প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানরত অস্থায়ী অভিবাসীদের দেশটি ত্যাগের নির্দেশ কার্যকর করা হয়েছে। মার্কিন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কওয়েন মুলিন জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্রে অস্থায়ী সুরক্ষা মর্যাদায় (টিপিএস) থাকা অভিবাসীদের নিজেদের জন্য স্থায়ীভাবে বসবাসের উপায় খুঁজতে হবে অথবা তারা যুক্তরাষ্ট্র ত্যাগ করতে বাধ্য হবেন।
এদিকে যারা স্বেচ্ছায় যুক্তরাষ্ট্র ছাড়তে ইচ্ছুক, তাদের জন্য বিমান ভাড়া এবং পুনর্বাসনের জন্য আর্থিক সহায়তার ঘোষণাও এসেছে। এই তথ্যটি রয়টার্সের মাধ্যমে প্রকাশ হয়েছে।
মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিএনএনের ‘স্টেট অব দ্য ইউনিয়ন’ অনুষ্ঠানে একটি সাক্ষাৎকারের সময় মার্কিন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কওয়েন মুলিন এ সব মন্তব্য করেছেন। এটি উল্লেখ্য, গত সপ্তাহে দেশের সুপ্রিম কোর্ট অস্থায়ী সুরক্ষা মর্যাদায় থাকা অভিবাসীদের নিয়ে বিভক্ত একটি রায় প্রদান করে এবং ওই রায়ের পর থেকেই মার্কওয়েন মুলিনের এই বক্তব্য পাওয়া যাচ্ছে।
বিভক্ত ওই রায়ে যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনকে হাইতি ও সিরিয়ার হাজার হাজার অভিবাসীর মানবিক সুরক্ষা মর্যাদা বাতিলের অনুমতি দেয়। এই মর্যাদার কারণে এতদিন তারা সংঘাত ও চরম দারিদ্র্যপীড়িত নিজেদের দেশে ফিরে যাওয়ার থেকে সুরক্ষিত ছিলেন।
মার্কওয়েন মুলিন আরো বলেন, ‘আপনি প্রয়োজনীয় কাগজপত্র সম্পন্ন করে স্থায়ী বৈধ মর্যাদার আওতায় থাকার চেষ্টা করুন, নচেৎ আমরা আপনাকে আপনার দেশে ফিরে যেতে সহযোগিতা করব’। তিনি আরও যুক্ত করেন, ‘আমরা আপনাকে বিমান টিকিট দেব এবং আপনার দেশে ফিরে নতুনভাবে জীবন শুরু করার জন্য প্রায় ২ হাজার ১০০ ডলারও প্রদান করা হবে’। তবে আদালতের রায় এবং ওই কর্মসূচির নাম থেকেই স্পষ্ট, অস্থায়ী সুরক্ষা মর্যাদা কখনো স্থায়ী মর্যাদা নয়।
যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল আইন অনুযায়ী, যুদ্ধ, প্রাকৃতিক দুর্যোগ বা অন্য কোনো সংকটের কারণে পালিয়ে আসা ব্যক্তিদের অস্থায়ীভাবে বৈধভাবে বসবাসের জন্য প্রশাসন অনুমতি প্রদান করতে পারে। তবে, এর আগে এই সুরক্ষা মর্যাদার মেয়াদ ধারাবাহিকভাবে নবায়ন করা হয়েছিল, আর এখন এটি বাতিলের উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর এখনও হাইতি ও সিরিয়ায় ব্যাপক সহিংসতা, অপরাধ, সন্ত্রাসবাদ এবং অপহরণের ঝুঁকি নিয়ে ভ্রমণ না করার পরামর্শ দিয়ে আসছে।
২০১০ সালে ভয়াবহ ভূমিকম্পের পর প্রথম হাইতির নাগরিকদের জন্য এবং ২০১২ সালে সিরিয়ায় গৃহযুদ্ধ শুরু হওয়ার পর দেশটির নাগরিকদের জন্য অস্থায়ী সুরক্ষা মর্যাদা (টিপিএস) চালু করে যুক্তরাষ্ট্র। ২০২৪ সালের নির্বাচনী প্রচারণার সময় ডোনাল্ড ট্রাম্প মিথ্যাভাবে অভিযোগ করেছিলেন যে, ওহাইওতে বসবাসরত হাইতির অভিবাসীরা অন্যদের পোষা প্রাণী খেয়ে ফেলছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন