ঢাকা রবিবার, ২৫শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৯ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৪ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
রবিবার, ২৫শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৯ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

আজ জুলাই স্মৃতি জাদুঘরের উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান


আজ জুলাই স্মৃতি জাদুঘরের উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান

রাজধানী ঢাকার শেরেবাংলা নগরে আজ (৫ আগস্ট) আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন হতে যাচ্ছে বহুল প্রতীক্ষিত জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি জাদুঘর। সকাল ৯টায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে জাদুঘরের ফলক উন্মোচনের মাধ্যমে উদ্বোধন করবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

মঙ্গলবার (৪ আগস্ট) সচিবালয়ে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সংস্কৃতিমন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী এ তথ্য জানান। তিনি উল্লেখ করেন, উদ্বোধনের দিন জাদুঘরটি শুধুমাত্র বিশেষ অতিথি এবং জুলাই শহীদ পরিবারের সদস্যদের জন্য উন্মুক্ত থাকবে। আগামী ৬ আগস্ট (বৃহস্পতিবার) থেকে সাধারণ দর্শনার্থীরা জাদুঘরটি পরিদর্শনের সুযোগ পাবেন।

উদ্বোধনের পর প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাদুঘরের বিভিন্ন গ্যালারি, সংরক্ষিত নিদর্শন, আলোকচিত্র, দলিলপত্র ও স্মারক ঘুরে দেখবেন। অনুষ্ঠানে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের বীরত্বগাথা ও আত্মত্যাগের স্মৃতিচারণ করবেন জুলাই যোদ্ধা এবং শহীদ পরিবারের সদস্যরা।

আরও পড়ুন: ইমামদের সচেতনতায় মানবপাচারের ঝুঁকি থেকে জীবন বাঁচানো সম্ভব

এছাড়া অনুষ্ঠানে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের ঘটনাপ্রবাহ ও বিজয়ের ইতিহাস নিয়ে একটি প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন এবং সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে।

জাদুঘর পরিদর্শনের জন্য অনলাইনে টিকিট সংগ্রহের ব্যবস্থা থাকবে। প্রাপ্তবয়স্কদের জন্য টিকিটের মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ৫০ টাকা এবং শিশুদের জন্য ২৫ টাকা।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

আজ দেশের বাজারে যে দামে বিক্রি হচ্ছে সোনা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

বুধবার, ৫ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৮:৪৫ এম


আজ দেশের বাজারে যে দামে বিক্রি হচ্ছে সোনা

দেশের বাজারে সোনার দাম আবারও বৃদ্ধি পেয়েছে।

বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) সর্বোচ্চ মানের ২২ ক্যারেট সোনার দাম প্রতি ভরিতে ২ হাজার ২১৬ টাকা বৃদ্ধি করেছে। নতুন মূল্য অনুযায়ী, ভ্যাটসহ ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) সোনার গয়নার দাম এখন ২ লাখ ২৩ হাজার ৭৪ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

বাজুস জানিয়েছে, স্থানীয় বাজারে তেজাবী (পাকা) সোনার দাম বৃদ্ধির ফলস্বরূপ এই মূল্য সমন্বয় করা হয়েছে। নতুন দাম শুক্রবার (৩১ জুলাই) সকাল ১০টা থেকে কার্যকর হয়েছে এবং পরবর্তী কোনো ঘোষণা না আসা পর্যন্ত দেশের সকল জুয়েলারি দোকানে এটি বহাল থাকবে।

বর্তমানে (৫ আগস্ট) কার্যকর থাকা দাম অনুযায়ী, ২২ ক্যারেট: প্রতি ভরি ২ লাখ ২৩ হাজার ৭৪ টাকা, ২১ ক্যারেট: প্রতি ভরি ২ লাখ ১৩ হাজার ৪৩ টাকা, ১৮ ক্যারেট: প্রতি ভরি ১ লাখ ৮২ হাজার ৯৫০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির সোনা: প্রতি ভরি ১ লাখ ৪৯ হাজার ৪৭৪ টাকা।

এর আগে ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনা ২ লাখ ২০ হাজার ৮৫৮ টাকায় বিক্রি হয়েছিল। এছাড়া ২১ ক্যারেটের দাম ছিল ২ লাখ ১০ হাজার ৯৪৩ টাকা, ১৮ ক্যারেটের দাম ১ লাখ ৮১ হাজার ২০০ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির সোনার দাম ১ লাখ ৪৮ হাজার ১৬ টাকা ছিল।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

গ্যালারিতে বসেই নিজের মালিকানাধীন ক্লাবের হার দেখলেন রোনালদো

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

স্পোর্টস ডেস্ক

বুধবার, ৫ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৮:৪৮ এম


গ্যালারিতে বসেই নিজের মালিকানাধীন ক্লাবের হার দেখলেন রোনালদো

ক্রীড়াঙ্গনে প্রীতি ম্যাচ নিয়ে হয়তো ক্রিস্টিয়ানো রোনালদো কিছুটা দোটানায় ছিলেন। তিনি ঠিক কাকে সমর্থন দেবেন? যে ক্লাবে তিনি খেলছেন সেটিকে, না কি নিজের মালিকানাধীন ক্লাব আলমেরিয়াকে।

দুটি ক্লাবই কিন্তু তার নিজস্ব।

গতকাল রোনালদো এমন কষ্টকর পরিস্থিতিতে পড়েছিলেন। আল আসরের বিপক্ষে অনুষ্ঠিত প্রীতি ম্যাচ ছিল তার মালিকানাধীন ক্লাব আলমেরিয়ার। আর সেখানে ২-০ গোলে জয় পেয়েছে বর্তমানে স্পেনের দ্বিতীয় ডিভিশনে খেলা ক্লাবটি।

আলমেরিয়া নিজেদের ইতিহাসে মোট ৮ বার লা লিগায় খেলেছে এবং সিআর সেভেন স্পোর্টস ইনভেস্টমেন্টসের ২৫ শতাংশ মালিকানা রয়েছে তাদের। বাকি ৭৫ শতাংশ মালিকানা রয়েছে সৌদি মেডিয়া কোম্পানির (এসএমসি গ্রুপের)।

রোনালদোকে অবশ্য মাঠে গিয়ে পরাজয়ের স্বাদ নিতে হয়নি। কারণ তিনি প্রীতি ম্যাচের স্কোয়াডে ছিলেন না।

তবে গ্যালারিতে বসে তিনি তার মালিকানাধীন ক্লাবের কাছে পরাজয়ের চিত্র দেখেছেন। ম্যাচ শুরুর আগে খেলোয়াড়দের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময়ও করতে দেখা গেছে তাকে। কিন্তু ৫ বারের ব্যালন ডি’অর জয়ীর সঙ্গে অনেক তারকাই সেই প্রীতি ম্যাচটিতে ছিলেন না।

প্রথমার্ধ গোলশূন্য ড্রতে শেষ হয়। তবে দ্বিতীয়ার্ধের ৫১ মিনিটে এগিয়ে যায় আলমেরিয়া। গোলটি করেন দাইজিরো চিরিনো। এরপর ১০ মিনিট পর ব্যবধান দ্বিগুণ করে তারা। পেনাল্টি থেকে ৬১ মিনিটে গোলটি করেন আদ্রিয়ান এমবারবা। ২-০ ব্যবধানে পিছিয়ে পড়ার পর সাদিও মানে এবং জোয়াও ফিলিক্সদের মাঠে নামলেও আল নাসর হার থেকে বাঁচতে পারেনি।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

শ্রীলঙ্কায় ভয়াবহ বন্যা-ভূমিধসে নিহত ৭, বন্ধ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বুধবার, ৫ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৮:৫০ এম


শ্রীলঙ্কায় ভয়াবহ বন্যা-ভূমিধসে নিহত ৭, বন্ধ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান

টানা ভারী বৃষ্টির কারণে সৃষ্ট বন্যা ও ভূমিধসে শ্রীলঙ্কায় অন্তত সাতজনের মৃত্যু হয়েছে। দেশের মধ্যাঞ্চলের পাহাড়ি এলাকায় দুর্যোগটি ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি সৃষ্টি করেছে। পরিস্থিতির অবনতি ঘটার কারণে সরকার ওই অঞ্চলের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান বন্ধ ঘোষণা করেছে।

