মঙ্গলবার, ১৫ই সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
০৩:৪০ পি.এম
শেহনাজ গিল সহ-অভিনেতাদের নিরাপত্তাহীনতা পছন্দ করেন না। যদি কারো আচরণে কাজের পরিবেশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়, তাহলে পেশাগত সম্পর্কের বাইরে যোগাযোগ রাখতে আগ্রহী নন তিনি।
সম্প্রতি এক সাক্ষাৎকারে শেহনাজ তাঁর কাজের ধরন এবং সহ-অভিনেতাদের সঙ্গে সম্পর্কের বিষয়ে এ ধরনের মন্তব্য করেছেন।
সাক্ষাৎকারে শেহনাজকে প্রশ্ন করা হয়, যদি কোনো সহ-অভিনেতা তাঁকে নিয়ে নিরাপত্তাহীনতায় ভোগেন, তাহলে তিনি কিভাবে পরিস্থিতি সামলান।
এ প্রসঙ্গে অভিনেত্রী বলেন, ‘আমাকে নিয়ে কেউ নিরাপত্তাহীনতায় ভুগলে, আমি তার থেকে অনেক দূরেই থাকি।’ পেশাদার হিসেবে তিনি শুধুমাত্র কাজটুকু করেন।
শেহনাজের ভাষ্যমতে, ‘তখন শুধু অভিনয়টুকুই করি। অভিনয়ের বাইরে আর কোনো সম্পর্ক রাখি না।’
তবে সব সহ-অভিনেতার সঙ্গে তাঁর এমন অভিজ্ঞতা হয়নি। গিপ্পি গ্রেবালের সঙ্গে ‘সিং ভার্সেস কৌর ২’ ছবিতে কাজের অভিজ্ঞতা শেয়ার করতে গিয়ে শেহনাজ জানান, তাঁরা দুজনেই একে অপরকে সব সময় সাহায্য করেছেন। এমনকি ভবিষ্যতে কীভাবে নিজেদের কর্মজীবনে এগিয়ে যাওয়া যায়, সে বিষয়ে পরস্পরের পরামর্শও নিয়েছেন।
শেহনাজ মনে করেন, সহ-অভিনেতাদের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতা তৈরি হলে তা শুধু ব্যক্তিগত সম্পর্কের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না।
তিনি বলেন, ‘যেখানে এই নিরাপত্তাহীনতা তৈরি হয় বা পরিবেশ নষ্ট হয়ে যায়, সেখানে তার প্রভাব পড়ে ছবির কাজের ওপরেও।’
শেহনাজের অভিনয়জীবন শুরু হয়েছিল বড় পর্দায় নয়। ২০১৫ সালে পাঞ্জাবি গানের ভিডিওতে তিনি প্রথম দেখা দেন। ২০১৭ সালে ‘সৎ শ্রীআকাল ইংল্যান্ড’ ছবির মাধ্যমে অভিনয়ে প্রবেশ করেন। এরপর একাধিক পাঞ্জাবি ছবিতে অভিনয় করেছেন।
তবে ২০১৯ সালে ‘বিগ বস ১৩’-তে অংশগ্রহণের পর তিনি ভারতজুড়ে পরিচিতি পান। তাঁর সহজ, অকপট স্বভাব দর্শকদের মনে জায়গা করে নেয়। ওই অনুষ্ঠানে তিনি তৃতীয় স্থান অধিকার করেছিলেন। এরপর আর পিছনে ফিরে তাকাতে হয়নি তাঁকে।
২০২৩ সালে ‘কিসি কা ভাই কিসি কি জান’ ছবির মাধ্যমে হিন্দি ছবিতে পদার্পণ করেন শেহনাজ। ‘ইক কুড়ি’ ছবির মাধ্যমে প্রযোজনার কাজেও তাঁর হাতেখড়ি হয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী মন্তব্য করেছেন যে, জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের চর্চার মাধ্যমে তরুণদের মধ্যে সৃজনশীলতা, মানবিক মূল্যবোধ ও দেশপ্রেম জাগ্রত হবে।
মঙ্গলবার (১৫ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের অডিটরিয়ামে নজরুলবর্ষ উপলক্ষে আয়োজিত দিনব্যাপী সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, ‘জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের মানবপ্রেম, অসাম্প্রদায়িকতা, সাম্য ও দেশপ্রেমের চেতনা নতুন প্রজন্মের জন্য অনন্ত প্রেরণার উৎস। সুস্থ সংস্কৃতির বিকাশ একটি আলোকিত সমাজ গঠনের অন্যতম ভিত্তি।’
শিক্ষামন্ত্রী জানান, নজরুলবর্ষ উপলক্ষে দেশের সব শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে একযোগে সাংস্কৃতিক প্রতিযোগিতা আয়োজনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, এর মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের মধ্যে নজরুলের সাহিত্য ও সংস্কৃতির চর্চা আরো বিস্তৃত হবে।
মন্ত্রী স্মরণ করেন, জাতীয় কবির ১২৭তম জন্মজয়ন্তী উপলক্ষে ত্রিশালে আয়োজিত তিন দিনব্যাপী অনুষ্ঠানের উদ্বোধনের সময় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নজরুলবর্ষ ঘোষণা করেন। তিনি মন্তব্য করেন যে, এর ফলে সারা দেশে নজরুলচর্চা নতুন মাত্রা পেয়েছে।
ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের প্রতিষ্ঠাতা ভিকারুননিসা নূনের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, এ ধরনের ঐতিহ্যবাহী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান দেশ গঠনে মেধাবী ও সংস্কৃতিমনা প্রজন্ম তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে।
বক্তব্যের এক পর্যায়ে সংস্কৃতিমন্ত্রী নজরুলের কবিতা আবৃত্তি করে তার বহুমাত্রিক প্রতিভার কথা তুলে ধরেন। তিনি উল্লেখ করেন যে, ইসলামী সংগীত ও শ্যামাসংগীত রচনার মাধ্যমে নজরুল ধর্মীয় সম্প্রীতির অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন।
মন্ত্রী নজরুলের রচনায় আরবি, ফারসি, উর্দু ও বিভিন্ন বিদেশি শব্দের সৃজনশীল ব্যবহারের প্রসঙ্গ তুলে ধরে বলেন, এতে বাংলা ভাষা আরো সমৃদ্ধ হয়েছে।
মন্ত্রী সুস্থ সাংস্কৃতিক বিকাশে নৌকাবাইচ, যাত্রাশিল্প, বাউল গান, হাছন রাজা, লালন ও বিজয় সরকারের গানের চর্চা ও প্রসারের ওপরও গুরুত্বারোপ করেন। তিনি মন্তব্য করেন যে, পাহাড় ও সমতলের সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যের মিলনেই বাংলাদেশের অনন্য সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য গড়ে উঠেছে।
ছাত্রীদের উদ্দেশে নারীশক্তির জাগরণ ও নারীর ক্ষমতায়নের গুরুত্ব তুলে ধরেন তিনি। পাশাপাশি সরকারের বিভিন্ন জনকল্যাণমূলক ও উন্নয়নমূলক উদ্যোগের কথাও বক্তব্যে উল্লেখ করেন।
অনুষ্ঠান শেষে সংস্কৃতিমন্ত্রী ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের শিক্ষার্থীদের সাংস্কৃতিক পরিবেশনা উপভোগ করেন এবং প্রতিযোগিতায় অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীদের অভিনন্দন জানান।
অনুষ্ঠানে ভিকারুননিসা নূন স্কুল অ্যান্ড কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ মাজেদা বেগমের সভাপতিত্বে সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের যুগ্ম সচিব, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটির শিক্ষক, অভিভাবক ও বিপুলসংখ্যক ছাত্রী উপস্থিত ছিলেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি বুধবার চীন সফরে যাওয়ার পরিকল্পনা করেছেন। সংবাদ মাধ্যম আলজাজিরা জানাচ্ছে, এই সফরের সময় তিনি চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ইর সঙ্গে একটি বৈঠক করবেন।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান যুদ্ধের দীর্ঘায়িত হওয়ার পাশাপাশি এর বৈশ্বিক অর্থনৈতিক প্রভাব বিস্তারের প্রেক্ষাপটে এই সফর অনুষ্ঠিত হচ্ছে।
চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বুধবার বেইজিংয়ে ওয়াং ই ও আরাগচির মধ্যে বৈঠক অনুষ্ঠিত হবে। চীন ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের চলমান যুদ্ধের অবসানে মধ্যস্থতার চেষ্টা করছে।
গত সপ্তাহে ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে ব্রিকস সম্মেলনে ওয়াং ই ও আরাগচি অংশগ্রহণ করেন। সেখানে তাদেরকে সংক্ষিপ্ত সময়ের জন্য আলাপ করতে দেখা যায়।
এছাড়া, ইরান ও মধ্যপ্রাচ্য থেকে চীন বিপুল পরিমাণ তেল আমদানি করে থাকে। হরমুজ প্রণালিতে তেহরানের অবরোধ এবং ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের নৌ অবরোধের কারণে তেল সরবরাহে বিঘ্ন ঘটলে চীনের অর্থনীতির ওপর চাপ পড়তে পারে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
চীন নাগরিকদের বিদেশ ভ্রমণের ওপর নতুন বিধিনিষেধ কার্যকর করেছে। বিশ্লেষকদের মতে, এই পদক্ষেপের ফলে সরকারের নিয়ন্ত্রণ নাগরিকদের ওপর আরো বৃদ্ধি পেতে পারে। বিবিসির প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, নতুন আইনে বলা হয়েছে, যদি কোনো চীনা নাগরিক বিদেশে গিয়ে দেশের জাতীয় নিরাপত্তা বা স্বার্থের ক্ষতি করে এমন কর্মকাণ্ডে জড়ায়, তাহলে দেশে ফেরার পর সর্বোচ্চ তিন বছর পর্যন্ত তার বিদেশ ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হতে পারে। প্রযুক্তি আমদানি-রপ্তানি-সংক্রান্ত আইন লঙ্ঘন করলেও দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞা আরোপের ব্যবস্থা রয়েছে।
চীনা কর্তৃপক্ষের দাবি, জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং দেশের স্বার্থ রক্ষার জন্যই এসব বিধিনিষেধ কার্যকর করা হয়েছে। তবে সমালোচকদের অভিযোগ, বিদেশে অবস্থানরত চীনা নাগরিকদের মতপ্রকাশ নিয়ন্ত্রণের উদ্দেশ্যে বেইজিং এই ব্যবস্থা ব্যবহার করতে পারে। জর্জটাউন ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক টম কেলগের মতে, সরকারের সমালোচনা ঠেকাতে নিরাপত্তা সংস্থাগুলো অনেকের পাসপোর্ট আটকে রাখছে।
অন্যদিকে, সরকারি সংস্থাগুলোর দাবি, অবৈধ জুয়া, সাইবার জালিয়াতি ও বিভিন্ন ধরনের প্রতারণার হাত থেকে নাগরিকদের সুরক্ষা দিতেই এসব সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে চীনা নাগরিকদের একটি অংশ অঘোষিত ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞার অভিযোগ করে আসছেন। ‘পিপি’ নামে পরিচিত এক তরুণ জানান, ২০১৯ সালের হংকংয়ের বিক্ষোভে অংশ নেওয়ার পর ২০২৩ সালে তাঁর পাসপোর্টের আবেদন বাতিল করা হয়। তাঁকে কোনো লিখিত কারণ জানানো হয়নি। কর্মকর্তারা শুধু মৌখিকভাবে জানান, তিনি বিদেশে যেতে পারবেন না।
আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার কথা ভাবলেও জেলে যাওয়ার আশঙ্কায় তিনি শেষ পর্যন্ত কোনো পদক্ষেপ নেননি বলে জানান। অনেক নাগরিকের অভিযোগ, তাদের ওপর ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা রয়েছে কি না, তা আগে থেকে জানার কোনো সুযোগ নেই। পাসপোর্টের জন্য আবেদন করা বা বিমানবন্দরে যাওয়ার পরই অনেক ক্ষেত্রে তারা জানতে পারেন যে, তাদের বিদেশ ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে।
মানবাধিকার সংস্থা সেফগার্ড ডিফেন্ডার্সের তথ্য অনুযায়ী, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে চীনে নাগরিকদের দেশত্যাগে নিষেধাজ্ঞার ঘটনা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। ২০১৬ সালে চীনের সর্বোচ্চ আদালতের নথিতে এ ধরনের নিষেধাজ্ঞার মাত্র ৮৯টি রেকর্ড ছিল। গত বছর সেই সংখ্যা বেড়ে ১ লাখ ৮৮ হাজারের বেশি হয়েছে।
নতুন নিয়ম অনুযায়ী, ‘ঝুঁকিপূর্ণ’ হিসেবে বিবেচিত দেশ ও অঞ্চলে ভ্রমণের ক্ষেত্রে সীমান্ত কর্মকর্তাদের আরও কঠোর হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। এদিকে সরকারি চাকরিজীবী ও রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের অনেক আগে থেকেই পাসপোর্ট জমা রাখতে হয় এবং বিদেশ ভ্রমণের জন্য কর্তৃপক্ষের অনুমতি নিতে হয়।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বিদেশ ভ্রমণে এসব ক্রমবর্ধমান বিধিনিষেধ প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের অধীনে চীনে বাড়তে থাকা কঠোর মতাদর্শিক নিয়ন্ত্রণেরই প্রতিফলন। তাঁদের মতে, এর ফলে মাও সে তুংয়ের আমলে বিশ্বের কাছ থেকে বিচ্ছিন্ন থাকা চীনের সেই সময়ের স্মৃতি আবারও সামনে আসছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
অফিসকক্ষের ছাদের ওপর একটি টিনের ছাপরা নির্মাণ করা হয়েছে। সেখানে ঠাসাঠাসি করে বসে পাঠ নিচ্ছে মাদরাসার শিক্ষার্থীরা। তীব্র গরমের কারণে তাদের হাঁসফাঁস অবস্থা হয়ে যাচ্ছে। বৃষ্টি এলে ভিজতে হচ্ছে তাদের। অথচ ২০ লাখ টাকায় নির্মিত নতুন ভবনের সব শ্রেণিকক্ষ দোকানঘর হিসেবে ভাড়া দেওয়া হয়েছে।
এমন পরিস্থিতি লক্ষ্মীপুরের কমলনগর উপজেলার ফজুমিয়ারহাট মাতাব্বরনগর দারুচ্ছুনাত ফাজিল মাদরাসার।
মাদরাসা সূত্রে জানা যায়, ১৯৮৬ সালে উপজেলার মাতাব্বরহাট এলাকায় প্রতিষ্ঠিত হয় প্রতিষ্ঠানটি। তবে ২০১৩ সালে মেঘনা নদীর ভাঙনে প্রতিষ্ঠানটি ফজুমিয়ারহাট এলাকায় সরিয়ে নেওয়া হয়। বর্তমানে ২৮ জন শিক্ষক ও কর্মচারী মিলে ছয় শতাধিক শিক্ষার্থী রয়েছে প্রতিষ্ঠানটিতে।
সূত্র জানায়, ২০২৪-২৫ অর্থ বছরে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের সহায়তায় ২০ লাখ টাকায় ছয় শ্রেণিকক্ষ বিশিষ্ট ভবন নির্মাণ করা হয়। কিন্তু নির্মাণ কাজ শেষ হওয়ার পর ওই ছয়টি শ্রেণিকক্ষসহ মোট ৯টি কক্ষ মাসিক তিন হাজার টাকা ভাড়া দেওয়া হয়েছে। ফলে তিন বছরে প্রায় ১০ লাখ টাকা ভাড়া ওঠে।
রবিবার (১৩ সেপ্টেম্বর) দুপুরে সরেজমিন গিয়ে দেখা যায়, পুরনো বাঁশ, কাঠ ও টিন দিয়ে ছাদে ঠাসাঠাসি করে শিক্ষার্থীদের বসিয়ে তিন ক্লাসের পাঠদান চলছে। ষষ্ঠ শ্রেণির ক, খ ও সপ্তম শ্রেণির পাঠদান চলছে ছাদে ছাপড়ার নিচে। তিন ক্লাসের তিন শতাধিক শিক্ষার্থী সেখানে পাঠ নিচ্ছে।
