ঢাকা সোমবার, ২৬শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১০ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৫ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
সোমবার, ২৬শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১০ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

দেশে ফিরছেন মির্জা আব্বাস


দেশে ফিরছেন মির্জা আব্বাস

দীর্ঘ সময় ধরে বিদেশে চিকিৎসাধীন থাকার পর বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা মির্জা আব্বাস আগামী বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) দেশে ফিরছেন। তার ঢাকায় অবতরণের সময় নির্ধারিত হয়েছে ওই দিন রাত ৯টায়, বিমান বাংলাদেশ দূরপাল্লার একটি ফ্লাইটে।

বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খান রোববার (৩০ আগস্ট) এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

মিডিয়া সেলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, মির্জা আব্বাস সিঙ্গাপুর ও মালয়েশিয়ায় চিকিৎসা নিচ্ছেন বেশ কিছুদিন ধরে। বর্তমানে তিনি অনেকটা সুস্থ হয়ে উঠেছেন এবং গঠিত মেডিকেল বোর্ডের সবুজ সংকেত পাওয়ার পর দেশে ফেরার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছেন।

আরও পড়ুন: মাওলানা সানাউল্লাহ খান ন্যাশনাল ওলামা অ্যালায়েন্সের সদস্যসচিব পদ থেকে পদত্যাগ

গত ১১ মার্চ পবিত্র রমজান মাসে ইফতার করার সময় হঠাৎ করে গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন মির্জা আব্বাস। তার স্বাস্থ্যের দ্রুত অবনতি ঘটলে ওই রাতেই তাকে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে জরুরি ভিত্তিতে তার মস্তিষ্কে একটি সফল অস্ত্রোপচার সম্পন্ন হয়।

এরপর শারীরিক পরিস্থিতির উন্নতির জন্য গত ১৫ মার্চ এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে তাকে সিঙ্গাপুরে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় কিছুটা সুস্থ হয়ে ওঠার পর চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী ১৪ এপ্রিল সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতাল থেকে তাকে মালয়েশিয়ার বিখ্যাত ‘প্রিন্স কোর্ট মেডিকেল সেন্টারে’ স্থানান্তর করা হয়। তিনি সেখানেই নিবিড় পর্যবেক্ষণে চিকিৎসা নিচ্ছিলেন।

এছাড়া উল্লেখ্য যে, বিদেশে চিকিৎসাধীন থাকা অবস্থাতেই গত ১ আগস্ট ঢাকা-৮ আসনের এই সংসদ সদস্যকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের (ঢামেক) হাসপাতাল ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি পদে নিয়োগ দেওয়া হয়। স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ থেকে জারি করা এক সরকারি প্রজ্ঞাপনের মাধ্যমে তাকে এই গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব প্রদান করা হয়েছিল।

আরও পড়ুন: আজকের শিক্ষার্থীরাই জাতির ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিতে দক্ষ হতে হবে : রাষ্ট্রপতি

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ফ্যাসিবাদী আমলে আয়নাঘরের দুঃসহ থাবা বাংলাদেশের বুকে চেপে বসেছিল: রাষ্ট্রপতি

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

রবিবার, ৩০শে আগস্ট, ২০২৬ ইং

০১:৩৮ পি.এম


ফ্যাসিবাদী আমলে আয়নাঘরের দুঃসহ থাবা বাংলাদেশের বুকে চেপে বসেছিল: রাষ্ট্রপতি

রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর মন্তব্য করেছেন যে, বিগত দেড় দশকে ফ্যাসিবাদী সরকারের আমলে আয়নাঘরের দুঃসহ থাবা বাংলাদেশের বুকে চেপে বসেছিল।

তিনি রোববার (৩০ আগস্ট) রাজধানীর বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সম্মেলন কেন্দ্রে আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ দিবস-২০২৬ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে এ কথা বলেন।