সংবাদমাধ্যম আল জাজিরার প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, পাহাড়ি চা-বাগান অধ্যুষিত এলাকায় প্রবল বৃষ্টির পর আকস্মিক বন্যা ও ভূমিধসের ঘটনা ঘটে। গত বছরের নভেম্বরে ঘূর্ণিঝড় ডিটওয়াহের কারণে বিধ্বস্ত হওয়ার পর অঞ্চলটি এখনো পুরোপুরি স্বাভাবিক হয়ে উঠতে পারেনি।

দেশটির দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কেন্দ্রের মুখপাত্র প্রদীপ কোডিপ্পিলি জানিয়েছেন, মধ্যাঞ্চলে ভূমিধসে দুটি বাড়ি চাপা পড়ে পাঁচজন নিহত হয়েছেন। এ ছাড়া বন্যার পানিতে আরও দুজনের মৃত্যু ঘটে।

তিনি আরও জানান, বৃষ্টি ও বন্যায় ১২৯টি বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং নিরাপত্তার কারণে প্রায় ৩ হাজার ৫০০ মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।

বন্যার পানিতে আটকে পড়া মানুষদের উদ্ধারে নৌবাহিনী ও সেনাবাহিনীর সদস্যদের মোতায়েন করা হয়েছে। স্থানীয় টেলিভিশন চ্যানেলে প্রচারিত ভিডিওতে দেখা যায়, সেনাসদস্যরা পানিতে তলিয়ে যাওয়া সড়ক পেরিয়ে আটকে পড়া পরিবারগুলোকে উদ্ধার করছেন।

নুওয়ারা এলিয়া ও বাদুল্লাসহ শ্রীলঙ্কার মধ্যাঞ্চলের বিস্তীর্ণ এলাকা পাহাড়ি হওয়ায় বর্ষা মৌসুমে সেখানে প্রায়ই ভূমিধসের ঝুঁকি থাকে।

আল জাজিরার প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, ২০২৫ সালের শেষ দিকে ঘূর্ণিঝড় ডিটওয়াহের প্রভাবে একই এলাকায় ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধসে প্রায় ৬৪০ জনের মৃত্যু ঘটে এবং প্রায় ৪১০ কোটি মার্কিন ডলারের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছিল। সেই সময়ও দেশজুড়ে স্কুল ও সরকারি অফিস বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছিল।

এখন, সেই ঘটনার মাত্র নয় মাস পরে ভয়াবহ দুর্যোগের কারণে শ্রীলঙ্কার দুর্যোগ মোকাবিলা সক্ষমতার ওপর নতুন করে চাপ সৃষ্টি হয়েছে। তবে ক্ষতিগ্রস্ত জেলার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলো কবে খুলবে তা এখনও কর্তৃপক্ষ জানায়নি। কর্তৃপক্ষের মতে, আগামী কয়েক দিনের আবহাওয়ার পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

৫ আগস্ট গণতন্ত্রকামী মানুষের বিজয়ের দিন: প্রধানমন্ত্রী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

বুধবার, ৫ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

০৮:৫২ এম


৫ আগস্ট গণতন্ত্রকামী মানুষের বিজয়ের দিন: প্রধানমন্ত্রী

৫ আগস্ট গণতন্ত্রকামী মানুষের বিজয়ের দিন এবং গণতান্ত্রিক রাজনৈতিক অধিকার পুনঃপ্রতিষ্ঠার দিন। এই মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।

তিনি বলেন, স্বাধীনতাপ্রিয় এবং গণতন্ত্রকামী মানুষের জন্য ৫ আগস্ট এক ঐতিহাসিক বিজয়ের দিন। দীর্ঘ দেড় দশকেরও বেশি সময় ধরে চলা ফ্যাসিবাদী শাসনের অবসান ঘটিয়ে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট দেশের বীর ছাত্র-জনতা একটি ঐতিহাসিক বিজয় অর্জন করে। গণঅভ্যুত্থানের মুখে ফ্যাসিস্ট সরকার দেশ ছেড়ে পালাতে বাধ্য হয় এবং ‘রাহুমুক্ত’ হয় বাংলাদেশ। এই রক্তস্নাত দিনটিকে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস’ হিসেবে জাতীয়ভাবে উদযাপন করা হচ্ছে।

