোর পাশাপাশি প্রয়োজনীয় ওষুধ, জনবল ও রোগ নির্ণয়ের সুবিধা নিশ্চিত করা হোক।

চিকিৎসা খাতে বরাদ্দ কম থাকার বিষয়টি স্বীকার করে বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ বেলাল উদ্দিন বলেন, ‘সরকারের কাছ থেকে আমরা আরও বাজেট চাই। সেক্ষেত্রে বেশি বাজেট পেলে চিকিৎসা খাতেও বাজেট বাড়াতে পারব।’

তিনি বলেন, ‘বর্তমানে ওষুধের দামও বৃদ্ধি পাচ্ছে। একই পরিমাণ ওষুধ বেশি দামে কিনতে হচ্ছে। সেক্ষেত্রে একটা ঘাটতি থেকে যাচ্ছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৭ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৬
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৬
মাগরিব ০৫:২২
ইশা ০৬:৩৪
সূর্যোদয় : ০৬:০২ সূর্যাস্ত : ০৫:২২
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%