রাষ্ট্রপতি উল্লেখ করেন, আজ ৩০ আগস্ট, আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ দিবস-২০২৬। আজকের দিনটি আমাদেরকে বুকফাটা হাহাকার এবং তীব্র বেদনার অতল গহ্বরে নিয়ে যায়। বক্তব্যের শুরুতে তিনি গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন বাংলাদেশসহ সারা বিশ্বে জোরপূর্বক গুমের শিকার সকল মানুষকে।

তিনি বলেন, স্মরণ করছি সেই সব মা-বাবা, ভাই-বোনদের, যারা দিনের পর দিন, বছরের পর বছর অপেক্ষা করেছেন- এই বুঝি তাদের সন্তান, স্বজন ফিরে এলো। স্মরণ করছি সেই স্ত্রীকে, যিনি প্রিয় স্বামীকে হারিয়ে একা জীবনের কঠিন বাস্তবতার সঙ্গে লড়াই করে চলেছেন। স্মরণ করছি, সেই সন্তানকে, যার শৈশব পেরিয়ে গেছে বাবার ফিরে আসার অপেক্ষায়। কিন্তু বাবা তাকে কোলে তুলে নিতে আর ফিরে আসেননি।

মির্জা ফখরুল বলেন, গুমের নির্মম শিকার সব ব্যক্তি, পরিবার, স্বজন ও সহযোদ্ধার প্রতি তিনি গভীর সমবেদনা ও আন্তরিক সহমর্মিতা জানাচ্ছেন। গুম-নির্যাতনের শিকার সকল মানুষের পবিত্র স্মৃতির প্রতি তিনি গভীর শ্রদ্ধা জানান। তিনি তাদের আত্মার চিরশান্তি ও মাগফিরাত কামনা করেন।

রাষ্ট্রপতি বলেন, গুম কোনো সাধারণ অপরাধ নয়। এটি মানবতাবিরোধী অপরাধ। গুম শুধু একটি মানুষকে কেড়ে নেয় না, এটি প্রিয়জনদের হাসি, শান্তি, স্বপ্ন, অর্থনৈতিক-সামাজিক অস্তিত্বকে কেড়ে নেয়। এটি একটি জঘন্য মানবাধিকার লঙ্ঘন। আমাদের সংবিধান প্রত্যেক নাগরিকের জীবন, ব্যক্তিস্বাধীনতা, আইনের সুরক্ষা ও মানবিক মর্যাদার নিশ্চয়তা দিয়েছে। গুম-নির্যাতনের মাধ্যমে কার্যত সেই অধিকারগুলোর সবকটিকেই একসঙ্গে ভূলুণ্ঠিত করা হয়।

মির্জা ফখরুল বলেন, বিগত দেড় দশকে ফ্যাসিবাদী সরকারের আমলে এই গুম, গোপন বন্দিশালা ‘আয়নাঘর’ এর দুঃসহ থাবা বাংলাদেশের বুকে চেপে বসেছিল। যারা অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করেছেন, ভিন্নমত প্রকাশ করেছেন, গণতান্ত্রিক অধিকার আদায়ের জন্য আন্দোলন করেছেন, তাদের স্তব্ধ করে দেওয়ার জন্য তুলে নিয়ে যাওয়া হয়েছে, গুম করা হয়েছে এবং গোপনে হত্যা করা হয়েছে। অথচ ফ্যাসিস্টের আজ্ঞাবহ রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলো এই ঘৃণ্য অপরাধকে সবসময় অস্বীকার করে এসেছে।

গুমের শিকার ব্যক্তিদের স্মরণ করে রাষ্ট্রপতি বলেন, আমরা ভুলে যাইনি বিএনপির প্রথিতযশা নেতা ইলিয়াস আলী, ওয়ার্ড কমিশনার চৌধুরী আলম, একটি ওয়ার্ডের সাধারণ সম্পাদক সাজেদুল ইসলাম সুমনসহ অগণিত মানুষকে। যাদের পরিবারের প্রতিটি রাত কেটেছে বুকভরা বেদনা, অনিশ্চয়তা ও প্রতীক্ষা নিয়ে। আইনজীবী ব্যারিস্টার আরমান, অবসরপ্রাপ্ত লেফটেন্যান্ট জেনারেল আজমীসহ অসংখ্য ভিন্ন মতাবলম্বী, কর্মকর্তা, লেখক, সাংবাদিক, সমাজকর্মী, এমনকি গৃহবধূ ও সাধারণ নাগরিককে বছরের পর বছর অন্ধকার, দুঃসহ পরিবেশে, আলো-বাতাসহীন আয়নাঘরে আটকে রাখা হয়েছিল। সেখানে প্রতিটি মুহূর্ত ছিল মৃত্যুর চেয়েও ভয়াবহ।

সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের প্রসঙ্গ তুলে রাষ্ট্রপতি বলেন, মঞ্চে উপবিষ্ট স্বরাষ্ট্র মন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদকেও গুম করে বিদেশে ফেলে আসা হয়েছিল। তাদের মধ্যে কেউ কেউ সৌভাগ্যক্রমে আমাদের মাঝে ফিরে এসেছেন। কিন্তু এ দেশে আজও এমন বহু মানুষ আছেন, যারা আজ পর্যন্ত আর ফিরে আসেননি।

মির্জা ফখরুল বলেন, যে গণতন্ত্র, সাম্য, বাকস্বাধীনতা, মানবিক মর্যাদা ও ন্যায়ভিত্তিক রাষ্ট্র গঠনের জন্য ১৯৭১ সালে আমাদের বীর মুক্তিযোদ্ধারা বুকের তাজা রক্ত দিয়ে দেশটাকে স্বাধীন করেছিলেন, সেই স্বাধীন দেশে গুম-নির্যাতনের সংস্কৃতি প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে চূড়ান্ত অন্যায় আর ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করা হয়েছিল। এর মাধ্যমে একটি ভয়ানক ও ভীতিকর পরিবেশ তৈরি করা হয়েছিল। আমাদের জাতীয় ইতিহাসের এ এক অত্যন্ত বেদনাদায়ক, অপমানজনক অধ্যায়।

সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে স্মরণ করে রাষ্ট্রপতি বলেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে এই সময়ে পরম শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করি, যিনি ফ্যাসিবাদী সরকারের গুম-নির্যাতনের বিরুদ্ধে সবসময় সোচ্চার ছিলেন। তিনি বিশ্বাস করতেন, একদিন এই গুম, খুন, অত্যাচার, নির্যাতনের বিচার বাংলাদেশেই হবে।

মির্জা ফখরুল বলেন, নিরস্ত্র ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের মুখে সেই ফ্যাসিবাদ বংশসহ দেশ থেকে পালাতে বাধ্য হয়েছে। এখন প্রতিশোধ নয়, প্রতিকারের ব্যবস্থা নিতে হবে, প্রকৃত অপরাধীদের আইনানুগ শাস্তির আওতায় আনতে হবে।

গুম সংক্রান্ত তদন্ত কমিশনের প্রতিবেদনের প্রসঙ্গে রাষ্ট্রপতি বলেন, কমিশনের চূড়ান্ত প্রতিবেদনে যে সত্য বেরিয়ে এসেছে, তা শুধু বেদনাদায়কই নয়, অত্যন্ত লজ্জাজনক ও ভয়াবহ। কমিশন ১,৫৬৯টি ঘটনাকে সুনির্দিষ্টভাবে গুম হিসেবে চিহ্নিত করেছে, যার মধ্যে ২৮৭ জন নিখোঁজ ও মৃত।

তিনি বলেন, এই প্রতিবেদনে নির্বাচনের আগে গুমের ঘটনা বেড়ে যাওয়া, বেছে বেছে রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের নেতাকর্মীদের জোরপূর্বক গুম ও গোপনে হত্যা করার যে চিত্র ফুটে উঠেছে তা সুস্পষ্টভাবে প্রমাণ করে যে রাষ্ট্রক্ষমতা কুক্ষিগত করে রাখতেই দলীয় ও ব্যক্তি স্বার্থে এই বর্বর ও নৃশংস কাজগুলো বেশি করা হয়েছে।