৫ আগস্ট ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস’ উপলক্ষে মঙ্গলবার দেওয়া এক বাণীতে প্রধানমন্ত্রী এসব কথা বলেন। প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেড় দশকের বেশি সময় ধরে ফ্যাসিবাদের পতন এবং দেশে জনগণের ভোটাধিকার ও গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে বিএনপিসহ নানা রাজনৈতিক দল এবং ভিন্নমতের মানুষেরা নির্যাতন-নিপীড়নের শিকার হয়েছেন। অসংখ্য মানুষ গুম, খুন, অপহরণ, হামলা, মামলা ও নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। এ আন্দোলনের নেতৃত্ব দিতে গিয়ে বেগম খালেদা জিয়া মিথ্যা মামলায় বছরের পর বছর কারাগারে থাকতে বাধ্য হয়েছেন।

তিনি উল্লেখ করেন, গণতন্ত্রকামী মানুষের কণ্ঠ স্তব্ধ করতে পলাতক স্বৈরাচারের নির্দেশে দেশে শত শত গোপন বন্দিশালা বা ‘আয়নাঘর’ গড়ে তোলা হয়েছিল। সেখানে দীর্ঘ সময় ধরে অসংখ্য মানুষকে অন্ধকার প্রকোষ্ঠে আটকে রাখা হয়েছে। অনেককে চিরতরে গুম করে ফেলেছে। বিএনপির সাবেক সংসদ সদস্য ইলিয়াস আলী ও কমিশনার চৌধুরী আলমসহ অনেক নেতাকর্মীর আজও কোনো সন্ধান পাওয়া যায়নি।

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, বিচার বিভাগ, নির্বাচন কমিশনসহ দেশের সাংবিধানিক ও বিধিবদ্ধ প্রতিষ্ঠানগুলোকে অকার্যকর করে ফেলা হয়েছিল। সংবিধান উপেক্ষা করে জনগণের ভোটাধিকার কেড়ে নেওয়া হয় এবং নির্বাচনকে প্রহসনে পরিণত করা হয়। দেশের রাজনীতি, অর্থনীতি, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যব্যবস্থা ধ্বংস করে দেশকে তাঁবেদার রাষ্ট্রে পরিণত করা হয়েছিল। একই সঙ্গে ব্যাংকিং খাতকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দিয়ে অনিয়ম, দুর্নীতি, লুটপাট ও টাকা পাচারকে স্বাভাবিক ঘটনা হিসেবে পরিণত করা হয়েছিল এবং দেশে ব্যক্তিতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করা হয়েছিল। তবে সবকিছুর শেষে তা টেকেনি।

বাণীতে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের সমস্ত শ্রেণী-পেশার মানুষ—বীর ছাত্র-জনতা, কৃষক-শ্রমিক, রিকশাচালক, মুটে-মজুর, পোশাকশ্রমিক, হোটেল-রেস্তোরাঁকর্মী, পরিবহন শ্রমিক, সাংবাদিক, বুদ্ধিজীবী, সংস্কৃতিকর্মী, গৃহবধূ, নারী ও শিশুসহ সর্বস্তরের মানুষ ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানে ঐক্যবদ্ধ হয়ে রাজপথে নেমে এসেছিলেন।

তিনি বলেন, অভ্যুত্থান দমনে মরিয়া ফ্যাসিস্ট সরকার রাজপথে গণতন্ত্রকামী জনগণের উপর গুলি চালিয়ে পাখির মতো মানুষ হত্যা করেছে। এমনকি জনগণের ওপর হেলিকপ্টার থেকেও গুলি চালানো হয়েছে। স্বৈরাচারের বেপরোয়া গুলি থেকে মায়ের কোলে থাকা শিশুও রেহাই পায়নি।

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, স্বৈরাচারের বন্দুকের সামনে রংপুরের শহীদ আবু সাঈদ, চট্টগ্রামের শহীদ ওয়াসিম আকরাম এবং ঢাকার শহীদ মুগ্ধসহ অসংখ্য সাহসী সন্তান গণতন্ত্রবিষয়ক মানুষের প্রেরণায় পরিণত হয়েছিলেন। শুধু জুলাই-আগস্টের অভ্যুত্থানে হাজারো মানুষ শহীদ হয়েছেন। আহত হয়েছেন কমপক্ষে ৩০ হাজার মানুষ। শত শত মানুষ হাত-পা ও শরীরের অঙ্গ হারিয়ে চিরতরে পঙ্গুত্ব বরণ করেছেন, অনেকেই আজীবনের জন্য দৃষ্টিশক্তি হারিয়েছেন।