শিক্ষার্থীরা জানায়, রোদের তীব্রতায় ছাদে পড়াশোনায় মনোযোগ দেওয়া কঠিন হয়ে পড়ে। বৃষ্টির সময় পরিস্থিতি আরো খারাপ হয়ে যায়। হঠাৎ বৃষ্টি শুরু হলে ক্লাস বন্ধ করে অন্যত্র আশ্রয় নিতে হয় শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের। নইলে ভিজতে হয়। এতে নিয়মিত পাঠদান ব্যাহত হচ্ছে।
অভিযোগ রয়েছে, এলাকার অভিভাবক ও বিশিষ্টজনদের না জানিয়ে গোপনে নিজের পছন্দের লোক নিয়ে গভর্নিং বডি গঠন করেছেন অধ্যক্ষ মাওলানা আলী হোছাইন। তিনি মাদরাসার শ্রেণিকক্ষও ভাড়া দিয়েছেন। এ নিয়ে এলাকায় জনমনে ক্ষোভ সৃষ্টি হয়েছে।
ভাড়া ও মাদরাসার অভ্যন্তরীণ আয়ের কোনো টাকাই শিক্ষার্থীদের কল্যাণে বা মাদরাসার উন্নয়নে ব্যয় করা হচ্ছে না বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে।
অভিভাবকরা বলছেন, ছাদে রোদের তাপে শিক্ষার্থীদের জন্য পাঠ নেওয়া কঠিন। আবার বৃষ্টি হলে টিনের ছিদ্র দিয়ে পানি পড়ে। এতে দিনদিন শিক্ষার মান খারাপ হচ্ছে। বিগত কয়েক বছরের পাবলিক পরীক্ষার ফল সন্তোষজনক না হওয়ায় অভিভাবকরা ছেলে-মেয়েদের অন্য শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিয়ে যাচ্ছেন।
তাদের অভিযোগ, অনিয়ম ও দুর্নীতিতে প্রতিষ্ঠানটি ডুবে যাচ্ছে। উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা ও গভর্নিং বডির সভাপতির তদারকি না থাকায় প্রতিষ্ঠানটির শিক্ষার মান দিনদিন খারাপ হচ্ছে।
অভিভাবক মো. আবদুর রব ও আনোয়ার হোসেন বলেন, মাদরাসার নিজস্ব ভবনের শ্রেণিকক্ষ দোকান হিসেবে ভাড়া দিয়ে অধ্যক্ষ ওই টাকা কোন খাতে ব্যয় করছেন, তার কোনো হিসাব দিচ্ছেন না।
তাদের ভাষ্য, একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষার্থীদের জন্য পর্যাপ্ত ও নিরাপদ শ্রেণিকক্ষ নিশ্চিত করা কর্তৃপক্ষের দায়িত্ব। অথচ নিজস্ব ভবন থাকার পরও শিক্ষার্থীদের ছাদে ঠাসাঠাসি করে বসিয়ে পাঠদান করা হচ্ছে। বিষয়টি অত্যন্ত দুঃখজনক।
এ ব্যাপারে মাদরাসার অধ্যক্ষ মাওলানা আলী হোছাইন বলেন, ‘এটা ঠিক যে, শিক্ষার্থীদের অনেক কষ্ট হচ্ছে। ছাদের ওপর আরেক তলা করার জন্য প্রক্রিয়া চলছে। সেটা হলে এ সমস্যার সমাধান হবে।’ নতুন ভবনের ৯টি কক্ষ ভাড়া দেওয়ার বিষয়টি জানতে চাইলে তিনি বিষয়টি এড়িয়ে যান।
কমলনগর উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মিজানুর রহমান ভূঁইয়ার মুঠোফোনে একাধিকবার কল দেওয়া হলেও তিনি তা ধরেননি। তবে লক্ষ্মীপুর জেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা গৌতম চন্দ্র মিত্র বলেন, ‘সরেজমিন গিয়ে তদন্ত সাপেক্ষে ব্যবস্থা দেওয়া হবে।’
মাদরাসার গভর্নিং বডির সভাপতি ও অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) সম্রাট খীসা বলেন, ‘শ্রেণিকক্ষ ভাড়া দেওয়ার বিষয়টি জানতাম না। আপনার কাছে শুনলাম। তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