রাষ্ট্রপতি বলেন, বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক গুম প্রতিরোধ সনদে স্বাক্ষর করেছে। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের মাধ্যমে গুম ও গণহত্যার বিচারের কাজ স্বচ্ছ ও আন্তর্জাতিক মানদণ্ড বজায় রেখে এগিয়ে চলছে।

মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এরপর বলেন, তিনি বিশ্বাস করেন, শুধু অপরাধীদের শাস্তি দিলেই রাষ্ট্রের দায়িত্ব শেষ হবে না। যেসব পরিবার বছরের পর বছর প্রিয়জনের অপেক্ষায় সীমাহীন অনিশ্চয়তা, আর্থিক সংকট ও মানসিক যন্ত্রণা বহন করেছে, তাদের মর্যাদা, সামাজিক নিরাপত্তা, চিকিৎসা, শিক্ষা, জীবিকা ও পুনর্বাসনের দায়িত্বও রাষ্ট্রকে গ্রহণ করতে হবে।

তিনি বলেন, আমরা এমন একটি বাংলাদেশ চাই, যেখানে রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকবে-কিন্তু রাজনৈতিক প্রতিহিংসা থাকবে না। মতপ্রকাশের স্বাধীনতা থাকবে, কিন্তু ভয়ের সংস্কৃতি থাকবে না। আইনশৃঙ্খলা থাকবে, কিন্তু আইনের নামে মানবাধিকার ও সুবিচার লঙ্ঘনের সুযোগ থাকবে না। রাষ্ট্রের ক্ষমতা থাকবে, কিন্তু সেই ক্ষমতার ওপর থাকবে সংবিধান ও আইনের নিয়ন্ত্রণ।

রাষ্ট্রপতি আরও বলেন, আমাদের মনে রাখতে হবে, একটি দেশের উন্নয়ন ও সাফল্য শুধু অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি দিয়ে পরিমাপ করা যায় না। বরং একটি রাষ্ট্র কতটা গণতান্ত্রিক ও কল্যাণমুখী, কতটা ন্যায়ভিত্তিক ও মানবিক এবং তার নাগরিক কতটা নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ জীবনযাপন করে—সেটিই একটি রাষ্ট্রের প্রকৃত উন্নয়ন ও সাফল্যের চিত্র তুলে ধরে। আর এমন একটি নতুন বাংলাদেশ গড়ে তুলতেই আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

সবশেষে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, তিনি আজ বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি হিসেবে আপনাদের সামনে দাঁড়িয়ে স্পষ্ট ভাষায় বলতে চান, এই স্বাধীন বাংলাদেশে আর কোনো আয়নাঘর থাকবে না। আর কোনো মাকে সন্তানের জন্য, কোনো স্ত্রীকে স্বামীর জন্য চোখের পানি ফেলতে হবে না।

তিনি বলেন, প্রতিটি গুমের ঘটনার সঙ্গে জড়িত অপরাধীদের, তা সে যত বড় ক্ষমতাবানই হোক না কেন, বিচারের মুখোমুখি করা হবে। আইনের সর্বোচ্চ শাস্তি তাদের পেতেই হবে। এই দেশে ফ্যাসিবাদ ফিরে আসার সব পথ চিরতরে বন্ধ করা হবে। রাষ্ট্রের আরেকটি পবিত্র দায়িত্ব, গুমের শিকার পরিবারগুলোর পাশে আন্তরিকভাবে দাঁড়ানো। তিনি বিশ্বাস করেন, সরকার এ বিষয়ে উপযুক্ত ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

গাছে মুরগিবোঝাই পিকআপের ধাক্কায় নিহত ১, আহত ৩

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

রবিবার, ৩০শে আগস্ট, ২০২৬ ইং

০১:৪২ পি.এম


গাছে মুরগিবোঝাই পিকআপের ধাক্কায় নিহত ১, আহত ৩

ঝালকাঠির নলছিটিতে একটি মুরগিবোঝাই পিকআপ গাছের সঙ্গে ধাক্কা লেগে ইমরান হোসেন (৪০) নামের একজনের মৃত্যু ঘটে। তিনি ওই পিকআপের চালকের সহকারী হিসেবে কাজ করছিলেন।

 

দুর্ঘটনার ফলে পিকআপের চালকসহ আরও তিনজন গুরুতরভাবে আহত হন।

শনিবার (২৯ আগস্ট) রাত দুইটার দিকে বরিশাল-পটুয়াখালী আঞ্চলিক মহাসড়কের নলছিটি উপজেলার খেজুরতলা এলাকায় এই দুর্ঘটনাটি ঘটে।

পুলিশের তথ্য অনুযায়ী, রাত দুইটার সময় একটি মুরগিবোঝাই পিকআপ বরিশাল থেকে পটুয়াখালীর দিকে যাচ্ছিল। দ্রুতগতিতে চলার সময় দপদপিয়া ইউনিয়নের খেজুরতলা এলাকায় এসে পিকআপটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে সড়কের পাশে একটি গাছের সঙ্গে ধাক্কা খায়।

 

এই ঘটনায় ঘটনাস্থলে পিকআপের চালকের সহকারী ইমরান হোসেনের (৪০) মৃত্যু হয়। দুর্ঘটনার পর চালকসহ গুরুতর আহত তিনজনকে উদ্ধার করে বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। নিহত ব্যক্তি পটুয়াখালীর দশমিনা এলাকার মৃত মমিন উদ্দিনের ছেলে ছিলেন।

নলছিটি থানার ওসি তৌহিদুজ্জামান সোহাগ জানিয়েছেন, ‘হাইওয়ে পুলিশের সহায়তায় মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।

 

এ ঘটনায় পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।’

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বিশ্ববাজারে অস্ত্র রফতানি বাড়াতে বড় প্রস্তুতি পাকিস্তানের

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

রবিবার, ৩০শে আগস্ট, ২০২৬ ইং

০১:৪৩ পি.এম


বিশ্ববাজারে অস্ত্র রফতানি বাড়াতে বড় প্রস্তুতি পাকিস্তানের

পাকিস্তানের সরকার আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতিরক্ষা পণ্যের রফতানি সম্প্রসারণের লক্ষ্যে দেশের সবচেয়ে বড় প্রতিরক্ষা শিল্প কমপ্লেক্সে দুটি নতুন শিল্পকারখানা চালু করতে যাচ্ছে। দেশীয়ভাবে অস্ত্র ও সামরিক সরঞ্জাম উৎপাদন বাড়ানোর উদ্দেশ্যে চলতি বছরের শেষ নাগাদ এই কারখানাগুলোতে উৎপাদন শুরু হবে বলে জানিয়েছে পাকিস্তানের সামরিক বাহিনী।

শনিবার পাকিস্তানের সেনাপ্রধান ও দেশটির চিফ অব ডিফেন্স ফোর্সেস ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির ওয়াহ শহরের পাকিস্তান অর্ডন্যান্স ফ্যাক্টরিজ (পিওএফ) পরিদর্শন করেন।

এ সময় তাকে প্রতিষ্ঠানটির উৎপাদন সক্ষমতা, রফতানির সম্ভাবনা এবং পাকিস্তানের সামগ্রিক প্রতিরক্ষা শিল্পে এর অবদান সম্পর্কে বিস্তারিত জানানো হয়। পাকিস্তানের সামরিক বাহিনীর গণমাধ্যম শাখা ইন্টার-সার্ভিসেস পাবলিক রিলেশন্স (আইএসপিআর) এক বিবৃতিতে জানায়, মুনিরের এই সফর পাকিস্তানের প্রতিরক্ষা খাতে আত্মনির্ভরতা, দেশীয় উৎপাদন এবং প্রযুক্তিগত উদ্ভাবন এগিয়ে নেওয়ার বিষয়ে সামরিক নেতৃত্বের অঙ্গীকারকে তুলে ধরেছে।

নতুন দুটি কারখানায় কী ধরনের সামগ্রী তৈরি হবে, সে বিষয়ে পাকিস্তান কর্তৃপক্ষ কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি। তবে সেনাপ্রধানকে নতুন দুটি উৎপাদন কারখানা সম্পর্কে অবহিত করা হয়। সামরিক বাহিনীর ভাষ্য অনুযায়ী, এসব স্থাপনা পাকিস্তানের প্রতিরক্ষা উৎপাদন সক্ষমতাকে আরও স্থানীয়করণ ও আধুনিকায়নের চলমান উদ্যোগের অংশ।

ওয়াহ শহরের পাকিস্তান অর্ডন্যান্স ফ্যাক্টরিজ দেশটির সশস্ত্র বাহিনীর জন্য বিভিন্ন ধরনের অস্ত্র ও গোলাবারুদ উৎপাদন করে। আন্তর্জাতিক বাজারে পাকিস্তানের তৈরি সামরিক সরঞ্জামের প্রতি আগ্রহ বাড়ায় প্রতিষ্ঠানটির উৎপাদন ও রফতানি সক্ষমতা সম্প্রসারণে গুরুত্ব দিচ্ছে ইসলামাবাদ।

দেশীয় অস্ত্র উৎপাদন ও রফতানি বাড়ানোর বৃহত্তর উদ্যোগের অংশ হিসেবেই নতুন কারখানা দুটি চালু হচ্ছে। পাকিস্তান সাম্প্রতিক সময়ে গোলাবারুদ, ড্রোন, প্রশিক্ষণ বিমান থেকে শুরু করে যুদ্ধবিমান পর্যন্ত বিভিন্ন ধরনের সামরিক সরঞ্জামের আন্তর্জাতিক বাজার সম্প্রসারণের চেষ্টা করছে।

গত জানুয়ারিতে রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল, পাকিস্তান সম্ভাব্য প্রতিরক্ষা চুক্তি নিয়ে ১৩টি দেশের সঙ্গে আলোচনা করছিল। এর মধ্যে ছয় থেকে আটটি দেশের সঙ্গে আলোচনা তখন বেশ অগ্রসর পর্যায়ে ছিল।

আলোচনায় পাকিস্তান ও চীনের যৌথভাবে তৈরি জেএফ-১৭ যুদ্ধবিমান, মুশশাক প্রশিক্ষণ বিমান, পাকিস্তানে তৈরি ড্রোন, আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং সাঁজোয়া যান বিক্রির বিষয় ছিল। পাকিস্তান মনে করছে, নিজস্ব প্রতিরক্ষা উৎপাদন সক্ষমতা বাড়াতে পারলে একদিকে দেশের সামরিক বাহিনীর প্রয়োজন মেটানো সম্ভব হবে, অন্যদিকে বিদেশি বাজারে অস্ত্র ও সামরিক সরঞ্জাম বিক্রি করে বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের সুযোগও বাড়বে।

মুনিরের সফরের সময় পাকিস্তানের প্রতিরক্ষা উৎপাদন খাতের কাঠামোগত সংস্কার নিয়েও তাকে অবহিত করা হয়। বিশেষ করে পাকিস্তান অর্ডন্যান্স ফ্যাক্টরিজের করপোরেট কাঠামোয় রূপান্তর এবং নতুন একটি নিয়ন্ত্রক সংস্থা গঠনের বিষয় তুলে ধরা হয়।

চলতি বছর পাকিস্তান ডিফেন্স ইন্ডাস্ট্রিয়াল প্রোডাকশন অ্যান্ড রেগুলেটরি অথরিটি (ডিপ্রা) নামে একটি নতুন সংস্থা প্রতিষ্ঠা করেছে। দেশটির প্রতিরক্ষা উৎপাদন খাতকে পুনর্গঠন এবং বেসরকারি খাতের অংশগ্রহণ বাড়ানোই এর অন্যতম লক্ষ্য।

জুনে জারি করা ডিপ্রা অধ্যাদেশের আওতায় রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন প্রতিরক্ষা প্রতিষ্ঠান ও বেসরকারি অস্ত্র উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে একটি নতুন নিয়ন্ত্রক কাঠামোর অধীনে আনা হয়েছে। এর মাধ্যমে পাকিস্তান প্রতিরক্ষা শিল্পকে আরও বাণিজ্যিক ও প্রতিযোগিতামূলক করে তুলতে এবং রফতানির বড় উৎসে পরিণত করতে চাইছে।