তিনি বলেন, হাজারো প্রাণের আত্মত্যাগ এবারে বৃথা যায়নি। গণতন্ত্রকামী জনগণের সম্মিলিত আন্দোলনের মুখে ৫ আগস্ট ফ্যাসিস্টরা গণভবন ছেড়ে পালিয়েছে। জাতীয় সংসদ ছেড়ে কথিত সংসদ সদস্যরা পালিয়েছে। আদালত ছেড়ে প্রধান বিচারপতি এবং মন্ত্রিসভা ছেড়ে মন্ত্রীরাও পালিয়েছে। ফ্যাসিবাদের দোসররা আত্মগোপনে চলে গেছে।

তার ভাষায়, ৫ আগস্ট বাংলাদেশে যা ঘটেছে, তা শুধু বাংলাদেশের নয়, বৈশ্বিক ইতিহাসেও এক নজিরবিহীন ঘটনা। বাণীতে প্রধানমন্ত্রী কেন বলেন, ১৯৭১ সাল থেকে আজ পর্যন্ত দেশের স্বাধীনতা অর্জন ও রক্ষা, স্বৈরাচার ও ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলন এবং গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার সংগ্রামের প্রতিটি বাঁকে লাখো মানুষ আত্মত্যাগ করেছেন।

তিনি গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে সকল শহীদদের স্মরণ করেন এবং বলেন, দেশ ও জনগণের স্বাধীনতা, অধিকার ও মর্যাদা প্রতিষ্ঠার জন্য শহীদরা নিজেদের প্রাণ উৎসর্গ করে জাতিকে ঋণী করে গেছেন। প্রতিটি শহীদ পরিবারের কাছেও বাংলাদেশ ঋণী। এখন শহীদদের প্রতি সেই ঋণ পরিশোধের পালা।

তিনি বলেন, জনগণের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন নিশ্চিত করে, সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক সুবিচার প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে একটি ন্যায়ভিত্তিক, স্বনির্ভর, গণতান্ত্রিক ও মানবিক বাংলাদেশ গড়ে তোলার মধ্য দিয়েই শহীদদের প্রতি ঋণ পরিশোধের আন্তরিক প্রচেষ্টা বাস্তবায়িত হতে পারে।

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, হাজারো শহীদের রক্তে স্নাত রাজপথে যে অভূতপূর্ব জাতীয় ঐক্য গড়ে উঠেছে, তা যে কোনো মূল্যে রক্ষা করা সবার দায়িত্ব। গণতন্ত্রে ভিন্নমত থাকবে, তবে সেই ভিন্নমত যেন শত্রুতায় রূপ না নেয়, সে বিষয়ে গণতন্ত্রের পক্ষের প্রতিটি রাজনৈতিক দল, ব্যক্তি ও গোষ্ঠীকে সতর্ক থাকতে হবে।

তিনি বলেন, বাংলাদেশে আর কখনোই স্বৈরাচার, ফ্যাসিবাদ, চরমপন্থা কিংবা উগ্রবাদের উত্থান হতে দেওয়া হবে না এবং দেশকে কখনোই তাঁবেদার রাষ্ট্রে পরিণত হতে দেওয়া হবে না। এসব মৌলিক প্রশ্নে প্রতিষ্ঠিত জাতীয় ঐক্য অটুট থাকবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

বাণীর শেষাংশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ১৯৭১ সাল ছিল স্বাধীনতা অর্জনের যুদ্ধ, আর ২০২৪ সাল ছিল দেশ এবং জনগণের স্বাধীনতা রক্ষার যুদ্ধ। ১৯৭১ সালের শহীদ মুক্তিযোদ্ধাদের বাংলাদেশ যেমন কখনো ভোলেনি, তেমনি ২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের শহীদদেরও বাংলাদেশ কখনো ভুলবে না।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৪ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৪
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৪৮
মাগরিব ০৫:২৪
ইশা ০৬:৩৬
সূর্যোদয় : ০৬:০০ সূর্যাস্ত : ০৫:২৪
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%