১১:৫৪ পি.এম
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধের প্রভাবের কারণে দেশে জিনিসপত্রের অস্বাভাবিক মূল্যবৃদ্ধি এবং এর ফলে দেখা দেওয়া চরম অর্থনৈতিক সংকটের বিরুদ্ধে পাকিস্তানের দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর করাচিতে বিক্ষোভ মিছিল করেছেন ওই দেশের শত শত রূপান্তরকামী এবং তাদের সমর্থক। তারা জানিয়েছেন, অনগ্রসর ও চরম আর্থিক ঝুঁকিতে থাকা এই জনগণের ওপর মূল্যস্ফীতি মারাত্মক প্রভাব ফেলেছে।
বুধবার (২৯ জুলাই) ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপির এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, পাকিস্তানে তৃতীয় লিঙ্গের জনগোষ্ঠী আইনি সুরক্ষা পেলেও সামাজিক ও পারিবারিক বৈষম্য এবং অবহেলা আজও কাটেনি। তাঁরা জানিয়েছেন, এমন সামাজিক বঞ্চনার কারণে তারা প্রায়ই চরম অর্থনৈতিক সংকটের সম্মুখীন হন এবং জীবিকা নির্বাহের জন্য অনেকেই ভিক্ষা করার মতো পথ বেছে নিতে বাধ্য হচ্ছেন।
আরও পড়ুন: এই দেশে আমার যতটা অধিকার, আপনাদেরও ততটুকু: প্রধানমন্ত্রী চট্টগ্রামের মণ্ডপে
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে চলমান সংকটে পাকিস্তান গুরুত্বপূর্ণ মধ্যস্থতাকারী দেশের ভূমিকা পালন করছে। তবে, টানা কয়েক মাসের যুদ্ধ এবং বিশ্বজুড়ে জ্বালানি পরিবহনে বাধার কারণে পাকিস্তানে সার্বিক মূল্যস্ফীতি চরম আকার ধারণ করেছে, যা দেশের ভঙ্গুর অর্থনীতি আরও গভীর সংকটে ঠেলে দিয়েছে।
করাচি শহরে বিক্ষোভকারীরা বিভিন্ন ধরনের স্লোগান সহ প্ল্যাকার্ড হাতে নিয়ে মিছিলে অংশগ্রহণ করেন। এসব প্ল্যাকার্ডে “জ্বালানির দাম আকাশছোঁয়া, থালা আমাদের খালি” সহ নানা অন্যান্য দাবির স্লোগান লেখা ছিল। তারা অবিলম্বে দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধি থেকে মুক্তি এবং নিজেদের জন্য নিরাপদ কর্মসংস্থান দাবি করেন।
আইএমএফ থেকে প্রাপ্ত পাকিস্তানের বিলিয়ন ডলারের ঋণ সহায়তার দিকে ইঙ্গিত করে একজন প্রতিবাদকারীর প্ল্যাকার্ডে লেখা ছিল, “আমরা রাজপথে ভিক্ষা করি, আর তোমরা ভিক্ষা করো আইএমএফের কাছে।”
বিক্ষোভের আয়োজকরা জানিয়েছেন, সাম্প্রতিক সময়ে বাসা ভাড়া, জ্বালানি এবং দৈনন্দিন খাদ্যপণ্য খরচে বড় ধরনের উল্লম্ফন ঘটেছে। এর ফলে, স্বল্প বাজেটে তাদের সংসার চালানো অসম্ভব হয়ে পড়েছে। তারা সরকারের কাছে অনগ্রসর এই জনগোষ্ঠীর সুরক্ষায় বিশেষ নজর দেওয়ার আহ্বান জানান।
আরও পড়ুন: কম্বোডিয়ার বন্দিদশা থেকে মুক্ত ৩০ বাংলাদেশি দেশে ফিরেছে
পাকিস্তানের পরিসংখ্যান সংস্থা জানিয়েছে, গত জুন মাসে ভোক্তা মূল্যসূচক আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় ১১.১ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে।
বিক্ষোভে অংশগ্রহণকারী রূপান্তরকামী মানবাধিকারকর্মী শাহজাদী রাই ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, খাজা সিরা সম্প্রদায়ের অনেকেই কাজ জোগাড় করতে চরম হিমশিম খাচ্ছেন, যা দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির ধাক্কাকে আরও অসহনীয় করে তুলেছে।
তিনি আরও বলেন, পাকিস্তানে যেখানে সাধারণ মানুষের জন্য টিকে থাকা অত্যন্ত কঠিন, সেখানে রূপান্তরকামী সম্প্রদায়ের জন্য পরিস্থিতি সত্যিই অতিমাত্রায় ভয়ানক।
আরও পড়ুন: সুদানে ড্রোন হামলায় ২ শতাধিক প্রাণহানি
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
সর্বশেষ খবর পেতে Google News ফিডটি অনুসরণ করুন