প্রধান কার্যালয়: ৫৮/১- পুরানা পল্টন (২য় তলা), ঢাকা-১০০০।
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকার কর্তৃক অনুমোদিত। রেজি:- নং-সি-১৯৬৯৯৯/২০২৪
ফোন: ০২২২-৪৪৫৮৫৪৭
ই-মেইল- [email protected]
মিয়ানমারে অনলাইন প্রতারণা বা সাইবার স্ক্যাম সেন্টারে মানুষের অপহরণ, আটকে রাখা অথবা নির্যাতনের মাধ্যমে কাজে বাধ্য করার ঘটনায় মৃত্যুদণ্ডের বিধান রেখে একটি নতুন আইন পাস করা হয়েছে, যা দেশের সামরিক-সমর্থিত পার্লামেন্টের দ্বারা অনুমোদিত। এই আইনটি দেশটিতে দ্রুত বিস্তৃত হওয়া অনলাইন প্রতারণা চক্রের বিরুদ্ধে অভিযান জোরদারের অংশ হিসেবে তৈরি করা হয়েছে।
আজ বুধবার (২৯ জুলাই) যুক্তরাজ্যভিত্তিক দ্য ইনডিপেনডেন্ট জানিয়েছে, পার্লামেন্টের উভয় কক্ষে সংশোধনীর অনুমোদনের পর ‘অ্যান্টি-অনলাইন স্ক্যাম বিল’ পাস হয়। ইউনিয়ন পার্লামেন্টের স্পিকার অং লিন ডুয়ে রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে এক সরাসরি সম্প্রচারিত বক্তব্যে আইনটির পাস হওয়ার তথ্য জানিয়েছেন।
নতুন আইনে বলা হয়েছে, সাইবার প্রতারণার সাথে জড়িত কোনো ব্যক্তি যদি কাউকে সহিংসতা, নির্যাতন বা বেআইনি আটকের মাধ্যমে স্ক্যাম সেন্টারে কাজ করতে বাধ্য করেন, তাহলে তার ১০ বছর থেকে যাবজ্জীবন পর্যন্ত কারাদণ্ড দেওয়া হতে পারে। এছাড়া, এই ধরনের নির্যাতনের ফলে যদি কোনো ভুক্তভোগীর মৃত্যু ঘটে, তাহলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির জন্য মৃত্যুদণ্ডের বিধান রয়েছে। অভ্যুত্থানের পর ক্ষমতাসীন সামরিক সরকারের প্রধান মিন অং হ্লাইং এই আইনটির খসড়ায় গত মে মাসে অনুমোদন করেন।
কোভিড-১৯ মহামারির পর দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়াজুড়ে অনলাইন প্রতারণা কেন্দ্র দ্রুত বিস্তৃত হয়। মিয়ানমার, কম্বোডিয়া ও লাওস আন্তর্জাতিক অপরাধী চক্রগুলোর জন্য গুরুত্বপূর্ণ ঘাঁটি হয়ে উঠেছে। এই কেন্দ্রগুলো থেকে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মানুষের সঙ্গে প্রতারণা করা হয় এবং অনেককে পাচার বা জোরপূর্বক আটকে কাজ করানো হয়।
মিয়ানমারের নতুন সরকারের অধীনে পাস হওয়া এটিই প্রথম আইন। পর্যবেক্ষকদের মতে, এর মাধ্যমে সামরিক সরকার একদিকে আন্তসীমান্ত অপরাধ দমনে নিজেদের ভূমিকা তুলে ধরতে চাইছে, অপরদিকে অভ্যুত্থানের পর আন্তর্জাতিকভাবে বিচ্ছিন্ন অবস্থা থেকে বেরিয়ে আসার চেষ্টা করছে। তবে দেশটির একটি বড় অংশ সামরিক বাহিনীর নিয়ন্ত্রণের বাইরে থাকায় আইনটির বাস্তব প্রয়োগ নিয়ে সন্দেহ রয়েছে।
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, জুনের শেষ নাগাদ অবৈধভাবে মিয়ানমারে প্রবেশ করা ১৪ হাজার ৭১৮ বিদেশি নাগরিককে আটক করা হয়েছিল। পাশাপাশি শ্বে কোক্কো ও কে কে পার্কসহ গুরুত্বপূর্ণ সীমান্ত এলাকায় অবৈধ জুয়া ও অনলাইন প্রতারণার সাথে যুক্ত ৭৭টি ভবন গুঁড়িয়ে দেওয়ার দাবি তাদের হয়েছে।
জাতিসংঘের হিসাব অনুযায়ী, ২০২৫ সালে পূর্ব ও দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া, অস্ট্রেলিয়া ও নিউজিল্যান্ডে স্ক্যাম-সংক্রান্ত আর্থিক ক্ষতির পরিমাণ ৮৮.৩ বিলিয়ন থেকে ১১৪.১ বিলিয়ন ডলারের মধ্যে ছিল। একই বছরে শুধু যুক্তরাষ্ট্রে প্রতারণায় ভুক্তভোগীরা প্রায় ২১ বিলিয়ন ডলার হারিয়েছেন।
জাতিসংঘের মাদক ও অপরাধবিষয়ক দপ্তরের কর্মকর্তাদের মতে, কম্বোডিয়া, লাওস, মিয়ানমার ও থাইল্যান্ডের সীমান্তবর্তী মেকং অঞ্চল বর্তমানে বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ অনলাইন প্রতারণা ও অবৈধ অনলাইন জুয়ার কেন্দ্র। অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালও সতর্ক করেছে যে, এসব সাইবার স্ক্যাম কম্পাউন্ড থেকে পালিয়ে আসা এবং পরে রাস্তায় পরিত্যক্ত হওয়া মানুষের সংখ্যা বাড়ছে, যা এখন একটি আন্তর্জাতিক সংকটের রূপ ধারণ করেছে।
নিউজের সত্যতা যাচাইয়ের জন্য স্ক্যান করুন