ঢাকা মঙ্গলবার, ২৭শে অক্টোবর, ২০২৬খ্রিষ্টাব্দ ১১ই কার্তিক, ১৪৩৩বঙ্গাব্দ ১৬ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিজরী
মঙ্গলবার, ২৭শে অক্টোবর, ২০২৬ইং ১১ই কার্তিক, ১৪৩৩বাং

ডেমরায় পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ গেল ১ জনের, আহত ৪


ডেমরায় পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ গেল ১ জনের, আহত ৪

রাজধানীর ডেমরা এলাকায় পৃথক দুটি সড়ক দুর্ঘটনার ঘটনায় একজন নিহত হয়েছেন এবং আহত হয়েছেন মোট চারজন। রবিবার দিবাগত রাতে ঘটনার দুটি দুর্ঘটনা ঘটে।

ডেমরা থানার উপপরিদর্শক এসআই মো. সাদ্দাম জানিয়েছেন, রাত আনুমানিক ১১টার দিকে ডেমরা থানার কাছে (সুফিয়া কামাল ব্রীজ) ডেমরা ব্রিজের নিচে কাভার্ড ভ্যানের ধাক্কায় সাইফুল ইসলাম (৩৫) নামের একজন মোটরসাইকেল আরোহী গুরুতর আহত হন। তখন তাকে উদ্ধার করে রাত সোয়া দুইটার দিকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের জরুরী বিভাগে নিয়ে গেলে চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।

নিহত সাইফুল ইসলামের বাড়ি নরসিংদী জেলার একটি এলাকায়।

আরও পড়ুন: পিরোজপুরে লাশ দাফনে বাধা, নাহিদ ইসলামের নিন্দা ও ইনসাফের আহ্বান

এসআই মো. সাদ্দাম আরও জানান, এই ঘটনায় ঘাতক কাভার্ডভ্যানটিকে জব্দ করা হয়েছে এবং চালককে আটক করা হয়েছে।

অন্যদিকে, একইদিন রাত আনুমানিক ১২টারদিকে ডেমরা থানাধীন মস্তুমাঝি এলাকায় পুলিশ চেকপোস্টের পাশে বালুর ট্রাক ও কভার্ডভ্যানের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এতে চারজন আহত হন এবং তাদেরকে রাত ৩টার দিকে ঢামেক হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়।

আহতদের মধ্যে রয়েছেন - রাসেল মিয়া (৩৫), রেজাউল করিম (২৫), মো: শাহজাহান (৩২) এবং ফরহাদ (৪২)।

ঢামেক হাসপাতাল পুলিশ ফাড়ির ইনচার্জ পরিদর্শক মো. ফারুক বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, আহতরা জরুরী বিভাগে চিকিৎসাধীন অবস্থায় রয়েছেন।

আরও পড়ুন: বিদেশি ঋণ শোধে চাপ বাড়ছে, সহায়তার অর্থছাড় কমেছে

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

সরকারের ১৮০ দিন পূর্তি উপলক্ষে মতবিনিময় সভা শুরু

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

সোমবার, ১৭ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

১২:০৮ পি.এম


সরকারের ১৮০ দিন পূর্তি উপলক্ষে মতবিনিময় সভা শুরু

বিএনপি সরকারের ১৮০ দিন বা ছয় মাস পূর্তি উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইংয়ের উদ্যোগে বিশেষ মতবিনিময় সভার আয়োজন করা হয়েছে। সোমবার (১৭ আগস্ট) বেলা ১১টায় প্রধানমন্ত্রীর তেজগাঁও কার্যালয়ের ‘শাপলা’ হলে এ সভা শুরু হয়।

প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইংয়ের উদ্যোগে আয়োজিত এই বিশেষ সভায় সরকারের গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা, মন্ত্রী এবং প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত আছেন।

সভায় উপস্থিত রয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা ও কৃষি উপদেষ্টা নজরুল ইসলাম খান, প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা ও শিল্প উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী, জনপ্রশাসন উপদেষ্টা ইসমাইল জবিউল্লাহ, তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন এবং তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী ইয়াসের খান চৌধুরী।

এছাড়া, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও মুখপাত্র মাহদী আমিন, তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত উপদেষ্টা জাহিদ উর রহমান, স্বাস্থ্যবিষয়ক বিশেষ সহকারী এস এম জিয়াউদ্দিন হায়দার, প্রধানমন্ত্রীর প্রেসসচিব সালেহ শিবলী, এসডিজিবিষয়ক মুখ্য সমন্বয়ক অধ্যাপক এস এম আব্দুল আওয়াল এবং অতিরিক্ত প্রেসসচিব আতিকুর রহমান রুমনসহ প্রেস উইংয়ের অন্যান্য সদস্যরা উপস্থিত থাকার কথা রয়েছে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

চট্টগ্রামে নিহত ৯ শ্রমিকের জন্য দুই লাখ টাকা শ্রম আদালতে জমা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

তালাশ বিডি ডেস্ক

সোমবার, ১৭ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

১২:১২ পি.এম


চট্টগ্রামে নিহত ৯ শ্রমিকের জন্য দুই লাখ টাকা শ্রম আদালতে জমা

চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের ভাটিয়ারী এলাকায় ফেরদৌস স্টিল শিপ রিসাইক্লিং ইয়ার্ডে বিষাক্ত হাইড্রোজেন সালফাইড গ্যাসের কারণে ৯ জন শ্রমিকের মৃত্যু ঘটেছে। এর প্রেক্ষিতে শ্রম আদালতের নিয়ম অনুযায়ী এই অর্থ জমা দেওয়া হয়েছে।

বাংলাদেশ শ্রম আইন ২০০৬ অনুযায়ী, কর্মক্ষেত্রে নিহত কোনো শ্রমিকের জন্য মালিকপক্ষকে প্রতি শ্রমিকের জন্য প্রাথমিক আইনি ক্ষতিপূরণ হিসেবে দুই লাখ টাকা করে শ্রম আদালতে জমা দিতে হয়। রোববার (১৬ আগস্ট) মালিকপক্ষ মোট ১৮ লাখ টাকা জমা দেন, যা দুই লাখ টাকা করে ৯ শ্রমিকের জন্য নির্ধারিত হয়েছে।

নিহত শ্রমিকের পরিবারের জন্য দশ লাখ টাকা করবে মালিক ও বাংলাদেশ শিপ ব্রেকার্স অ্যান্ড রিসাইক্লার্স অ্যাসোসিয়েশন (বিএসবিআরএ) পক্ষ থেকে।

ভয়াবহ দুর্ঘটনার পর সংশ্লিষ্ট জাহাজভাঙা কারখানার সব ধরনের কার্যক্রম স্থগিত করা হয়েছে। ঘটনার তদন্তের জন্য শিল্প মন্ত্রণালয়, জেলা প্রশাসন এবং মালিক সমিতির পক্ষ থেকে পৃথক তিনটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে।

বাংলাদেশ শিপ ব্রেকার্স অ্যান্ড রিসাইক্লার্স অ্যাসোসিয়েশনের সদস্য ডাইনামিক শিপ ইয়ার্ডের মালিক মো. মহিউদ্দিন বলেছেন, নিহত ৯ শ্রমিককে দশ লাখ টাকা করে দেওয়া হবে। এর মধ্যে শ্রম আদালতের দুই লাখ রোববার জমা দেওয়া হয়েছে।

শিপ ব্রেকিং ইয়ার্ড শ্রমিক কর্মচারী ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক কে এম শহিউল্লাহ বলেন, জাহাজ ভাঙ্গা শিল্পে প্রায়ই এ ধরনের দুর্ঘটনা ঘটে। তবে আদালতের মাধ্যমে ক্ষতিপূরণ আদায় একটি ইতিবাচক দৃষ্টান্ত হিসেবে কাজ করবে। ভবিষ্যতে ইয়ার্ডগুলোতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার হবে, যাতে আর কোনো শ্রমিককে এভাবে অকালে প্রাণ হারাতে না হয়।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

ঢাকায় ৮ জোনে চলবে ৮ রঙের ই-রিকশা: এলজিআরডি প্রতিমন্ত্রী

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

অনলাইন ডেস্ক

সোমবার, ১৭ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

১২:১৫ পি.এম


ঢাকায় ৮ জোনে চলবে ৮ রঙের ই-রিকশা: এলজিআরডি প্রতিমন্ত্রী

ঢাকায় ই-রিকশার চলাচল জোনভিত্তিক ব্যবস্থাপনা চালু করার লক্ষ্যে এলজিআরডি প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম জানান।

সোমবার (১৭ আগস্ট) সচিবালয়ে সৌর বিদ্যুতের ব্যবহার নিয়ে একটি বৈঠক শেষে তিনি সাংবাদিকদের এ কথা বলেন।

এলজিআরডি প্রতিমন্ত্রী উল্লেখ করেন, ব্যাটারিচালিত রিকশাগুলো (ই-রিকশা) সিটি করপোরেশনের অধীনে রেজিস্ট্রেশনের আওতায় আনা হচ্ছে। এ ব্যাপারে বিধিমালা প্রণয়ন করা হচ্ছে। তবে, বিশেষ করে এ দফায় ই-রিকশাগুলো সৌর বিদ্যুতের ব্যবহারের মাধ্যমে রিচার্জ করতে হবে। অন্যথায় নতুন নিবন্ধন ও পুরনো নিবন্ধন নবায়ন করা হবে না।

মীর শাহে আলম জানান, ঢাকাকে ৮টি জোনে ভাগ করা হবে এবং ওই ৮ জোনে ৮ রঙের ই-রিকশা থাকবে। তারা জোনের বাইরেও যেতে পারবে না। যদি তারা চলে যায়, তবে ব্যবস্থা নেয়া হবে। বিধিমালা প্রণয়ন হলে এই পুরো প্রক্রিয়া শুরুর হতে পারে। ১৩টি সিটি, পৌরসভা ও উপজেলা সহ সব জায়গায় এটি কার্যকর হবে।

প্রতিমন্ত্রী এ বিষয়ে আরও বলেন, মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সরকারি অফিসগুলোতে সৌর বিদ্যুৎ ব্যবহারের নির্দেশনা রয়েছে। সেই আলোকে স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের অধীনে সিটি, পৌরসভা ও অন্যান্য দফতরে নবায়নযোগ্য জ্বালানি ব্যবহারের সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে। এর ফলে বিদ্যুৎ সাশ্রয় সম্ভব হবে।

তিনি জানান, '২টি কমিটি প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। দ্রুত এই সিদ্ধান্তের বাস্তবায়ন করা হবে। নেট মিটারিংয়ের মাধ্যমে বিদ্যুৎ সাশ্রয় এবং জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহ করা সম্ভব হবেন।', যোগ করেন মীর শাহে আলম।

এছাড়াও, তিনি বলেন, সরকারের ৬ মাসে মন্ত্রণালয় বিভিন্ন কাজ করেছে যেমন খাল ও লেক উদ্ধার, রাস্তা পরিষ্কার এবং বর্জ্য ব্যবস্থাপনা। যদিও অনেক স্থানে জলাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে, যার জন্য তিনি দুঃখ প্রকাশ করেন। সার্বিকভাবে মন্ত্রণালয়ের ৬ মাসের কাজের অগ্রগতিতে তিনি সন্তুষ্ট নন।

তিনি আরো উল্লেখ করেন, চলতি অর্থবছরের বাজেটে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের জন্য বরাদ্দ রাখা হয়েছে। ৬ হাজার কোটি টাকা এ কাজে খরচ হবে এবং নির্বাচন কমিশনের প্রস্তুতি সম্পন্ন হলে আলোচনা করে নির্বাচনের সিদ্ধান্ত নেয়া হবে। এই অর্থবছরে স্থানীয় সরকার নির্বাচন শেষ হবে।

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

পরবর্তী খবর

লেবানন ও ফিলিস্তিনে অব্যাহত হামলাই ইসরাইলের পতন অত্যাসন্ন করছে?

আন্তর্জাতিক ডেস্ক

এম এ সাঈদ

সোমবার, ১৭ই আগস্ট, ২০২৬ ইং

১২:১৮ পি.এম


লেবানন ও ফিলিস্তিনে অব্যাহত হামলাই ইসরাইলের পতন অত্যাসন্ন করছে?


মধ্যপ্রাচ্যের আকাশে যেন যুদ্ধের কালো মেঘ আরও ঘনীভূত হচ্ছে। একদিকে ইরানকে ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সামরিক চাপ, অন্যদিকে লেবানন ও ফিলিস্তিনে ইসরাইলের ধারাবাহিক হামলা—সব মিলিয়ে মধ্যপ্রাচ্য আজ ভয়াবহ অনিশ্চয়তার মুখে। প্রশ্ন উঠছে, এই আগ্রাসন কি ইসরাইলকে শক্তিশালী করছে, নাকি ধীরে ধীরে তার নিজের পতনের পথই প্রশস্ত করছে?

দীর্ঘ অর্ধশতাব্দী ধরে ইরানকে সামরিক ও কৌশলগতভাবে চাপে রাখার দীর্ঘ প্রচেষ্টার পর, যুদ্ধের মাধ্যমে মার্কিন পরাশক্তি ও ইসরাইল মিলে হাজার হাজার টন অস্ত্র ফেলেও যেখানে ইরানের বিরুদ্ধে কাঙ্ক্ষিত ফল অর্জিত হয়নি, তাহলে সেটি নিঃসন্দেহে একটি গুরুত্বপূর্ণ বার্তা বহন করে। সামরিক শক্তি যত বড়ই হোক, যুদ্ধের ময়দানে প্রতিপক্ষের প্রতিরোধ, দীর্ঘমেয়াদি যুদ্ধের ব্যয় এবং আন্তর্জাতিক চাপকে উপেক্ষা করা যায় না। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র যেখানে পলায়নের পথ খুঁজছে সেখানে ইজরাইল ক্রমাগত লেবানন ও ফিলিস্তিনে হামলা চালিয়ে কি নিজের মৃত্যুর পথ বেছে নিচ্ছে?

যুক্তরাষ্ট্রের মতো বিশ্ব পরাশক্তিও যদি দীর্ঘ সংঘাতে নিজের সক্ষমতা, অস্ত্রভাণ্ডার, অর্থনীতি ও রাজনৈতিক সমর্থন নিয়ে নতুন করে হিসাব কষতে বাধ্য হয়, যুদ্ধ বন্ধ করতে বাধ্য হয়, পলায়নের পথ খোঁজে, তাহলে ইসরাইলের জন্যও প্রশ্নটি আরও কঠিন হয়ে ওঠে—শেষ পর্যন্ত তার ভরসা কোথায়?
সবচেয়ে বড় প্রশ্ন, যুক্তরাষ্ট্র যদি কোনো এক পর্যায়ে মধ্যপ্রাচ্যে সরাসরি সামরিক সম্পৃক্ততা কমিয়ে ফেলে কিংবা চলে যায়, তখন ইসরাইলের সামনে কী থাকবে, কে তাকে রক্ষা করবে?

ইসরাইলের সামনে আজ তাই শুধু সামরিক শক্তি প্রদর্শনের প্রশ্ন নয়; এটি রাজনৈতিক দূরদর্শিতা ও ভবিষ্যৎ অস্তিত্বের প্রশ্নও। লেবানন ও ফিলিস্তিনে ধারাবাহিক হামলা চালিয়ে যদি একটি রাষ্ট্র নিজের চারপাশে ক্রমাগত ক্ষোভ, প্রতিরোধ ও শত্রুতার দেয়াল তৈরি করে, তাহলে সেই দেয়াল একসময় তার নিজের জন্যই বিপজ্জনক হয়ে উঠতে পারে।
ফিলিস্তিনের মাটিতে মানুষের মৃত্যু, ধ্বংসস্তূপে পরিণত হওয়া বসতি এবং লেবাননে বারবার সামরিক আঘাত—এসব ঘটনা শুধু তাৎক্ষণিক ক্ষয়ক্ষতি তৈরি করে না; এগুলো প্রজন্মের পর প্রজন্ম ক্ষোভ ও প্রতিশোধের বীজও বপন করে। একটি রাষ্ট্র যদি নিরাপত্তার নামে অনবরত যুদ্ধের পথ বেছে নেয়, তাহলে প্রশ্ন থেকেই যায়—এই যুদ্ধের শেষ কোথায়?

ইসরাইল হয়তো সামরিক শক্তির প্রদর্শনের মাধ্যমে তার প্রতিপক্ষকে ভয় দেখাতে চাইছে। কিন্তু ইতিহাসের নির্মম শিক্ষা হলো—শুধু অস্ত্র দিয়ে দীর্ঘস্থায়ী নিরাপত্তা নিশ্চিত করা যায় না। সামরিক বিজয় আর রাজনৈতিক বিজয় এক বিষয় নয় বরং তা কোন কোন ক্ষেত্রে পতনের রাস্তা তৈরি করে। যুদ্ধক্ষেত্রে কোনো পক্ষকে আঘাত করা সম্ভব হলেও মানুষের ক্ষোভ, রাজনৈতিক প্রতিরোধ ও আন্তর্জাতিক জনমতকে বোমা মেরে নিশ্চিহ্ন করা যায় না।

এখানেই ইসরাইলের জন্য সবচেয়ে বড় সতর্কবার্তা।
যদি যুক্তরাষ্ট্র কোনো সময় মধ্যপ্রাচ্য থেকে তার সামরিক উপস্থিতি ও সরাসরি সম্পৃক্ততা কমিয়ে নেয়, তাহলে ইসরাইলকে নিজের নিরাপত্তা ও ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে ভাবতে হবে। কারণ কোনো পরাশক্তির ওপর চিরস্থায়ীভাবে নির্ভর করে একটি রাষ্ট্র তার চারপাশের অস্থিরতা মোকাবিলা করতে পারে না।

ইরানও নিশ্চয়ই তার কৌশলগত হিসাব থেকে ইসরাইল-ফিলিস্তিন ও লেবানন কিংবা তার মিত্র শক্তির উপর ক্রমাগত ইসরাইলের হামলার পরিস্থিতিকে আলাদা করে দেখছে না—কিন্তু নির্দিষ্ট সময়ের জন্য হয়তো অপেক্ষা করছে। ফিলিস্তিন ও লেবাননে ধারাবাহিক প্রাণহানি এবং ধ্বংসযজ্ঞ যদি চলতেই থাকে, তাহলে মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাত আরও বিস্তৃত হওয়ার ঝুঁকি থেকেই যায়, যার প্রতিশোধ ইরান না নিয়ে ছাড়বে না।

সেই পরিস্থিতিতে ইসরাইলের জন্য নিরাপদ ভবিষ্যৎ নিশ্চিত করা আরও কঠিন হয়ে পড়তে পারে এমনকি ইজরাইল সম্পর্কে ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা, ইরানের জাতীয় বীর হিসেবে এ
পরিচিত আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি যে কথা বলেছিলেন, "পৃথিবীর মানচিত্র থেকে ইসরাইল নামক অবৈধ রাষ্ট্রটিকে মুছে দেওয়া হবে" সে পথে হাঁটতে ইরান হয়তো দ্বিতীয়বার ভাববে না।

তাই ইসরাইলের জন্য এখন সবচেয়ে বড় প্রয়োজন যুদ্ধের ধারাবাহিকতা নয়, বরং আত্মসমালোচনা ও রাজনৈতিক বাস্তবতা উপলব্ধি করা। লেবানন ও ফিলিস্তিনে হামলা বন্ধ করে নিজের অস্তিত্ব রক্ষার স্বার্থেই আলোচনার পথ খোলা, বেসামরিক মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং সংঘাতের রাজনৈতিক সমাধানের দিকে এগিয়ে যাওয়া—এটাই দীর্ঘমেয়াদে নিরাপত্তার পথ হতে পারে।

কারণ আগুন দিয়ে আগুন নেভানো যায় না।
একটি রাষ্ট্র যত বেশি আগ্রাসনের ওপর নির্ভর করবে, তত বেশি তার চারপাশে প্রতিরোধ তৈরি হওয়ার আশঙ্কা থাকবে। আর সেই প্রতিরোধ যদি একদিন আঞ্চলিক শক্তির সমীকরণের সঙ্গে যুক্ত হয়, তখন সবচেয়ে শক্তিশালী সামরিক রাষ্ট্রের জন্যও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা কঠিন হয়ে উঠতে পারে।

তাই প্রশ্নটি আজ শুধু—ইসরাইল কতটা শক্তিশালী?
প্রশ্নটি আরও গভীর: এই শক্তি তাকে কোথায় নিয়ে যাচ্ছে?

যুক্তরাষ্ট্র যদি একসময় নিজের স্বার্থ ও নিরাপত্তার হিসাব কষে মধ্যপ্রাচ্যে তার অবস্থান পুনর্বিন্যাস করে, তখন ইসরাইলের সামনে বাস্তবতার কঠিন আয়না আরও স্পষ্ট হয়ে উঠবে। তখন তাকে ভাবতে হবে—চিরস্থায়ী যুদ্ধ, দখল, হামলা ও ধ্বংসের ওপর কি কোনো রাষ্ট্রের নিরাপদ ভবিষ্যৎ নির্মাণ করা সম্ভব?

ইসরাইল যদি এখনই সেই প্রশ্নের উত্তর খুঁজে না নেয়, তাহলে আজকের সামরিক সাফল্যই হয়তো আগামী দিনের কৌশলগত সংকটের বীজ হয়ে উঠতে পারে।


ইতিহাস কাউকে চিরস্থায়ী শক্তি হিসেবে স্বীকৃতি দেয় না। সাম্রাজ্য উঠেছে, সাম্রাজ্য পতন হয়েছে; পরাশক্তি বদলেছে, যুদ্ধের মানচিত্র বদলেছে। তাই ইসরাইলের জন্যও সতর্ক হওয়ার সময় এসেছে।

লেবানন ও ফিলিস্তিনে অব্যাহত হামলা বন্ধ করা, রক্তপাতের অবসান ঘটানো এবং রাজনৈতিক সমাধানের পথ খোলা—এখন শুধু মানবিকতার দাবি নয়; ইসরাইলের নিজের দীর্ঘমেয়াদি নিরাপত্তার প্রশ্নও।

নইলে যে আগুন দিয়ে অন্যকে পুড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা চলছে, সেই আগুন একদিন নিজের ঘরেও পৌঁছে যেতে পারে—আর তখন হয়তো সামরিক শক্তি দিয়ে সেই আগুন নেভানোর সময় থাকবে না যা ইজরাইল রাষ্ট্রটিকে চিরতরে নিশ্চিহ্ন করে দিতে পারে- এমন আশঙ্কা করা আজকের দিনে অমূলক নয়।
লেখকঃ সাংবাদিক, রাজনৈতিক ও সামরিক বিশ্লেষক ও কলামিস্ট। 

তালাশ বিডি/মিডিয়া লিঃ

আর্কাইভ

Please select a date!

নামাজের সময়সূচী

তারিখঃ ১৬ই জমাদিউল আউয়াল, ১৪৪৮হিঃ
ফজর ০৪:৪৫
জোহর ১১:৪৩
আসর ০৩:৪৬
মাগরিব ০৫:২৩
ইশা ০৬:৩৫
সূর্যোদয় : ০৬:০১ সূর্যাস্ত : ০৫:২৩
অনলাইন জরিপ
ফলাফল
থার্টি-ফার্স্ট নাইটে তরুণদের জন্য প্রকাশ্যে পানি-টানি খাওয়ার বিরুদ্ধে আহ্বান। আপনার মন্তব্য দিন
হ্যা
100%
না
0%
মন্তব্য নেই
0%