পরিদর্শনকালে আসিম মুনির পাকিস্তানে নকশা করা ও দেশীয়ভাবে উৎপাদিত বিভিন্ন ধরনের অস্ত্র ও গোলাবারুদের পরীক্ষা ও ট্রায়ালও প্রত্যক্ষ করেন বলে জানিয়েছে আইএসপিআর।

সামরিক বাহিনী বলছে, দেশীয় উৎপাদন সক্ষমতা বৃদ্ধি পাকিস্তানের প্রতিরক্ষা খাতে বিদেশি নির্ভরতা কমানোর পাশাপাশি প্রযুক্তিগত সক্ষমতা ও উদ্ভাবন বাড়াবে। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক বাজারে পাকিস্তানের তৈরি সামরিক সরঞ্জামের উপস্থিতি বাড়ানোর পথও তৈরি করবে।

নতুন দুটি কারখানায় বছরের শেষ নাগাদ উৎপাদন শুরু হলে পাকিস্তানের প্রতিরক্ষা শিল্পের সামগ্রিক উৎপাদন সক্ষমতা কতটা বাড়বে, তা অবশ্য এখনো স্পষ্ট নয়। তবে দেশীয় অস্ত্র উৎপাদন, বেসরকারি বিনিয়োগ এবং রপ্তানি সম্প্রসারণ—এই তিন ক্ষেত্রকে একসঙ্গে এগিয়ে নেওয়ার ইসলামাবাদের প্রচেষ্টায় এটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখা হচ্ছে। সূত্র:

আরব নিউজ

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

নৌকা ভ্রমণের পর র‍্যাফেল ড্র, আলফাডাঙ্গায় বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

কবির হোসেন, আলফাডাঙ্গা (ফরিদপুর) প্রতিনিধি

রবিবার, ৩০শে আগস্ট, ২০২৬ ইং

০১:৪৬ পি.এম


নৌকা ভ্রমণের পর র‍্যাফেল ড্র, আলফাডাঙ্গায় বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার

ফরিদপুরের আলফাডাঙ্গা উপজেলা ও পৌর বিএনপির যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত নৌকা ভ্রমণ ও মিলনমেলার পর বর্ণাঢ্য র‍্যাফেল ড্রয়ের বিজয়ীদের মাঝে আনুষ্ঠানিকভাবে পুরস্কার বিতরণ করা হয়েছে।
রোববার (৩০ আগস্ট) দুপুরে আলফাডাঙ্গা সদর বাজারে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে র‍্যাফেল ড্রয়ের বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেওয়া হয়।
র‍্যাফেল ড্রয়ে দ্বিতীয় স্থান অর্জন করেন উপজেলা বিএনপির সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক ও উপজেলা যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক শাহরিয়ার হাবীব। এছাড়া নবম স্থান অর্জন করেন উপজেলা বিএনপির ছাত্রবিষয়ক সম্পাদক ও উপজেলা ছাত্রদলের ভারপ্রাপ্ত আহ্বায়ক আরিফুজ্জামান আরব।
পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠানে উপস্থিত থেকে বিজয়ীদের হাতে পুরস্কার তুলে দেন উপজেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুল মান্নান মিয়া আব্বাস, সাধারণ সম্পাদক নুরুজ্জামান খসরু এবং পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হাসিবুল হাসান হাসিবসহ দলীয় নেতাকর্মীরা।
এর আগে নৌকা ভ্রমণকে ঘিরে মধুমতি নদীর বুকে উপজেলা ও পৌর বিএনপির নেতাকর্মীদের অংশগ্রহণে দিনব্যাপী আনন্দ, উচ্ছ্বাস ও মিলনমেলার আয়োজন করা হয়। পরে আয়োজনের অংশ হিসেবে র‍্যাফেল ড্র অনুষ্ঠিত হয়।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৫ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৫
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৭
মাগরিব ০৫:২৪
ইশা ০৬:৩৫
সূর্যোদয় : ০৬:০১ সূর্যাস্ত : ০৫:২৪
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%