ঢাকা সোমবার, ২৬শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১০ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৫ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
সোমবার, ২৬শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১০ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

স্পেসএক্সের পরিত্যক্ত রকেট চাঁদে আছড়ে পড়তে যাচ্ছে, পর্যবেক্ষণে বিজ্ঞানীরা


স্পেসএক্সের পরিত্যক্ত রকেট চাঁদে আছড়ে পড়তে যাচ্ছে, পর্যবেক্ষণে বিজ্ঞানীরা

চাঁদের বুকে আছড়ে পড়তে যাচ্ছে মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা স্পেসএক্সের একটি পরিত্যক্ত রকেট।

ঘণ্টায় প্রায় ৮৭০০ কিলোমিটার প্রচণ্ড গতিতে রকেটের অংশটি চন্দ্রপৃষ্ঠে আঘাত হানবে।

এটি চাঁদে একটি বড় গর্ত তৈরির পাশাপাশি মহাকাশে বিপুল পরিমাণ ধূলিকণা ও ধ্বংসাবশেষ ছড়িয়ে পড়ার কারণ হবে, যা পর্যবেক্ষণের জন্য অপেক্ষা করছেন বিশ্বজুড়ে জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা।

আরও পড়ুন: কীভাবে তার উত্থান: শ্রমিক থেকে চারবারের প্রেসিডেন্ট লুলা

মহাকাশ পর্যবেক্ষণ বিশেষজ্ঞদের মতে, চাঁদের পশ্চিম প্রান্তে অবস্থিত ‘আইনস্টাইন ক্রেটার’-এর কাছে এই সংঘর্ষ ঘটবে। ৪০ ফুট লম্বা এবং প্রায় সাড়ে ৪ হাজার কেজি ওজনের রকেটটি আঘাত হানার সময় ৩ টন টিএনটি বিস্ফোরণের সমতুল্য শক্তি উৎপন্ন করবে।

এর প্রভাবে চন্দ্রপৃষ্ঠে প্রায় ৯০ ফুট চওড়া ও ১৬ ফুট গভীর গর্ত তৈরি হতে পারে।

সাধারণত প্রাকৃতিক উল্কাপাতের সময় আগে থেকে জানা যায় না। তবে এই ঘটনাটি আগে থেকেই নিশ্চিত হওয়ায় গবেষণার জন্য এটি এক বড় সুযোগ সৃষ্টি করেছে বিজ্ঞানীদের কাছে।

নাসার ‘লুনার রিকনসান্স অরবিটার’ এবং দক্ষিণ কোরিয়ার ‘দানুরি’ নামের কৃত্রিম উপগ্রহ মহাকাশ থেকে ঘটনাটি সরাসরি পর্যবেক্ষণ করবে এবং সংঘর্ষের আগের ও পরের ছবি সংগ্রহ করবে।

আরও পড়ুন: সিডনির নতুন বিমানবন্দর থেকে প্রথম আন্তর্জাতিক ফ্লাইট উড্ডয়ন

বিশ্লেষকরা বলছেন, এই নির্দিষ্ট রকেটের ধাক্কায় চাঁদের বড় কোনো ক্ষতি না হলেও, তা মহাকাশে অনিয়ন্ত্রিত আবর্জনা বৃদ্ধির ঝুঁকিকে স্পষ্ট করে তুলেছে।

ভবিষ্যতে চাঁদে আন্তর্জাতিক মহাকাশচারী ও স্থায়ী ঘাঁটি গড়ে তোলার পরিকল্পনা রয়েছে বিভিন্ন দেশের।

কিন্তু কক্ষপথে এভাবে পরিত্যক্ত রকেটের অংশ ভেসে বেড়ালে তা আগামী দিনের মহাকাশ মিশনের জন্য বড় ধরনের বিপদ ডেকে আনতে পারে।

আরও পড়ুন: ইরানের সঙ্গে জরুরি বৈঠকে সৌদি, পাকিস্তান ও তুরস্কের শীর্ষ কর্মকর্তারা

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

বর্তমান সংসদের দিকে তাকিয়ে আছে দেশের ১৮ কোটি মানুষ : ভারপ্রাপ্ত স্পিকার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

শনিবার, ১ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

১১:৪৭ এম


বর্তমান সংসদের দিকে তাকিয়ে আছে দেশের ১৮ কোটি মানুষ : ভারপ্রাপ্ত স্পিকার

জাতীয় সংসদের ভারপ্রাপ্ত স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল বলেছেন, বর্তমান সংসদের কাছে জনগণের প্রত্যাশা অনেক বেশি। দেশের ১৮ কোটি মানুষের ৩৬ কোটি চোখ জাতীয় সংসদের কার্যক্রমের ওপর নিবদ্ধ হয়ে আছে। মানুষ চায় সংসদ সদস্যরা জ্ঞানগর্ভ আলোচনা ও গঠনমূলক সমালোচনা ও যুক্তি-তর্কের মাধ্যমে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে জনগণের প্রত্যাশা পূরণ করুক।

তিনি বর্তমান সংসদকে ‘মজলুমের সংসদ’ হিসেবে উল্লেখ করে বলেন, এই সংসদের অধিকাংশ সদস্যই অতীতে ফাঁসির মঞ্চ, গুম, আয়নাঘর, নির্যাতন, নির্বাসন কিংবা জেল-জুলুমের শিকার হয়েছেন। ৩৫০ জন সংসদ সদস্যের প্রায় ৯৯ শতাংশই এসব অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে এসেছেন। যে কারণে এটি শুধু বাংলাদেশের নয়, বিশ্বের ইতিহাসেও ব্যতিক্রমধর্মী একটি সংসদ।

সম্প্রতি বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থা -কে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে তিনি এসব কথা বলেন।

ব্যারিস্টার কায়সার কামাল বলেন, আপনারা জেনে থাকবেন, বর্তমান সংসদের প্রত্যেক দিনের প্রতিটি কার্যক্রম গ্রামের কৃষক, শ্রমিক ও মেহনতি মানুষ মোবাইল ফোনের মাধ্যমে দেখেন। অর্থাৎ এই সংসদ ১৮ কোটি মানুষের প্রতিনিধিত্ব করছে এবং ১৮ কোটি মানুষের ৩৬ কোটি চোখ এই সংসদের ওপর নিবদ্ধ হয়ে আছে। নির্বাচিত সংসদ সদস্যরা জ্ঞানগর্ভ আলোচনা, গঠনমূলক সমালোচনা, যুক্তি-তর্কের মাধ্যমে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে মানুষের কাঙ্ক্ষিত প্রত্যাশা পূরণ করবেন। সেটাই স্পিকার বা ডেপুটি স্পিকার হিসেবে আমরা প্রত্যাশা করি। 

তিনি বলেন, সংসদে আমাদের ভূমিকা সর্বদাই ন্যায়বিচার এবং নিরপেক্ষভাবে দায়িত্ব পালন করা। নিরপেক্ষ এবং ন্যায়বিচারই হচ্ছে ব্যক্তিগতভাবে আমার কাছে প্রণিধানযোগ্য। যতদিন এই সংসদ পরিচালনার সুযোগ থাকবে, ততদিন আমি আমার ন্যায়পরায়ণতা এবং সর্বোচ্চ নিরপেক্ষতা বজায় রাখার জন্য সচেষ্ট থাকব।

ভারপ্রাপ্ত স্পিকার বলেন, গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার জন্য সরকার এবং বিরোধী দল প্রত্যেককে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে। আমাদের পূর্বপুরুষরা মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে নিজেদের জীবনকে অকাতরে বিলিয়ে দিয়ে দেশকে স্বাধীন করেছিলেন। তারা গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র ব্যবস্থা কায়েমের জন্য এবং সাম্য, মানবাধিকার, মানবিক মর্যাদাসম্পন্ন আইনের শাসন, সাংবিধানিক শাসন প্রতিষ্ঠিত করার জন্য যুদ্ধ করেছিলেন। তাই এখন বর্তমান সরকারি দল এবং বিরোধী দল উভয়ই কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে সেই গণতান্ত্রিক অভিযাত্রাকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেবে- সেটাই জাতি প্রত্যাশা করছে।

তিনি বলেন, দেশের সকল বিষয়ের কেন্দ্রবিন্দু হচ্ছে এই মহান জাতীয় সংসদ। যেকোনো রাষ্ট্রের তিনটা অঙ্গ থাকে- বিচার বিভাগ, আইন বিভাগ এবং নির্বাহী বিভাগ। আইন বিভাগ থেকে আইন পাস হয়। নির্বাহী বিভাগ সে আইন প্রয়োগ করেন এবং আইনের দুর্বলতা-খুঁটিনাটি বিষয় স্ক্রুটিনাইজ করে বিচার বিভাগ। অর্থাৎ রাষ্ট্র পরিচালনার সব কিছুর কেন্দ্রবিন্দু হচ্ছে এই মহান জাতীয় সংসদ।

ব্যারিস্টার কায়সার কামাল বলেন, আমি মনে করি বাংলাদেশের সামগ্রিক উন্নয়নের জন্য, রাজনৈতিক ও গণতান্ত্রিক চর্চার জন্য সব কিছুর কেন্দ্রবিন্দু হওয়া উচিত জাতীয় সংসদ। এখানে সরকারি দল তাদের কথা বলার যেমন সুযোগ পাচ্ছেন। ঠিক তেমনিভাবে বিরোধী দলও গঠনমূলক সমালোচনা করার অবারিত সুযোগ পাচ্ছেন।

তিনি বলেন, গণতন্ত্রের সৌন্দর্য হচ্ছে- দুইটা পক্ষ থাকবে। এক পক্ষ আরেক পক্ষের গঠনমূলক সমালোচনা করবে। এ থেকে রাষ্ট্র উপকৃত হবে, জনগণ উপকৃত হবে। আমরা যদি হাউস অব কমন্স অর্থাৎ ব্রিটিশ সংসদীয় গণতন্ত্রের কথা বিবেচনা করি, অস্ট্রেলিয়ান পার্লামেন্টের কথা বিবেচনা করি, কানাডিয়ান পার্লামেন্টের কথা বিবেচনা করি, পাকিস্তানের পার্লামেন্টের কথা বিবেচনা করি, ইন্ডিয়ান পার্লামেন্টের কথা বিবেচনা করি- সেখানে প্রত্যেকটা বিষয় আলোচনা-সমালোচনার প্রেক্ষিতে রাষ্ট্র পরিচালনার যে নীতি, সেটা নির্ধারিত হয় সংসদে।

জাতীয় সংসদ দেশের বর্তমান ও ভবিষ্যতের সব কিছুর কেন্দ্রবিন্দু হবে- এমন আশাবাদ ব্যক্ত করে ভারপ্রাপ্ত স্পিকার বলেন, জুলাই গণঅভ্যুত্থানে যারা শহীদ ও আহত হয়েছেন তাদের প্রত্যাশা পূরণ হবে। সর্বোপরি এ দেশের আবাল-বৃদ্ধ-বনিতা তাদের দেশ গঠনের যে প্রত্যাশা, সেই প্রত্যাশা পূরণ হবে।

গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করার জন্যই দেশের জনগণ মুক্তিযুদ্ধ করেছিল উল্লেখ করে তিনি বলেন, মানবাধিকার, সাম্য, মানবিক মর্যাদা- এই বিষয়গুলোকে সামনে রেখেই মুক্তিযুদ্ধ হয়েছিল। মুক্তিযুদ্ধ শেষে স্বাধীন হওয়ার পরে দেশের জনগণ প্রতারিত হয়। দেশে একদলীয় বাকশাল কায়েম হয়। এই মহান সংসদেই ১৯৭৪ সালের ২৫ জানুয়ারি এক মিনিটের ব্যবধানে একটা আইন পাস করে বাকশাল প্রতিষ্ঠিত হয়। অর্থাৎ যে গণতন্ত্রের জন্য মানুষ অকাতরে জীবন বিলিয়ে দিয়েছিল, আমাদের মা-বোনদের সম্ভ্রমহানি হয়েছিল, স্বাধীনতার পরে আওয়ামী লীগ সরকার সর্বপ্রথম সেই গণতন্ত্রকে হত্যা করে।

ভারপ্রাপ্ত স্পিকার বলেন, পরবর্তী প্রেক্ষাপটে সিপাহী-জনতার বিপ্লবের মাধ্যমে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পান এবং এরপর তিনি দেশে গণতন্ত্রের পুনঃপ্রবর্তন করেন। এই গণতান্ত্রিক পুনঃপ্রবর্তনের মাধ্যমে বাংলাদেশে স্বাধীনতার পরে সর্বপ্রথম মানুষ তাদের গণতান্ত্রিক সুযোগ-সুবিধাগুলো পান এবং গণতান্ত্রিক একটা বাংলাদেশ পান। পরবর্তী সময়ে সংসদে নির্বাচন হয়। 

তিনি বলেন, বাংলাদেশের ইতিহাসে অন্যতম শ্রেষ্ঠ সংসদ ছিল ১৯৭৯ সালের সংসদ। পরবর্তী সময়ে দুঃখজনকভাবে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে দেশি-বিদেশি সাম্রাজ্যবাদী চক্রান্তকারীরা নির্মমভাবে হত্যার পর বাংলাদেশে আবার গণতন্ত্র মুখ থুবড়ে পড়ে। বাংলাদেশ একদলীয় স্বৈরাচার শাসন ব্যবস্থায় চলে যায় হুসেইন মুহাম্মদ এরশাদের নেতৃত্বে।

ব্যারিস্টার কায়সার কামাল বলেন, শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের স্ত্রী, বাংলাদেশের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী এবং মুসলিম বিশ্বে দ্বিতীয় নারী প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে আন্দোলন-সংগ্রামের মাধ্যমে ৯০-এর গণঅভ্যুত্থানে স্বৈরাচার এরশাদের পতন ঘটে। আবারো সেই বিএনপির নেতৃত্বে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়ার সরকার দেশে সংসদীয় গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠা করে।

তিনি বলেন, স্বাধীনতা যুদ্ধের পর আওয়ামী লীগ গণতন্ত্রকে হত্যা করে, শহীদ জিয়া গণতন্ত্র পুনঃপ্রবর্তন করেন। পরবর্তী সময়ে এরশাদ আওয়ামী লীগের সহযোগিতায় ক্ষমতায় ছিল। এরশাদের পতনের পর বেগম খালেদা জিয়ার নেতৃত্বে বাংলাদেশে আবার গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হয়।

ব্যারিস্টার কায়সার কামাল বলেন, সেই গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রায় বাংলাদেশের শুধু রাজনৈতিক দল নয়, আমাদের কবি-সাহিত্যিক, পেশাজীবী মানুষ, আইনজীবী থেকে শুরু করে সাংবাদিক- অর্থাৎ সমাজের সচেতন সকল মানুষ প্রত্যাশা করেছিল বাংলাদেশে গণতন্ত্র আবার প্রতিষ্ঠিত হবে। কিন্তু আমরা দেখলাম, দুঃখজনকভাবে ওয়ান ইলেভেনের মাধ্যমে বাংলাদেশে গণতন্ত্রকে আবার নস্যাৎ করা হয়। 

তিনি বলেন, ওয়ান ইলেভেনের পর ২০০৮ সালে বাংলাদেশে একটা নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। সেই নির্বাচন ছিল অত্যন্ত প্রশ্নবোধক একটা নির্বাচন। তারপর নবম জাতীয় সংসদে দুঃখজনকভাবে গণতন্ত্রকে হত্যা করার জন্য তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থাকে বিলোপ করা হয়। পরবর্তী সময়ে ফ্যাসিস্ট রেজিমের সময় ২০১৪ সনের নির্বাচন একতরফাভাবে হয়। ১৫২ বা ১৫৩ জন ব্যক্তিকে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় এমপি হিসেবে শপথ পড়ানো হয়। ২০১৮ সালে দিনের ভোট রাতে এবং ২০২৪ সালে ফ্যাসিস্ট সরকারের অধীনে ‘আমি এবং ডামি’র নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।

২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে ভারপ্রাপ্ত স্পিকার বলেন, ছাত্র-জনতা ও আপামর জনসাধারণের গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে, শত শত প্রাণের বিনিময়ে, হাজার হাজার মানুষের আহত হওয়ার প্রেক্ষিতে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট বাংলাদেশ ফ্যাসিস্ট মুক্ত হয়। ফ্যাসিবাদমুক্ত বাংলাদেশে আবার নতুন করে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা চালুর জন্য অন্তর্বর্তী সরকার বা নির্বাচন কমিশনসহ সংশ্লিষ্টদের প্রাণান্তকর চেষ্টায় ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। সেই নির্বাচন ছিল বাংলাদেশের ইতিহাসে অন্যতম একটা শান্তিপূর্ণ ও সুষ্ঠু নির্বাচন। 

তিনি বলেন, এই নির্বাচন বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন ছিল। এই নির্বাচন অনুষ্ঠানের মাধ্যমে দেশে গণতন্ত্রের নতুন অভিযাত্রা শুরু হয়েছে। সেই অভিযাত্রার কেন্দ্রবিন্দু হচ্ছে এই মহান জাতীয় সংসদ।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

দীর্ঘ বিরতির পর ভেনেজুয়েলা ও আরুবার মধ্যে আবারও চালু হচ্ছে বিমান চলাচল

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

শনিবার, ১ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

১১:৫০ এম


দীর্ঘ বিরতির পর ভেনেজুয়েলা ও আরুবার মধ্যে আবারও চালু হচ্ছে বিমান চলাচল

দীর্ঘ সাত বছরের বিরতি শেষে ভেনেজুয়েলা ও নেদারল্যান্ডসের ছোট দ্বীপ আরুবার মধ্যে বিমান যোগাযোগ আবারও চালু হচ্ছে। শুক্রবার আরুবার কর্তৃপক্ষ এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।

এই নেদারল্যান্ডসের স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চলটি ক্যারিবীয় অঞ্চলে অবস্থিত তিনটি দ্বীপের একটি, যেগুলোকে সম্মিলিতভাবে ‘এবিসি দ্বীপপুঞ্জ’ বলা হয়। এই দ্বীপগুলো মধ্যে রয়েছে আরুবা, বোনায়ার এবং কুরাসাও।

খবরটি বার্তা সংস্থা এএফপি থেকে নেওয়া।

২০১৯ সালের সময় ভেনেজুয়েলার তৎকালীন প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরো এই দ্বীপপুঞ্জের সঙ্গে দেশের সকল ধরনের সমুদ্র ও আকাশপথের যোগাযোগ বন্ধ করে দিয়েছিলেন। এ সময়ে বিরোধীরা দ্বীপগুলোর মাধ্যমে সংকটের শিকার ভেনেজুয়েলায় যুক্তরাষ্ট্রের মানবিক সহায়তা পৌঁছানোর প্রচেষ্টা চালিয়েছিল।

মাদুরো তখন ওই উদ্যোগকে ভেনেজুয়েলার সার্বভৌমত্বের লঙ্ঘন হিসেবে দেখা করে।

আরুবার পরিবহনমন্ত্রী ভেনড্রিক সিসিলিয়া জানিয়েছেন, দুই দেশের মধ্যে বিমান যোগাযোগ শনিবার থেকে পুনরায় চালু হবে।

তিনি উল্লেখ করেছেন, ‘প্রথম ধাপে আরুবা এবং ভেনেজুয়েলার মধ্যে বাণিজ্যিক ফ্লাইট পরিচালনার জন্য আকাশসীমা খুলে দেওয়া হবে।’

২০১৯ সালের ওই কূটনৈতিক বিরোধের কয়েক মাস পর, দুই দেশের মধ্যে সমুদ্রপথের যোগাযোগ অবশ্য পুনরায় শুরু হয়েছিল।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মিসরে প্রাচীন পিরামিড যুগেরও আগের সমাধির আবিষ্কার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

শনিবার, ১ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

১১:৫৭ এম


মিসরে প্রাচীন পিরামিড যুগেরও আগের সমাধির আবিষ্কার

মিসরের প্রত্নতাত্ত্বিক গবেষণায় নতুন একটি ঐতিহাসিক অধ্যায় যুক্ত হয়েছে। সাম্প্রতিক এক অনুসন্ধানে জানা গেছে যে, পিরামিড যুগেরও আগে মিসরের স্থপতিরা স্থায়ী সমাধি নির্মাণের ক্ষেত্রে দক্ষতা অর্জন করেছিলেন। আন্তর্জাতিক প্রত্নতাত্ত্বিক গবেষকদের একটি দল প্রাচীন সমাধি এবং প্রাক্‌-রাজবংশীয় যুগের একটি সমাধিক্ষেত্রের সন্ধান পাওয়ার পর এই ধারণা আরও সৌজন্য পেয়েছে।

গবেষকদের মতে, হাজার বছর টিকে থাকার মতো স্মৃতিস্তম্ভ নির্মাণে যে প্রাথমিক নকশা ও পরীক্ষা-নিরীক্ষা শুরু হয়েছিল মিসরের স্থপতিরা, এই আবিষ্কার তারই স্পষ্ট প্রমাণ সৃষ্টির কাজ করেছে। নতুন আবিষ্কৃত সমাধিগুলোর অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো দেয়ালের গঠন—নিচের দিকে পুরু এবং ওপরের দিকে ধীরে ধীরে সরু। এমন নকশা কাঠামোগুলোকে অসাধারণ স্থায়িত্ব প্রদান করত। পাশাপাশি সেখানে প্রাচীন পাথর কাটার কৌশলেরও যথেষ্ট নিদর্শন দেখা গেছে।

গবেষণায় আরও আরও জানা যায় যে, দেয়ালকে দৃঢ় রাখতে বিশাল আকারের কাঠ ব্যবহৃত হতো, যা অনেক ক্ষেত্রে পুরো দেয়ালের দৈর্ঘ্য জুড়ে বিস্তৃত ছিল। দক্ষিণাঞ্চলে আবিষ্কৃত দ্বিতীয় সমাধিটি ভালোভাবে সংরক্ষিত অবস্থায় পাওয়া গেছে, যা প্রাচীন স্থাপত্যের মৌলিক নকশা বুঝতে গবেষকদের বিশেষভাবে সহায়তা করেছে।

এছাড়া, গবেষক দলটি মিসরের একীকরণের আগের সময়কার একটি প্রাচীন কবরস্থানও উন্মোচন করেছে। সেখানে পাওয়া কঙ্কালগুলোর ভঙ্গি থেকে ধারণা করা হয় যে, মৃতদের কোঁকড়ানো অবস্থায় সমাহিত করা হতো এবং তাদের শরীর বোনা উদ্ভিজ্জ ম্যাটে মোড়ানো থাকত।

গবেষকদের তথ্য অনুযায়ী, এসব কাঠামোর সঙ্গে রাজা ডেনের সমাধির উল্লেখযোগ্য মিল রয়েছে। ফলে ধারণা করা হচ্ছে যে, পিরামিড নির্মাণে ব্যবহৃত প্রকৌশল প্রযুক্তি প্রচলিত ধারণার তুলনা যে, অনেক আগেই মিসরের বিভিন্ন অঞ্চলে বিস্তৃত হয়েছিল।

মিসরের পর্যটন ও পুরাকীর্তি মন্ত্রী শরিফ ফাতহি বলেছেন, এই আবিষ্কার প্রাচীন মিসরের সমাধিসৌধ স্থাপত্যের বিবর্তন বোঝার ক্ষেত্রে একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে।

অন্যদিকে, মিসরের সুপ্রিম কাউন্সিল অব অ্যান্টিকুইটিসের সেক্রেটারি জেনারেল হিশাম এল-লিথি বলেন যে, প্রথম সমাধিটি একটি অনন্য নকশার অসাধারণ নিদর্শন, আর দক্ষিণে পাওয়া দ্বিতীয় সমাধিটি একই ধরনের বিন্যাসে নির্মিত হলেও তা আরও ভালোভাবে সংরক্ষিত রয়েছে।

এই আবিষ্কার প্রমাণ করে যে, প্রাচীন মিসরের স্থাপত্যচর্চা পিরামিড নির্মাণের অনেক আগেই সুচারুভাবে সংগঠিত ও উন্নত পর্যায়ে পৌঁছেছিল।

সূত্র: ডেইলি মেইল

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

মিরসরাইয়ে বারমাসি ছড়ায় অভিযান: ধ্বংস করা হলো বালু উত্তোলনের স্যালো মেশিন ও পাইপ

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

সাকিব চৌধুরী চট্টগ্রাম

শনিবার, ১ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

১১:৫৮ এম


মিরসরাইয়ে বারমাসি ছড়ায় অভিযান: ধ্বংস করা হলো বালু উত্তোলনের স্যালো মেশিন ও পাইপ

চট্টগ্রাম মিরসরাইয়ের জোরারগঞ্জ এলাকার বারমাসি ছড়া থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নিয়েছে উপজেলা প্রশাসন ও স্থানীয় পুলিশ। পরিবেশ রক্ষা এবং স্থানীয় অবকাঠামো ধ্বংসের হাত থেকে বাঁচাতে পরিচালিত যৌথ অভিযানে গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে বালু উত্তোলনের সরঞ্জাম।
বৃহস্পতিবারে পরিচালিত এ বিশেষ অভিযানে নেতৃত্ব দেন উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) আবদুল কাদের। সঙ্গে ছিল জোরারগঞ্জ থানা পুলিশের একটি দল।
অভিযানকালে বারমাসি ছড়ার বিভিন্ন পয়েন্টে অবৈধভাবে বসানো বালু উত্তোলনের একাধিক স্যালো মেশিন এবং কয়েক শত ফুট পাইপ ঘটনাস্থলেই বিনষ্ট ও ধ্বংস করা হয়। প্রশাসনের আকস্মিক এই অভিযানের টের পেয়ে অবৈধ বালু উত্তোলনের সাথে জড়িত চক্রের সদস্যরা সটকে পড়ে।
সহকারী কমিশনার (ভূমি) আবদুল কাদের জানান, "প্রাকৃতিক জলাধার ও পরিবেশ বিনষ্ট করে কোনো অবস্থাতেই অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করতে দেওয়া হবে না। বারমাসি ছড়া ও আশেপাশের সরকারি অবকাঠামো রক্ষায় প্রশাসনের এই অভিযান অব্যাহত থাকবে। নদী ও জনস্বার্থে যারাই এমন কর্মকাণ্ডের সাথে জড়িত থাকবে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"
উল্লেখ্য, দীর্ঘদিন ধরে জোরারগঞ্জ বারমাসি ছড়া থেকে প্রভাবশালী চক্রের অবৈধ বালু উত্তোলনের ফলে স্থানীয় কৃষি জমি, ব্রিজ-কালভার্ট ও বসতবাড়ি নদীভাঙনের চরম ঝুঁকিতে পড়েছিল। আজকের এই ঝটিকা অভিযানে স্বস্তি ফিরে এসেছে ভুক্তভোগী এলাকাবাসীর মনে। সচেতন মহল প্রশাসনের এই পদক্ষেপকে সাধুবাদ জানিয়েছেন।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৫ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৫
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৭
মাগরিব ০৫:২৪
ইশা ০৬:৩৫
সূর্যোদয় : ০৬:০১ সূর্যাস্ত : ০৫:২৪
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%