মঙ্গলবার, ২৯শে সেপ্টেম্বর, ২০২৬ ইং
১২:১০ পি.এম
সৌদি আরবের পবিত্র মসজিদুল হারামের ধর্মবিষয়ক দপ্তরের উপপ্রধান পদে নিয়োগ পেয়েছেন ড. ফরিদ বিন আলী আল-গামদি। একই সঙ্গে, ধর্মবিষয়ক দপ্তরের কার্যক্রম উন্নয়ন ও বিকাশের দায়িত্বে তাকে তত্ত্বাবধায়ক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।
মক্কার পবিত্র মসজিদুল হারাম ও মদিনার পবিত্র মসজিদে নববীর ধর্মবিষয়ক প্রধান শায়খ ড. আবদুর রহমান বিন আবদুল আজিজ আস-সুদাইস সোমবার (২৯ সেপ্টেম্বর) তাকে এ পদে নিয়োগ দেন।
নিয়োগের মাধ্যমে দপ্তরের প্রাতিষ্ঠানিক কার্যক্রমকে আরো শক্তিশালী করার, নেতৃত্ব ও একাডেমিক দক্ষতাসম্পন্ন ব্যক্তিদের কাজে যুক্ত করার এবং কর্মদক্ষতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে কাজ করা হবে। এর ফলে মসজিদুল হারামে আগত মুসল্লি ও দর্শনার্থীদের জন্য ধর্মীয় সেবা উন্নত করার পাশাপাশি সেবার মান বৃদ্ধির প্রত্যাশা করা হচ্ছে।
অধ্যাপক ফরিদ আলী আল-গামদি সৌদি আরবের উম্মুল কুরা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও প্রশাসক। তিনি পূর্বে উম্মুল কুরা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত উপাচার্যের দায়িত্বও পালন করেছেন। প্রাতিষ্ঠানিক উন্নয়ন, কর্মদক্ষতা বৃদ্ধি ও কমিউনিটি সার্ভিসের বিভিন্ন ক্ষেত্রে তার একাডেমিক ও প্রশাসনিক অবদান রয়েছে।
নতুন দায়িত্ব পাওয়ায় ড. ফরিদ আল-গামদিকে অভিনন্দন জানিয়েছেন শায়খ ড. আবদুর রহমান আস-সুদাইস। তিনি ড. ফরিদকে নতুন দায়িত্বে সাফল্য ও কল্যাণ কামনা করেন এবং তার অভিজ্ঞতার মাধ্যমে ধর্মবিষয়ক দপ্তরের কার্যক্রম আরো উন্নত হবে বলে আশা প্রকাশ করেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
রাশিয়ার ইয়ারোস্লাভল অঞ্চলের একটি আতশবাজি কারখানায় ভয়াবহ আগুনের ঘটনায় অন্তত ১৪ জনের মৃত্যু হয়েছে। সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) এই দুর্ঘটনা ঘটে বলে জানা গেছে, যা দেশটির রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা তাসের মাধ্যমে জরুরি পরিষেবা সংস্থার সূত্রে নিশ্চিত করা হয়েছে।
রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, পেরেস্লাভল-জালেস্কি শহরের নিকটবর্তী কুব্রিনস্ক গ্রামের দুটি ভবনে আগুন ছড়িয়ে পড়ে। আহত একজনকে গুরুতর অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসা প্রদান করা হচ্ছে। ইয়ারোস্লাভল অঞ্চলের গভর্নর মিখাইল এভরায়েভ টেলিগ্রামে জানিয়েছেন, এখন পর্যন্ত ১৪ জনের মৃত্যুর বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত হয়েছে এবং দুর্ঘটনাস্থলে উদ্ধার অভিযান চলছে। সেখানে প্রায় ২০০ জন জরুরি কর্মী কাজ করছে।
ফায়ার সার্ভিস নিশ্চিত করেছে যে আগুন পুরোপুরি নিভিয়ে ফেলা সম্ভব হয়েছে। তবে শিল্প নিরাপত্তাবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে রুশ কর্তৃপক্ষ ইতিমধ্যে একটি ফৌজদারি মামলা দায়ের করে তদন্ত শুরু করেছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
বগুড়া, ২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬ : জেলা গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ স্বেচ্ছাসেবক লীগের বগুড়া জেলা সভাপতি সাজেদুর রহমান সাহিনসহ ৪ জন নেতাকে গ্রেপ্তার করেছে, যারা কার্যক্রম নিষিদ্ধ সংগঠনের সদস্য।
গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে রয়েছেন সাজেদুর রহমান সাহিন, যিনি খরনা ইউনিয়নের সাবেক চেয়ারম্যান এবং ৫২ বছর বয়সী। এছাড়াও, জেলা স্বেচ্ছাসেবক লীগের সিনিয়র সহ সভাপতি সৈয়দ আবু জাফর সিদ্দিক রিপন (৬০), শহর স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক সাব্বির হোসেন নির্জন ওরফে ভাদু (২৯) এবং স্বেচ্ছাসেবক লীগের কর্মী ফেরদৌস হোসেন (২৬) অন্তর্ভুক্ত।
গ্রেপ্তার হওয়া সাজেদুর রহমান সাহিনের বিরুদ্ধে ১৫টির বেশি মামলা রয়েছে। সাব্বির হোসেন নির্জনের বিরুদ্ধে ১০টির বেশি মামলা রয়েছে। ফেরদৌস হোসেনের বিরুদ্ধে দু’টির বেশি মামলা রয়েছে, এমন তথ্য জানিয়েছে পুলিশ।
বগুড়া জেলা ডিবি পুলিশের অফিসার ইনচার্জ (ওসি) ইকবাল বাহার বাসস’কে জানান, গ্রেপ্তারকৃত ৪ জন দীর্ঘদিন ধরে আত্মগোপনে ছিলেন। গোপন তথ্যের ভিত্তিতে তাদের অবস্থান চিহ্নিত করে চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার সদর থানা এলাকায় অভিযান পরিচালনা করা হয়। সোমবার রাত আনুমানিক ১০টার দিকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়।
ডিবির ওসি আরও বলেন, গ্রেপ্তারদের বিরুদ্ধে থাকা মামলাগুলো যাচাই-বাছাই করে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
তাইওয়ান, যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে অস্ত্র ও সামরিক সরঞ্জাম কেনার বিষয়ে নিয়মিত আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছে। সম্প্রতি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং চীনা প্রেসিডেন্ট শি চিনপিংয়ের বৈঠক অনুষ্ঠিত হওয়ার পরেও তাইওয়ান নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের নীতিতে কোনো পরিবর্তন হয়নি বলে আশ্বস্ত করেছে তাইপে। মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) এই তথ্য জানিয়েছেন তাইওয়ানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ওয়েলিংটন কু।
কু জানান, চীনের চাপ সত্ত্বেও তাইওয়ানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্রের নীতিতে কোনো পরিবর্তনের ইঙ্গিত পাওয়া যায়নি। রয়টার্সের প্রতিবেদনের ভিত্তিতে, অস্ত্র কেনার বিভিন্ন বিষয় নিয়ে দুই দেশের মধ্যে নিয়মিত সমন্বয় ও যোগাযোগ অব্যাহত রয়েছে। যদিও আনুষ্ঠানিক কূটনৈতিক সম্পর্ক নেই, তবুও যুক্তরাষ্ট্র তাইওয়ানের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ আন্তর্জাতিক সমর্থক এবং প্রধান অস্ত্র সরবরাহকারী হিসেবে পরিচিত।
তবে, যুক্তরাষ্ট্রের কাছ থেকে পূর্বে অর্ডার করা কিছু সামরিক সরঞ্জামের সরবরাহে বিলম্ব ঘটছে। এর মধ্যে রয়েছে ২০১৯ সালে অর্ডার করা লকহিড মার্টিনের ৬৬টি উন্নত এফ-১৬ভি যুদ্ধবিমান। উৎপাদন ও সরবরাহের বিভিন্ন কারণে এসব যুদ্ধবিমানের সরবরাহ নির্ধারিত সময়ের চেয়ে পিছিয়ে গেছে। তাইওয়ানের গণমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, প্রথম দুটি এফ-১৬ভি যুদ্ধবিমান বর্তমানে হাওয়াইয়ে অবস্থান করছে। পূর্বে সেগুলো তাইওয়ানের উদ্দেশে যাত্রা করলেও পরে হাওয়াইয়ে ফিরে এসেছে। ফলে সরবরাহের সময়সূচি নিয়ে অনিশ্চয়তা সৃষ্টি হয়েছে।
প্রতিরক্ষামন্ত্রী কু জানিয়েছেন, সরবরাহে বিলম্বের কারণে প্রয়োজনীয় ক্ষতিপূরণমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে এবং দ্রুত অস্ত্র ও সামরিক সরঞ্জাম সরবরাহ নিশ্চিত করতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যোগাযোগ অব্যাহত থাকবে।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ
মিয়ানমারে বিদ্রোহী নিয়ন্ত্রিত অঞ্চলে জান্তা সরকারের বিমান হামলায় অন্তত ৩৩ জনের মৃত্যু হয়েছে। এ হামলায় আহত হয়েছে আরও ৩৬ জন। সেনাবাহিনী সোমবার দেশটির পশ্চিমাঞ্চলীয় রাখাইন রাজ্যের উত্তরাঞ্চলে একটি জনবহুল বাজার এলাকায় এই ভয়াবহ বিমান হামলা চালায়। খবরটি আলজাজিরা প্রকাশ করেছে।
বার্তা সংস্থা এপি জানিয়েছে, আন্তর্জাতিক উদ্ধারকারী দল ও স্থানীয় বিদ্রোহী গোষ্ঠীর সূত্রে এ তথ্য পাওয়া গেছে। ২০২১ সালে সামরিক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে অং সান সু চির নির্বাচিত সরকারকে উৎখাত করার পর থেকে জাতিগত বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলোর বিরুদ্ধে ধারাবাহিক হামলার অংশ হিসেবে এই অভিযান পরিচালিত হয়েছে।
আরাকান আর্মি (এএ) জানিয়েছে, সোমবার স্থানীয় সময় দুপুর ১২টার দিকে কিয়াকতাও শহরের একটি স্থানীয় পাইকারি বাজারের কাছে জান্তার একটি যুদ্ধবিমান থেকে দুটি বোমা ফেলা হয়। মুহূর্তের মধ্যে বিকট শব্দে কেঁপে ওঠে পুরো এলাকা। হামলায় অন্তত ৩৩ জন নিহত হয়, যারা বাজারে আসা ক্রেতা, খুচরা বিক্রেতা ও পথচারী ছিলেন। সংগঠনটি আশঙ্কা প্রকাশ করেছে যে, হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।
রাখাইনের বেসামরিক প্রতিরক্ষা ও উদ্ধারকারী বাহিনীর জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা ওয়াই হুন অং এপির কাছে এই ভয়াবহতার চিত্র নিশ্চিত করে বলেন, ‘হামলার শিকার বাজারটি এই অঞ্চলের প্রধান পাইকারি কেন্দ্র ছিল, যেখানে রাজ্যজুড়ে ব্যবসায়ী ও ক্রেতাদের উপচে পড়া ভিড় থাকত। রাখাইনে সাম্প্রতিক সময়ে দেখা সবচেয়ে ভয়াবহ বিমান হামলাগুলোর মধ্যে এটি অন্যতম।’ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ছবি ও ভিডিওতে দেখা গেছে, বেশ কয়েকটি ভবনে আগুন জ্বলছে, বহু যানবাহন দুমড়ে-মুচড়ে গেছে এবং নিকটস্থ ব্রিজের কিছু অংশ ধ্বংস হয়ে গেছে।
যেমনটি পূর্বে দেখা গেছে, সামরিক জান্তা সরকার এই বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি। অতীতে এ ধরনের হামলার জবাবে জান্তা দাবি করে আসছিল যে তারা কেবল বৈধ ‘সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে’ আঘাত হানে এবং বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলোকে ‘সন্ত্রাসবাদী’ হিসেবে আখ্যা দেয়।
২০২১ সালে সু চির গণতান্ত্রিক সরকার পতনের পর থেকে মিয়ানমারজুড়ে গৃহযুদ্ধ অব্যাহত রয়েছে। পাঁচ বছর সেন শাসনের পর চলতি বছরের এপ্রিলে সামরিক সমর্থিত সংসদের মাধ্যমে নিজেকে পুনরায় প্রেসিডেন্ট ঘোষণা করে নিজের ক্ষমতা সুসংহত করেন সামরিক প্রধান মিন অং হ্লাইং।
অন্যদিকে, রাখাইন রাজ্যের জাতিগত সংখ্যালঘু জনগণের স্বায়ত্তশাসনের দাবিতে লড়াই চালিয়ে যাওয়া আরাকান আর্মি (এএ) ২০২৩ সালের নভেম্বর থেকে ব্যাপক আক্রমণ শুরু করে। তারা ইতোমধ্যে রাখাইনের ১৭টি শহরের মধ্যে ১৪টি এবং একাধিক গুরুত্বপূর্ণ সামরিক সদর দফতর দখল করে নিয়েছে। এর প্রতিশোধ হিসেবে সেনাবাহিনী সেখানে কঠোর অবরোধ আরোপ করায় খাদ্য সংকট চরম আকার ধারণ করেছে।
জাতিসংঘের তথ্যমতে, এই সংঘাতের ফলে রাখাইনেই গৃহহীন হয়ে পড়েছেন প্রায় পাঁচ লাখ মানুষ। আগস্টে জাতিসংঘের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, মিয়ানমারে মানবাধিকার পরিস্থিতির চরম অবনতি হয়েছে। এসিএলইডি-এর তথ্য অনুযায়ী, এই গৃহযুদ্ধে এ পর্যন্ত ১ লাখেরও বেশি মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন।
তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