১১:৫১ পি.এম
রাজশাহী মহানগরীর নিউমার্কেট এলাকায় ডিবি পুলিশের অভিযানের সময় হত্যামামলার এজাহারভুক্ত আসামি ও মহানগর স্বেচ্ছাসেবক দলের আহ্বায়ক মীর তারেককে ঘিরে এক চাঞ্চল্যকর পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। পুলিশি উপস্থিতির মধ্যেও তাকে ভবন থেকে বের করে নিয়ে যাওয়ার ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ভূমিকা নিয়ে যে প্রশ্ন উঠেছে তা বিশেষভাবে নজর কেড়েছে।
শনিবার দিবাগত রাতে মহানগরীর বোয়ালিয়া থানাধীন নিউমার্কেট এলাকার একটি ছয়তলা ভবনে এ ঘটনা ঘটে। ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিও এবং অন্যান্য তথ্য নিয়ে পুরো এলাকায় ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনা শুরু হয়েছে।
মীর তারেক গত বছরের ৭ মার্চ নগরীর দড়িখড়বোনা এলাকায় রিকশাচালক গোলাম হোসেন হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত আসামি বলে জানা গেছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, তার বিরুদ্ধে ওই মামলায় তিনি এখনো গ্রেফতার হননি এবং আদালত থেকেও তিনি জামিন নেননি।
আরও পড়ুন: কক্সবাজারে অগ্নিকাণ্ডে স্ত্রী-সন্তানসহ ছয় স্বজন হারালেন নূর আলম
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, শনিবার রাত পৌনে ১১টার দিকে মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি) ও বোয়ালিয়া মডেল থানার একটি পুলিশ দল নিউমার্কেট এলাকার ওই ভবনকে ঘিরে ফেলে। এ সময় মীর তারেক পাশের ভবনের ছাদে যাওয়ার চেষ্টা করেন। স্থানীয়রা জানিয়েছেন, ছাদ থেকে লাফ দেওয়ার চেষ্টা করার সময় তিনি আহত হন।
ঘটনার সময় মীর তারেক তাঁর ফেসবুক আইডি থেকে লাইভে এসে দাবি করেন, পুলিশ তাকে গ্রেফতার করতে এসেছে। তিনি নেতাকর্মীদের ঘটনাস্থলে আসার আহ্বান জানান। পরে সেখানে শতাধিক নেতাকর্মী জড়ো হয়ে পুলিশের বিরুদ্ধে স্লোগান দিতে থাকেন।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে অতি দ্রুত অতিরিক্ত পুলিশ এবং রাজশাহী মহানগর পুলিশের ক্রাইসিস রেসপন্স টিম (সিআরটি) মোতায়েন করা হয়। রাত প্রায় ১২টা ৫৫ মিনিটের দিকে ডিবি পুলিশ ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। এর পরই রাত ১টার দিকে নেতাকর্মীরা মোটরসাইকেলের বহর নিয়ে এসে ভবনের তালা খুলে আহত অবস্থায় মীর তারেককে বের করে নিয়ে যান।
অভিযোগ উঠেছে, সেসময় ভবনের সিসিটিভি ক্যামেরা আড়াল করার চেষ্টা করা হয় এবং কয়েকজন সাংবাদিককে ছবি ও ভিডিও ধারণে বাধা দেওয়া হয়।
আরও পড়ুন: প্রধানমন্ত্রী ২২ অক্টোবর খুলনা ও বাগেরহাট সফরে
কিন্তু রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের মুখপাত্র অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার গাজিউর রহমান জানিয়েছেন, ডিবির অভিযানের উদ্দেশ্য ছিল মীর তারেককে গ্রেফতার করা নয়। তিনি বলেন, পুলিশ সেখানে অন্য একটি আসামিকে ধরতে গিয়েছিল। মীর তারেক বিষয়টি ভুল বুঝে আত্মগোপনের চেষ্টা করেছিলেন। কাঙ্ক্ষিত আসামিকে না পাওয়ায় পুলিশ ফিরে যায়।
পুলিশের এই বক্তব্য নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। তাদের দাবি, যদি অভিযানটি মীর তারেককে ঘিরে না হয়ে থাকে, তবে কেন নেতাকর্মীরা সেখানে এসে পুলিশের বিরুদ্ধে স্লোগান দিলেন এবং তাকে নিয়ে বিভিন্ন স্লোগান দেওয়া হলো—এ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
স্থানীয়রা জানতে চেয়েছেন, হত্যা মামলার একজন এজাহারভুক্ত আসামি ঘটনাস্থলে থাকার বিষয়টি জানার পরও কেন তাকে গ্রেফতারের উদ্যোগ নেওয়া হলো না। পুলিশ সূত্র জানায়, সম্প্রতি শাহ মখদুম থানার ছায়ানীড় এলাকায় ফয়সাল বাঁধন নামে এক যুবক গুলিবিদ্ধ হয়েছে এবং অস্ত্র ও বিস্ফোরক উদ্ধারের ঘটনায় তদন্ত চলছে।
এদিকে রিকশাচালক গোলাম হোসেন হত্যা মামলার নথি অনুযায়ী, মীর তারেক ওই মামলার অন্যতম এজাহারভুক্ত আসামি। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, ওই মামলায় এখন পর্যন্ত কোনো আসামিকেই গ্রেফতার করা সম্ভব হয়নি।
আরও পড়ুন: নোয়াখালীতে দোকানে ঢুকে জামায়াত কর্মীকে গুলি করলো মুখোশধারীরা
ঘটনার সময় ফেসবুক লাইভে মীর তারেক দাবি করেছেন, তিনি আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল এবং পুলিশ ডাকলে হাজির হবেন। তিনি বলেছেন, অযথা তার গ্রেফতারের চেষ্টা করা হচ্ছে। অবশ্য পরে ওই লাইভ ভিডিওটি সরিয়ে নেওয়া হয়।
এভাবেই মধ্যরাতের এই অভিযান, পুলিশের অবস্থান, হত্যা মামলার আসামির ঘটনাস্থল ত্যাগ এবং সাংবাদিকদের বাধা দেওয়ার মতো অভিযোগ—সব মিলিয়ে এই ঘটনাটি নিয়ে নানা প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। এ ঘটনার প্রকৃত কারণ জানতে স্থানীয়রা নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানিয়েছেন।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে মহানগর বিএনপির কয়েকজন নেতা বলেছেন, অপরাধী যে-ই হোক, তাকে আইনের আওতায় আনা পুলিশের দায়িত্ব। তবে পুলিশের কাজে বাধা দেওয়াটা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়। এ ধরনের ঘটনা চলতে থাকলে পুলিশের কার্যক্রমে নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে বলেও তারা মন্তব্য করেন।
আরও পড়ুন: ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ৬০০ পিস ইয়াবাসহ বিজিবি সদস্য আটক
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন