ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২২শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ০৬ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১১ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
বৃহস্পতিবার, ২২শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ০৬ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

নিষেধাজ্ঞার মধ্যেই গলাচিপায় ফোনে মিলছে ইলিশ, প্রশাসনের অভিযান চলছে


নিষেধাজ্ঞার মধ্যেই গলাচিপায় ফোনে মিলছে ইলিশ, প্রশাসনের অভিযান চলছে

রবিবার সকালে। ছদ্মবেশে ইলিশের ক্রেতা সেজে পটুয়াখালীর গলাচিপার চরবিশ্বাস ইউনিয়নের জেলে মন্নানের কাছে ফোন করা হয়। ইলিশের চাহিদা জানালে প্রথমে তিনি নাম ও পরিচয় জানতে চান। পরে, তিনি আসল ক্রেতা ভেবে ওই দিন দুপুর ২টার দিকে স্থানীয় চরআগস্তি বাজারে অপেক্ষা করতে বলেন।

একইভাবে, চরবিশ্বাস এলাকার বাসিন্দা মিজানের কাছে ফোন দিলে, তিনি সঠিক ক্রেতা কি না তা নিশ্চিত হওয়ার জন্য কয়েক দফায় প্রশ্ন করেন। এরপর তিনি ইলিশের বিভিন্ন গ্রেডের দাম জানান। সে অনুযায়ী, এক কেজি ওজনের একটি ইলিশের দাম দেড় হাজার টাকা, এক কেজির নিচের ইলিশ ৫০০ থেকে ৬০০ টাকা। এরপর, ছোট মাছ বিক্রি করা হয় ৪০০ টাকা কেজি দরে। তবে, তিনি চাইলেই এসব মাছ সরাসরি হাতে দিতে অস্বীকার করেন। মিজান জানান, চরকাজল এলাকায় অবস্থিত তার ওয়ার্কশপে টাকা রেখে গেলে সেখানেই পৌঁছে দেওয়া হবে চাহিদা মতো ইলিশ।

শনিবার (১৭ অক্টোবর) ও রবিবার সরেজমিন গিয়ে জানা যায়, প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে উপজেলার অন্তত ১৮টি স্থানে ইলিশ বেচাকেনা চলছে। এ কাজে নিয়োজিত রয়েছে দালাল ও ব্যবসায়ী।

আরও পড়ুন: ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় মাজারের দানবাক্স ভেঙে টাকা ও মালামাল চুরি, ক্ষতি ১ লাখ ৪৫ হাজার টাকা

গলাচিপার চরকাজল ইউনিয়নের লঞ্চঘাট, চরশিবা লঞ্চঘাট, বড় শিবা; চরবিশ্বাস ইউনিয়নের চর আগস্তি, জিমতলা, নোমোর স্লুইসগেট, আমড়াগাছিয়া, চরবাংলা খেয়াঘাট, চরবাংলা; রতনদী তালতলী ইউনিয়নের বন্যাতলী, পাতাবুনিয়া স্লুইস গেট; সদর ইউনিয়নের চরকারফারমা, পানপট্টি লঞ্চঘাট, বোয়ালিয়া স্লুইস গেট, পক্ষিয়া স্লুইস গেট, লঞ্চঘাট, লোন্দা স্লুইস গেট, গলাচিপা-পাটুয়া খেয়াঘাটসহ বিভিন্ন স্থানে এলাকার প্রভাবশালীদের পরিচালনায় ইলিশ ধরা ও বিক্রি করা হচ্ছে।

নিষেধাজ্ঞার মধ্যেও এসব জায়গায় ফোন করলেই পাওয়া যাচ্ছে ইলিশ মাছ। তবে, তার আগে গ্রাহকের নাম-ঠিকানা নিশ্চিত হয়েই ইলিশ মাছ দেওয়া হচ্ছে। এলাকার একটি প্রভাবশালী চক্রের ছত্রচ্ছায়ায় সরকারি নিষেধাজ্ঞার মধ্যেও চলছে ইলিশ শিকার।

স্থানীয়রা বলছেন, গলাচিপার প্রত্যন্ত এলাকায় অনেকটা প্রকাশ্যেই ইলিশ বেচাকেনা চলছে। মা ইলিশ সংরক্ষণে সরকারি নিষেধাজ্ঞার মধ্যে নদী ও সাগরে মাছ শিকার করা হচ্ছে। প্রশাসন অভিযান চালালেও স্থানীয় জেলেদের প্রতিরোধের মুখে পড়তে হচ্ছে ভ্রাম্যমাণ আদালতকে।

গলাচিপা মৎস্য অফিস সূত্রে জানা গেছে, গত ১১ দিনে গলাচিপায় ৩৪টি অভিযান পরিচালনা করে ২৮৫ মেট্রিক টন ইলিশ জব্দ করেন ভ্রাম্যমাণ আদালত। এ সময় এক লাখ ৫৭৫ মেট্রিক টন জাল জব্দ করা হয়, যার বাজারমূল্য ২৩ লাখ ৬২০ টাকা এবং ১২টি মামলায় ছয়জন জেলেকে সাজা ও ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়।

আরও পড়ুন: সন্দ্বীপে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সদস্য (রুকন) সম্মেলন অনুষ্ঠিত

স্থানীয় সূত্রগুলো বলছে, মোবাইল ফোনে কল দিলে ইলিশ মিলবে ঠিকই, কিন্তু কোনো অপরিচিত ব্যক্তির কাছে মাছ বিক্রি করা হয় না। জেলেদের মধ্যে নির্দিষ্ট ব্যক্তিরা সব বেচাকেনা নিয়ন্ত্রণ করেন। নির্ধারিত ব্যক্তিকে ফোনে অর্ডার দিলেই ব্যাগে করে পৌঁছে যায় ইলিশ মাছ।

অভিযোগ রয়েছে, চরবিশ্বাসের প্রত্যন্ত এলাকা নোমোর স্লুইস এলাকায় অভিযান চলাকালে উল্টো প্রশাসনের ট্রলারকে ধাওয়া দেন সেখানকার জেলেরা। একদিকে অভিযান চলে, অন্যদিকে ইলিশ শিকার করেন তারা। দেদারসে শিকার ও বিক্রি করা হয় স্থানীয় প্রভাবশালীদের যোগসাজশে।

স্থানীয় সূত্র অনুযায়ী, গলাচিপা পৌর এলাকাসংলগ্ন রামনাবাদ নদী, চিকনিকান্দির দয়াময়ী মন্দিরসংলগ্ন তেঁতুলিয়া পয়েন্ট, বন্যাতলীর তেঁতুলিয়া পয়েন্ট, পানপট্টি লঞ্চঘাট এলাকার আগুনমুখার মোহনায় জেলেরা প্রশাসনের নজর এড়াতে রাতের আঁধারে জাল ফেলছে। প্রশাসনের ট্রলার দেখামাত্রই তারা দ্রুত বন বিভাগের সংরক্ষিত বনে গাঢাকা দেন।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দা বলেন, অবৈধভাবে ইলিশ শিকার ও বিক্রির সঙ্গে জড়িতরা প্রভাবশালী হওয়ায় তাদের বিরুদ্ধে কেউ কথা বলতে সাহস পান না। এমনকি ইলিশ শিকারের পর নৌকা বা মাছের কাছে মোবাইল ফোন নিয়েও যাওয়া নিষেধ রয়েছে।

আরও পড়ুন: ৮ বছর ধরে বিদ্যুৎ খুঁটি-মিটার থাকলেও সুবর্ণচরের মোহাম্মদপুরে নেই বিদ্যুৎ

গলাচিপা উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা ভিক্টর বাইন বলেন, ‘আমরা মৎস্য অফিস ও সরকার ঘোষিত বিভিন্ন বিভাগের সমন্বয়ে যৌথ অভিযান অব্যাহত রেখেছি। প্রতিদিনই একাধিক অভিযান চলছে। দুর্গম ও প্রত্যন্ত এলাকা হওয়ায় অনেক সময় সব জায়গায় দ্রুত পৌঁছানো সম্ভব না হলেও সেখানে অভিযান চালানো হয়।

অভিযান পরিচালনাকারীদের ওপর জেলেদের হামলার বিষয়ে জানতে চাইলে মৎস্য কর্মকর্তা বলেন, ‘চরবিশ্বাস নোমোর স্লুইস এলাকা এমনিতেই দুর্গম। সেখানে আমাদের অভিযান চলাকালে ওই এলাকার সংঘবদ্ধ একটি চক্র আমাদের ওপর হামলার চেষ্টা করে। পরে অবশ্য পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা হয়।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ফ্রান্সের দাঙ্গায় ম্যাক্রোঁর পদত্যাগ দাবি করেছেন বারদেলা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

সোমবার, ১৯ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১২:২১ পি.এম


ফ্রান্সের দাঙ্গায় ম্যাক্রোঁর পদত্যাগ দাবি করেছেন বারদেলা

ফ্রান্সে চলমান সহিংসতা ও দাঙ্গার পরিস্থিতির মধ্যে প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁর পদত্যাগের দাবি তুলেছেন ন্যাশনাল র‍্যালি পার্টির নেতা জর্দান বারদেলা। তিনি দেশের বর্তমান অবস্থাকে ফ্রান্সের জন্য ‘অপমান’ হিসেবে চিহ্নিত করেছেন।

বারদেলা রোববার (১৮ অক্টোবর) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি পোস্টে উল্লেখ করেন, ‘আজ সন্ধ্যায় আমি আশা করছি, ম্যাক্রোঁ ক্ষমা চাইবেন এবং চলে যাবেন।’

তিনি বলেন, কয়েক দশকের উদাসীনতা, সরকারের কর্তৃত্ব হারানো এবং দেশের অভ্যন্তরীণ নিরাপত্তা বাহিনীর মনোবল ও সক্ষমতা দুর্বল হয়ে পড়ার ফলস্বরূপ এখন ফ্রান্সকে এই পরিস্থিতির শিকার হতে হচ্ছে। পরিস্থিতি থেকে উত্তরণের জন্য দেশটির জেগে ওঠা এবং সঠিক রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত নেওয়া অত্যন্ত জরুরি বলেও তিনি মন্তব্য করেন।

গত ১৭ অক্টোবর, জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি ও মানুষের ক্রয়ক্ষমতা হ্রাসের প্রতিবাদে ফ্রান্সজুড়ে ব্যাপক বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়। আয়োজকদের দাবি, এই বিক্ষোভে প্রায় আট লাখ মানুষ অংশগ্রহণ করে। তবে দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের হিসাব অনুযায়ী, বিক্ষোভকারীর সংখ্যা ছিল পাঁচ লাখ ৫০ হাজার।

বিভিন্ন শহরে এই বিক্ষোভ একপর্যায়ে দাঙ্গা ও পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে পরিণত হয়। ফ্রান্সের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরাঁ নুনেজ জানিয়েছেন, দেশজুড়ে দুই হাজারের বেশি বিক্ষোভকারীকে আটক করা হয়েছে। তিনি আরও জানান, লুটপাটে জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে অভিযান অব্যাহত থাকবে। তথ্যসূত্র: তাস

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

লক্ষ্মীপুরে একের পর এক দুর্নীতির অভিযোগে ৫ নির্বাহী প্রকৌশলীর বিদায়

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

সোমবার, ১৯ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১২:২১ পি.এম


লক্ষ্মীপুরে একের পর এক দুর্নীতির অভিযোগে ৫ নির্বাহী প্রকৌশলীর বিদায়

লক্ষ্মীপুরে সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পের অনিয়ম, দুর্নীতি ও দরপত্র নিয়ে বিতর্কের মধ্যে গত এক মাসের মধ্যে পাঁচটি গুরুত্বপূর্ণ সরকারি দপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলীকে দায়িত্ব থেকে সরানো হয়েছে। তাদের মধ্যে কেউ ঘুস দাবির অভিযোগে অভিযুক্ত, আবার কেউ প্রকল্পে অনিয়ম ও নিম্নমানের কাজের জন্য অভিযুক্ত হয়েছেন। কিছু কর্মকর্তাকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে, কিছুকে স্ট্যান্ড রিলিজ করা হয়েছে এবং কিছু কর্মকর্তাকে বদলি করা হয়েছে। একের পর এক কর্মকর্তার বিদায়ে জেলার উন্নয়ন কার্যক্রমের তদারকি ও বাস্তবায়ন নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।

জেলায় বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (পিডিবি), পৌরসভা, জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর, পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) এবং শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের (ইইডি) কর্মকর্তাদের ঘিরে এসব ঘটনা ঘটেছে। স্থানীয় সচেতন নাগরিকেরা অভিযোগ করেছেন যে, সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে পূর্ণাঙ্গ তদন্ত ও প্রকল্পগুলোর নিরপেক্ষ নিরীক্ষার প্রয়োজন।

বরখাস্ত পিডিবির প্রকৌশলী

লক্ষ্মীপুর বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) বিক্রয় ও বিতরণ বিভাগের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. নুরুল আমিনকে ঘিরে সবচেয়ে বেশি আলোচনা তৈরি হয় একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়ার পর, যেখানে তার ঘুস দাবির অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ করা হয়েছে যে, তিনি বকেয়া বিল ও মালামালসংক্রান্ত ফাইল অনুমোদনের বিনিময়ে এক ঠিকাদারের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের ঘুস দাবি করেন। সামাজিক মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে তাকে ‘২ কোটি টাকার নিচে নেব না’ বলতে শোনা যায়।

ভিডিওটি ছড়িয়ে পড়ার পর সমালোচনার মুখে গত ২৮ সেপ্টেম্বর তাকে সাময়িক বরখাস্ত করে পিডিবি। ঘটনার তদন্তের জন্য উচ্চপর্যায়ের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে।

পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী

লক্ষ্মীপুর পৌরসভায় ৭ কোটি ৩৭ লাখ টাকা ব্যয়ে সড়ক সংস্কার ও ড্রেন নির্মাণের কাজে নিম্নমানের নির্মাণসামগ্রী ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে। এ নিয়ে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে ক্ষোভ দেখা দেয়। সরকারি অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ অনুসন্ধানের অংশ হিসেবে পৌরসভার নির্বাহী প্রকৌশলী মো. জুলফিকার হোসেনকে তলব করে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। এরপর তাকে জরুরি ভিত্তিতে খাগড়াছড়িতে স্ট্যান্ড রিলিজ করা হয়েছে।

জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর

জেলার জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের বিদায়ী নির্বাহী প্রকৌশলী বিলকিস আক্তারের বিরুদ্ধে বিনামূল্যে ৯ হাজার ৩৮৯টি টুইন-পিট ল্যাট্রিন বিতরণ এবং ৫৬ কোটি টাকার পানি, স্যানিটেশন ও স্বাস্থ্যবিধিবিষয়ক (ওয়াশ) প্রকল্পে অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে।

এ ছাড়া জেলার বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ৮-৯ কোটি টাকা ব্যয়ে ওয়াশব্লক নির্মাণেও অনিয়ম ও তদারকির ঘাটতির অভিযোগ রয়েছে। এর আগে গাজীপুরে দায়িত্ব পালনকালে তার বিরুদ্ধে একই ধরনের অভিযোগ উঠেছিল। এসব অভিযোগের কারণে তাকেও লক্ষ্মীপুর থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে।

বাঁধ প্রকল্পে দুর্নীতি

মেঘনা নদীর ভাঙন থেকে কমলনগর ও রামগতি উপজেলাকে রক্ষায় তীর সংরক্ষণ ও বেড়িবাঁধ নির্মাণের ৩ হাজার ১০০ কোটি টাকার প্রকল্পের কাজের গতি ও মান নিয়ে শুরু থেকেই অসন্তোষ ছিল। কাঙ্ক্ষিত অগ্রগতি না হওয়ায় ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশে পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী নাহিদ উজ্জামান খানকে বদলি করা হয়েছে।

নতুন নির্বাহী প্রকৌশলী মো. আনিস হায়দার খান দায়িত্ব নেওয়ার এক সপ্তাহের মধ্যেই তাকেও সরিয়ে দেওয়া হয়। বর্তমানে দপ্তরটিতে ভারপ্রাপ্ত হিসেবে মো. নুরুল ইসলাম দায়িত্ব পালন করছেন।

শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তর

সর্বশেষ শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের (ইইডি) নির্বাহী প্রকৌশলী শ্রাবনী চক্রবর্ত্তীর বিরুদ্ধেও অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। অভিযোগ রয়েছে যে, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে জেলার শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ভবন নির্মাণ ও সংস্কারকাজে সরকারি দরপত্রের নিয়ম উপেক্ষা করে সিলড কোটেশনের মাধ্যমে পছন্দের ঠিকাদারদের কাজ দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে।

এ নিয়ে ঠিকাদারদের মধ্যে ক্ষোভ ও প্রশাসনিক জটিলতা তৈরি হয়েছে। পরে তাকে দায়িত্ব থেকে সরিয়ে বদলি করা হয়েছে।

আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি

জেলার উন্নয়নকাজ তদারকির দায়িত্বে থাকা পাঁচ নির্বাহী প্রকৌশলীর বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগের পর একের পর এক তাদের দায়িত্ব থেকে সরিয়ে দেওয়ার ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় সচেতন নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা।

সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন)-এর লক্ষ্মীপুরের সভাপতি মো. কামাল হোসেনসহ স্থানীয় প্রতিনিধিরা মনে করেন, শুধুমাত্র বদলি বা সাময়িক বরখাস্ত করলেই দায়িত্ব শেষ হয় না। অভিযুক্ত কর্মকর্তাদের দায়িত্ব পালনকালে সম্পন্ন হওয়া প্রতিটি প্রকল্পের নিরপেক্ষ ও পূর্ণাঙ্গ নিরীক্ষা প্রয়োজন। তদন্তে অনিয়ম প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নিতে হবে।

তাদের মতে, সরকারি অর্থের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করতে প্রকল্পের ব্যয়, কাজের মান, দরপত্রপ্রক্রিয়া ও বাস্তব অগ্রগতি যাচাই করা জরুরি। তা না হলে কর্মকর্তাদের বদলি হলেও উন্নয়ন প্রকল্পে অনিয়মের ঝুঁকি থেকে যাবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সালমানের ঘনিষ্ঠদের হুঁশিয়ারি, রক্তাক্ত বলিউডের আশঙ্কা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

বিনোদন ডেস্ক

সোমবার, ১৯ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১২:২২ পি.এম


সালমানের ঘনিষ্ঠদের হুঁশিয়ারি, রক্তাক্ত বলিউডের আশঙ্কা

বলিউডের অভিনেতা টাইগার শ্রফের ওপর গুলি চালানোর ঘটনার পর লরেন্স বিষ্ণোই গ্যাং নতুন করে আলোচনায় এসেছে। গ্যাংটির সদস্য পরিচয় দেওয়া দুই ব্যক্তি এই ঘটনার দায় স্বীকার করে সালমান খানের সাথে কাজ করা ব্যক্তিদেরও হুমকি প্রদান করেছে। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, রোববার মুম্বাইয়ের জুহু এলাকায় এই ঘটনা ঘটে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত একটি পোস্টে অনিল পণ্ডিত ও হারমান সান্ধু নামের দুই ব্যক্তি হামলার দায় নিজেদের বলে দাবি করেন। তাঁদের বক্তব্যে উল্লেখ করা হয়েছে, টাইগার শ্রফকে আগে থেকেই ফোন করে সতর্ক করা হয়েছিল। তবে সেই সতর্কবার্তা গুরুত্ব না দেওয়ায় তাঁকে লক্ষ্য করে এই হামলা ঘটানো হয়েছে বলে দাবি করা হয়েছে।

একই পোস্টে হিন্দি চলচ্চিত্রশিল্পের অন্যান্য সদস্যদেরও সতর্ক করে বলা হয়েছে, যারা তাদের নির্দেশ অমান্য করবে কিংবা সালমান খানের সাথে কাজ করবে, তাদেরও একই পরিণতি ভোগ করতে হতে পারে। এমনকি, এ ঘটনার দায় স্বীকার করতে পারে এমন প্রতিদ্বন্দ্বী অপরাধী গোষ্ঠীগুলোকেও হুঁশিয়ারি প্রদান করা হয়েছে।

ঘটনার পর মুম্বাই পুলিশ তদন্তের কাজ জোরদার করেছে। সিসিটিভি ফুটেজ বিশ্লেষণ, সন্দেহভাজনদের শনাক্ত করা এবং হামলার পেছনের কারণ খতিয়ে দেখতে ১২টি বিশেষ দল কাজ করছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া দায় স্বীকারের পোস্টটির সত্যতাও যাচাই করছেন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা।

সালমান খান ও লরেন্স বিষ্ণোইয়ের বিরোধের সূত্রপাত ১৯৯৮ সালে রাজস্থানে কৃষ্ণসার হরিণ শিকারের ঘটনাকে কেন্দ্র করে। বিষ্ণোই সম্প্রদায়ের কাছে এই হরিণ পবিত্র বলে বিবেচিত। পরবর্তী সময়ে সালমানকে প্রকাশ্যে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়। ২০২৪ সালে সালমানের বাসভবন লক্ষ্য করে গুলি এবং তাঁর ঘনিষ্ঠ রাজনীতিবিদ বাবা সিদ্দিকিকে হত্যার মতো ঘটনায় উদ্বেগ আরও বেড়ে যায়।

সালমানের সাথে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের লক্ষ্য করে ধারাবাহিক হুমকির ঘটনায় বলিউডের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন প্রশ্ন উঠেছে। তবে টাইগার শ্রফকে ঘিরে সাম্প্রতিক ঘটনার পূর্ণ বিবরণ এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া হুমকির সত্যতা তদন্তের মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া বাকি।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ঢাকায় ২৪ ঘণ্টার অভিযানে পুলিশের হাতে ৪৮৪ গ্রেপ্তার

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

সোমবার, ১৯ই অক্টোবর, ২০২৬ ইং

১২:২২ পি.এম


ঢাকায় ২৪ ঘণ্টার অভিযানে পুলিশের হাতে ৪৮৪ গ্রেপ্তার

রাজধানীর বিভিন্ন থানা এলাকায় নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ৪৮৪ জনকে গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)। এ সময় ৫৩টি মামলা দায়ের করা হয়েছে।

সোমবার (১৯ অক্টোবর) ডিএমপির মিডিয়া অ্যান্ড পাবলিক রিলেশন্স বিভাগের উপপুলিশ কমিশনার মো. আকতার হোসেন এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য প্রকাশ করেন।

বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয় যে, গ্রেপ্তারকৃতদের মধ্যে মিরপুর বিভাগ থেকে ১৫০ জন, তেজগাঁও বিভাগ থেকে ৭৬ জন, মতিঝিল বিভাগ থেকে ৬৮ জন, ওয়ারী বিভাগ থেকে ৫০ জন, লালবাগ বিভাগ থেকে ৪১ জন, রমনা বিভাগ থেকে ৩৭ জন, উত্তরা বিভাগ থেকে ৩৫ জন, গুলশান বিভাগ থেকে ১৮ জন, গোয়েন্দা বিভাগ থেকে ৭ জন এবং সিটিটিসি বিভাগ থেকে দুই জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

অভিযান চলাকালে গ্রেপ্তারকৃতদের কাছ থেকে ৫৬০ গ্রাম গাঁজা, ৪ হাজার ৩৭৩ পিস ইয়াবা, ৩ গ্রাম হেরোইন, ২০৪ বোতল ফেনসিডিল, নয়টি মোটরসাইকেল, ২৬টি মোবাইল ফোন, ৪০৫টি সিমকার্ড, ১ হাজার ৫০৫ টাকা এবং একটি অটোরিকশা উদ্ধার করা হয়েছে। এ সময় একজন ভুক্তভোগীকেও উদ্ধার করা হয়।

পুলিশ জানায়, গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১১ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৩
জোহর ১১:৪৪
আসর ০৩:৫০
মাগরিব ০৫:২৭
ইশা ০৬:৩৮
সূর্যোদয় : ০৫:৫৯ সূর্যাস্ত : ০৫:২৭
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%