১১:২৪ পি.এম
বগুড়া শহরের সদর উপজেলার মালগ্রাম কলেজপাড়া এলাকায় একটি ভাড়া বাসা থেকে ২৫ বছর বয়সী নারীর, তানজিলা ইয়াসমিন দীপা নামের, ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। মঙ্গলবার (২৮ জুলাই) রাতে পুলিশ তার মৃতদেহ উদ্ধার করে।
নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে একটি হত্যা মামলা দায়ের করার ঘটনা ঘটেছে। নিহতের দ্বিতীয় স্বামী শেখ আবীদ উল সানি (২৮) ঘটনার পর পলাতক রয়েছেন।
বগুড়ার সদর উপজেলার নারুলী আনন্দপাড়া এলাকার খয়বর প্রামানিকের মেয়ে তানজিলা সম্প্রতি সরকারি আজিজুল হক কলেজ থেকে স্নাতকোত্তর পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেছেন।
আরও পড়ুন: বরিশাল সদরে ৯৫ গ্রাম পুলিশের হাতে বাইসাইকেল-ইউনিফর্ম তুলে দিলেন এমপি মজিবর রহমান সরোয়ার
পুলিশ ও এজাহার সূত্রে জানা যায়, তানজিলার প্রথম বিয়ে প্রায় ১২ বছর আগে হয় এবং তার প্রথম সংসারে সাত বছরের একটি কন্যাসন্তান রয়েছে। গত বছরের অক্টোবরে শ্বশুরবাড়ি থেকে ফিরে আসার পর তানজিলা বাবার বাড়িতে অবস্থান করেন। এরপর তিনি বাড়ি থেকে বের হয়ে যান এবং গত মে মাসে পরিবারের সঙ্গে যোগাযোগ করে জানান, রংপুরে একটি বেসরকারি সংস্থায় কাজ করছেন।
স্থানীয় সূত্র জানায়, তিন-চার মাস আগে বগুড়া শহরের শিববাটী এলাকার শেখ আবীদ উল সানির সঙ্গে তানজিলার বিয়ে হয়। তারা মালগ্রাম কলেজপাড়া এলাকার সোহেল আল মাসুদের তিনতলা ভবনের নিচতলায় ভাড়া বাসায় বসবাস করছিলেন। মঙ্গলবার বিকেলে সানি প্রতিবেশীদের জানান, তার স্ত্রী আত্মহত্যা করেছেন এবং তিনি পুলিশকে ডাকবেন। কিন্তু এরপর তিনি বাসা থেকে বের হয়ে যান এবং আর ফিরে আসেননি।
প্রতিবেশীদের সন্দেহ হওয়ায় তারা পুলিশকে বিষয়টি জানায়। এরপর রাত ১০টার দিকে পুলিশ গিয়ে ঝুলন্ত অবস্থায় লাশ উদ্ধার করে।
তানজিলার বোন সাবিনা ইয়াসমিন বাদী হয়ে স্বামী শেখ আবীদ উল সানি ও অজ্ঞাতনামা আরও ২-৩ জনকে আসামি করে বগুড়া সদর থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেছেন। এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, পরকীয়া ও প্রলোভন দেখিয়ে প্রথম স্বামীর সংসার ভেঙ্গে তানজিলাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করে সিলিং ফ্যানের সঙ্গে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে। নিহতের হাঁটু মেঝের সঙ্গে লাগানো ছিল এবং বাঁ হাতের কবজির ওপর রগ কাটা ছিল বলেও উল্লেখ করা হয়।
আরও পড়ুন: সিম খেতে কাজ করতে গিয়ে প্রাণ গেল কিশোর দিনমজুরের
বগুড়া সদর থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) ইব্রাহীম আলী জানান, প্রাথমিকভাবে ঘটনাটি বাহ্যিক দৃষ্টিতে আত্মহত্যা বলে মনে হয় না। লাশের হাত কাটা ছিল এবং ঘরের মেঝেতে রক্তের দাগ পাওয়া গেছে। একটি রক্তমাখা কাঁচিও ঘর থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। লাশটি ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। ময়নাতদন্তের প্রতিবেদন পাওয়ার পর মৃত্যুর সঠিক কারণ নিশ্চিত হওয়া যাবে।
ওসি আরো জানান, উঠতি তদন্তের জন্য বাসার মালিক সোহেল আল মাসুদকে থানায় ডেকে আনা হয়েছিল। জিজ্ঞাসাবাদ শেষে তাকে ছাড় দেওয়া হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িত মূল আসামিকে গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশ অভিযানে রয়েছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন